চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭, ১২ রজব ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
প্রসবের পর করণীয়
এইচএম জাকির
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রসবের পর মা ও শিশুর নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, উপযুক্ত উপদেশ বা পরামর্শ এবং ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সন্তান প্রসবের পর মা ও শিশুর শরীর দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। এ সময় সঠিক যত্ন নিলে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এসব জটিলতা এড়ানো সম্ভব। প্রসবের পর সঠিক যত্ন নিলে মায়ের শরীর যেমন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়, তেমনি শিশু সুস্থ থাকে। প্রসবের পর মায়ের জরায়ু ও অন্যান্য প্রজনন অঙ্গ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সাধারণত ৬ সপ্তাহ সময় লাগে। এই সময়কালকে পিউরপেরিয়াম বলে। পিউরপেরিয়াম সময়ে মায়ের প্রসবোত্তর স্বাস্থ্যসেবা দেয়া প্রয়োজন। প্রসবের পর হতে ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন পর্যন্ত মা ও শিশুর অবস্থা নিরুপণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে প্রসব-পরবর্তী সেবা বলা হয়।



 



প্রসব-পরবর্তী সেবার গুরুত্ব



শেষ মাসিকের তারিখ হতে ক্যালেন্ডারের ৯ মাস ৭ দিনে প্রসবের তারিখ। এ সময়ের আগে বা পরেও প্রসব হতে পারে। সুস্থ ও নিরাপদ প্রসবের জন্যে অবশ্যই হাসপাতালে সেবা নেয়ার পরামর্শ থাকবে। আমাদের সমাজে কুসংস্কার, অবহেলা, পারিবারিক কলহ ও আর্থিক কারণে এখনও কিছু কিছু প্রসব বাড়িতে হয়ে থাকে। বাড়িতে প্রসবের বেলায় অদক্ষ দাইয়ের কারণে মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি থাকে, অপরদিকে হাসপাতালে ভুল অস্ত্রপচারে সিজারিয়ান অপারেশনেও মা ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনা আমাদের ভাবায়। এসব ক্ষেত্রে মায়ের মৃত্যুর বেশির ভাগই হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। নবজাতকের মৃত্যুর বেশির ভাগই ঘটে জন্মের ৭ দিনের মধ্যে। আর ৫০ শতাংশ মৃত্যু জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে থাকে। মা ও নবজাতকের অকালমৃত্যু রোধ করতে প্রসব-পরবর্তী সেবার গুরুত্ব অপরিসীম।



 



প্রসব-পরবর্তী সেবার সময়সূচি



মা ও নবজাতককে প্রসব-পূর্ব সেবার মতোই কমপক্ষে ৪ বার প্রসব-পরবর্তী সেবা দেয়া প্রয়োজন। এ বিষয়টি আমরা একদমই মেনে চলি না। এই ৪ বার চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে মা ও শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায়। প্রসবের পূর্বে আমরা যেমন চিকিৎসকের পরামর্শকে গুরুত্ব দিই, তেমনি প্রসবের পরেও মা ও শিশুর সুস্থতার জন্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া সমান গুরুত্ববহ। সময়গুলো হলো :



প্রথম : জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে



দ্বিতীয় : জন্মের ২-৩ দিনের মধ্যে



তৃতীয় : জন্মের ৭-১৪ দিনের মধ্যে



চতুর্থ : জন্মের ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিনে



 



প্রসবের পর করণীয়



মায়ের ক্ষেত্রে



* গর্ভধারণে শরীরের যে ক্ষয় হয় তা পূরণের জন্যে প্রসবের পর মাকে বেশি করে খাবার খেতে হবে। শিশুর প্রয়োজনে বুকের দুধ তৈরির জন্যে এ সময় মায়ের সুষম খাবার খাওয়া প্রয়োজন।



* পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।



* নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার কাপড় পরতে হবে।



* চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রসূতি মাকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ও আয়রন বড়ি খেতে হবে।



* প্রসবের ৪২ দিন পর স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে যে কোনো একজন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।



 



শিশুর ক্ষেত্রে



* প্রসবের পর মাটিতে না রেখে শিশুকে হাতে তুলে নিতে হবে।



* শিশুর মুখের ভেতর, মুখম-ল ও সমস্ত শরীর পরিষ্কার করতে হবে। মাথা ও শরীর কাপড় দিয়ে জড়িয়ে নিতে হবে।



* মায়ের দুই স্তনের মাঝখানে শিশুর মাথা একদিকে কাত রেখে শিশুকে বুকে রাখতে হবে।



* জন্মের পরপরই গর্ভফুল পড়ার অপেক্ষা না করে শিশুকে শালদুধসহ মায়ের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে। জন্মের সাথে সাথে শিশু স্তন চোষা শুরু করলে মায়ের দুধ ঠিকমতো আসবে। এছাড়া প্রসবের সাথে সাথে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ালে মায়ের ফুল পড়তে এবং রক্তস্রাব দ্রুত বন্ধ হতে সাহায্য করবে।



 



অভিভাবকের পালনীয়



* নবজাত শিশুকে সরিষার তেল, মধু বা চিনির শরবত-জাতীয় অন্য কোনো পানীয় খেতে দেয়া উচিত নয়। মায়ের বুকের দুধের প্রথম ফোঁটা দুধ শিশুর প্রথম টিকাও বটে, এটিকে শালদুধ বলা হয়। শালদুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই শিশুর জন্মের পরপরই যতো দ্রুত সম্ভব (বলা হয় ১ ঘণ্টার মধ্যে) শিশুকে শালদুধ খাওয়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিশুর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধই শিশুর খাবার। এই ৬ মাস শিশুকে অন্য কিছু খাওয়ানো যাবে না।



* শিশু জন্মের পর এবং গর্ভফুল বের হওয়ার পরপরই (গর্ভে আর সন্তান নেই নিশ্চিত হয়ে) মাকে ২টি মিসোপ্রোস্টাল বড়ি খাওয়াতে হবে। এতে মায়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যাবে। বাড়িতে প্রসবের ক্ষেত্রে অভিভাবককে অবশ্যই এ কাজটি করতে হবে। হাসপাতালে প্রসবের বেলায় চিকিৎসকরা নার্সদের মাধ্যমে এটি করে থাকেন।



* বাড়িতে প্রসবের ক্ষেত্রে শিশুর নাড়ি কাটার জন্যে প্রথমে নবজাতকের পেট থেকে যথাক্রমে দুই আঙ্গুল, আধ আঙ্গুল ও এক আঙ্গুল ব্যবধানে জীবাণুমুক্ত সুতা দিয়ে পরপর তিনটি বাঁধন দিতে হবে। এরপর জীবাণুমুক্ত বেস্নড দিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বাঁধনের মাঝ বরাবর কেটে দিতে হবে। এরপর শিশুর নাভির কাটা অংশে ৭.১% ক্লোরহেক্সিডিন দিতে হবে। এতে শিশুর নাভি জীবাণুমুক্ত থাকে। হাসপাতালে প্রসবের বেলায় এ কাজটি চিকিৎসকরাই করে থাকেন।



* জন্মের পরপরই যতো দ্রুত সম্ভব শিশুকে বিসিজি টিকা দিতে হবে। এরপর ৪২ দিনের পর হতে রুটিন ইপিআই টিকা শুরু করতে হবে।



 



 



গাইডলাইন



প্রসব-পরবর্তী সেবার জন্যে মা ও শিশুকে নিম্নের সেবাদান কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।



ক. স্যাটেলাইট ক্লিনিক।



খ. কমিউনিটি ক্লিনিক।



গ. ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।



ঘ. এনজিও ক্লিনিক/হাসপাতাল।



ঙ. উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।



চ. মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র।



ছ. জেলা/সদর হাসপাতাল



জ. মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।



শিশুর জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার ওজন নিতে হবে।



 



তথ্যঋণ : কর্ম ও প্রশিক্ষণ সহায়িকা।



লেখক : পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।



* চিকিৎসাঙ্গন বিভাগে লেখা পাঠানোর ই-মেইল


into.alamin@gmail.com


 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৯৬-সূরা 'আলাক


১৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


assets/data_files/web

নত হই ছোট নাহি হই কোনমতে।


_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর/কণিকা।


নারী পুরুষের যমজ অর্ধাঙ্গিনী।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৬,৪৪,৪৩৯ ১৩,২১,৯৪,৪৪৭
সুস্থ ৫,৫৫,৪১৪ ১০,৬৪,২৬,৮২২
মৃত্যু ৯,৩১৮ ২৮,৬৯,৩৬৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৩৪৪০২
পুরোন সংখ্যা