চাঁদপুর, সোমবার ১ জুলাই ২০১৯, ১৭ আষাঢ় ১৪২৬, ২৭ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫২-সূরা তূর


৪৯ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৯। অতএব তুমি উপদেশ দান করিতে থাক, তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহে তুমি গণক নহ, উন্মাদও নহ।


৩০। উহারা কি বলিতে চাহে সে একজন কবি ? আমরা তাহার মৃত্যুর প্রতীক্ষা করিতেছি।'


 


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


ফটো গ্যালারি
ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি : পরিণাম ও পরিত্রাণ
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি কী?



ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি হচ্ছে ডায়াবেটিসজনিত একটি জটিলতা যাতে স্নায়ু ক্ষগিগ্রস্ত হয়ে যায়। ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পা এবং পায়ের পাতার স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথিতে আক্রান্ত রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুর অবস্থাভেদে পায়ে ব্যথা ও বিবশতা ছাড়াও পরিপাক, রেচন, রক্ত সংবহন ও রক্ত পরিসঞ্চালনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো উপসর্গের মাত্রা মৃদু হলেও সময়ে তা এতো তীব্র হয় যে তা আক্রান্ত ব্যক্তিকে অক্ষম করে দেয়। সুশৃঙ্খল জীবন ও কঠিনভাবে রক্ত শর্করার মান নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি থেকে দূরে থাকা যায়।



উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ :



প্রধানত চার ধরনের ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির কথা জানা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি এর একটি বা একাধিক রকমফেরে ভুগতে পারে। কোন স্নায়ু আক্রান্ত হয়েছে এবং কোন ধরনের ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি তার উপরে রোগের উপসর্গ নির্ভর করে। রোগের উপসর্গ ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে। স্নায়ু নির্দিষ্ট মাত্রার ক্ষতিগ্রস্ত না হলে কেউ ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির উপসর্গ বুঝতে পারে না।



প্রান্তীয় নিউরোপ্যাথি :



এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি। এর কারণে প্রথমে পায়ের পাতা ও পা আক্রান্ত হয়। পরে হাত আর বাহু। রাতের দিকে প্রান্তীয় স্নায়ু বিকলনের পরিণাম ভয়াবহ হয়ে যায়। এর লক্ষ্মণগুলো হলো_



? বিবশতা বা ব্যথার অনুভূতি হ্রাস পাওয়া এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন বুঝতে অসমর্থ হওয়া



? ঝিঁ ঝিঁ অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া অনুভূতি হওয়া



? তীব্র ব্যথা বা মাংসপেশীর ক্যাম্প



? স্পর্শানুভূতির তীব্রতা বৃদ্ধি, এমনকি বিছানার চাদরের ভরেও ব্যথা বোধ হওয়া



? মাংসপেশীর দুর্বলতা



? রিফ্লেঙ্ বা প্রতিক্রিয়ার ঘাটতি বিশেষত পায়ের অস্থিসন্ধি বা অ্যাংকেলে ঘা, দেহের ভারসাম্যহীনতা ও সমন্বয়হীনতা, ক্ষতে জীবাণু সংক্রমণ এবং অস্থি ও অস্থিসন্ধির ব্যথা ইত্যাদি।



স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুর নিউরোপ্যাথিজনিত সমস্যা :



? রক্তশর্করার মান নিম্নমুখী হওয়ার অসচেতনতা



? ইউরিনে জীবাণু সংক্রমণ, মূত্রথলির সমস্যা, মূত্রবর্জন আটকে যাওয়া



? মূত্র আটকে রাখতে না পারা



? কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিয়ন্ত্রিত ডায়রিয়া



? অতি ধীরগতিতে পাকস্থলী হতে খাদ্য নির্গত হওয়া



? বমি,খাদ্যে অরুচি, পেট ফাঁপা হওয়া



? খাদ্য গলাধকরণে অসুবিধা হওয়া



? বমি ও বমি বমি ভাব হওয়া



? ঘামের মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা হ্রাস পাওয়া



? বিশ্রামেও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া



? বসা হতে দাঁড়ালে বা দাঁড়ানো হতে বসলে খুব আকস্মিক রক্তচাপ হ্রাস পাওয়া



? যৌনদক্ষতা হ্রাস পাওয়া



? যোনির শুষ্কতা



? মাথা হাল্কা হাল্কা বোধ হওয়া



র‌্যাডিকুলোপ্লেঙ্াস নিউরোপ্যাথী



র‌্যাডিকুলোপ্লেঙ্াস নিউরোপ্যাথির কারণে রান, কোমর, পাছা, পা ইত্যাদির স্নায়ু আক্রান্ত হয়। টাইপ-২ ধরনের ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী ও প্রবীণদের এই সমস্যা দেখা দেয়। একে ফিমোরাল নিউরোপ্যাথী বা প্রঙ্মিাল নিউরোপ্যাথীও বলে।



লক্ষণসমূহ:



সাধারণত দেহের এক পার্শ্ব আক্রান্ত হয়। তবে মাঝে মাঝে অন্য পাশ্র্বেও তা সংক্রমিত হয়।



এই ধরনের রোগীরা নিম্নোক্ত উপসর্গে আক্রান্ত হয়। যেমন :



? কোমরে তীব্র ব্যথা



? রান, পাছার মাংসপেশীতে ব্যথা ও মাংসপেশী সংকুচিত হয়ে যাওয়া



? পেট ফুলে যায়



? ওজন হ্রাস পায়



? বসা থেকে উঠতে কষ্ট হওয়া



ডায়াবেটিক মনোনিউরোপ্যাথি



পা, দেহের মধ্যভাগ বা মুখের কোন স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে ডায়াবেটিক মনোনিউরোপ্যাথি বলে। বয়স্কদের ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে এটা একটা সাধারণ সমস্যা। এর ফলে সাময়িক তীব্র ব্যথা হতে পারে।



লক্ষ্মণ



? পায়ে ও নিচের পায়ের লম্বা হাড়ে, রানের সম্মুখভাগে, পেলভিসের সম্মুখভাগ, বুক, তলপেট ইত্যাদি অঙ্গ মনোনিউরোপ্যাথীতে আক্রান্ত হতে পারে।



? একই সাথে দুটো বস্তু দেখা, চোখের পেছনের অংশে ব্যথা, বলস্ পলসি হতে পারে।



? মনোনিউরোপ্যাথির কারণে কার্পেল টানেল সিনড্রোম হতে পারে।



ঝুঁকিসমূহ :



জীনগত উত্তরাধিকার



? ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন



? রক্ত-শর্করার মান নিয়ন্ত্রণে অসফলতা



? অতিরিক্ত মেদস্থূলতা



? অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচরণ



? নিয়মিত শরীর চর্চার অভাব



ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির জটিলতা



? পায়ের আঙ্গুল ঝরে পড়া



? পায়ের ক্ষত হতে মারাত্মক জীবন আশঙ্কা হওয়া



? পায়ের ক্ষত না শুকানো



? গ্যাংগ্রিন হওয়া



? পায়ের অংশবিশেষ কেটে বাদ দেওয়া



? মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ



? অতিরিক্ত ঘর্ম উৎপাদন



? যৌন সক্ষমতা হ্রাস বা বিলোপ হওয়া



প্রতিরোধ



? নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীর চর্চা



? কঠিনভাবে রক্ত শর্করার মান নিয়ন্ত্রণ



? ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন বর্জন করা



? নিয়মিত পায়ের যত্ন নেওয়া



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৬৮০৫৫
পুরোন সংখ্যা