চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭, ১২ রজব ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
বেরিবেরি ও বঙ্গবন্ধু
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমাদের দেহে ভিটামিন বি-১ ঘাটতি দেখা দিলে যে রোগ দেখা দেয় তাকেই মূলত বেরিবেরি রোগ বলে। একে অন্যকথায় থিয়ামিন ঘাটতি ও বলা হয়, যেহেতু ভিটামিন বি-১-এর অপর নাম থিয়ামিন।



বেরিবেরির দুই ধরনের আক্রমণ দেখা যায়। একটা হলো ওয়েট বেরিবেরি এবং অন্যটা হলো ড্রাই বেরিবেরি। ওয়েট বেরিবেরিতে হার্ট এবং রক্ত সংবহনতন্ত্র আক্রান্ত হয়। চূড়ান্ত ক্ষেত্রে হার্ট ফেইলিওর হয়। ড্রাই বেরিবেরি স্নায়ু ধ্বংস করে দেয়, মাংশপেশির শক্তিও হ্রাস করে এবং ফলশ্রুতিতে মাংশপেশির প্যারালাইসিস উদ্ভূত হয়। বেরিবেরি রোগ উপযুক্তভাবে চিকিৎসা না করালে জীবন সংশয় হতে পারে।



 



বেরিবেরির কারণ



 



থিয়ামিনসমৃদ্ধ খাবার যিনি নিয়মিত খান তার বেরিবেরিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। আজকের দিনে অধিকাংশ লোক অ্যালকোহল পানের সীমা ছাড়ানো অভ্যাসের কারণে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গর্ভকালীন অতিরিক্ত বমি হওয়া মা, এইডস্ আক্রান্ত মানুষ, ব্যারিয়াট্রিক সার্জারির রোগীও বেরিবেরিতে আক্রান্ত হয়। এছাড়াও হাইপারথাইরয়েডিজম যাদের আছে অর্থাৎ যাদের থাইরয়েড গ্রন্থি বেশি কাজ করে, সে রকম রোগীদেরও বেরিবেরি রোগ হয়। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী, কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগীরাও বেরিবেরিতে আক্রান্ত হতে পারে।



 



ওয়েট বেরিবেরির লক্ষণ



 



* শারীরিক ব্যায়ামকালে নিঃশ্বাস ছোট হয়ে আসা



* নিঃশ্বাস ছোট হয়ে আসার জন্যে ঘুম ভেঙে যাওয়া



* হৃদস্পন্দনের হার দ্রুত হওয়া



* পায়ের নিম্নাংশ ফুলে যাওয়া



 



ড্রাই বেরিবেরির লক্ষণ



 



* মাংসপেশির কাজ কমে যাওয়া, বিশেষত পায়ের নিম্নাংশে



* হাতে-পায়ে ঝিনঝিন করা বা অনুভূতি হ্রাস পাওয়া



* ব্যথা লাগা



* মানসিক ঘোর লাগা



* কথা বলতে অসুবিধা হওয়া



* বমি হওয়া



* চোখের অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া



* প্যারালাইসিস



* চূড়ান্ত অবস্থায় মস্তিষ্ক নষ্ট হয়ে যাওয়া



 



বেরিবেরি রোগ নিরূপণ



 



রক্ত ও প্রস্রাব হতে থিয়ামিনের মান নির্ণয়ের মাধ্যমে বেরিবেরি রোগ নিরূপণ করা যায়। থিয়ামিন শোষণে দেহের যদি কোনো অসুবিধা হয় তবে রক্তে থিয়ামিনের মাত্রার চেয়ে মূত্রে থিয়ামিনের মাত্রা বেশি হয়। এছাড়া বেরিবেরি আক্রান্ত ব্যক্তির স্নায়ুতন্ত্র পরীক্ষা করেও রোগ নিরূপণ করা যায়। হাঁটার সময় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দেয়, চোখের পাতা পড়ে যেতে পারে, মাংশপেশির প্রতিক্রয়া দুর্বল হয়ে যায়, স্মৃতি বিলোপ হয়। হার্টবিট দ্রুত হয়, পায়ের নিচের অংশে রসস্ফীতি হয়, শ্বাসকষ্ট হয়।



 



বেরিবেরির চিকিৎসা



 



ভিটামিন বি-১ বা থিয়ামিন পরিপূরক ট্যাবলেট, শিরায় থিয়ামিন ইঞ্জেকশান, থিয়ামিনসমৃদ্ধ বাদামী চালের ভাত আহার ইত্যাদির মাধ্যমে বেরিবেরি রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করা হয়।



 



বেরিবেরি প্রতিরোধ



 



ভিটামিন বি-১-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ। যেমন : সীম, মটর, বরবটি, বীচিজাতীয় খাবার, মাংস, মাছ, শস্য, বাদাম, শতমূলী, পালংশাক, বীট, সিরিয়াল, বাদামী চাউলের ভাত ইত্যাদি। এছাড়াও অ্যালকোহল বর্জন করলে বেরিবেরিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।



 



বঙ্গবন্ধু ও বেরিবেরি



 



শেখ মুজিবের জন্ম হয় তাঁর মায়ের গর্ভে জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে। বাবা আর মায়ের আদর তাঁর জন্যে ছিলো অবাধ ও উছলেপড়া। মায়ের হাতে আতপ চালের পায়েস তাঁর ছিলো প্রিয়। আর এই প্রিয়তাই তাঁর জন্যে হলো কাল। চৌদ্দ বছর বয়সে, ঊনিশশো চৌতিরিশ সালে তিনি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া, তখন তাঁর পায়ের নিম্নাংশ ফুলে যেতে থাকে। হার্ট দুর্বল হয়ে যায়। হৃদপি-ের স্পন্দনগতি দ্রুত হয়ে ওঠে। তাঁর রোগের উপসর্গ হতেই বোঝা যায়, তিনি ওয়েট বেরিবেরি রোগে ভুগছিলেন। ওয়েট বেরিবেরি রোগ হৃদপি- ও রক্তসংবহনতন্ত্রকে আক্রমণ করে। অধিক হারে আতপ চালের পায়েস খাওয়ার কারণে তাঁর দেহে ভিটামিন বি-১ বা থিয়ামিনের ঘাটতি হয় যা মূলত বাঙালিরা তখনকার দিনে ঢেঁকিছাঁটা চাল হতেই বেশি পেতো। তাঁর চিকিৎসার জন্যে কোলকাতা নেয়া হলে কোলকাতার বিখ্যাত চিকিৎসক শিবপদ ভট্টাচার্য ও একে রায় চৌধুরী তাঁর চিকিৎসা করেন। তাঁরা তাঁর রোগকে বেরিবেরি বলে নিরূপণ করেন এবং আতপ চালের পায়েসে নিষেধাজ্ঞা এনে খোসাযুক্ত ঢেঁকিছাঁটা চালের ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। ধীরে ধীরে রোগ ভালো হয়ে আসলেও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা না কাটায় তাঁর বাবা শেখ লুৎফর রহমান তাঁকে খুব বেশি ফুটবল খেলতে দিতেন না।



 



 



* চিকিৎসাঙ্গন বিভাগে লেখা পাঠানোর ই-মেইল


into.alamin@gmail.com


 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৯৬-সূরা 'আলাক


১৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


assets/data_files/web

নত হই ছোট নাহি হই কোনমতে।


_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর/কণিকা।


নারী পুরুষের যমজ অর্ধাঙ্গিনী।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৬,৪৪,৪৩৯ ১৩,২১,৯৪,৪৪৭
সুস্থ ৫,৫৫,৪১৪ ১০,৬৪,২৬,৮২২
মৃত্যু ৯,৩১৮ ২৮,৬৯,৩৬৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৭১৮৩৬
পুরোন সংখ্যা