চাঁদপুর, সোমবার ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ১১ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর ৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচিত এলাকার সাবেক সাংসদ এম এ মতিন (৮৫) মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহে....রাজিউন)।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


assets/data_files/web

বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


চিকিৎসকগণ মানবিক হোন
মীর আব্দুল আলীম
০৬ এপ্রিল, ২০২০ ১৫:৩৯:১৭
প্রিন্টঅ-অ+


করোনা ভাইরাস আতংকের দুঃসময়ে এদেশে নচিকেতার গানের চিকিৎসকদের দেখাই যেন মিলছে। বিখ্যাত এ গায়ক তার গানে কসাইয়ের সঙ্গে ডাক্তারদের গুলিয়ে ফেললেন কেন তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে দেশের মানুষ। প্লিজ চিকিৎসক সমাজ নচিকেতার সেই চিকিৎসক আপনারা হবেন না। আপনারা আরও মানবিক হোন। রোগীদের জন্য সদয় হোন। প্লিজ আপনারা স্বরূপে ফিরে যান; রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ করুন। চেম্বারে ফিরে যান। রোগীদের চিকিৎসা দিন।

চিকিৎসাসেবার সঙ্গে মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টি জড়িত। জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনোই অধিকার নেই কারও। চিকিৎসকদের মাঝে নীতিনিষ্ঠা, মানবিকতা, সদাচার, কর্তব্যপারায়ণতা- এসব গুণের বেশি ছড়াছড়ি হওয়ার কথা। এদেশের অনেক চিকিৎসক এমনটাই। এই আপনারাইতো ডেঙ্গু সমস্যায় গতবছর (২০১৯) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন কাজ করে শত শত মানুষের জীবন রক্ষা করে কতনা বাহবা পেয়েছিলেন। এমন কাজের জন্য মানুষের হৃদয়ে স্থান হয়েছিলো আপনাদের। এজন্য অবশ্য আপনাদের ক’জন ডাক্তারকে জীবনও দিতে হয়েছে। যাতে ব্যথিত না হয়ে পারা যায় না। চিকিৎসা পেশাটাতো এমনই। রোগ, মহামারীর জীবন যুদ্ধের মাঠে আপনাদেরই থাকতে হয়। লাখো মানুষের জন্য দু’-একজনকেতো জীবন উৎসর্গ করতেই হবে। আর আপনাদের মানসিকতা এমন হওয়াই উচিত।

অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে বলতে হয়, করোনার এ পর্বে এসে চিকিৎসকগণ (সবাই নন) কসাইয়ের (নিষ্ঠুর) ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। জীবনের ভয়ে রোগী দেখলে পালিয়ে থাকছেন; রোগী দেখা ছেড়ে দিয়েছেন। এটা আপনাদের প্রফেশনের ধর্ম নয়। প্রশ্ন আসে স্বাভাবিকভাবেই, মানুষের জীবন নিয়ে এমন আচরণ হয় কী করে? এটি কিছুতেই আইনসিদ্ধও নয়। এটা আপনারা করতেও পারেন না। এটা মোটেও মানবিক নয়।

আপনারা ভেবে দেখুন, করোনা আতঙ্কে দেশে কতটা চিকিৎসা সংকট চলছে। রোগী আছে ডাক্তার নেই। ডাক্তার থাকলেও চিকিৎসা নেই। চেম্বার গুলো ফাঁকা। রোগীরা অসহায়, হতাশ। করোনা আক্রান্ত হয়ে নয়,  সাধারণ রোগের জন্যও মানুষ চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছেন না। পেলেও চিকিৎসা মিলছে না। ডাক্তারদের ভয় পেয়ে বসেছে। ভয়ে রোগী দেখা প্রায় বন্ধ। এটা কিছুতেই মানবসেবার ধর্ম হতে পারে না।

সেবার শপথ নিয়েই চিকিৎসকদের চিকিৎসা পেশায় প্রবেশ করতে হয়। এ পেশাটি রাষ্ট্রের অন্যান্য পেশার তুলনায় অনেক বেশি সম্মানের। এটা পেশা হলেও চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেন বলে এটি মানব সেবার একটি ব্রতও বটে। কিন্তু আজকাল এ পেশার মানুষ কেমন যেন আচরণ করতে শুরু করেছেন। কখনো তাদের রাজনৈতিক, কখনোবা অমানবিক আচরণও পরিলক্ষিত হয়। আমরা দেখেছি, রোগীকে জিম্মি করে হরহামেশাই কাজে যান না; ধর্মঘটেও যান চিকিৎসকরা। এজন্যে অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাবার ঘটনাও ঘটেছে এ দেশে। বোধ করি বাংলাদেশে ছাড়া এমন নজির আর কোথাও নেই। করোনা ভাইরাসের এমন সংকটের মধ্যেও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকরা যাচ্ছেন না, চেম্বার করছেন না এমন অভিযোগ ডাক্তাদের বিরুদ্ধে। যা অমানবিক বটে। জীবনের নিরাপত্তাসহ পিপিই না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে চিকিৎসকরা সাধারণ রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা কোনো চিকিৎসকের আচরণ হতে পারে না। হাসপাতালগুলোতে অসংখ্য রোগী আসছেন, ডাক্তার না পেয়ে চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। বড় অসহায় রোগী এবং রোগীর পরিবার।

রোগীদের অসহায় করে চিকিৎসকরা কিছুতেই ঘরে বসে থাকতে পারেন না। এর আগে বহুবার চিকিৎসকরা রোগীদের জিম্মি করে দাবিও আদায় করেছেন। স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে ডাক্তারদের যে কোনো পরিস্থিতিতে যে কোনো জায়গায় কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। এটাও সত্য ডাক্তারদেরকের কর্তব্য পালনকালীন সময়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এটা সরকারের দায়িত্ব বটে! এ দায়িত্ব পালনে কিছুটা অবহেলা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তাই করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকরা কিছুটা বিব্রত হয়েছেন। তাঁদের কাছে যথাসময়ে পর্যাপ্ত পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পৌঁছেনি। ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের চিকিৎসা দিতে হয়েছে, এমনকি এখনও হচ্ছে। যা কিনা নিজেদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আতংক তৈরি করেছে। অনেক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। এ কারণে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট চলছে। সাধারণ রোগেরও চিকিৎসা পাচ্ছেনা মানুষ। এটা ভয়ংকর কথা। প্রটেকশন তৈরি হচ্ছে, এখনও কেন ডাক্তারগণ বসে থাকবেন তা বোধগম্য নয়। চিকিৎসকরাও কিন্তু মানুষ। চিকিৎসকদের আয়-রোজগার কম নয়। দেশের মানুষ যেখানে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে মাঠে নেমেছে, সেখানে ডাক্তারদেরওতো কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। অসহায় রোগীদের জন্য হাজার টাকা খরচ করে পার্সোনাল প্রটেকশন তৈরি করতে পারতেন। মানুষ দান-খয়রাতওতো করে। ডাক্তাররা তা করতে পারতেন। তা না করে পার্সোনাল প্রটেকশনের অজুহাতে তাঁরা রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা কীভাবে সম্ভব।

জ¦ার, কাশি, ঠা-ার রোগীদের সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো যায়, কিন্তু বাকিদের চিকিৎসাতো তাঁরা করবেন? তাও করছেন না অনেক চিকিৎসক। হাত-পা গুটিয়ে বাড়িতে অলস সময় কাটাচ্ছেন অনেকে। হাসপাতালে এলেও অনেকে আবার গাছাড়া ভাব দেখাচ্ছেন। চিকিৎসকরা কি এটা করতে পারেন? অন্তঃসত্ত্বা, গাইনী, শিশুসহ সাধারণ রোগের চিকিৎসা করতে তাদের দোষ কোথায়। প্রটেকশন নিয়ে সব দেশের চিকিৎসকরাই রোগীদের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশই তার ব্যতিক্রম।

গত বছর ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ডাক্তারগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীর সেবায় নিবেদিত হন। এজন্য অনেকের প্রাণও গেছে। তাতেও ডাক্তাররা সেবা দিতে পিছপা হননি। তাঁদের আন্তরিকতা এবং সেবায় অনেকে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছেন। এ বিষয়টিতে আমাদের দেশের ডাক্তারগণ তখন যথেষ্ট বাহবা পেয়েছিলেন। সত্যিই আমাদের ডাক্তারগণ যে মানবিক মানুষ তা তারা সে সময় প্রমাণ দিয়েছেন। এবারের করোনা ক্রাইসিসে ডাক্তারদের অমানবিক আচরণ তাদের সকল সুনাম ধূলায় ভুলুণ্ঠিত করছে বৈকি।

চিকিৎসকদের একটু দরদী স্পর্শ, একটু সহানুভূতি, একটু হাসিমাখা মুখের কথা জটিল ও কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকেও আশাবাদী করে তোলে, রোগযন্ত্রণা ভুলিয়ে দেয়। আর তার উল্টেটা হয় চিকিৎসা বঞ্চিত হলে। রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে চিকিৎসক আর কাক্সিক্ষত চিকিৎসা না পেলে রোগী এবং তার পরিবারের জন্য যে তা কতটা যন্ত্রণার তা কি আমাদের চিকিৎসকরা ভাবেন?  চিকিৎসকদের বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো রোগীর পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু চিকিৎসা প্রদান নয়, মুখের একটু কথাতেও অনেক সময় রোগী সুস্থবোধ করেন। রোগীরাতো এখন করোনা ক্রাইসিসের সময় ডাক্তারের দেখাই পাচ্ছেন না। আর তা রোগী, রোগীর পরিবার তথা দেশবাসীকে কতটা অসহায় করছে তা বলা বাহুল্য। আমাদের ডাক্তারগণ দেশের মানুষের অসহায়ত্বের কথা উপলব্ধি করছেন কি?

করোনাভাইরাস মহামারী রূপ নিয়েছে। এ রোগ দুনীয়া জুড়ে। রোগের জন্য, রোগীর জন্য চাই ডাক্তার। ডাক্তার না থাকলে রোগীরাতো বড় অসহায়। ডাক্তার না থাকলে কারা চিকিৎসা দিবেন রোগীদের? ডাক্তার সংকট কেন হলো? করোনা আতঙ্কের মধ্যে শুরুতেই ডাক্তারদের সুরক্ষা সরঞ্জাম দেয়া হয়নি। এটা কিন্তু বড় সত্য। রোগীর অনুপাতে ডাক্তারদের মধ্যে আক্রান্তের পরিমাণ বেশি হওয়ায় চিকিৎসকদের মধ্যে আতংক তৈরি হয়েছে এটাও সত্য। হওয়ারই কথা। রোগ সারাতে গিয়ে ডাক্তার যদি রোগী হয়ে যান তাহরে কি চলবে? ডাক্তারগণ দলে দলে অসুস্থ হলে রোগীরা সেবা কার কাছ থেকে নেবেন? এ জন্য ডাক্তারদের ঝুঁকি কমিয়ে এনে তাঁদের কাজে নামানো দরকার ছিলো।

এটাও সত্য যে, ডাক্তারদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকবে। পরিমাণে তা বেশি হলে আতঙ্কেরই কথা। প্রশাসনের হাতে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) চলে এসেছে আগে। এমন অভিযোগ শুরু থেকে চিকিৎসকগণ করে আসছেন। এটা নিয়ে যথেষ্ট ভুল বোঝাবুঝিও হয়েছে। অবশ্য প্রশাসন ক্যাডার আর ডাক্তারদের মধ্যে অঘোষিত দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে সইতে না পারার বিষয়টি আমরা বহুদিন ধরেই দেখছি। ডাক্তারগণ যখন পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পাননি, তখন প্রশাসন, ব্যাংকার, ব্যবসায়ীরা পিপিই পরে ফটোসেশন করেছেন। ফেসবুকে তা সবাই দেখেছে। এটা নিয়েই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কথা সত্য যে, চলতি করোনা সঙ্কটে দেশে প্রশাসনের লোকদের ভূমিকা অত্যন্ত খুশি হওয়ার মতো। প্রসাশনের লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের পিপিইও দরকার ছিলো। তবে যে ডাক্তারগণ রোগীদের চিকিৎসা দেবেন তাঁরা তখন পিপি পাননি এটা হতে পারে না। যারা রোগীদের চিকিৎসা দেবেন তাঁরা অনিরাপদ থাকবেন, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকবেন তা কী করে হয়? ভুল বোঝাবুঝিতো হবেই তাতে। যে ডাক্তার রোগীর চিকিৎসা দিবেন তাঁদেরই পিপিইর অভাব। কষ্টেরই কথা। এ অবস্থায় ক’জন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আতংক তৈরি হয়েছে ডাক্তার সমাজে। এটা অনেক বড় ক্ষতির কারণ হলো আমাদের জন্য। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে ডাক্তারগণ কাজ করবেন তাঁরা সরঞ্জামের অভাবে আক্রান্ত হলে প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক। কথা আরও আছে। ডাক্তাররা কর্তব্য পালন করতে যাওয়ার পথে রাস্তায় পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে দু/একটি। ডাক্তারগণ কর্মস্থলে যেতে আসতে বাধার সম্মুখীন হলে, অসম্মানিত হলে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করবেন কী করে?

কথা কিন্তু আরও আছে। এসব বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা। ডাক্তারগণও কিন্তু এ সমাজেরই মানুষ। ভুলের কারণে তাঁরা হাত-পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকবেন আর রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে কাতরাবে এটা হয় না। এটা ডাক্তার পেশার সাথে যায় না। এটা অমানবিক। গড় হিসেবে একজন ডাক্তারের রোজগার কম নয়। এ রোজগার কিন্তু রোগী থেকেই আসে। তাঁরা জীবনটা বদলে যে সুন্দর জীবন পেলেন তা রোগীদের বদৌলতেই। কী করে তারা রোগীদের সমস্যার কথা ভুলে গেলেন? মানুষ এখন যুদ্ধের মুখে। রাজনৈতিক, ছাত্র, শিক্ষক, শিল্পপতি, সাংবাদিক সবাই কাজ করছেন যে যার যায়গা থেকে। অসহায় মানুষের জন্যে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ক্ষুধার্তদের মুখে খাবার দিতে অনেক মানবিক মানুষ মাঠে রয়েছেন। ডাক্তারি পেশা এক মানবিক পেশা। কিছু প্রটেকশন ডাক্তারগণ নিজে থেকেই নিতে পারতেন। সে সংগতি বোধ করি অনেক ডাক্তারেরই আছে। কিন্তু উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে ঘরে বসে আছেন যারা, তাঁরা কতটা মানবিক সেটা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। বুঝি আমরা, অনেকে জীবনের ভয় অনেক বেশি করছেন। অনেক পেশা আছে জীবনে ভয় কম করতে হয়। এর মধ্যে আছে মহান পেশা চিকিৎসা আর সাংবাদিকতা। দুঃসময়ে চিকিৎসকরা ঘরে বসে থাকলে কী করে চলবে। মহামারীতো তাঁদেরই যুদ্ধ। যুদ্ধে নেমে মহামারীকে জয় করতে হবে তাঁদেরকেই। মানুষকে আতঙ্কিত করা, মানুষের জীবন বিপন্ন করা কতটা সঠিক হচ্ছে প্লিজ আমাদের প্রিয় ডাক্তারগণ জবাব দেবেন। আমার ছেলে এবং মেয়ে ডাক্তার। আমার পরিবারে অনেক ডাক্তার আছেন। তবুও লিখতে বাধ্য হচ্ছি এসব। এটা লিখার দায় তৈরি হয়েছে। এই মাত্র যখন লিখছি, ডাক্তার ছেলে এবং মেয়ে বিদায় নিতে আসলো। তাঁরা করোনা বিষয়ে ডঐঙ-এর ট্রেনিংয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তাঁরা সরকারের ৩৩৩তে রোগীদের দিনরাত চিকিৎসা দিচ্ছেন। এমনকি তাঁদের পরিচালনাধীন হাসপাতালটি খোলা রেখে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে করি এমন দুঃসময়ে সকল ডাক্তারের মানবিক হওয়া উচিত।

মনে রাখবেন চিকিৎসকদের প্রতি মানুষ অনেক দুর্বল। অসহায় মুহূর্তেই আপনাদের কাছে মানুষ ছুটে যায়। আপনাদের কাছ থেকে কোনো অশোভন বা সেবাবহির্ভূত আচরণ জনগণ প্রত্যাশা করে না। সমাজে চিকিৎসকরা একটি শিক্ষিত ও সম্মানিত পেশাজীবী মহল। তাদের অমানবিকতা অথবা উদাসীনতার কারণে হারিয়ে যেতে পারে অনেক প্রাণ। চিকিৎসা পেশা একটি মহৎ পেশা, চিকিৎসকদের এটা বিবেচনায় রাখতে হবে। তাঁদের প্রথম কাজই হচ্ছে রোগীর সেবা দেয়া। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসকদের এক মিনিটের কর্মবিরতিতে কারো জীবনহানি ঘটতে পারে। এ ধরনের আচরণ আমরা আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না।  

বর্তমানে করোনা সংকটে ডাক্তার এবং রোগীদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ডাক্তার এবং রোগীর মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান রাখা দরকার। চিকিৎসকগণই তা করবেন। রোগী-ডাক্তার সম্পর্ক অটুট থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।



লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক, কেবিনেট চেয়ারপার্সন, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, ৩১৫/এ-১; চেয়ারম্যান : আল-রাফি হাসপাতাল লিঃ, নির্বাহী সদস্য : বাংলাদেশ কলামিস্ট ফোরাম, সাংগঠনিক সম্পাদক : নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতি।

E-mail-newsstoremir@gmail.com,  ০১৭৩৩৩৬১১১১/০১৯৭৭৭৮৮৮৮২


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭২৭৩৬৯
পুরোন সংখ্যা