চাঁদপুর, বুধবার ৩১ জুলাই ২০১৯, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৭ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তীর চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটন * হত্যাকারী ডিস ব্যবসায়ী লাইনম্যান জামাল ও আনিসুর রহমান আটক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪। উহাদের নিকট আসিয়াছে সুসংবাদ, যাহাতে আছে সাবধান বাণী;


৫। ইহা পরিপূর্ণ জ্ঞান, তবে এই সতর্কবাণী উহাদের কোনো উপকারে আসে নাই।


৬। অতএব তুমি উহাদের উপেক্ষা কর। যেদিন আহ্বানকারী আহ্বান করিবে এক ভয়াবহ পরিণামের দিকে,


 


 


 


প্রতিদিনের সূর্যালোকের সঙ্গে সঙ্গে নূতন নূতন আশার জন্ম হয়।


-টমাস হুগস।


 


 


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহ'র শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ডেঙ্গু জ্বর : প্রতিরোধের উপায়
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ডেঙ্গু জ্বর কী :



ডেঙ্গু জ্বর এক ধরনের ভাইরাল ফ্লু-সদৃশ উপসর্গযুক্ত জ্বরবিশেষ যা ঊনিশশো পঞ্চাশ সালে সর্বপ্রথম ফিলিপিন ও থাইল্যান্ডে মহামারী আকারে দেখা দেয়। পরবর্তীতে ঊনিশশো সত্তর সালে প্রায় দশটি দেশে ডেঙ্গু জ্বর প্রাদুর্ভাব আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সারাবিশ্বে প্রায় চারশ মিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে ছিয়ানব্বই মিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গু জ্বরের শিকার।



ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু ও বাহক :



ফ্ল্যাভিভিরিডি নামের ভাইরাস এবং তার চারটি প্রজাতি ডেঙ্গু জ্বরের কারণ। এরা যথাক্রমে ডেঙ্গু ভাইরাস-এক, ডেঙ্গু ভাইরাস-দুই, ডেঙ্গু ভাইরাস-তিন এবং ডেঙ্গু ভাইরাস-চার নামে পরিচিত। একবার এদের যে কোন একটি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে গেলে ঐ ব্যক্তির দেহে ঐ ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে জীবনব্যাপী পরবর্তী কালের জন্য রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠে। কিন্তু অন্য তিনটির যে কোনটি দ্বারা আক্রান্ত হলে তার দেহে ডেঙ্গু নূতনরূপে মারাত্মক হয়ে আবির্ভূত হয়।



পূর্বে ডেঙ্গু ভাইরাসবাহী এডিস ঈজিপ্টি নামের স্ত্রী মশকীর কামড়ে সুস্থ মানুষের দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস অনুপ্রবেশ করে। অনুপ্রবেশ করার চার থেকে দশদিন পরে আক্রান্ত রোগীর দেহে ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ ও লক্ষ্মণ প্রকাশ পায়। এই চার থেকে দশদিন সময়কাল হলো ডেঙ্গুর সুপ্তকাল। এডিস ঈজিপ্টি সাধারণত উষ্ণ ক্রান্তীয় (ট্রপিক্যাল) এবং উপ-ক্রান্তীয়(সাব ট্রপিক্যাল) অঞ্চলে বিচরণ করে। এরা উষ্ণতা সহ্য করলেও শীতে বিচরণ করতে পারে না। তাই আমাদের দেশে বর্ষাকাল এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এডিস অ্যালবোপিকটাস নামের মশকী সাধারণত শীতের দেশগুলোতে ডেঙ্গুভাইরাস সংক্রমণ করে। মানুষ হতে মানুষে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে না যদি উক্ত এডিস মশকী কোন ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষকে কামড়ে নূতন কোন সুস্থ মানুষকে কামড়াতে না পারে। কেবল এডিস মশকীই ডেঙ্গু ছড়ায়।



দক্ষিণ আমেরিকা, আমেরিকা, আফ্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ, চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। জমে থাকা জল বিশেষতঃ ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, টয়লেটের বালতি, আবদ্ধ নালা, জমে থাকা বৃষ্টির জল, পাখির আহার-পাত্র, পাখি ও পশুর পানপাত্রে এডিস মশকী বংশ বিস্তার করে।



 



ডেঙ্গুর লক্ষণ :



ঙ্ হঠাৎ তীব্র উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর



ঙ্ তীব্র চোখের পেছন অংশে ব্যথা



ঙ্ মাথা ও সারা শরীরে ব্যথা



ঙ্ বমি ও বমি ভাব



ঙ্ তলপেটে ব্যথা



ঙ্ গিঁটে গিঁটে ব্যথা



ঙ্ গায়ে র‌্যাশ বা লাল লাল ছোপ



ঙ্ শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন দাঁতের মাড়ি, বমি দিয়ে রক্ত ক্ষরণ



ঙ্ রক্তে হুট করে অনুচক্রিকা বা প্ল্যাটিলেট কমে যাওয়া



এবারের ডেঙ্গুজ্বরের ভিন্নতা:



এবারের ডেঙ্গুজ্বরে র‌্যাশ কিংবা রক্তক্ষরণ নেই। প্ল্যাটিলেটও তেমন কমছে না। শুধু জ্বর কমলেই রক্তচাপ হুট করে পড়ে যাচ্ছে। রক্তনালী হতে লিক-আউট হয়ে রক্তরসের পরিমাণ সঞ্চালন ব্যবস্থা হতে কমে যাচ্ছে। কাজেই রোগীর রক্তচাপ প্রতিনিয়ত মাপতে হবে।



ডেঙ্গুজ্বরের পরীক্ষণ ও রোগ নির্ণয়:



ক্ল্যাসিক্যাল ডেঙ্গুতে রক্তক্ষরণ হয় না কিন্তু ডেঙ্গু হেমোরেজিক শক সিন্ড্রোমে রক্তক্ষরণ হয়। হেমোরেজিক ডেঙ্গু মারাত্মক হয়। রোগীর মৃত্যু হতে পারে। ডেঙ্গু সনাক্তকরণে কেইস হিস্ট্রি নেওয়ার পাশাপাশি



ঙ্ রক্তের প্ল্যাটিলেট কাউন্ট



ঙ্ অ্যান্টি ডেঙ্গু অ্যান্টিবডি ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হয়।



ডেঙ্গু রোগীর ব্যবস্থাপনা:



ঙ্ ডেঙ্গু রোগীকে আবশ্যকভাবে মশারীর ভিতরে রাখতে হবে।



ঙ্ রোগীকে স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে। ফলের রসের আধিক্য থাকবে



ঙ্ অধিক জ্বরে মাথায় জলপট্টি দিতে হবে।



ঙ্ ওয়েট স্পঞ্জ করে দিতে হবে সারা গায়ে



 



চিকিৎসা :



ঙ্ ডেঙ্গু রোগের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।



ঙ্ জ্বর নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামল সেবন করবে।



ঙ্ প্রয়োজনে স্যালাইন বা ফ্লুইড শিরাপথে দেওয়া আবশ্যক



ঙ্ কোন অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন নাই।



ঙ্ রক্তের প্ল্যাটিলেট কাউন্ট চেক করে প্রয়োজনে ক্রিস্টালয়েড বা ক্রিস্টালয়েড-কোলয়েড কম্বিনেশন বা প্রিসিপিটেটেড প্ল্যাটিলেট দিতে হতে পারে।



প্রতিরোধ :



ঙ্ ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণ ও দমনের বিকল্প নেই।



ঙ্ যে সব স্থানে মশা বংশ বিস্তার ঘটায় সে সব স্থান ধ্বংস করতে হবে।



ঙ্ পানিকে আবদ্ধ থাকতে দেওয়া যাবে না।



ঙ্ এডিস মশা সূর্যোদয়ের আগে আগে এবং সূর্যাস্তের আগে আগে কামড়ায়। কাজেই এ সময় সচেতন থাকা জরুরি।



ঙ্ ফুলহাতা শার্ট, ফুল প্যান্ট মোজায় গুঁজে বিকেল বেলা পার করতে হবে। ঘরের অন্ধকার কোণে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।



ঙ্ ডেঙ্গুর জন্যে উন্নত দেশে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৭১৮৫৮
পুরোন সংখ্যা