চাঁদপুর, সোমবার ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
আকুপ্রেশারের সাহায্যে ঔষধ ছাড়া ডায়াবেটিসের চিকিৎসা
অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ উদ্দিন
০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


উদর গহ্বরে পাকস্থলীর নিচে এবং ডিউডেনাম থেকে প্লীহা পর্যন্ত বিস্তৃত পাতার মত অনিয়ত আকার বিশিষ্ট গোলাপি রংয়ের গ্রন্থির নাম অগ্ন্যাশয় । রক্তে শর্করার সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে ইহা ইনসুলিন নামক হরমোন উৎপন্ন করে। এই গ্রন্থিটি যখন অত্যন্ত ধীর গতি সম্পন্ন হয় এবং ইনসুলিন উৎপাদনের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হয়। তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। রক্তে শর্করার মাত্রা একটি নির্দিষ্ট লেভেল অতিক্রম করলে এই অবস্থাকে মধুমেহ বা উরধনবঃবং বলে।



চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে ডায়াবেটিস ক্যান্সারের চেয়ে কম বিপজ্জনক নয়। কারণ অল্প সংখ্যক লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং বস্নাড ক্যান্সার ছাড়া অন্য যে কোন ক্যান্সার শরীরের একটি নির্দিষ্ট অঙ্গে আক্রান্ত হয়। কিন্তু বিশ্বের এক বিশাল জনগোষ্ঠী ডায়াবেটিসের মতো ভয়ংকর রোগে আক্রান্ত। এই রোগ দেহের একের পর এক অঙ্গকে আক্রান্ত করতে থাকে। এই রোগে কিডনী, হার্ট, লিভার, ব্রেইন, চোখের রেটিনা ইত্যাদি অঙ্গ আক্রান্ত হতে শুরু করে এবং ক্ষতস্থানের ঘা সহজে শুকায় না। পিতা-মাতার যেকোন একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে তাদের থেকে আগত শিশু কোনো না কোন সমস্যা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করবে ( অন্ধ, বধির, বোবা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি)। এই ধরনের দম্পতি সন্তান কনসিভ করার পূর্বে এবং সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।



 



ডায়াবেটিসের লক্ষণ : অধিক ক্লান্তি, অপরিমিত তৃষ্ণা এবং পায়ের গোড়ালীর মাংস পেশী ক্রমাগত ব্যাথা করতে থাকলে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা উচিত।



ডায়াবেটিসের মূল কারণ



১. টেনশন ও হাইপ্রেশার : যে সকল লোক এই সব সমস্যায় ভোগেন তাদের শরীরে মারাত্মক রকমের গোলযোগ দেখা দেয়। এতে বিপাক ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। ডায়াবেটিস বাড়ার সাথে সাথে কিডনী অকেজো হতে থাকে। এই অবস্থায় প্রস্রাব পরীক্ষা করলে প্রস্রাবে গ্লুকোজ দেখা দেয়।



২. অতিরিক্ত উত্তেজনা : শরীরের উত্তেজনা যখন বেড়ে যায় অথবা শরীরে যখন বেশি উদ্দীপনার প্রয়োজন হয় তখন শরীরের বিভিন্ন অংশে বেশি পরিমাণ শর্করা ও শক্তি পেঁৗছে যায় এবং বেশি পরিমান ইনসুলিনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই সময় এড্রিনাল গ্রন্থির নির্দেশে অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি ইনসুলিন উৎপাদনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এক সময় এই গ্রন্থিটি অত্যন্ত ধীরগতিসম্পন্ন হয় এবং ইনসুলিন উৎপাদনের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।। যাদের শরীরে ওজন কম কিন্তু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তারা সামান্য কিছুতেই উত্তেজিত হয়ে উঠেন। তাদের ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অগ্ন্যাশয় গ্রন্থিকে কার্যকর করার সাথে সাথে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য এড্রিনাল গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। সেই সাথে উত্তেজনার কারণ গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।



যে সমস্ত গর্ভবতী মা যে কোন কারনে বেশি উত্তেজনায় ভোগেন, তাদের গর্ভস্থ সন্তান জন্মের পর পরই



ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।



৩. অনিয়ন্ত্রিত জীবন ব্যবস্থা : যারা অধিক খাদ্য (বিশেষ করে মিষ্টি ও শর্করা জাতীয় ) গ্রহণ করে, নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম (ব্যয়াম) করে না এবং অনিয়মিত নিদ্রা যায়, তাদের অগ্ন্যাশয় গ্রন্থিকে অধিক কাজ করতে হয়। এক সময় এটি ক্লান্ত হয়ে ধীরগতিসম্পন্ন হয় এবং ইনসুলিন উৎপাদন হ্রাস পায়। ফলে রক্তে গ্লুকোজের লেভেল বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।



৪. দেহের অতিরিক্ত তাপ : কোন কারণে দেহের তাপ বেড়ে গেলে এটি অগ্ন্যাশয় গ্রন্থিকে আক্রান্ত করে। এর ফলস্বরূপ ইনসুলিন উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। এই ক্ষেত্রে রোগী প্রচ- তৃষ্ণা অনুভব করে।



কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি অধিক সক্রিয় হলে রক্তে গ্লুকোজ ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে মস্তিষ্ক ও মস্তিষ্কের তরলে ( স্পাইনাল ফ্লুইড ) প্রয়োজন মত গ্লুকোজ পেঁৗছতে পারে না। এ কারণে প্রায়ই মাথার এক পাশর্ে্ব (মাইগ্রেনের সমস্যা) করতে থাকে। এই ব্যথা দূর করার জন্য নিয়মিত বেদনা নাশক ঔষধ সেবন করতে হয়। যা কিডনীর সমস্যা ও অন্ত্রে আলসার হওয়ার কারণ হয়।



আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে অগ্ন্যাশয় গ্রন্থিকে পুনরায় সক্রিয় করা সম্ভব নয়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের জন্য রোগীকে আজীবন ঔষধ সেবন করতে হয়। কিন্তু আকুপ্রেশার চিকিৎসার সাহায্যে সরাসরি অগ্ন্যাশয় গ্রন্থিকে সক্রিয় করে ইনসুলিন উৎপাদন মাত্রা স্বাভাবিক করা যায়। কোনোরূপ ঔষধ ব্যবহার ছাড়াই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব।



ডায়াবেটিসের চিকিৎসা : ডায়াবেটিসে ভয় পাওয়ার কিছুই নাই। এর মূল কারণগুলো সনাক্ত হওয়ার পর এগুলো দূর করতে পারলেই ইনশাআল্লাহ ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।



ডায়াবেটিসের মূল কারণগুলো সমাধানের উপায়



১. টেনসন দূর করার উপায় : অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হতাশা, অনিদ্রা ও অস্থিরতার কারণে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এই সময় গ.ঋ. ও ঘ.চ. বিন্দুতে চাপ দিলে ব্যথা হয়। এই অবস্থায় এক হাতের আঙ্গুলগুলো অন্য হাতের আঙ্গুলগুলোর মধ্যে অনুরূপভাবে জড়িয়ে সজোরে চেপে ধরুন। তারপর ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের পিছনে এবং বাম হাতের আঙ্গুল দ্বারা ডান হাতের পিছনে দুই মিনিট চাপ দিন। যদি ব্যথা অসহ্য হয়, তবে ঐ ব্যক্তি ভেঙে পড়তে পারেন। এই অবস্থায় উভয় পায়ের মধ্যমা আঙ্গুলের গোড়ায় রাবারের রিং পরিয়ে দিলে অল্প সময়ের মধ্যে টেনসন দূর হবে।



২. উত্তেজনা দূর করার উপায় : কোন কারণে দেহের উত্তেজনা বেড়ে গেলে সাথে সাথে দু'পা লম্বা করে দু'হাত লম্বা ভাবে রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়েন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট এভারে শুয়ে থাকুন।



৩. হাইপ্রেশারের চিকিৎসা : ৪,৭,৮ ও ২৮ নং বিন্দুতে দিনে দু'বার আকুপ্রেশার চিকিৎসা করেন।



৪. দেহের অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়ার উপায় : যাদের শরীরে উত্তাপ খুব বেশি, তাদের হজম শক্তি দুর্বল। তারা বিভিন্ন প্রকার শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসার শুরুতে শরীরের বাড়তি উত্তাপ বের করে দিতে হবে। ১ চামচ হরিতকি চূর্ণ ১ কাপ পানিতে মিশিয়ে (প্রয়োজনে ১ চামচ চিনি দেয়া যেতে পারে) সকাল বেলা খালি পেটে ১০-১২ দিন পান করতে হবে। তারপর সপ্তাহে দু/এক দিন নিয়মিত পান করলে শরীরের বাড়তি উত্তাপ বের হয়ে যাবে। এতে পেট পরিষ্কার থাকবে এবং কৌষ্ঠ কাঠিন্য জনিত অনেক সমস্যারও সমাধান হবে। যাদের শরীরে পিত্তাধিক্যের সমস্যা আছে, তারা যদি উপরের নিয়মে পান করেন, তবে পিত্তাধিক্য কমে যাবে। এছাড়া যদি এই পাউডার খালি পেটে হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে ৪৫ থেকে ৬০ দিন পান করেন, তাহলে দেহের মেদ অনেক কমে যাবে। এর মধ্যে দু/এক বার পাতলা পায়খানা হতে পারে। এরকম হলেও ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। খাওয়ার স্যালাইন ও হালকা খাবার খেলেই চলবে।



ডায়াবেটিসের চিকিৎসা : ৮,২৫ ও ২৮ বিন্দুতে দিনে দু'বার চিকিৎসা করলে ইনশাআল্লাহ কয়েক দিনের মধ্যে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসবে। যদি ডায়াবেটিসের মাত্রা ১০ এর উপরে হয় তখন এই বিন্দুগুলোর সাথে ১৬ নং বিন্দুতে চাপ দিতে হবে।



 



আকুপ্রেশার চিকিৎসার বই, চিকিৎসা ও যেকোন ধরনের পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন :



লেখক : অধ্যাপক কে এম মেছবাহ উদ্দিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজ ফরিদগঞ্জ।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৮৩০৮
পুরোন সংখ্যা