চাঁদপুর, সোমবার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০ মাঘ ১৪২৬, ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৩-সূরা মুনাফিকূন


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪। তুমি যখন উহাদের দিকে তাকাও উহাদের দেহাকৃতি তোমার নিকট প্রীতিকর মনে হয় এবং উহারা যখন কথা বলে, তুমি সাগ্রহে উহাদের কথা শ্রবণ কর যদিও উহারা দেওয়ালে ঠেকান কাঠের স্তম্ভ সদৃশ; উহারা যে কোনো শোরগোলকে মনে করে উহাদেরই বিরুদ্ধে। উহারাই শত্রু, অতএব উহাদের সম্পর্কে সতর্ক হও; আল্লাহ উহাদিগকে ধ্বংস করুন। বিভ্রান্ত হইয়া উহারা কোথায় চলিয়াছে।


 


যে ব্যক্তি হালাল পথে রুজি করে সেই প্রকৃত মুসলমান।


-হযরত আঃ কাদের জিলানী (রঃ)।


 


 


যিনি বিশ্বমানবের কল্যাণ সাধন করেন তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।


ফটো গ্যালারি
মেয়েদের যৌনরোগের আকুপ্রেশার চিকিৎসা
কে. এম. মেছবাহ উদ্দিন
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মানব শিশুর অধিকাংশ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও গ্রন্থিগুলো জন্মের পর হতেই সক্রিয় হলেও যৌন গ্রন্থিগুলো সক্রিয় হয় বয়োঃসন্ধিকাল থেকে। শীতের রুক্ষ প্রকৃতি যেমন বসন্তে ফুলে ফলে ভরে উঠে এবং অপরুপ সাজে সজ্জিত হয়। ঠিক তেমনিভাবে শিশুকালের জড়তা-ভিরুতা পার করে মানব শিশু যখন বয়োঃসন্ধিকালে পেঁৗছে, তখন তার দেহ, মন ও মস্তিষ্কে নববসন্তের উচ্ছাস দোল খেতে শুরু করে। তখন সে স্বপ্নের জগতে ভাসতে থাকে। সব শিশুর বয়োঃসন্ধিকাল একই সাথে শুরু হয় না। সাধারণত ছেলেদের তের থেকে পনের বছরের মধ্যে এবং মেয়েদের নয় থেকে বার বছরের মধ্যে বয়োঃসন্ধিকাল শুরু হয়।



বয়োঃসন্ধিকালে রসায়নিক নিঃসরণের মাধ্যমে সম্মুখ পিটুইটারি গ্রন্থিকে সক্রিয় করে তোলে। তখন এই গ্রন্থি গোনাডোট্রাফিক নামক যৌন উত্তেজক হরমোন রক্তে ছেড়ে দেয়। এ হরমোন রক্ত বাহিত হয়ে যৌন গ্রন্থিতে পেঁৗছে যায় এবং মানব শিশুর ঘুমন্ত যৌন গ্রন্থিকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে বালকের শুক্রাশয়কে টেস্টোস্টেরন নামক হরমোন ক্ষরণে উদ্বুদ্ধ করে। এর প্রভাবে শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। গোনাডোট্রাফিক হরমোন বালিকার ডিম্বাশয়কে ইস্টোজেন ও প্রোজেস্টেরণ নামক হরমোন ক্ষরণে উদ্বুদ্ধ করে। এর প্রভাবে ডিম্বাণুু উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয় এ ক্ষরণ বয়োঃসন্ধিকালের পরিবর্তনকে সুস্পষ্ট করে তোলে। সাধারণত এ ক্ষরণ পুরুষের মৃত্যু পর্যন্ত চলে কিন্তু বার্ধক্য বয়সে ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং মহিলাদের পঁয়তালি্লশ বছর থেকে পঞ্চান্ন বছর পর এটা বন্ধ হয়ে যায়।



পুরুষের শুক্রাণু ও মেয়েদের ডিম্বাণুকে কাঁচা ইটের (পর্যাপ্ত তাপ না পেলে অপরিপক্ক থেকে যায়) সাথে তুলনা করা যায়। বয়োঃসন্ধিকালে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হওয়া শুরু হয় এবং ২১ থেকে ২৪ বছর বয়সে তা পরিপক্কতা লাভ করে। এ সময়ের মধ্যে যদি ছেলেদের (অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ এবং হস্তমৈথুন্য, যৌনবিষয়ক বই পড়ে, যৌনবিষয়ক ভিডিও দেখে অথবা দেহের বাড়তি তাপের কারণে শুক্ররস পাতলা হলে) শুক্রাণু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মেয়েদের (যৌনবিষয়ক বই পড়ে, যৌনবিষয়ক ভিডিও দেখে অথবা দেহের বাড়তি তাপজনিত কারণে অতিরিক্ত সাদাস্রাব নিঃসৃত হলে) ডিম্বরস পাতলা হয় তবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু অপরিপক্ক থেকে যায়। এরা দাম্পত্য জীবনে যৌনসমস্যা ও শারীরিক সমস্যায় ভোগে। এদের থেকে আগত শিশুও পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা ও বিভিন্নপ্রকার শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।



 



যদি মেয়েরা আঠার বছর বয়স পর্যন্ত তাদের ডিম্বানু সুরক্ষা করতে পারে তাহলে তাদের দাম্পত্য জীবন হবে সুখের এবং তারা সুস্থ ও সবল সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হবে।



 



মেয়েদের যৌন সমস্যা



আল্লাহ তায়ালা নারী জাতিকে মা হওয়ার বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছেন। মাকে বলা হয় বাচ্চার প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাদের নিজের শরীরের ও শিশুর যত্ন নেয়ার শিক্ষা থাকা প্রয়োজন। এর জন্যে প্রয়োজন সুস্বাস্থ্য, শান্ত ভাব ও সদা হাসি মুখে থাকা। আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়েরাই বিভিন্ন যৌনসমস্যা যেমন মাসিক অনিয়ম, অতিরিক্ত/স্বল্প রক্তস্রাব, শ্বেত প্রদর ও জরায়ুর সমস্যা ইত্যাদি রোগে ভোগেন। ফলে তাদের প্রায়ই রক্ত স্বল্পতা, ভীরুতা, যৌন শীতলতা, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, অবসাদ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় এবং তাদের স্বভাবের মধ্যে ক্ষীপ্রতা, খিট-খিটে মেজাজ ও বিষণ্নতা দেখা যায়। আকুপ্রেশার চিকিৎসা নিয়মিত চালিয়ে গেলে এ সমস্ত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং তাদের দৈহিক স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা উত্তরোত্তর ভালো হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ্।



 



মেয়ের ক্ষেত্রে নিম্ন লিখিত সমস্যাগুলো অধিক হারে দেখা যায় :



(ক) মাসিকের সমস্যা : নির্দিষ্ট বয়সের পূর্বে মাসিক হওয়া, অনিয়মিত মাসিক, যন্ত্রণাদায়ক রক্তঃস্রাব, কম বা অতিরিক্ত রক্তস্রাব এবং মাসিকের আগে, মাসিকের সময় বা মাসিকের পরে কোমরে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যাগুলো মাসিকের প্রধান সমস্যা। এ সকল সমস্যার ক্ষেত্রে সমস্ত গ্রন্থিগুলো এবং ১১ থেকে ১৩ ও ২৯নং বিন্দুতে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে গেলে দুই-তিন মাসের মধ্যে মাসিক নিয়মিত হবে এবং সমস্ত সমস্যা দূর হবে।



মাসিকের সময় তলপেট প্রচ- ব্যথা করলে উভয় পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে সেলাই সুতার চেয়ে একটু মোটা সুতা হালকাভাবে সাত-আট পাক পেচিয়ে গিট দিয়ে রাখুন। তিন দিন রেখে দিলে অন্ত্রগুচ্ছ ঠিক হয়ে যাবে। তবে অত্যাধিক ব্যথা হলে খুলে ফেলুন অতিরিক্ত রক্তস্রাবের ক্ষেত্রে উভয় পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় তিন থেকে অতিরিক্ত রক্তস্রাবের ক্ষেত্রে উভয় পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় তিন থেকে পাঁচ মিনিট রাবার ব্যান্ডেজ লাগিয়ে রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে



(খ) সাদাস্রাব : শরীরের উত্তাপ অধিক হলে কিংবা যৌনগ্রন্থি বিকার হলে ডিম্বরস পাতলা হয়। এ রস যোনিপথে অনবরত শরীর থেকে বেরিয়ে যায় একে সাদাস্রাব বলে।



শরীরের বাড়তি উত্তাপ বের করে দিন। ১১ থেকে ১৩নং বিন্দুতে চিকিৎসা করলে সাদাস্রাব রোগের উপসম হয়।



২ ইঞ্চি ব্যাসের একটি রাবার বল যোনি ও মলদারের মাঝে রেখে একটি কাঠের চেয়ারে প্রতিদিন ১০ মিনিট বসে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এ প্রক্রিয়া অনুশীলন করলে পুরুষের মাত্রাতিরিক্ত যৌন উত্তেজনা প্রশমিত হয়।



(গ) রজোঃনিবৃত্তি : সাধারনত মহিলাদের ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে রজঃস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যেসব মহিলারা আবেগপ্রবণ, কর্মব্যস্ততা কম এবং সংসারের জন্যে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না তাদের ৪০ বছরের মধ্যেই এ সমস্যা দেখা দেয়। ফলে মহিলাদের মধ্যে দুর্বলতা, ভীরুতা, নিস্তেজ ভাব ইত্যাদি দেখা দেয়।



অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলো এবং ১১ থেকে ১৩নং পর্যন্ত বিন্দুগুলো প্রয়োজন হলে অন্যান্য বিন্দুতে নিয়মিত চাপ দিলে এ সমস্যা দূর হয় এবং মাসিকের পরিব্যপ্তিকাল আরো প্রসারিত হয়। এর ফলে দাম্পত্যজীবনের সুখ ও আনন্দ আরো দীর্ঘায়িত হয়। ৪০ বছর বয়সের প্রত্যেক মহিলারই এ চিকিৎসা নিয়মিত করা উচিত।



(ঘ) জরায়ুর সমস্যা : বিভিন্ন অনিয়ম ও অবহেলার কারণে মহিলাদের দু-একটি সন্তান প্রসবের পর জরায়ু স্থানচ্যুতি, জরায়ুর মুখে প্রদাহ, জরায়ুতে টিউমার এবং জরায়ু ক্যান্সার ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি হয়। আজকাল এ রোগটি ব্যাপক হারে দেখা দিচ্ছে।



১১ থেকে ১৩নং বিন্দুতে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে গেলে এ সকল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।



যদি ১৩নং বিন্দুর সাথে ১৬নং বিন্দুতে ব্যথা থাকে তবে অবস্থা অবনতির দিকে। এটা জরায়ু ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষ্মণ। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলো এবং ১১ থেকে ১৩, ১৬, ১৮ ও ২৬নং দু-তিন মাস নিয়মিত চিকিৎসা করলে এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।



(ঙ) স্তনের সমস্যা : সন্তান দুধ পান না করার কারণে দুধ স্তনে জমে গিয়ে স্তনে অসহ্য যন্ত্রণা হওয়া, স্তন ফোলা, স্তন টিউমার এবং স্তন ক্যানসার ইত্যাদি সমস্যা হলে হাতে উল্টা দিকে বিন্দুতে চাপ দিলে বিস্ময়কর ফল পাওয়া যায়। স্তন বিন্দুর সাথে ১৬নং বিন্দুতে ব্যথা স্তন ক্যান্সারের পূর্বাভাস।



মেয়েরা যদি ছয় সাত বছর থেকেই প্রতিদিন প্রতিটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতে এবং ১১ থেকে ১৩নং বিন্দুতে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে তবে তাদের স্বভাব হবে কোমল, ব্যবহার হবে আকর্ষণীয় এবং তারা সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে সুখী দাম্পত্যজীবন উপভোগ করতে পারবে এবং তাদের রুপচর্চার জন্যে বাড়তি প্রসাধনীর প্রয়োজন হবে না।



 



লেখক : অধ্যাপক, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯৮৬২৩
পুরোন সংখ্যা