চাঁদপুর, সোমবার ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ১১ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


assets/data_files/web

বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


করোনা আতঙ্ক মোকাবেলায় করণীয়
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০৬ এপ্রিল, ২০২০ ১৫:৩৬:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


১৭২০-এর প্লেগ, ১৮২০-এর কলেরা, ১৯২০-এর স্পেনিশ ফ্লু পার হয়ে এবার ২০২০-এ কোভিড-১৯ বা করোনা মহামারীতে আক্রান্ত ও আতঙ্কিত হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। এ আতঙ্ক হতে রেহাই পেতে চাই করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধে যথার্থ মানসিক শক্তি ও উপযুক্ত জ্ঞান। কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস একটি আরএনএ ভাইরাস যা থুথুকণা বা ড্রপলেট, হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে বায়ুবাহিত হয়ে সুস্থ মানুষের মুখগহ্বর, নাকের ছিদ্র ও চোখের মাধ্যমে অনুপ্রবেশ করে পোষকদেহের কোষের প্রোটিন সংশ্লেষ পদ্ধতি হতে পুষ্টিপ্রাপ্ত হয়ে বংশ বৃদ্ধি করে বা মিউটেটেড হয়। মানবদেহে এ ভাইরাস অনুপ্রবেশের আরেকটা বড় উপায় হলো হাতে লেগে থাকা জীবাণু হাত হতে মুখ, নাক বা চোখের মাধ্যমে ভেতরে ঢোকার পথ খুঁজে পাওয়া। এটি মূলত একটি শ্বাসতন্ত্রের রোগ উৎপাদনকারী ভাইরাস যার সঠিক প্রতিষেধক আজও আবিষ্কৃত হয়নি পৃথিবীতে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর তার লক্ষ্মণ প্রকাশ পেতে ২-১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে।



করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ :

* প্রথম দুদিন ক্লান্তি বা দুর্বলতা বোধ হওয়া

* জ্বর হওয়া এবং দেহের উচ্চ তাপমাত্রা হওয়া

* শুকনো কাশি

* সর্দি

* গলাব্যথা

* সারা শরীর তীব্র ব্যথা হওয়া

* কারও কারও পাতলা পায়খানও হতে পারে

* জিভে কোন স্বাদ পাওয়া যায় না।

* নাকে কোন গন্ধ পাওয়া যায় না



ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণি

* ষাটোর্ধ প্রবীণ

* রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেমন : ক্যান্সারাক্রান্ত ব্যক্তি, এইড্স আক্রান্ত ব্যক্তি, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও হৃদরোগাক্রান্ত ব্যক্তি

* ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার লোকজন

* স্বাস্থ্যকর্মী



করোনাক্রান্ত রোগীর ব্যবস্থাপনা

* আইসোলেশন

* তার সাথে সংশ্লিস্ট ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা



চিকিৎসা

* জ্বরের জন্যে চারবেলা প্যারাসিটামল

* অ্যান্টি হিস্টামিন ফেক্সোফেনাডিন ১২০ মিগ্রা দৈনিক একটা করে সেবন

* অ্যাজিথ্রোমাইসিন দৈনিক এক হাজার গ্রাম করে দুটি বিভক্ত ডোজে সেবন-সাতদিন, সাথে হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন সালফেট ২০০ মিগ্রা দিনে তিনবার সাতদিন এই চিকিৎসাটি ফলপ্রসু বলে প্রমিত হয়েছে।



প্রতিরোধ ও সাবধানতা

* মাস্ক পরিধান : এন-৬৫ বা সার্জিক্যাল মাস্ক পরিধান

* দুই হাত কুড়ি মিনিট পর পর কুড়ি সেকেন্ড ধরে হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে ধোয়া

* কারো সাথে হ্যান্ডশেক না করা

* কারো সাথে কোলাকুলি না করা

* অন্যজনের সাথে তিন ফুটের অধিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা।

* কে নো খাবার কাঁচা না খাওয়া

* নিজের বাড়ির চারপাশ জীবাণুনাশক স্প্রে করা

* জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগী সরাসরি ডাক্তারের চেম্বার বা হাসপাতালে না এনে ফোন মারফত চিকিৎসা নিয়ে বাসায় সেল্ফ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা দরকার। এতে জীবাণুর বিস্তার রোধ হবে।



করোনা শনাক্তের পরীক্ষা :

কারও করোনা শনাক্তের জন্যে ওই ব্যক্তির নাক বা গলার সোয়াব নেয়া হয় ও পরে বিশেষ কিট দিয়ে পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়।

করোনা বিশ্বব্যাপী এক মারাত্মক সংক্রমণের নাম। করোনা যেনো সাক্ষাৎ যমদূত। করোনাকে মোকাবেলায় আমাদের মতো দরিদ্র দেশে প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি আমাদের ভয়ার্ত করে তোলে। এসব আতঙ্ক আর ভয়কে জয় করতে হলে নিজের সুরক্ষা নিজে নিন। বাসায় থাকুন, নিরাপদে থাকুন। অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়াই প্রতিরোধ যুদ্ধের মূলমন্ত্র।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৮৫৭১৪
পুরোন সংখ্যা