চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ২৫ অক্টোবর ২০১৮। ১০ কার্তিক ১৪২৫। ১৪ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা যূখরুফ

৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৫। তারা তাঁর (আল্লাহর) বান্দাদের মধ্য হতে তাঁর অংশ সাব্যস্ত করেছে। মানুষ তো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ।

১৬। তিনি কি তাঁর সৃষ্টি হতে নিজের জন্যে কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদেরকে চয়ন করেছেন পুত্র সন্তান দ্বারা?

১৭। দয়াময় আল্লাহর প্রতি তারা যা আরোপ করে যখন তাদের কাউকেও সেই (কন্যা সন্তানের) সংবাদ দেয়া হলে তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


পাখিকে ধরতে হলে তাকে ভয় দেখানো চলবে না।                             


-জর্জ হার্বাট।


সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী যে স্বল্পাহারে সন্তুষ্ট থাকে, অল্প হাসে এবং লজ্জাস্থান ঢাকিবার উপযোগী বস্ত্রে পরিতুষ্ট।



 


ফটো গ্যালারি
ব্যতিক্রম সফরে চাঁদপুর থেকে গাজীপুর
কাজী শাহাদাত
২৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)



চার



সোহাগ পল্লী ছেড়ে যেতে কষ্ট



 



১৯ অক্টোবর রাতে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আনন্দ ভ্রমণ উদ্যাপন উপ-কমিটি কর্তৃক গাজীপুরের সোহাগ পল্লী সুইমিং পুল মঞ্চে আয়োজিত ব্যতিক্রম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ শেষে 'মেজবান রেস্টুরেন্টে' নৈশভোজে অংশ নিলাম। তারপর দেরি না করে এগারোটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়লাম। আমার ছেলে কাজী নাহিন তার মোবাইল ফোনে ভোর সোয়া ৫টায় আমরা সকলে যাতে জেগে উঠতে পারি সেজন্যে অ্যালার্ম বাজার ব্যবস্থা করে রাখলো। প্রকৃতির নিবিড় সানি্নধ্যে গভীর ঘুম (সাউন্ড সস্নিপ) যে হয় এবং সেটা পাঁচ ঘন্টা হলেও যে যথেষ্ট সে বিষয়টি টের পেলাম যখন পৌনে পাঁচটায় আপনা আপনি ঘুম থেকে জেগে উঠি। অ্যালার্মের জন্যে আর অপেক্ষা করতে হয়নি।



ফজরের নামাজের পর ভোরের আলো ফুটে উঠলে বারান্দার জানালা দিয়ে সোহাগ পল্লীর প্রতি সোহাগী দৃষ্টি প্রসারিত করি। ইতঃমধ্যে অতিক্রান্ত ২১ ঘন্টা সময়ে এ পল্লীটির জন্যে মনে যে মায়া জন্মে গেছে সেটি উপলব্ধি করি। হিসেব কষে দেখলাম, আর কয়েক ঘন্টা পর কোলাহলমুক্ত এ পল্লীটি ছেড়ে আমরা জনারণ্যে হারিয়ে যাবো।



সকাল সাড়ে ৭টায় 'মেজবান রেস্টুরেন্টে' নাস্তার জন্যে গিয়ে দেখি, আমিই সর্বপ্রথম। কিছুক্ষণ পর একে একে সবাই আসলো। নাস্তা শেষে আমার ছোট্ট মেয়ে আকিবার অনুরোধে শিশুপার্কে গেলাম। অন্য কোনো রাইডে চড়ার চেয়ে এই পার্কের তিন রকমের দোলনায় চড়াটাই সে বেশি পছন্দ করলো। এদিকে আমার স্ত্রী, ছেলে এবং ভ্রমণসঙ্গী আহসান উল্লাহ আমাকে বার বার ডাকছিলো 'মোল্লা বাড়ি'তে যাওয়ার জন্যে। সোহাগ পল্লীর প্রায় এক একর জায়গা জুড়ে সম্পূর্ণ গ্রামীণ আবহে এই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে 'মোল্লাবাড়ির বউ' ছবিটি শুটিংয়ের জন্যে। গোয়াল ঘর, রান্নাঘর, কাচারী ঘর, কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন টিনের ঘর, দুটি পুকুর, শান বাঁধানো ঘাট, টিনের বেড়া, গাছগাছালি সহ একটি গ্রামীণ বাড়ির সকল কিছুরই অস্তিত্ব রয়েছে এখানে।



দূর থেকে আহসান বারবার বলছিলো, ভাই! আসুন এখানে কিছু গ্রুপ ছবি তুলি। তার আহ্বানে সাড়া দেয়ায় মেয়েটি আমার ভীষণ বিরক্ত হলো। তারপরও ছবি তুলতে গেলাম ছবির মতোই সুন্দর সেই মোল্লা বাড়িতে। সত্যিই এখানে ছবি তুলতে গিয়ে আমাদের অতীত গ্রামীণ জীবন, গ্রামীণ ঐতিহ্যের নিটোল রূপকে নূতনভাবে খুঁজে পেলাম, মনে হলো শিকড়ের টান অনুভব করলাম।



মোবাইল ফোনে প্রেসক্লাব সভাপতির কল দেখলাম। রিসিভ করতে গিয়ে তাড়াতাড়ি বাসে ওঠার তাগিদ পেলাম। আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই যে ছাড়তে হবে এই সোহাগ পল্লী সে ভাবনায় হৃদয়ের গহীনে কষ্ট অনুভব করলাম। পা চলে তো মন চলে না অবস্থায় পরিবারের সকলকে নিয়ে বলা যায় সবশেষে সোহাগ পল্লীর প্রবেশ দ্বার অতিক্রম করলাম।



ভ্রমণসঙ্গী সাইফুল আজমের ক্যামেরার অনেক বড় ফ্রেমে সকলে বন্দী হয়েই তবে পৌনে ১০ টায় বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।



বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক



 



কঙ্বাজার জেলার ডুলাহাজরা সাফারী পার্কটিতে অনেকবার গিয়েছি। সেটির বর্তমান নাম বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক। ২০ অক্টোবর আমরা যে সাফারী পার্কটিতে যাই সেটির নামও বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক। তবে সেটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত। সত্যিই না গেলে বুঝতাম না অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনায় এই সাফারী পার্কটি কতোটা সুন্দর এবং পর্যটকবান্ধব।



ডুলাহাজরা সাফারী পার্কটি অনেক বেশি পর্বতময় ও অরণ্য বেষ্টিত, বন্য হাতীর আকস্মিক আগমনের আশঙ্কায় নির্দিষ্ট এলাকা কম-বেশি বিপদসঙ্কুল। এ নিয়ে পর্যটকদের সতর্ক করলেও তারা ঝুঁকি নেয় এবং কেউ কেউ বিপদেও পড়ে। গাজীপুরের সাফারী পার্কটি নিঃসন্দেহে বিপদ বা ঝুঁকিমুক্ত। এখানে পর্বত ও অরণ্য মোটেও নেই। কেননা ভাওয়ালের গড়ের ছোট ছোট টিলা এবং সমতল ও নিচু ভূমি সম্বলিত বিশাল শালবনে ৩৬৯০ একর আয়তনে সাফারী পার্কটি তৈরি করা হয়েছে।



ডুলাহাজরা সাফারী পার্কে পর্যটকদের জন্যে পর্যাপ্ত বাস নেই। সেজন্যে অধিকাংশ পর্যটক পায়ে হেঁটে সাফারী পার্কটি ঘুরে ঘুরে দেখে। আর যারা বাসে উঠে দেখার সুযোগ পায়, তারা জায়গায় জায়গায় নেমেই তবে বড় বড় প্রাণীগুলোকে দেখতে হয়। বাঘ ও সিংহকে দেখতে তো অনেক কষ্ট করতে হয়। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠেও সহজে এদের দেখা পাওয়া যায় না। এরা খাঁচাতেই বেশির ভাগ থাকে। এর কারণও আছে। এদের দেখতে এসে পর্যটকরা বোতল, ছোট পাথর সহ বিভিন্ন জিনিস নিক্ষেপ করে নিপীড়ন করে। আর গাজীপুরের সাফারী পার্কে বাসে চড়া ছাড়া বাঘ, সিংহ, ভল্লুক ইত্যাদি হিংস্র প্রাণীকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ নেই। এখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে চড়ার পর ড্রাইভার দরজা লক করে দিয়ে পর্যটকদেরকে অনেকটা খাঁচায় বন্দী করে ফেলে। এমন বন্দী অবস্থায় ড্রাইভার বাস চালিয়ে উঁচু ঘেরাও করা এলাকার গেইটে যায় এবং হর্ন বাজায়। নিরাপদ টাওয়ারে বসে থাকা গেইটম্যান সুইচ টিপে প্রথম গেইটটি খুলে দিলে বাস ঢুকে, তারপর দ্বিতীয় গেইট খুললে দেখতে পাওয়া যায় ভল্লুক, সিংহ ও বাঘ। আমি যে বাসে ছিলাম, সে বাসটি তো সিংহ ও সিংহীর পাশে গিয়েই থেমেছে। আমরা বাসের সকলে জানালার কাচ দিয়ে তাদেরকে দেখে নিলাম এবং ছবি তুললাম। ভল্লুক ও বাঘকে একটু দূরে দেখলেও ভালোভাবেই দেখেছি, কেননা নিজেরা খাঁচায় বন্দী থাকার মতো ছিলাম বলে আক্রান্ত হবার নূ্যনতম ভয় কাজ করেনি। উন্মুক্ত অবস্থায় সুউচ্চ জিরাপ ও জেব্রাকে যেখাবে দেখেছি, এমনটি ত্রিপুরার বিখ্যাত সিপাহীজলা সাফারী পার্কেও দেখতে পাইনি।



গাজীপুর সাফারী পার্কটি কোর সাফারী, সাফারী কিংডম, বায়োডাইভারসিটি পার্ক, এঙ্টেনসিভ এশিয়ান সাফারী পার্ক ও বঙ্গবন্ধু স্কয়ার এই পাঁচ অংশে বিভক্ত। কোর সাফারীতে বাসে ও জিপে চড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যেটা আমরা চড়েছি। এই অংশেই রয়েছে বাঘ, সিংহ, কালো ভল্লুক, আফ্রিকান চিতা, চিত্রা হরিণ, সাম্বার, গয়াল, মায়া ও প্যারা হরিণ, জিরাপ, জেব্রা, বন্য গরু সহ অন্যান্য হিংস্র প্রাণী।



আমরা ১৫ মিনিটে কোর সাফারী দেখা শেষ করে প্রবেশ করলাম সাফারী কিংডমে। এই অংশটি দেখতে হয় পায়ে হেঁটে। কিংডম বা রাজ্য বলতে যা বোঝায়, এখানকার পরিবেশ তেমনই। সেজন্যে এটি দেখতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ই পর্যাপ্ত বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। ৫৫৬ একর জুড়ে থাকা এই কিংডমের গেইট পেরুলেই চোখে পড়ে ম্যাকাও ল্যান্ড। এখানে বাহারি রঙের পাখির সৌন্দর্য দেখে অবাক না হওয়া ছাড়া উপায় নেই। সৃষ্টিকর্তা যে পাখিকে কতোটা রূপে, কতোটা রঙে, কতোটা শৈল্পিক অবয়বে সৃষ্টি করতে পারেন এই ম্যাকাও ল্যান্ডে গেলে সেটি ভালোভাবে অনুভব করা যায়। ডুলাহাজরা সাফারী পার্কে সব পাখিকে বিশাল বেষ্টনীতে বিচরণরত অবস্থায় পর্যটকরা বেষ্টনীর বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কিন্তু গাজীপুরের সাফারী পার্কে দুটি ঘন শিকলের দরজা পেরিয়ে বেষ্টনীতে ঢুকেই তবে পাখি দেখা যায়, পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা যায়, এমনকি খাবারের প্রলোভনে হাতে নিয়েও ছবি তোলা যায়। এই পাখিগুলোকে পর্যটকবান্ধব বললে অত্যুক্তি হবে না। এই ম্যাকাও ল্যান্ডে নীল-সোনালী ম্যাকাও, সবুজ ম্যাকাও, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, টিয়া, পেলিকন, লুটিনো রিংনেক প্যারট সহ ৩৪ প্রজাতির আফ্রিকান পাখি রয়েছে।



আমরা এসব পাখি দেখে বেরিয়ে আসতেই লক্ষ্য করলাম মেরিন অ্যাকুরিয়াম। এখানে গিয়ে ২০ প্রজাতির মাছ দেখলাম। এর মধ্যে রয়েছে ক্রোকোডিল ও টাইগার ফিস। রয়েছে লুকিয়ে থাকা বস্ন্যাক গোস ও অস্কার। দেখলাম চিকলেট মাছ, যেটি ২০ সেকেন্ড পর পর রং পরিবর্তন করে। আমার ভ্রমণসঙ্গী সাইফুল আজম ব্যাঙের মতো এক প্রকার মাছ দেখালেন, যেগুলো গ্লাস কামড়িয়ে থাকে এবং গ্লাসের ময়লা খায়। সাইফুল এই অ্যাকুরিয়ামের স্টিল ছবি তোলার চেয়ে ভিডিও করতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। লক্ষ্য করলাম তার দু জমজ মেয়ে রূপ ও রোজাও মোবাইল ফোনে ছবি তুলছে ও ভিডিও করছে। পরে আরো লক্ষ্য করলাম, সাইফুলের ছেলে ওহী, স্ত্রী সুমী ও বোন সাকীও ছবি তুলছে, ভিডিও করছে।



মেরিন অ্যাকুরিয়াম থেকে বেরিয়ে প্রজাপতি পার্কে যাবো এমন সময় ৯ডি (৯উ) ছবি দেখার বায়না ধরলো শিশুরা। তারা সেখানে ঢুকলো, আর আমরা বড়রা বাইরে বসে রইলাম। এমন সময় চাঁদপুরজমিন সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকনকে খুঁজে পেলাম, যিনি সোহাগ পল্লী থেকে দেরিতে বেরিয়েছিলেন বলে আমরা তাঁকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। ওদের ছবি দেখা শেষ হলে প্রজাপতি পার্কে গেলাম, যেখানে আছে ২৬ প্রজাতির প্রজাপতি। এমন পার্ক মালয়েশিয়ায় দেখতে পেলেও ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক ও সিপাহীজলা সাফারী পার্কে দেখতে পাইনি।



সাফারী কিংডমে আরো রয়েছে প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেন, জিরাপ ফিডিং স্পট, আইল্যান্ড, বোটিং ও লেইক জোন। আরো আছে অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, ক্যাঙ্গারু, হাতী শো গ্যালারী, ধনেশ পাখি সহ আট প্রজাতির পাখিশালা। আমরা সময়ের অভাবে সব ক'টি দেখতে পারিনি।



সেক্রেটারী হাতীর পিঠে চড়া



 



গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের ব্যবস্থাপনা নিঃসন্দেহে মানসম্পন্ন। এই পার্কের সাফারী কিংডম অংশে গেলে পর্যটকরা সহজে বেরিয়ে আসতে চায় না। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আনন্দ ভ্রমণ উদ্যাপন উপ-কমিটির লোকজন আমাদেরকে উপর্যুপরি তাগিদ দিয়ে পার্কের বাকি তিনটি অংশ না দেখেই তাড়াতাড়ি 'বাঘ রেস্তোরাঁ'য় গিয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণের জন্যে বললেন। এমন তাগিদের মধ্যেই আমার পরিবার, আলোকিত চাঁদপুরের সম্পাদক জাকিরের পরিবার, রোকনের পরিবার, এমনকি ছোট্ট ছেলে সহ প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী মির্জা জাকির বিশাল হাতী দেখার জন্যে গেলো। এদের মধ্যে দু জাকির তাদের বাচ্চাসহ, আমার ছেলে তার বোনসহ হাতীর পিঠে চড়ে বসলো।



মির্জা জাকির হাতীতে চড়তে চাননি। কিন্তু তার ছেলের আবদারে চড়তে গিয়ে টের পেয়েছন হাতীর পিঠ কতো বড়। সেজন্যে পা দুটি ছড়িয়ে রাখতে গিয়ে বিষ-বেদনার শিকার হয়েছেন। আমার ছেলেরও হয়েছে একই অবস্থা।



তারপর বাঘ রেস্তোরাঁয় গেলাম। সেখানে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটি নিয়ে লিখেছেন আমার সুযোগ্য সহকর্মী এএইচএমআহসান উল্লাহ্।



তাঁর লিখনীতেই সেটি হুবহু তুলে ধরলাম নিচে-



বাঘ রেস্টুরেন্টে হঠাৎ জীবন্ত বাঘের আগমন!



 



সকলেই রেস্টুরেন্টে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছে। শিশু, বয়স্ক, নারী-পুরুষ অর্থাৎ আনন্দ ভ্রমণে যারাই ছিলো সকলেই বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের বাঘ রেস্টুরেন্টে খাবারে মগ্ন। আর এমন সময় যদি বিশাল দেহের ডোরাকাটা জীবন্ত একটি বাঘ এসে সেখানে হাজির হয়, সে মুহূর্তের অবস্থাটা কী হতে পারে সেটা কি ভাষায় প্রকাশ করার মতো? এমন ঘটনা যে শুনবে সে-ই স্বাভাবিক ভাবে বলবে, ওই সময় যে যেভাবে পারবে জান নিয়ে পালানোর চেষ্টা করবে, আর বাঘটি এতো মানুষ হাতের কাছে পেয়ে কাকে ধরে কাকে খাবে সে প্রতিযোগিতায় অস্থির হয়ে উঠবে। কিন্তু না, বাঘটি কাউকে আক্রমণও করে নি, আবার কোনো মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভোঁ দৌড়ও দেয়নি। বরং সকলে জীবন্ত বাঘের বিচরণ খুব কাছ থেকে দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। আবার অনেকে ছবি তুলেছে, ভিডিও করেছে।



হ্যাঁ, এমনই একটি অবিশ্বাস্য এবং চোখ কপালে ওঠার মতো ঘটনা ঘটেছে গত ২০ অক্টোবর দুপুরে গাজীপুর জেলার শ্রীপুরস্থ বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের বাঘ রেস্টুরেন্টে। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আনন্দ ভ্রমণকারী দলের দুপুরের খাবার খাওয়ার সময়। পাঠক, তাহলে কি বলবেন বাঘটি পোষা ছিলো, এ জন্যে কাউকে একটি অাঁচড়ও দেয়নি? এমন যদি হতো, তাহলে তো বাঘে-মহিষে এক সাথে পানি খাওয়ার প্রবাদ বাক্যটি বাস্তবে ইতিহাস হয়ে থাকতো। কিন্তু না, তেমনটি নয়। সবই ঠিক আছে। বাঘও এসেছে, সবাই হুমড়ি খেয়ে খুব কাছ থেকে বাঘের বিচরণও দেখেছে। তবে বাঘ এবং রেস্টুরেন্টের মানুষগুলোর মাঝখানে দুটি নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিলো। বাঘের বিচরণের জায়গার সাথে ছিলো উঁচু লোহার পাইপের ব্যারিকেড এবং এই ব্যারিকেডের দেড় থেকে দুহাত ব্যবধানে ছিলো বাঘ রেস্টুরেন্টের কাচের বাউন্ডারী। তাই সকল মানুষ নিরাপদে থেকে বাঘটিকে চোখ জুড়িয়ে খুব কাছ থেকে দেখেছে, আর বাঘটিও যেনো নিজে এসে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর থেকে যাওয়া তার মেহমানদের মেহমানদারি পর্যবেক্ষণ করে তার নামে দেয়া রেস্টুরেন্টের সার্থকতা প্রতিপন্ন করেছে।



বাঘটি যে কোন্ ফাঁকে আমাদের খুব কাছাকাছি চলে আসলো আগে তা কেউ টের পায়নি। এ দৃশ্যটি প্রথম চোখে পড়ে আমাদের চাঁদপুর কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি সাইফুল আজমের। রেস্টুরেন্টের উত্তর পাশে গ্লাসের বাউন্ডারীর সাথে লাগা তিনজনের একটি খাবার টেবিলে বসেন সাইফুল আজম ও আমি (চাঁদপুর কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ) এবং সিভিল ড্রেসের একজন পুলিশ সদস্য। বাঘটি যখন তাদের টেবিলের একেবারে সামনে চলে আসে তখন সাইফুল বাঘটি দেখে 'এই বাঘ বাঘ' বলেই চিৎকার দিয়ে উঠে। তার এ চিৎকারের মধ্যে অবশ্য আতঙ্ক ও আনন্দ দুটাই ছিলো। সাইফুলের চিৎকারের সাথে সাথে পুরো রেস্টুরেন্টের সকলে যার যার আসন ছেড়ে উত্তর পাশে এসে গ্লাসের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে বাঘ দেখার জন্যে। বাঘটি লোহার পাইপের বাউন্ডারী ঘেঁষে আস্তে আস্তে হেঁটে আবার চলে গেলো। এ সময়ের মধ্যেই খুব কাছ থেকে অনেকে বাঘের হাঁটার দৃশ্যটি ভিডিও করেছেন, আবার অনেকে ছবি তুলেছেন। ভ্রমণসঙ্গী কাজী আজিজুল হাকিম নাহিন (কাজী শাহাদাতের ছেলে) তো খুব কাছ থেকেই বাঘের হাঁটার দৃশ্য ভিডিও করে ফেলেছে। বাঘ রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার আমাদের বললেন, বিগত ৮/১০ বছরের মধ্যে আমরা এমন দৃশ্য দেখিনি। আপনারা চাঁদপুর থেকে এসেছেন, আপনারা সৌভাগ্যবান।



চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পুরো আনন্দ ভ্রমণে এটিই ছিলো উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা। যা সকলকে অসম্ভব আনন্দ দিয়েছে।



শ্রীপুরে হাজীগঞ্জ!



 



চাঁদপুর থেকে গাজীপুর গিয়ে পূর্ব পরিচিত অনেককে খুঁজে পেয়ে ভ্রমণের আনন্দের চেয়েও যেনো বেশি আনন্দ উপভোগ করেছি। সোহাগ পল্লী ও নন্দন পার্কে এসপি শামসুন্নাহার, ওসি আলমগীর সাহেবকে দেখার পর শ্রীপুরে গিয়ে দেখা পেলাম আরেক ওসি জাবেদুল ইসলাম সাহেবকে, যিনি আমার নিজ উপজেলা হাজীগঞ্জের ওসি হিসেবে ক'বছর দায়িত্ব পালন করে এই তো সেদিন বিদায় নিয়েছেন। সপ্তাহ দুয়েক হলো এসপি শামসুন্নাহারের পছন্দে তিনি শ্রীপুর থানার ওসি পদে যোগদান করেছেন।



গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত। ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে গেলেই সাফারী পার্কটি খুঁজে পাওয়া যায়। আমাদের তিনটি বাসের মধ্যে আমি যে বাসটিতে ছিলাম, সেটি সবার শেষে পেঁৗছে সাফারী পার্কে। বাস থেকেই লক্ষ্য করলাম, চশমা পরা লম্বা আকৃতির একটি লোক পুলিশি পোশাকে ওয়্যারলেস হাতে সাফারী পার্কের গেইটে দাঁড়িয়ে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আনন্দ ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। তাঁকে ভীষণ পরিচিত মনে হলেও বাস থেকে নেমে গিয়ে দ্রুত তাঁর সাথে করমর্দন করার সুযোগ পাইনি, কেননা তিনি ততক্ষণে কোর সাফারীর দিকে দ্রুত এগুচ্ছিলেন। আমাদের আগের দুটি বাসের লোকজন ইতঃমধ্যে গেইটের ভেতরে ঢুকে গেছে, আমরা ক'জন ছিলাম বাইরে। এমন সময় দেখলাম, সেই পরিচিত লোকটি গেইটে দাঁড়িয়ে। তাঁর চোখে আমার চোখ পড়তেই তিনি স্মিতহাস্যে অপলক তাকিয়ে থেকে এগিয়ে এসে করমর্দন করলেন। আমার নিশ্চিত হতে আর বাকি রইলো না যে, ইনি হাজীগঞ্জের ওসি জাবেদুল ইসলাম।



জনাব জাবেদুল ইসলাম সাফারী পার্কে আমাদের সফরকে স্বস্তিদায়ক ও আনন্দপূর্ণ করতে তাঁর অনেক সহকর্মীকে ব্যস্ত রেখেছেন এবং সবশেষে বাঘ রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্ন ভোজের ব্যবস্থা করে খুবই কাছ থেকে বাঘ দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।



উল্লেখ্য, এই সাফারী পার্কের ভেতরে বাঘ পর্যবেক্ষণের জন্যে বাঘ রেস্তোরাঁ বা টাইগার রেস্টুরেন্ট যেমন রয়েছে, তেমনি সিংহ পর্যবেক্ষণের জন্যেও সিংহ রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেমনটি দেশ-বিদেশের অন্য সাফারী পার্কে একেবারেই বিরল।



বিদায় গাজীপুর



 



আমাদের ভ্রমণকালে তিনটি বাসের তিনজন কর্মকর্তা ছিলেন। এঁদের মধ্যে শহীদ পাটোয়ারী ছিলেন বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। সেজন্যে তিনি আশুলিয়ায় অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে আগেভাগে রওনা দেয়ার উপকারিতা বলেই তবে বাসে ওঠার তাগিদ দিলেন। ভ্রমণসূচি অনুযায়ী তিনটায় রওনা দেয়ার কথা থাকলেও আমরা প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল পাটোয়ারী ও সাবেক সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী তথা দু পাটোয়ারীর তাগিদে দুইটার পর পরই রওনা দিতে সক্ষম হলাম।



রওনা দেয়ার প্রাক্কালে গাজীপুরকে বিদায় জানাতে কষ্ট হচ্ছিলো। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ঢাকা জেলায়। ভাবলাম, ঢাকায় যেতে যেতে গীজপুরের তাজা স্মৃতিগুলো সাময়িক ঢাকা পড়ে কিনা।



আশুলিয়ার পথে



 



আমাদের আনন্দ ভ্রমণ চলাকালে সাফারী পার্ক পর্যন্ত বাস জার্নির বিচ্ছিন্ন অংশগুলো অনেক উপভোগ্য ছিলো। কিন্তু সাফারী পার্ক থেকে আশুলিয়ার পথে বাস জার্নির অংশটুকু ছিলো কিছুটা বিরক্তিকর। কারণ, যানজট ও প্রচন্ড গরম। উপর্যুপরি পথের দূরত্বও ছিলো কিছুটা বেশি। এক সময় জানতে পেলাম, আমাদের সভাপতির বাসটিকে পেছন থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দিয়ে ক্ষতিসাধন করেছে। আর যায় কোথায়! বাসের ড্রাইভার কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভারকে পাকড়াও করে বাসে উঠিয়ে ফেলেছে। এতে তো কিছু সময় নষ্ট হলোই। সেজন্যে আমাদের বাস থামিয়ে অপেক্ষা করতে গিয়ে গরম খেতে হলো।



বিঘি্নত চলাচলে মানসিক অবস্থায় বিঘ্ন তো ঘটবেই। এছাড়া আশুলিয়া আমাদের প্রায় সকলের নিকট পূর্ব পরিচিত কোনো জায়গা নয়। মানসিক অবস্থা চাঙ্গা করতে ফোনে কল দিলাম পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হাবিবুর রহমান পাটওয়ারীকে। সে কলটি রিসিভ করতেই বল্লাম, হাবিব! আমরাতো আশুলিয়ায় যাচ্ছি। ইউনিভার্সিটিতে তোমার ভাই দোলনকে পাবো তো? হাবিব বল্লো, অবশ্যই পাবেন। শুধু ও নয়, বড় ভাইও তো থাকেন সেখানে। আমি দোলনকে জানাচ্ছি, সে-ই আপনাকে ফোন দেবে।



আমাদের বাসটি টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠের কাছাকাছি পেঁৗছলে দোলন ফোন দিলো। সে বল্লো, আংকেল আসেন। ইনশাআল্লাহ দেখা হবে। তবে সে যে ধারণা দিলো তাতে পাঁচটার পূর্বে আমাদের ইউনিভার্সিটিতে পেঁৗছার সম্ভাবনা ক্ষীণ। মূল সড়ক থেকে আমরা ইউনিভার্সিটি অভিমুখী সড়কে ঢুকে সড়কের অমসৃণতা ও অপ্রশস্ততায় কিছুটা বিরক্ত হলাম। কেনো যেনো পথই ফুরাচ্ছিলো না। অবশেষে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সুদৃশ্য গেইটটির দেখা যখন পেলাম, তখন বিকেল ৫টা ২০ মিনিট।



গেইটের ভেতরে তাকিয়ে এক নজরেই ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসকে অনেক ভালো লাগলো। কারণ, পথিমধ্যে সিটি ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, মানারাত ইউনিভার্সিটির যে ক্যাম্পাস দেখে আসলাম, তারচে' ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসটিকে কিছুটা ব্যতিক্রম ও অনেক শৈল্পিক মনে হলো। আমাদের চাঁদপুরের বাবুরহাটের একজন সবুর খান ঢাকার ধানমন্ডী ও উত্তরার পাশাপাশি আশুলিয়ায় যা করেছেন, তা একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্পন্ন বেসরকারি ইউনিভার্সিটির জন্যে অসামান্যই বটে।



 



ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির



স্থায়ী ক্যাম্পাসে



 



দেশের আইটি সেক্টরের অত্যন্ত খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ড. এম সবুর খান ২০০২ সালের ২৪ জানুয়ারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। দলীয় রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে দেশের শিক্ষাখাতে অবদান রাখার জন্যে তিনি উন্নতমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ায় মনোযোগী হন। স্কুল ও কলেজ গড়ার পর তিনি আশাব্যঞ্জক সাফল্য পেয়ে ইউনিভার্সিটি গড়ার প্রয়াসও চালান। ভাবতে অবাক লাগে, তার প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটির দুটি নগর ক্যাম্পাস ও আশুলিয়া ক্যাম্পাস মিলিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫ হাজার। এর মধ্যে আশুলিয়া ক্যাম্পাসে আছে ৬ হাজার। যাদের এক হাজার জনের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্যে তিনি ক্যাম্পাসের অতি নিকটেই গড়েছেন ছয়তলা হোস্টেল। তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতার নামে যার নাম দিয়েছেন ইউনুছ খান মোমোরিয়াল স্কলার্স গার্ডেন। এই হোস্টেলের কেন্টিনটি ছাত্রজীবন থেকেই চালাচ্ছেন এই ইউনিভার্সিটির টেঙ্টাইল ইঞ্জিনীয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাইনুল হাসান দোলন পাটওয়ারী এবং তার বড় ভাই আনিসুর রহমান পাটওয়ারী।



এই ইউনিভার্সিটিতে ৪৫০ জন অ্যাকাডেমিক কর্মকর্তা রয়েছেন। ৫টি অনুষদের অধীনে ২৩টি বিভাগ রয়েছে। সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অনুষদের আওতায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনীয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমন্টে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনীয়ারিং, মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ও ন্যাচারাল সায়েন্স বিভাগ রয়েছে। বিজনেস অ্যান্ড ইকোনোমিঙ্ অনুষদে রয়েছে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, কমার্স, রিয়েল এস্টেট, ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ইন্ট্রাপ্রেনারশীপ ডেভেলপমেন্ট (যা দেশে প্রথম) বিভাগ রয়েছে। ইঞ্জিনীয়ারিং অনুষদে আছে ইলেকট্রিক অ্যান্ড কম্যুনিকেশন, টেঙ্টাইল ইঞ্জিনীয়ারিং ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনীয়ারিং, আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনীয়ারিং বিভাগ। এলাইড হেলথ সায়েন্স অনুষদে আছে ফার্মেসী, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনীয়ারিং, পাবলিক হেলথ, লাইফ সায়েন্স ও জেনেটিঙ্ অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং হিউমেনেটিস অ্যান্ড সোস্যাল সায়েন্স অনুষদে রয়েছে ইংরেজি, আইন, সাংবাদিকতা ও গণসংযোগ বিভাগ।



আমরা এই ইউনিভার্সিটির যে আশুলিয়া ক্যাম্পাসে গেলাম সেটি স্থায়ী ক্যাম্পাস ও ৩টি ক্যাম্পাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ। কয়েকটি খেলার মাঠের সম্মিলিত রূপ ক্যাম্পাসটিকে উপহার দিয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য। এই মাঠগুলো হলো ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার বড় মাঠ, বাস্কেট বল মাঠ ও গলফ মাঠ। রয়েছে সুবৃহৎ অডিটোরিয়াম। জানতে পারলাম, একটি সুইমিং পুলও নির্মাণাধীন রয়েছে।



মাঠের দু পাশে ইউনিভার্সিটির দু ধরনের দুটি লোগো (উওট) ক্যাম্পাসের জন্যে পরিচয় জ্ঞাপক এবং শিক্ষার্থী, পর্যটক সহ সকলের ফটোসেশনের জন্যে খুবই সহায়ক। সেজন্যে এই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে বিভিন্ন পোজে ছতি তুলতে আমরা মোটেও ভুল করিনি।



স্থায়ী ক্যাম্পাসের ডীনের আতিথেয়তা



 



ড. সবুর খান সাহেব একটি টিভির টকশো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আনন্দ ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীদের সাথে সাক্ষৎ করতে পারবেন না টের পেয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসের ডীন, চাঁদপুরের আরেক কৃতী সন্তান প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল বিকেল ৪টায় ঢাকার বাসায় আর ফিরলেন না। তিনিই আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন এবং আন্তরিক আতিথেয়তা প্রদর্শন করেছেন। সাথে ছিলেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সম্মানিত সদস্য আনোয়ার হাবিব কাজলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী। আমাদের ভ্রমণসঙ্গী, সবুর খানের বন্ধুপ্রতিম আলহাজ্ব হাসান মাহমুদও ছিলেন এক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতাপরায়ণ। ড. সবুর খানের পক্ষে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তিনটি বাস দিয়েই চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আনন্দ ভ্রমণকে সর্বাত্মক সফল করায় সহযোগিতা করেনি, ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় নাস্তাসহ নৈশভোজেরও আয়োজন করে। আমরা নাস্তা সেরে নৈশভোজের জন্যে অপেক্ষমান অবস্থায় দোলনের সাথে ইউনিভার্সিটির হোস্টেল দেখতে গেলাম। সেখানে গিয়ে বিশাল ক্যান্টিনটি দেখে খুব খুশি হলাম।



দোলন জানালো, সে বড় ভাইকে কেন্টিন চালানোর দায়িত্ব দিয়ে আরেক ভাইসহ ঢাকার মীরপুরে গার্মেন্টসের শো রুম ও বাইয়িং হাউজ দিয়েছে। সে বললো, আমি যখন এই ইউনিভার্সিটির টেঙ্টাইল ইঞ্জিনীয়ারিংয়ের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হই তখন এখানে হোস্টেল ছিল না। আমরা প্রশাসনিক ভবনের ওপর তলাগুলোতে সাময়িকভাবে চালু হওয়া হোস্টেলে থাকতাম। যাতায়াত ছিলো কষ্টকর। ক্যাম্পাসের আশেপাশে মানুষের বসতি ছিলো না। প্রায়শই নিকটবর্তী নির্জন স্থানে মানুষের লাশ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যেতো। আজ এই ইউনিভার্সিটির কারণে হোস্টেল হয়েছে, যেখানে এক হাজার শিক্ষার্থী থাকতে পারে। আর বাকি পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর প্রয়োজনে আশেপাশে বহু বিল্ডিং হয়েছে, যেগুলো উচ্চ মূল্যে ভাড়া দিয়ে লোকজন লাভবান হয়েছে। বহু দোকানপাট গড়ে উঠেছে। আমরা যে হোস্টেলের কেন্টিনটি চালাই তার পাশে আরো হোস্টেল হচ্ছে। মাত্র ৩-৪ বছরের মধ্যে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এই স্থায়ী ক্যাম্পাসের কারণে পুরো আশুলিয়ার চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেছে।



দোলনের সাথে দ্রুত ফিরে এসে নৈশভোজে অংশ নিলাম। তারপর রাত ৮টার কিছ ুপর ঢাকার সদরঘাটের উদ্দেশ্যে বাসযোগে রওনা দিলাম। এ সময় ভাবলাম, প্রেসক্লাবের আনন্দ ভ্রমণ না হলে আশুলিয়ায় সহসা আসা হতো না এবং এতো সুন্দর ক্যাম্পাসটি দেখাও হতো না।



সূরের মূর্ছনায় ফিরে আসা



 



পূর্বদিন ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় সোহাগ পল্লীতে ব্যতিক্রম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজ শেষে কটেজে ফিরছিলাম। পরদিন ২০ অক্টোবর নৈশভোজ শেষে আশুলিয়া থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। সংগীত উপভোগ করার সুযোগ ছিলো না। বাসটা কিছু পথ অতিক্রম করার পর টের পেলাম সমবেত সংগীত হচ্ছে। ইলশেপাড় সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমনের মেয়ে মেইন ভোকাল হয়ে অন্য যাদেরকে তার সাথে গাওয়াচ্ছিলো তারা হচ্ছেন বাংলাদেশ প্রতিদিন ও একুশে টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি নেয়ামত ভাইয়ের স্ত্রী (নীরু ভাবী) ও তাদের দু সন্তান, আমার স্ত্রী মাহমুদা খানম, মির্জা জাকিরের মেয়ে



গুলিস্তানে সুমন, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে নেমে পড়লে যেনো ছন্দ পতন ঘটে। সুর থেমে যায়। তবে তার রেশ থেকে যায়। ওই রেশেই আমরা রাত সাড়ে ৯টায় সদরঘাট পেঁৗছে ধীরে সুস্থে ও স্বস্তির সাথে এমভি রফরফ লঞ্চে পা রাখলাম। আগেই কেবিন ঠিক করা ছিলো। খাবারের কোনো ঝামেলা ছিলো না বলে সবাই কিছুটা ফ্রেশ হয়ে কেবিনের বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। তবে জি.এম. শাহীন আনন্দ ভ্রমণ উদ্যাপন উপকমিটির সদস্য সচিব হিসেবে তাঁর সর্বশেষ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে রাত ১২ টার পূর্বে নাস্তার প্যাকেট আনার জন্যে আমার ছেলেকে পাঠাতে যখন ফোন দিলো, তখন ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় তাকে বেরসিকই মনে হলো। তারপর ভোর সাড়ে ৩টায় ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি আমরা চাঁদপুর নদী বন্দরে। আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করলাম নির্বিঘ্নে চাঁদপুর ফিরে আসার জন্যে।



অকপটে স্বীকার করতেই হবে যে, সার্বিক বিবেচনা ও পর্যালোচনায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের এবারের আনন্দ ভ্রমণটি শুধু ব্যতিক্রম হয়নি, অনেক উপভোগ্য ও সর্বাত্মক সফল হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করবে অনেক অনেক দিন। (সমাপ্ত)।



 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৪৯৫৬৬৫
    পুরোন সংখ্যা