চাঁদপুর, সোমবার ১৩ মে ২০১৯, ৩০ বৈশাখ ১৪২৬, ৭ রমজান ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

১৫। আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করিয়াই ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াছি! বস্তুত সৃষ্টি বিষয়ে উহারা সন্দেহে পতিত।

১৬। আমিই মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছি এবং তাহার প্রবৃত্তি তাহাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তাহা আমি জানি। আমি তাহার গ্রীবাস্থিত ধমনী অপেক্ষাও নিকটতম।


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


ফটো গ্যালারি
খালিপেটে ঔষধ ভরা পেটে ঔষধ
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রুগ্ন মানুষের বড় আপনার হলো ঔষধ। মাঝে মাঝে ঔষধ খাওয়া নিয়ে হয় বিড়ম্বনা। ঔষধ কি ভরা পেটে খাবে নাকি খালি পেটে খাবে ইত্যাদি। দেখা গেছে রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গেছে। বাড়ি থেকেই মাঝ রাত্তিরে তার ফোন, ডাক্তার সাহেব ঔষধ কখন খাবো, কীভাবে খাবো ইত্যাদি। যে জানে তার কাছে এটা কোনো বিষয়ই নয়। আর যে জানে না, তার কাছে এটাই সবচেয়ে বিড়ম্বনার। এই বিড়ম্বনা দূর করার জন্যেই আজকের বিষয়: ঔষধ ভরা পেটে খাবেন নাকি খালি পেটে খাবেন?



ভরাপেটে বা খাওয়ার পর ঔষধ কেন খাবেন?



* কিছু কিছু ঔষধ সেবনের পর পর বমি বা বমিভাব বা ওয়াক্ ওয়াক্ ভাব হয়। এই প্রতিক্রিয়া হ্রাস করার জন্যে ঔষধ ভরা পেটে খেতে হয়। যেমন : অ্যালোপিউরিনল জাতীয় ঔষধ যা রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে সেবন করতে হয়, ব্রোমোক্রিপ্টিন জাতীয় ঔষধ, ম্যাডোপার জাতীয় ঔষধ ইত্যাদি।



* পাকস্থলীর ইরিটেশন বা প্রতিক্রিয়া কমাতে, ইনডাইজেশান কমাতে, পাকস্থলীর আলসার বা ক্ষত থাকলে ঔষধ ভরাপেটে খেতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব ঔষধ খেতে হলে একটা বিস্কিট, একগ্লাস পানি ইত্যাদি খেলেই গ্যাস্ট্রিক ইরিটেশান কমানো যায়। যেমন : অ্যাস্পিরিন জাতীয় ঔষধ, ব্যথার ঔষধ ডাই-ক্লোফেনাক, কিটোরোলাক, আইবুপ্রোফেন ইত্যাদি, স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ যেমন প্রেডনিসোলন, ডেঙ্ামিথাসোন ইত্যাদি।



* কিছু কিছু ঔষধ যা বুকজ্বলা, পেটজ্বলা, বদহজম, ঢেঁকুর আসা, রিফ্লাঙ্ বা এসিডের উল্টো প্রবাহ হওয়া ইত্যাদিতে ঔষধ খাবার খাওয়ার পর পর খেতে হয়। যেমন : অ্যান্টাসিড জাতীয় ঔষধ।



* কিছু কিছু ঔষধ আছে যেগুলো মাউথ ওয়াস, লিকুইড নাইস্ট্যাটিন, মাইকোনাজল ইত্যাদি মুখে ছত্রাক সংক্রমণের বিরূদ্ধে ব্যবহৃত ঔষধগুলো খাবার গ্রহণের পরে ব্যবহার করতে হয় যাতে তারা ধুয়ে না যায়।



* কিছু কিছু ঔষধ যাতে রক্তস্রোতে ভালোভাবে শোষিত হতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্যে খাদ্য গ্রহণের পরে ঐ ঔষধগুলো সেবন করতে হয়। যেমন এইচআইভি এইডস-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধগুলো ঠিকমতো শোষিত হওয়ার জন্যে খাদ্য গ্রহণের পর তা সেবন করা হয়।



* কিছু কিছু ঔষধ যেমন ডায়াবেটিসের মেটফরমিন জাতীয় ঔষধ খাদ্যগ্রহণের পর পর খেতে হয়, যাতে তারা রক্তের গ্লুকোজকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং কখনো যাতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে বস্নাড গ্লুকোজের মাত্রা লো না হয়।



* কিছু কিছু এনজাইম সাপ্লিমেন্ট যেগুলো ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস-এর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় ঐ ঔষধগুলো ভরাপেটে খেতে হয়। এতে খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহ ঐ সমস্ত ঔষধের ক্রিয়ার জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে।



* অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধগুলো ভরা পেটে খাওয়াই নিয়ম। এতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া জম হয় ও ঔষধের বিশোষণ বৃদ্ধি পায়।



* ভিটামিন ও আয়রন জাতীয় ঔষধগুলো ভরাপেটে খাওয়া উচিত যাতে গ্যাস্ট্রিক রিটেশন কম হয়।



খাওয়ার আগে বা খালিপেটে ঔষধ কেন খাবেন ?



* কিছু কিছু ঔষধ খালিপেটে খেতে হয় যাতে তা সঠিক মাত্রায় দেহে শোষিত হতে পারে। যেমন : ডমপেরিডন জাতীয় ঔষধ অমিসন খেতে হয় খাওয়ার পনের মিনিট আগে যাতে খাদ্যগ্রহণজনিত বমিভাব বন্ধ করতে পারে। যদি খাবার গ্রহণের আগে এই ঔষধ খাওয়া না হয় তবে বমি হয়েই যাবে।



* রেনিটিডিন জাতীয় গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডিটি রোধের ঔষধ, ওমিপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল জাতীয় ঔষধ খাওয়ার আধঘন্টা আগে অথবা খাওয়ার দুইঘন্টা পরে খেতে হয়। এতে তাদের পক্ষে অ্যাসিড-চ্যানেল বস্নক করা সহজ হয়। ফলে খাদ্যগ্রহণজনিত উদ্দীপনায় অ্যাসিড নিঃসরণ কমে যায় বা নিয়ন্ত্রণে থাকে।



* ইবানড্রনিক অ্যাসিড জাতীয় ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ঔষধ আছে যা খালিপেটে খেতে হয় এবং খাওয়ার পর ঘন্টাখানেক কিছু খেতে নেই। কারণ এতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম দেখা দেয়।



খাবারের সাথে সম্পর্কহীন ঔষধ :



* কিছু কিছু ঔষধ আছে যেগুলো ভরা পেট বা খালিপেটে কিছু তারতম্য হয় না। যেমন : র‌্যাবিপ্রাজল জাতীয় গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডিটি হ্রাসকারী ঔষধ ভরাপেট বা খালিপেট যেকোন সময়ে গ্রহণ করা যেতে পারে।



ঔষধ সঠিক নিয়মে বা সঠিক সময়ে সেবনের উপর নির্ভর করে রোগের উপশম। কেউ কেউ অনিয়মিতভাবে চিকিৎসকের উপদেশ না মেনে ঔষধ সেবন করেন। এতে রোগীরও উপকার হয় না, চিকিৎসকেরও দুর্নাম হয়। তাই রোগ হতে তাড়াতাড়ি মুক্তির জন্যে ঔষধ সেবনের খুঁটিনাটি জেনে রাখা উচিক।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯৯৩৬৬
পুরোন সংখ্যা