চাঁদপুর, সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৯ জিলহজ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কাজী ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী লায়ন কাজী মাহাবুবুল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ----রাজেউন) || চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম মুত্যুবরণ করেছেন। বাদ আসর তালতলা করিম পাটোয়ারী বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৩-সূরা মুয্যাম্মিল


২০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


 


১৫। আমি তোমাদের নিকট পাঠাইয়াছি এক রাসূল তোমাদের জন্য স্বাক্ষীস্বরূপ যেমন রাসূল পাঠাইয়াছিলাম ফির'আওনের নিকট,


১৬। কিন্তু ফির'আওন সেই রাসূলকে অমান্য করিয়াছিল, ফলে আমি তাহাকে কঠিন শাস্তি দিয়াছিলাম।


 


 


 


 


 


নিরাপদ দূরত্ব হতে সাহসী হওয়া সহজ। -ঈশপ।


 


 


 


 


 


ধনের যদি সদ্ব্যবহার করা হয় তবে তা সুখের বিষয় এবং সদুপায়ে ধন বৃদ্ধির জন্য সকলেই বৈধভাবে চেষ্টা করতে পারে।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা প্রতিরোধে ভিটামিন ডি
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ঘাতকব্যাধি ও বিশ্বমারী করোনার মোকাবেলায় বিভিন্নজন বিভিন্ন ঔষধ ও নিদানের কথা বলে যাচ্ছেন। তাদের এ আকুতি ও আবেদনে একথা স্পষ্ট যে, যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ। মানুষ যখন ডুবতে থাকে তখন খড়কুটো আঁকড়ে ধরে হলেও বাঁচতে চায়। সেই তাগিদ হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আজকাল চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শকের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে গেছে। বলা বাহুল্য, এদের অধিকাংশই এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না। করোনা প্রতিরোধে ভিটামিন ডি বিষয়ে ভার্চুয়াল আলোচনায় ঝড় উঠে গেছে। তারই সূত্র ধরে আজকের এ আলোচনা।



ভিটামিন ডি কী :

    ভিটামিন ডি এক ধরনের ভিটামিন, যা চর্বিতে দ্রবণীয়। ভিটামিন হলেও এটা একাধারে হরমোন এবং একাধারে স্টেরয়েড হিসেবে পরিগণিত। একে সেকোস্টেরয়েড বলে। আমাদের দেহে অভ্যন্তরীণভাবে ভিটামিন ডি যেমন উৎপন্ন হয় তেমনি বাইরে থেকে আহারের উপাদানের মাধ্যমে আমরা ভিটামিন ডি পেয়ে থাকি।

দৈনিক ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজনীয়তা :

    পুরুষ বা নারী শিশুর ক্ষেত্রে দৈনিক চারশ মাইক্রো গ্রাম ভিটামিন ডি দরকার। কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্ত বয়ষ্কদের দৈনিক ছয়শ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি প্রয়োজন। আবার প্রবীণ ও গর্ভবতী এবং প্রসূতি মায়েদের দৈনিক আটশ মাইক্রো গ্রাম ভিটামিন ডি দরকার হয়।



ভিটামিন ডি-এর উৎস :

    অভ্যন্তরীণ উৎস : আমাদের ত্বকে বাইরের অংশ হচ্ছে এপিডার্মিস। এর পাঁচটি স্তর। এর মধ্যে অধিক ভেতরের দুটি স্তর স্ট্র্যাটাম স্পিনোসাম ও স্ট্র্যাটাম ব্যাজালিতে ¯্র্যুালোক হতে আগত অতি বেগুনি রশ্মি আপতিত হয়ে ত্বকে অবস্থিত ভিটামিন ডি-এর অকার্যকর রূপকে কার্যকর করে। ত্বকে থাকে সেভেন ডি-হাইড্রোকোলেস্টেরল নামে। তা লিভারে গিয়ে ২৫ হাইড্রক্সি ভিটামিন ডি-৩  এ পরিণত হয়। দ্বিতীয় ধাপে তা কিডনিতে গিয়ে ১,২৫ ডাই হাইড্রক্সি কলিক্যালসিফেরল এ পরিণত হয়। এই ১,২৫ ডাই হাইড্রক্সি কলিক্যালসিফেরলই কার্যকর ভিটামিন ডি-৩।

    বাহ্যিক উৎস : ভিটামিন ডি-এর বাহ্যিক উৎস হলো কড লিভার অয়েল, টুনা ফিশ, স্যামন ফিশ, কলিজা, ডিম, দুধ ইত্যাদি। এছাড়াও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট বাজারে পাওয়া যায় যা বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানী বিপণন করে।



করোনা মহামারী ও ভিটামিন ডি :

    করোনাক্রান্ত রোগীদের ইতালি, চীন ও আমেরিকায় পরীক্ষা করে দেখা গেছে মৃত রোগীদের ভিটামিন ডি-এর প্রবল ঘাটতি ছিল। সেই অর্জিত জ্ঞান হতে পরোক্ষভাবে বিজ্ঞানীরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর একটা কারণ হতে পারে। এ কারণে করোনায় মৃত্যু হতে বাঁচতে করোনাক্রান্তদের ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট প্রদানের কথা বলা হচ্ছে এবং পাশাপাশি অনাক্রান্তদের রোদে গিয়ে ভিটামিন ডি সংশ্লেষণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার কথা বলা হচ্ছে।

    করোনা মহামারীতে কোভিড ভাইরাস শ্বাসনালী ও বায়ুথলিকে আক্রমণ করে। এতে একদিকে যেমন রক্ত জমাট বেঁধে রক্তনালীকে আটকে ফেলে পরবর্তী অংশে আর রক্ত সরবরাহ পৌঁছাতে দেয় না তেমনি শ্বাসনালীর গাত্র স্ফীত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি এসময় ভিটামিন ডি ঘাটতি হলে তা ক্ষতিগ্রস্ত শ্বাসনালীর গাত্রে কোষের দ্রুত বিভাজন ও বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে এবং নবগঠিত কোষের চাকার ভেতর রক্তনালিকার উদ্ভব ঘটিয়ে ঐ চাকাকে পুষ্ট সরবরাহের মাধ্যমে তাকে আকারে বড় করে তোলে। এই কারণে ভিটামিন ডি-এর সাপ্লিমেন্ট দরকার হয় যা শ্বাসনালীর কোষের প্রলিফারেশন, ইনফ্লামেশন ও অ্যানজিওজেনেসিস বন্ধ করে। আর এর পাশাপাশি ভিটামিন ডি-এর উপস্থিতি শ্বাসনালীর ইমিউনোমড্যুলেটর হিসেবে কাজ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।



করোনাক্রান্ত রোগীর ভিটামিন ডি-এর মাত্রা :

    করেনাক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দিতে হয়। কোন বোলাস ডোজে নয়, নিয়মিত ডোজে সহনীয় মাত্রায় ভিটামিন ডি দিতে হয়। দেখা গেছে করোনাক্রান্ত রোগীকে দৈনিক দশ হাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট ভিটামিন ডি দিতে হয়। অন্যদের ক্ষেত্রে দৈনিক দুহাজার আই.ই. ভিটামিন ডি সেবন করলেই যথেষ্ট।



কাদের জন্যে অধিক ভিটামিন ডি প্রয়োজন :

    যারা অতিরিক্তভাবে স্থুল, ওজন বেশি, যারা প্রবীণ, যারা কখনো রোদে আসেন না তাদের জন্যে ভিটামিন ডি নিয়মিত দরকার।



ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিজনিত রোগ :

    ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণে শিশুদের রিকেটস্ হয়। বড়দের অস্টিওম্যালেশিয়া ও অস্টিওপোরোসিস রোগ দেখা দিতে পারে। ভিটামিন ডি ঘাটতিতে পেশি ও হৃদপি- দুর্বল হয়ে যায়।

    ভিটামিন ডি আমাদের মতো নাতিশীতোষ্ণ দেশের মানুষের জন্যে সহজলভ্য এবং প্রচুর। শিশু ও প্রবীণদের দিনে অন্ততঃ ঘণ্টাখানেক রোদে রাখলে ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণ হতে পারে। নিজেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে দু সপ্তাহে একবার ক্যাপস্যুল সান-ডি ২০,০০০ আই.ইউ. সেবন করা জরুরি।

 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৯৭৯২
পুরোন সংখ্যা