চাঁদপুর, সোমবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫ আশ্বিন ১৪২৬, ৩০ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি 'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু', মক্কী


 


৩৩। যাহা শেষ হইবে না ও যাহা নিষিদ্ধও হইবে না।


৩৪। আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ;


৩৫। উহাদিগকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি বিশেষরূপে-


৩৬। উগাদিগকে করিয়াছি কুমারী,


 


 


 


 


সুন্দর গৃৃহের চেয়ে সৎসঙ্গীই অধিক কাম্য। -রবাট গ্রিন।


 


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
সুস্থ থাকতে প্রয়োজন ফুসফুস ও পাকস্থলীর যত্ন নেয়া
অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ উদ্দিন
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পাকস্থলী ও ফুসফুস ছাড়া শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গই রক্ত ও অঙ্েিজন সরবরাহ ঠিক মত পেলে নিজে নিজেই কাজ করে। তা ছাড়া অধিকাংশ রোগ-জীবাণুই শ্বাস-প্রশ্বাস অর্থাৎ ফুসফুস এবং খাদ্য ও পানীয় অর্থাৎ পাকস্থলীর মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। তাই সুস্থ শরীর লাভের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া এবং হজম ক্রিয়ার প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়া প্রয়োজন।



শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া



শ্বসন : ইঞ্জিনের অব্যাহত গতির জন্য যেমন শক্তির প্রয়োজন, তেমনিভাবে প্রাণিদেহের প্রতিটি সজীব কোষের খাদ্যরসের যাবতীয় জৈবক্রিয়া সম্পাদনের জন্যও শক্তির প্রয়োজন। ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে জ্বালানির দহনের ফলে এ শক্তি উৎপন্ন হয় আর প্রাণী তার কোষে অবস্থিত খাদ্যরসকে দহন করে শক্তি নির্গত করে। কোষে সঞ্চিত খাদ্যরস ও অঙ্েিজন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে কার্বন ডাই-অঙ্াইড ও তাপ শক্তি নির্গত করে। এই তাপ শক্তিই দেহের প্রাণশক্তি নামে পরিচিত এবং এ ক্রিয়া শ্বসন নামে পরিচিত।



বায়ু যখন নাকের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে, তখন বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণা ও রোগজীবাণু নাকের লোম ও তেল জাতীয় পদার্থে আটকে যায়। তাছাড়া নাসারন্ধ্র অতিক্রম করার সময় বায়ু কিছুটা গরম এবং আর্দ্র হয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে। অপর দিকে শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত কার্বন ডাই-অঙ্াইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস যুক্ত হয়ে রক্ত হৃৎপি-ের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফুসফুসে অবস্থিত অসংখ্য নালীর মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় বাতাস থেকে অঙ্েিজন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই অঙ্াইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেয়। এই পরিশোধিত রক্ত আবার হৃৎপি-ের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পেঁৗছে যায়। তাই সুস্থ শরীরের জন্যে ফুসফুসের ক্ষমতা পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হওয়া প্রয়োজন। আর ফুসফুসের ঠিকমত কাজ করার জন্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের স্থান যথেষ্ট পরিমাণ প্রশস্ত ও নির্মল হওয়া প্রয়োজন।



বায়ু দূষণ ও শ্বসন জটিলতা : বাতাসে বিভিন্ন গ্যাসের ঘনীভবন ও কঠিন বর্জ্যের পরিমাণ স্বাভাবিক বা সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেড়ে গেলে এ অবস্থাকে বায়ু দূষণ বলে। সাধারণত জ্বালানি পোড়ানো ধুঁয়া, কীটনাশক ব্যবহার, ধূলা, বৃষ্টি, কুয়াশা, ধোয়াশা, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও তেজষ্ক্রিয় পদার্থ ইত্যাদি থেকে বায়ু দূষিত হয়।



বায়ু দূষণের ফলে ফুসফুসে বিষাক্ত বর্জ্য জমে যায় এবং এড্রিনাল গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, অ্যাজমা ফ্লুরোসি, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি শ্বসন জটিলতা সৃষ্টি হয়। ফুসফুসের ও এড্রিনাল গ্রন্থির বিন্দুতে নিয়মিত আকুপ্রেশার চিকিৎসা করলে এবং প্রতিদিন সকাল বেলা নির্মল বাতাসে দশ মিনিট ফুসফুসের ব্যায়াম করলে শ্বসন জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।



যারা খুব ঘন বসতিপূর্ণ শহরে বা শিল্প এলাকায় বাস করেন, বিভিন্ন কল-কারখানায় (রাসায়নিক, রাবার, তামাক) ইত্যাদিতে অথবা যারা খনিতে কাজ কাজ করেন, সেখানকার বাতাস দূষিত। তারা প্রতিদিন উপরোক্ত চিকিৎসা করালে বিভিন্ন রকম শ্বসন জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।



 



ফুসফুসের পরিচর্যা : ফুসফুস শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এখান থেকেই অঙ্েিজন মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পৌছে। মস্তিষ্ক যদি তিন মিনিটের বেশি সময় অঙ্েিজন না পায় তাহলে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং ফুসফুস যত বেশি বিকশিত হবে, তত বেশি অঙ্েিজন গ্রহণ করবে এবং প্রাণশক্তি ততই বৃদ্ধি পাবে।



ফুসফুস পরিপূর্ণ বিকশিত হওয়ার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, হাসা ও কান্না ইত্যাদি ক্রিয়ার অনুশীলন করা প্রয়োজন। এই সব ক্রিয়ার মাধ্যমে ফুসফুস পূর্ণ শক্তিপ্রাপ্ত হয়। শিশুদের ৫-৬ বছর বয়স থেকেই এই সব ক্রিয়ায় অভ্যস্ত করে তুলতে পারলে তারা সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন নিয়ে গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ্।



অনেক সময় নাকের ছিদ্রের দেয়ালে এবং গলায় কফ জমে যায়, ফলে বাতাস ভিতরে এবং বাইরে আসা যাওয়া করতে বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং শ্বাস-নিঃশ্বাস রুদ্ধ হয়। হজম ক্রিয়া বিঘি্নত হওয়ার কারণেও এ রকম হতে পারে।



ফুসফুসের নিম্নলিখিত ব্যায়ামগুলোর যে কোনো একটি নিয়মিত অনুশীলন করলে দেহে পর্যাপ্ত অঙ্েিজন সরবরাহ করে ও রক্ত শোধন করে।



ফুসফুসের ব্যায়াম-১ : চিৎ হয়ে শুয়ে শ্বাস নিন এই ভাবে গুণে ১, ২, ৩, ৪...। যতক্ষণ শ্বাস নিয়েছেন ততক্ষণ আটকিয়ে রাখুন। তারপর একই সময় ধরে শ্বাস ছাড়ুন। তারপর আবার শ্বাস বন্ধ করে রাখুন একই সময়। অন্তত দিনে ১০ থেকে ১৫ বার এই প্রক্রিয়া অভ্যাস করুন। আস্তে আস্তে প্রতি ধাপে সময় বাড়ান। অর্থাৎ ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গোণার চেষ্টা করুন। প্রতি বার শ্বাস বন্ধের সময় ফুসফুস বিশ্রাম পায় এবং পুনরায় শক্তি লাভ করে। যক্ষ্মা রোগীদের উপর এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করলে অবিশ্বাস্য ফল পাওয়া যায়।



ফুসফুসের ব্যায়াম-২ : শান্ত পরিবেশে সোজা হয়ে বসুন। খুব ঘন ঘন শ্বাস-নিঃশ্বাস নিতে থাকুন। প্রতি মিনিটে ১০ বার থেকে শুরু করে প্রতি মিনিটে ৫০ বার পর্যন্ত করার চেষ্টা করুন। প্রতি বারে দুমিনিট করে প্রতিদিন দুই বার এই অভ্যাস করুন।



ফুসফুসের ব্যায়াম-৩ : মুখ খুলে খুব ধীরে ধীরে শ্বাস গ্রহণ করুন এবং মুখ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে নাক দিয়ে খুব জোরে শ্বাস ছেড়ে দিন। এক সাথে দশ থেকে পনের বার এইরূপ করুন। এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের জটিলতা দূর হয়।



ফুসফুসের ব্যায়াম-৪ : প্রথমে এক নাক বন্ধ করে অন্য নাক দিয়ে শ্বাস নিন। যতক্ষণ শ্বাস নিয়েছেন ততক্ষণ শ্বাস আটকিয়ে রাখুন তারপর ততসময় ধরে শ্বাস ছাড়ুন। এবার এই নাক বন্ধ করে অন্য নাক দিয়ে একইভাবে শ্বাস-নিঃশ্বাস গ্রহণ করুন।



শ্বাস গ্রহণের সময় বুকের ছাতি দুই থেকে তিন ইঞ্চি প্রসারিত করার চেষ্টা করুন। শ্বাস আটকানোর সময় পেটকে ভিতরের দিকে টেনে রাখতে চেষ্টা করুন। এতে ভুঁড়ি কমবে এবং বিশেষ ফল পাওয়া যাবে। শ্বাস প্রশ্বাসে এই প্রক্রিয়াগুলো সকল বয়সের মানুষের জন্য উপকারী। নিয়মিত ভাবে এই অভ্যাসগুলো করলে :



১) শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গে উপযুক্ত পরিমাণ অঙ্েিজন সরবরাহ হবে, ফলে রক্ত বিষ মুক্ত হবে, সেই সাথে দেহও বিষ ও কার্বন মুক্ত হবে।



২) ঠা-া, কাশি, হাঁপানি, যক্ষ্মা, পোলিও, মেনিনজাইটিস, মানসিক বিকার, স্নায়ুবিক দুর্বলতা এবং পেশী সংক্রান্ত গোলযোগের ক্ষেত্রে এই অনুশীলনগুলো অতীব প্রয়োজন।



৩) কিডনীর উপর অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে যাবে।



৪) এর ফলে হজম শক্তিও বৃদ্ধি পাবে।



যে কোনো সময় যে কোনো অবস্থায় যেমন দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে এমনকি হাঁটতে হাঁটতে এই অনুশীলনগুলো করা যায়। তবে খালি পেটে কিংবা আহারের দু'ঘন্টা পরে করা ভাল এবং সকাল বেলা নির্মল হাওয়ায় এই অনুশীলনগুলো করা সবচেয়ে বেশি উপকারী।



হজম প্রণালী



শরীর সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন বিশুদ্ধ রক্ত। বিশুদ্ধ রক্ত আসে শরীরের উপযোগী খাদ্য ও পানীয় থেকে। অর্থাৎ খাদ্য ও পানীয় ঠিকমত হজম হলে বিশুদ্ধ রক্ত তৈরি হবে। অতএব হজম ক্রিয়ার প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। হজম ক্রিয়া শুরু হয় মুখ হতে। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, খাদ্য গ্রহণের সময় প্রত্যেক খাদ্য এমন কি নরম কিংবা মিষ্টি জাতীয় খাদ্যও ১০ থেকে ১২ বার চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা দরকার। খাদ্য চিবিয়ে না খেলে পাকস্থলীর উপর দ্বিগুণ চাপ পড়ে এবং এক সময় পাকস্থলী দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন প্রকার রোগ, স্থূলতা এমনকি ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।



ঠিকমত চিবিয়ে খেলে খাদ্যের পরিতৃপ্তি পাওয়া যায় এবং খাদ্যের সাথে যথেষ্ট লালা মিশ্রিত হয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সহায়তা করে। ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। কম খাদ্যেই শরীরের প্রয়োজন মিটে যায় এবং ধীরে ধীরে খাদ্যের চাহিদা কমে যাবে। খাদ্য ঠিকমত চিবিয়ে খেলে কখন আমাদের পেট ভরে গেছে তা আমরা বুঝতে পারি। খাদ্য চিবিয়ে খাওয়া আমাদের নবী (সঃ)-এর সুন্নত।



মুখেই আমরা ডায়াবেটিসের মত মারাত্মক রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।



পাকস্থলী একটি চুলা : রান্নার চুলাতে যেমন পরিমাণ মত ভাল মানের জ্বালানি এবং যথেষ্ট পরিমাণ বাতাস পেলে আগুন সর্বোচ্চ তাপ দেয় এবং ধুঁয়া ও ছাই কম হয়, তেমনি ভাবে পাকস্থলী নামক চুলার জন্যে শরীরের উপযোগী পরিমাণ মত খাদ্য এবং পরিমাণ মত পানি পেলে যথেষ্ট পরিমাণ বিশুদ্ধ রক্ত ও শক্তি উৎপন্ন হয়। চুলাতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার করলে যেমন প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন হয় না বরং ধুঁয়া ও কয়লা হয়, একইভাবে উদর পূর্ণ করে খেলে খাদ্য ঠিকমত হজম হয় না। ফলে পাকস্থলীর দুর্বলতাসহ বিভিন্ন প্রকার পেটের পীড়া জন্ম হয়, রক্তে বিষাক্ত খাদ্যরস শোষিত হয়। এই সকল বিষাক্ত রস শরীরের বিভিন্ন অস্থি-সন্ধিতে জমা হয় এবং অস্থি-সন্ধিতে ব্যথা হয়। এজন্যে খাদ্য গ্রহণের সময় উদরপূর্ণ করে খাওয়া উচিত নয়। পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খাদ্য, এক ভাগ পানি এবং একভাগ খালি রাখা আমাদের নবী (সঃ)-এর সুন্নত।



চুলার উত্তাপ যথেষ্ট না হলে যেমন কোনো খাদ্য সিদ্ধ হয় না, তেমনি ভাবে পাকস্থলী নামক চুলার উত্তাপ যথেষ্ট না হলে খাদ্য ঠিকমত হজম হয় না। কোনো কোনো খাদ্য পাকস্থলীর উত্তাপ রক্ষা করে এবং প্রয়োজনে বাড়ায়। আবার কোনো কোনো খাদ্য পাকস্থলীর উত্তাপ কমায়। যেমন আদা, গোল মরিচ, যোয়ান এবং যে কোনো তিতা ও কষা খাদ্য পাকস্থলীর উত্তাপ রক্ষা করে এবং প্রয়োজনে বাড়ায়। আবার ঠা-াপানীয়, আইসক্রীম ইত্যাদি খাদ্য পাকস্থলীর উত্তাপ কমায়, ফলে হজম ক্ষমতা হ্রাস পায়। আমেরিকার পুষ্টি বিজ্ঞানীগণ পরীক্ষা নিরীক্ষার দ্বারা প্রমাণ করেছেন, ঘুম থেকে ওঠার এক ঘন্টা পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য গ্রহণ দেহের অভ্যন্তরীণ উত্তাপ বৃদ্ধি করে। খাদ্য সহজে হজম হয় এবং বেশি শক্তি লাভ হয়। রাতে দেরিতে এবং গুরুপাক খাদ্য গ্রহণ করা হজম শক্তি মন্থর করে, শরীরে বেশি মেদ সৃষ্টি করে এবং পেটের গোলযোগ সৃষ্টি করে।



পাকস্থলীর উত্তাপ কমে গেলে কী হয় : আমাদের শরীরে যে সমস্ত উপাদান আছে তার মধ্যে শতকরা ৭২ ভাগই পানি। সেই পানি নিয়ন্ত্রিত হয় শরীরের তাপ দ্বারা। শরীরের তাপশক্তি নির্ভর করে হজম ক্রিয়ার উপর। হজম ক্রিয়া নির্ভর করে পাকস্থলীর উত্তাপের উপর। অতএব, হজম ক্রিয়া দুর্বল হলে শরীরে অতিরিক্ত পানি শুকাতে পারে না, ফলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে যায়।



১। যদি এই পানি মাথায় জমে যায় তাহলে মাথা ব্যথা, সাইনাস ইত্যাদি রোগ হয়।



২। এই পানি যদি গলায় জমে যায়, তাহলে গলার মধ্যে জমাট-ভাব থাকে এবং প্রতিবার কাশলেই শ্লেষ্মা বের হয়। যার ফলে টনসিল, স্বরভঙ্গ, গলায় ব্যথা ইত্যাদি হয়।



৩। এই পানি যদি ফুসফুস ও বুকে জমে যায়, তবে ঠা-া লাগা, সর্দি, কাশি, ফ্লু, জ্বর, ব্রংকাইটিস প্রভৃতি রোগ হয়। এই সব রোগকে অবহেলা করলে নিউমোনিয়া হতে পারে।



হজম শক্তি দুর্বল অবস্থায় ঠা-া পানীয়, ভারী খাবার, দই, ঘোল এবং লেবু ও অন্যান্য টক জাতীয় জিনিস খেলে এসব রোগের প্রকোপ আরও বেড়ে যায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন এদের শরীরে সহ্য হয় না।



পাকস্থলীর উত্তাপ বেড়ে গেলে কী হয় : অত্যধিক পিত্ত প্রবাহের ফলে শরীরের উত্তাপ বেড়ে যায় এবং পাকস্থলীতে এসিডের পরিমাণও বেড়ে যায় । ফলে পাকস্থলীর বাতাস গরম হয় এবং এই গরম বাতাস মাথা ও মুখের ফাঁকা জায়গা দখল করে। দিনের বেলার গরম বাতাস যেমন রাতে শীতল হয়ে শিশির জমাতে শুরু করে তেমনি মাথা ও মুখের এই গরম বাতাস ঠা-া ঘরে, বৈদ্যুতিক পাখার নিচে কিংবা রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় পানিতে পরিণত হয়। এই বাষ্পের সংস্পর্শে এসে মাথার স্নায়ুম-লী সংকুচিত হয়। ফলে মাথা ব্যথা ও সাইনাসের সমস্যা হয় এবং গলায় ঘা হয়। মাথায় জমা এই ঠা-া পানি মস্তিষ্কের তরল পদার্থের সাথে মিশ্রিত হয়ে শ্লেষ্মায় পরিণত হয়। এই শ্লেষ্মা যখন নিচে নামতে থাকে, তখন গলা ও নাকে অস্বস্তি বোধ হয়; ঘন ঘন হাঁচি আসে এবং নাক দিয়ে পানি (শ্লেষ্মা) পড়ে। এর ফলে টনসিল হতে পারে।



হজম শক্তি বৃদ্ধি ও ভাল স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন সোজা হয়ে বসা : যাদের হজমের সমস্যা আছে এবং যারা পিঠ, কোমর কিংবা পায়ের ব্যথায় ভোগেন তাদের অধিকাংশই সোজা হয়ে বসেন না, বিশেষ করে যখন মেঝেতে বসেন। ঝুঁকে বসার ফলে :



১। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় পাকস্থলী ও তলপেট ঠিকমত প্রসারিত হয় না। ফুসফুসের উপর অনেক চাপ পড়ে।



২। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অঙ্েিজন সরবরাহ কমে যায়।



৩। মেরুদ- ক্ষতিগ্রস্ত হয়।



হজম শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম : প্রথমত সোজা হয়ে বসার অভ্যাস করুন। দ্বিতীয়ত খাবারের আগে বা দুই ঘন্টা পর চেয়ারে পিঠ রেখে সোজা হয়ে বসুন। প্রথমে লম্বা করে নিঃশ্বাস ছেড়ে দেন তারপর লম্বা করে নিঃশ্বাস নিন। প্রতিদিন ৮-১০ মিনিট এই অভ্যাস করুন। এতে পাকস্থলী ও তলপেট প্রসারিত হবে। ফলে গ্যাস ও বদ হজম কমে যাবে এবং স্থূলতা রোধ হবে।



হজম শক্তি বৃদ্ধিতে আকুপ্রেশার : হ্যান্ড রোলার এবং ফুট রোলার বর্ণিত উপায়ে যতটা সম্ভব চাপ দিন। প্রতিদিন সকালে নাস্তার পর এবং রাতে খাবার গ্রহণের পর পাঁচ মিনিট রোলিং করলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। ৪০ বছর বয়সের পর এগুলো প্রত্যেকে ব্যবহার করা প্রয়োজন।



 



 



 



 



হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য করণীয় :



১। খুব গরম ও একেবারে ঠা-া খাবার বর্জন করুন, খাবার হালকা গরম হওয়া উচিত।



২। ভাজা-পোড়া খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন।



৩। খাবার খুব ভাল করে চিবিয়ে খাবেন। এমনকি মিষ্টি জাতীয় খাবারও চিবিয়ে খাবার অভ্যাস করুন।



৪। প্রতি রাতে টক দই খাবেন।



৫। প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ও রান্না করা শাক-সবজি এবং বিভিন্ন ঋতুর দেশী ফল খাবেন।



৬। দুই আহারের মধ্যে কমপক্ষে ৫ ঘন্টা ব্যবধান হওয়া উচিত। এই সময় যথাসম্ভব হালকা নাস্তাও বর্জন করা উচিত।



৭। পাকস্থলী একটি যন্ত্র, এরও বিশ্রামের প্রয়োজন। তাই প্রতি রাতে ৮-৯ ঘন্টা পাকস্থলীর বিশ্রাম দেয়া উচিত। সপ্তাহে একদিন রাতে খাওয়া বন্ধ রাখুন।



৮। ৪০ বছর পর থেকে রাতে ভারী খাবার বর্জন করুন। এই সময় রাতে শাকসবজির রস পান করা উত্তম।



৯। মাসে তিন দিন রোজা রাখার অভ্যাস করুন।



১০। হজম শক্তি ও পাকস্থলীর উত্তাপ বৃদ্ধির জন্য অংকুরিত বুট/মুগ খেতে পারেন এবং এর সাথে তিল, চিনাবাদাম, বাঁধা কপি, খেজুর, কিসমিস অথবা সামান্য তাল মিসরী খেতে পারেন। এর মধ্যে আছে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন সি, ই, ও, বি, কমপ্লেঙ্, প্রোটিন এবং খনিজ লবণ। এটি শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মা ও বৃৃদ্ধ লোকদের জন্য খুবই উপকারী।



যাদের শরীরের ওজন খুব বেশি তাদের জন্যে খেজুর, কিসমিস এবং তাল মিসরী যতটা সম্ভব না খাওয়াই ভাল। এছাড়া বাকি খাবারগুলো ওজন কমাবার পক্ষে ভাল কাজ করবে।



খাদ্যাভাস :



মানুষের প্রয়োজন, ক্ষুধা নিবারণ ও রসনা তৃপ্তির জন্য যে সমস্ত বস্তু গ্রহণ করি তা-ই খাদ্য। একজন মানুষ গত এক বছরে বিশেষ অনুষ্ঠান ও পর্ব ছাড়া যে সকল বস্তু খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে তা-ই হলো ঐ ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস।



সুস্থতার জন্য চাই সুষম স্বাদের খাদ্য : আমরা যে সকল খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করি তার স্বাদ মূলত ছয় প্রকার :



১) মিষ্টি ২) নোনতা ৩) টক ৪) ঝাল ৫) কষা ৬) তিতা।



শেষের স্বাদের দুটি খাদ্য সাধারণত আমরা এড়িয়ে চলি। কিন্তু রক্ত শোধন এবং দেহে পুষ্টির সমতা রক্ষা করতে এই দুটি স্বাদের খাদ্য অপরিহার্য। তাছাড়া এই দুটি স্বাদের খাদ্য পাকস্থলীর উত্তাপ রক্ষা করে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের কুফলকে অকার্যকর করে। একজন ইংরেজ ডাক্তার মন্তব্য করেছেন, ভারত বর্ষের যে সকল লোক নিম পাতা খান তাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকে এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি।



পাকস্থলীর উত্তাপকে ঠিক রাখার জন্য ৪০ বছর বয়সের পর থেকে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কোন এক ব্যক্তির জন্যে একধরনের খাবার উপকারী হলেও অন্য ব্যক্তির জন্যে তা উপকারী নয়। যেমন যাদের শরীরে আগুনের উপাদান (উত্তাপ) বেশি তাদের জন্যে দই, ঘোল উপকারী, কিন্তু যাদের শরীরে পানির উপাদান বেশি তাদের জন্য দই, ঘোল ক্ষতিকর। আবার এক ঋতুতে যে সকল খাদ্য ও শাক-সবজি উপকারী, অন্য ঋতুতে সে সকল খাদ্য ও শাক-সবজি উপকারী নয়।



মাথা থাকবে ঠা-া, পেট থাকবে নরম এবং পায়ের পাতা হবে গরম_এগুলোই হলো সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ।



পেট ভর্তি হওয়ার ট্রাফিক সিগনাল : রাস্তায় ট্রাফিক সিগনালে যেমন সবুজ-হলুদ-লাল বাতি জ্বলে উঠে, ঠিক তেমনি খাদ্য গ্রহণের সময় পেট ভর্তি হওয়ার সংকেত হিসেবে তিনটি ঢেকুর আসে। আপনি অন্তত মধ্যবর্তী ঢেকুর অর্থাৎ হলুদ সিগনালের সময় খাবার গ্রহণ বন্ধ করুন। রসনা তৃপ্তির জন্য যে কোনো খাবারই আপনি খেতে পারেন। কিন্তু হলুদ সিগনালের সময় অবশ্যই আপনি খাদ্য গ্রহণ ত্যাগ করুন। তা না হলে বিপদ হতে পারে।



শরীরের উপযোগী খাদ্যের পরীক্ষা : খাদ্য গ্রহণের পর আপনি যদি নিজেকে আগের চেয়ে বেশি তৎপর, বেশি শক্তিশালী কিংবা বেশি কর্মক্ষম মনে করেন, তাহলে ঐ খাদ্য আপনার শরীরের জন্য উপযোগী। কিন্তু খাদ্য গ্রহণের পর যদি আপনি নিজেকে ভারী বোধ করেন, অলসতা আসে কিংবা ঘুম পায় তাহলে বুঝতে হবে :



এই খাদ্য আপনার শরীরের উপযোগী নয়।



অথবা আপনি বেশি খেয়ে ফেলেছেন।



অথবা তাড়াতাড়ি খেয়েছেন।



অথবা আপনার হজম শক্তি/ পাকস্থলীর উত্তাপ কমে গেছে।



দেহের প্রকৃতি : আমাদের দেহ আগুন, পানি, মাটি ও বাতাস এই চারটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এই উপাদানগুলো যদি সঠিক মাত্রায় বজায় থাকে, তবে দেহে বিপাক ক্রিয়া যথাযথ হয় এবং দেহের সুস্থতা বজায় থাকে। কিন্তু বংশগত কারণে এবং খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপনের অভ্যাসের জন্য এই উপাদানগুলোর এক বা একাধিক উপাদানের আধিক্য দেখা যায়। আয়ূর্বেদ চিকিৎসা পদ্ধতিতে দেহের উপাদান আধিক্যকে তিনটি প্রকৃতিতে ভাগ করা হয়েছে :



১) মাটি ও পানির আধিক্য (কফ প্রকৃতি)। ২) আগুন ও বাতাসের আধিক্য (পিত্ত প্রকৃতি)। ৩) বায়ুর আধিক্য (বায়ু প্রকৃতি)



কফ প্রকৃতি : অত্যধিক ভোজন করলে, খিদে না পেলেও মাঝে মধ্যে আহার করলে এবং ঘন ঘন মিষ্টি ও ভাজা জিনিস খেলে হজমের সমস্যা হয় এবং দেহে যথেষ্ট তাপ সৃষ্টি হয় না। ফলে পানির মাত্রা বেড়ে যায় এবং তাপের মাত্রা কমে যায়। এই কারণে নিষ্ক্রিয়তা, ভারী ভাব এবং চর্বির আধিক্য দেখা দেয়।



এই প্রকার ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত খাদ্য, শীতল পানীয় এবং যে সব খাদ্যে সমস্যা বাড়ায় তা এড়িয়ে চলা উচিত। দিনে ঘুমানো এবং অধিক যৌন ক্রিয়া এড়িয়ে চলা উচিত। তাদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে এবং শুধু খিদে পেলেই খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। দুধ তাদের জন্য ক্ষতিকর।



পিত্ত প্রকৃতি : এই প্রকৃতির ব্যক্তিদের অধিক তাপের ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যে ব্যাঘাত ঘটে, অ্যাসিডিটি আলসার, সর্দি গর্মি, ত্বকের সমস্যা, যৌন দুর্বলতা, খিটখিট স্বভাব এবং চুল পড়া ইত্যাদি সমস্যায় ভোগে। উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা অত্যধিক ভাজা ও মশলা যুক্ত খাদ্য, বেশি রোদ লাগানো এবং অত্যধিক অ্যন্টি-বায়োটিকের ব্যবহার এদের সমস্যা বাড়ায়।



১। এদের অগ্ন্যাশয় ও এড্রিনাল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।



২। হরিতকি চূর্ণ খেতে হবে।



৩। মিষ্টি ফলের রস ও সবুজ রস পান করতে হবে।



৪। খাওয়ার পরে ফল খেতে হবে।



৫। চা, কফি এদের জন্য ক্ষতিকর।



বায়ু প্রকৃতি : এই প্রকৃতির ব্যক্তিরা বেশি কথা বলেন, তারা দিবাস্বপ্ন দেখেন, বেশি ঘুমান এবং এদের গ্যাসের সমস্যা হয়। শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যের অভাবে মূর্ছা হয়। ভারী, তৈলাক্ত এবং ভাজা খাবার এদের সমস্যা বাড়ায়। কিন্তু এগুলোর প্রতি তাদের প্রবণতা অনেক বেশি।



১। এই প্রকার ব্যক্তিদের কোষ্ঠ কাঠিন্য এড়িয়ে চলা উচিত।



২। দেহের উত্তাপ এবং তাপ সঞ্চালন বাড়ানোর জন্যে বেশি করে ব্যায়াম করা উচিত।



৩। এদের অবাঞ্ছিত খাদ্য এড়িয়ে চলা উচিত।



দেহের প্রকৃতি জানার সহজ উপায় : স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এক গ্লাস পানি নিন, ধীরে ধীরে পান করুন, থামুন আবার ধীরে ধীরে পান করুন, থামুন আবার ধীরে ধীরে পান করুন, স্বাদের বিষয় পরীক্ষা করুন।



১। যদি তিতা লাগে তাহলে পিত্ত প্রকৃতি।



২। যদি মিষ্টি লাগে তাহলে কফ প্রকৃতি।



৩। যদি টক লাগে তাহলে বায়ু প্রকৃতি।



প্রত্যেকেই তার নিজস্ব প্রকৃতি খুঁজে বের করে তাদের সমস্যা সৃষ্টি করে এমন খাদ্য এড়িয়ে চলা উচিত।



প্রত্যেক ব্যক্তিই যেমন প্রকৃতির দিক থেকে অপর থেকে আলাদা, ঠিক তেমনি তাদের স্বাস্থ্যের প্রবণতা ও সমস্যাও আলাদা। এজন্যে খাদ্যাভাস পরিবর্তন করে সুস্থ থাকা সম্ভব।



এলার্জি : বংশগত কারণে, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের বদঅভ্যাসের জন্য দেহের উপাদানগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক উপাদানের আধিক্য দেখা যায়। ফলে কোনো বস্তুর প্রতি অত্যানুভূতি থাকে। রক্তের শ্বেত কণিকার কিছু কোষ ঐ বস্তুর সংস্পর্শে আসা মাত্রই বিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থ রক্তে নিঃসৃত হয়। ঐ রাসায়নিক পদার্থ ঐ বস্তুর সাথে বিক্রিয়া করে শরীরে কিছু পরিবর্তন ঘটায়। যেমন : চর্মে চুলকানি যুক্ত ছোট ছোট লাল উদ্ভেদ, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি দেখা দেয়। শরীরের এই প্রতিক্রিয়াকে এলার্জি বলে। বর্ণিত বিন্দুতে নিয়মিত চিকিৎসা করে এলার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।



শরীরের ভাষা : শরীরের কোনো বিশেষ প্রয়োজনে কিংবা কোনো প্রতিকূল অবস্থায় শরীর আমাদেরকে বিভিন্ন সংকেত দেয় সে সংকেতগুলো বুঝে শরীরকে রোগমুক্ত হতে সাহায্য করা উচিত।



১. পেট ভর্তি হলে যখন ঢেঁকুর আসে। তখনই খাবার বন্ধ করার চেষ্টা করুন। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, কমপক্ষে হলুদ সিগন্যালের সময় খাবার বন্ধ করুন।



২. কার্বন, পানি ও বায়ু ইত্যাদি শরীরের কোনো অঙ্গে অধিক পরিমাণ জমা হলে ঐ অংশে ব্যথা হয়। ফুসফুসের কোনো একটি ব্যায়াম নিয়মিত করলে ঐ ব্যথা ভাল হয়ে যায়।



৩. শরীরে ঠা-া লাগলে অথবা গলা ও বুকে জমাকৃত পানি বের করে দেয়ার চেষ্টা করলে কাশি হয়।



৪. নাক দিয়ে পানি পড়লে বা হাঁচি আসলে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে গেছে বা শরীরের উত্তাপ বেড়ে গেছে। শরীর তা বের করে দেয়ার চেষ্টা করছে।



৫. শরীরের কোথাও খোস পাঁচড়া ও চুলকানি হলে শরীরের ঐ অংশে আরও বেশি রক্ত সরবরাহ প্রয়োজন অথবা রক্তে বিষাক্ত উপাদান বেড়ে গেছে। কিডনী তা শরীর থেকে বের করে দিতে পারছে না।



৬. জ্বর হলে বুঝতে হবে রক্তের শ্বেত কণিকা কোনো জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করছে।



৭. বুক ধড়ফড় করলে বা বুকে ব্যথা হলে হৃদপিন্ডের সম্পূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন।



৮. ক্ষুধা না লাগলে বুঝতে হবে দেহে পানি জমে গেছে অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে অথবা পাকস্থলী ও হজম প্রণালীর অন্যান্য অঙ্গে আর্বজনা জমে গেছে। এই অবস্থায় পাকস্থলীর উপর বাড়তি চাপ দেয়া ঠিক নয়। শুধু মাত্র হালকা গরম পানি, ফলের রস বা দই খাওয়া উচিত।



ঔষধ ব্যবহার করে এই সংকেতগুলো সংগে সংগে চেপে দিলে এর ফলাফল খুব খারাপ হতে পারে। যেমন সর্দি ঔষধ দ্বারা চাপা দিলে পরবর্তীতে এজমা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার জ্বর যদি হঠাৎ করে চাপা দেয়া হয় তবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। এই সকল সংকেতগুলোর সাথে সম্পর্কিত বিন্দুতে আকুপ্রেশার চিকিৎসা করে শরীরকে রোগ মুক্ত করা যায়।



আকুপ্রেশার চিকিৎসার বই, চিকিৎসা ও যেকোন ধরনের পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন : অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ উদ্দিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ। মোবাইল ফোন : ০১৯১৪৯১০৬২৬



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯৩৯৪০
পুরোন সংখ্যা