চাঁদপুর, সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮০। ইহা জগৎসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ।


৮১। তবুও কি তোমরা এই বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করিবে?


৮২। এবং তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের উপজীব্য করিয়া লইয়াছো!


 


 


 


 


 


হিংসা একটা দরজা বন্ধ করে অন্য দুটো খোলে।


-স্যামুয়েল পালমার।


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
মানব দেহের রক্তের গ্রুপ একেক জনের একেক রকম : রহস্য কী?
সিরাজুল ইসলাম
১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৯০০ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক কাল ল্যান্ড স্টেইনার বিভিন্ন ব্যক্তির লোহিত কণিকার ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগ্লুটিনেশন হওয়া বা না হওয়ার উপর ভিত্তি করে দুই ধরনের এন্টিজেন আবিষ্কার করেন, যা লোহিত কণিকার মধ্যে থাকে। এরা হলো, এন্টিজেন 'এ' এবং 'বি'।



এ. বি ও বস্নাড গ্রুপ সিস্টেম মানবদেহে 'এ' এবং 'বি' এন্টিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে সকল মানবদেহের রক্তকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। যা হচ্ছে :



(ক) এ



(খ) বি



(গ) এবি



(ঘ) ও



যাদের লোহিত কণিকাতে 'এ' এন্টিজেন থাকে তারা হলেন 'এ' গ্রুপ। যাদের লোহিত কণিকাতে 'বি' এন্টিজেন থাকে তারা হলেন 'বি' গ্রুপ। যাদের লোহিত কণিকাতে এ ও বি দুইটি এন্টিজেন থাকে তারা হলেন 'এবি' গ্রুপ, আর যাদের লোহিত কণিকাতে এ ও বি এন্টিজেন থাকে না তারা হলেন 'ও' গ্রুপ।



 



একইভাবে দুই ধরনের এন্টিবডি মানব দেহের প্লাজমাতে বিদ্যমান থাকে। যা হলো এন্টি এ এন্টিবডি এবং এন্টি বি এন্টিবডি। এন্টি এ এন্টিবডি বি গ্রুপ লোকের প্লাজমাতে থাকে। এন্টি বি এন্টিবডি এ গ্রুপ লোকের প্লাজমাতে থাকে। এন্টি এ ও বি এন্টিবডি 'ও' গ্রুপ লোকের প্লাজমাতে থাকে আবার কোনো এন্টিবডি থাকে না 'এবি' গ্রুপ লোকের প্লাজমাতে।



 



সুতরাং আমরা ল্যাবরেটরীতে মানব দেহের রক্তে এন্টিজেন এবং এন্টিবডির আকর্ষণ নির্ণয় করেই রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে থাকি।



 



রিসার্স বস্নাড গ্রুপ সিস্টেম :



এবিও রক্তের গ্রুপ আবিষ্কারের পর ধরে নেয়া হয়েছিলো রক্ত পরিসঞ্চালনের দরুণ কোনোপ্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না। কিন্তু দেখা যায় যে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ অনেক জটিলতা দেখা দেয়। যেমন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু রক্তশূন্যতা ও জন্ডিসে ভোগে এবং কখনো কখনো মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হতে পারে। এ বিষয়গুলোর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে রিসার্স বস্নাড গ্রুপ আবিষ্কার হয় ১৯৩৯ সালে।



 



রক্ত পরিসঞ্চালনের ক্ষেত্রে এবি ও বস্নাড গ্রুপ সিস্টেম-এর সাথে রিসার্স বস্নাড গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। রিসার্স বস্নাড গ্রুপ সিস্টেম তিন জোড়া জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এগুলো হলো ঈপ. উফ. ঊব.



 



এগুলোর মধ্যে বড় সবচেয়ে বেশি ওসসঁহড়ংবহরপ শক্তিশালী। তাই আমরা ল্যাবরেটরীতে লোহিত কণিকার মেমব্রেনে বড় ও এন্টিজেন-এর উপস্থিতি/অনুপস্থিতি নির্ণয় করে Rhesus (D) possitive/Negative নির্ণয় করে থাকি।



 



বস্নাড গ্রুপ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমরা অনেককেই অইঙ বস্নাড গ্রুপ সিস্টেমই এবং জযবংঁং বস্নাড গ্রুপ সিস্টেমকে একত্রে মিলিয়ে ফেলি, যা কখনোই উচিত নয়। দুই সিস্টেমই সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার।



 



একই ব্যক্তির বস্নাড গ্রুপ একেক প্যাথলজিতে একেক ফলাফল। কারণ কী?



 



আমরা প্রায়ই দেখি একই ব্যক্তির বস্নাড গ্রুপ ভিন্ন ভিন্ন হয়। কারণ যে প্রক্রিয়ায় বস্নাড গ্রুপ করার নিয়ম তা মানা হয় না। বস্নাড গ্রুপ পরীক্ষা খুবই সহজ বিধায় কেউ প্রকৃত নিয়ম মানতে চায় না। তাছাড়া রয়েছে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ থেকে পাস করা ডিপ্লোমাধারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-এর অভাব।



 



সচরাচর যা করা হয় : কমার্শিয়ালি অভিন্ন কোম্পানীর এন্টিবডি 'এ', 'বি' ও 'ও' পাওয়া যায়। এই এন্টিবডির সাথে তিন ভাগে তিন ড্রপ ডযড়ষব ইষড়ড়ফ যুক্ত করে যে এন্টিবডির সাথে এগ্লুটিনেশন হয়, সেটিই গ্রুপ বলে থাকি। এজন্যেই যতো ভুল।



 



প্রকৃতপক্ষে সেল গ্রুপিং এবং সেরাম গ্রুপিং আলাদা করলে ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নাই। সাধারণ টেকনিশিয়ানদের পক্ষে এই প্রক্রিয়ায় বস্নাড গ্রুপ করা প্রায়ই জটিল। তাই একজন এমবিবিএস চিকিৎসক এবং ডিপ্লোমাধারী মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সমন্বয়ে গ্রুপ পরীক্ষা করে ফলাফল দেবেন এটাই সবার প্রত্যাশা।



 



লেখক পরিচিতি : মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুর।



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৮৬৫৪
পুরোন সংখ্যা