চাঁদপুর, বুধবার ৩১ জুলাই ২০১৯, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৭ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তীর চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটন * হত্যাকারী ডিস ব্যবসায়ী লাইনম্যান জামাল ও আনিসুর রহমান আটক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪। উহাদের নিকট আসিয়াছে সুসংবাদ, যাহাতে আছে সাবধান বাণী;


৫। ইহা পরিপূর্ণ জ্ঞান, তবে এই সতর্কবাণী উহাদের কোনো উপকারে আসে নাই।


৬। অতএব তুমি উহাদের উপেক্ষা কর। যেদিন আহ্বানকারী আহ্বান করিবে এক ভয়াবহ পরিণামের দিকে,


 


 


 


প্রতিদিনের সূর্যালোকের সঙ্গে সঙ্গে নূতন নূতন আশার জন্ম হয়।


-টমাস হুগস।


 


 


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহ'র শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
সচেতনতার অভাবে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে
গাজী সালাহ উদ্দিন
৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রতি বছরেই বিশেষ করে এ মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে কয়েকগুণ বেশি। বলা চলে মশাবাহী এ রোগটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। সারাদেশে আশংকাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার তথ্য মতে, ২৬ জুলাই শুক্রবার পর্যন্ত এ রোগে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ৫৪৭ জন। বুধবারের একটি প্রিন্ট মিডিয়ার তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৪৭৩ জন। তার মানে প্রতিনিয়তই এ রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বুধবারের একটি প্রিন্ট মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ২৩ দিনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৭ জন। সাধারণত এ মৌসুমে ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব বাড়ে। সেজন্যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্ল্লেঙ্গুলো এ রোগ প্রতিরোধের জন্য ঔষধ সরবরাহসহ যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা বা থাকার কথা ছিল তার তুলনায় কিছুই হয়নি বললে ভুল হবে না। দেশে মশাবাহী এ রোগটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু আগের বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এ বছরের এ মৌসুমে এটি প্রতিরোধ করার জন্য যে ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল তা মনে হয় সংশ্লি্লষ্টরা ভুলেই গেছেন। আর যে কারণে মশাবাহী এ রোগটির প্রাদুর্ভাব বেড়েছে মারাত্মকভাবে।



দেশে ডেঙ্গু এখন একটি আতঙ্কের নাম। ২৪ জুলাই বুধবারের একটি প্রিন্ট মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ২৭ জন মারা যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫৬৩৭ জন। এরপর রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা তো আরো বেড়েছে। আমাদের দেশে কিছু কিছু দুর্যোগের সময় বুঝা যায়। যার একটি মৌসুমও রয়েছে। এ দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশের নীতি নির্ধারকসহ সংশ্লি্লষ্টরা যদি আগে থেকেই এগুলো মোকাবেলার জন্যে প্রস্তুতি রাখে তাহলে দেশের মানুষ গণহারে ক্ষতির সম্মুখীন হয় না। এ বছর এ রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ধরনও পাল্টেছে। যে কারণেও এ ডেঙ্গু রোগ নিরাময়ে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। সংশ্লি্লষ্টরা যদিও আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ সব সময় দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় প্রতিদিনই যেখানে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে, সেখানে জনসাধারণের মধ্যে আতংক হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর আতঙ্ক তৈরি হবেই না কেন? মিডিয়ার খবর অনুযায়ী এ পর্যন্ত একজন সিভিল সার্জন মারা গেছেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে। এরপরও আরো দুজন নারী চিকিৎসক মারা গেছেন এ রোগে। যেখানে ডাক্তাররাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন সেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপদ ভাববেন কি করে? চিকিৎসকরাই যেখানে চিকিৎসা নিয়ে নিরাপদ হতে পারছে না সেখানে স্বাস্থ্য সেবা নিয়েও মানুষের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবার করুণ দশাও ফুটে উঠেছে। দেশের মানুষ যখন গণহারে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তখন তোড়জোড় দেখা গেলেও একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, সময়মত মশা নিধন, মশার প্রজনন রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তার প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ ও স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা রাখা হলো না কেন? ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় সংশ্লি্লষ্টদের অবহেলাও কোনো অংশে দায়ী কম নয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে ঔষধ আনার প্রক্রিয়া জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রীতিমত অসন্তোষও প্রকাশ করেছে। দেশের নাগরিক হিসেবে এটি নিজের কাছেই লজ্জাকর মনে হয়। সংশ্লি্লষ্টদের অসচেতনতা, অবহেলা ও অপ্রস্তুতির কারণে শেষ পর্যন্ত হাইকোট হস্তক্ষেপ করতে হলো। মিডিয়ার খবর অনুযায়ী ডেঙ্গু নির্মূল ও প্রতিরোধে সেনাবাহিনীও প্রস্তুত বললেন সেনা প্রধান। এটি একটি ভাল দিক হলেও 'মশা মারতে কামান দাগানো' প্রচলিত কথাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। তারপরও আশার আলো এ দুর্যোগ মুহূর্তে সেনা প্রধানও উদ্যোগী হয়েছেন। মূল কথা হচ্ছে, যেহেতু এটির জন্যে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত এবং এ মুহূর্তে এটি দেশের জন্য একটি দুর্যোগ। সুতরাং এ দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এখন জরুরি। আজকে এ দুর্যোগ থেকে সংশ্লি্লষ্টরা শিক্ষা নিয়ে সচেতন হবেন এবং তা প্রতিরোধের জন্য যথা সম্ভব পূর্ব প্রস্তুতি রাখবেন এটাই প্রত্যাশা করি।



লেখক : সাংবাদিক ও চারুশিল্পী।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৯৫২৬৮
পুরোন সংখ্যা