চাঁদপুর, বুধবার ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮, ২৯ রমজান ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
বাজরিগার
এম. টি. ইসলাম তাপু
১২ মে, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রমজান মাস। রোজা রেখে একটু পরিশ্রান্ত। দু-একদিন পরেই পবিত্র ঈদ। হাতে তেমন নগদ টাকা-পয়সা নেই। ইফতারির পর মসজিদ থেকে ফিরছি। পথিমধ্যে হঠাৎ কলেজ জীবনের বন্ধু জামালের সাথে দেখা। বন্ধুটি সরকারি চাকুরি করে এবং মাস শেষে বিরাট মাহিনা পায়। আমাকে দেখে অনেক কথাবার্তা কিন্তু করোনার কারণে হ্যান্ড শেক বা কোলাকুলি কিছুই করা সম্ভব হয়নি। বরাবরই জামাল বন্ধুটি আমাকে নগদ অর্থ সম্মানী প্রদান করতো। এবারও সম্মানী হিসাবে দুই হাজার টাকা প্রদান করলো। টাকা দিয়ে বন্ধুটি বিদায় নিলো আর আমি ভাবলাম, টাকাটা দিয়ে কী করা যায়। বাজারের পাশ দিয়ে হাঁটছি এমন সময় এক লোক খাঁচার ভেতর দুটি পাখি নিয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে বললো, স্যার পাখি দুটি নিয়ে যান। অনেক সুন্দর, খুব ভালো পাখি। পাখি দুটো দেখে আমার শখ এবং কৌতূহল জাগলো। জিজ্ঞেস করলাম দাম কতো ? পাখিওয়ালা বলল, স্যার, এগুলো অনেক দামী পাখি, পাঁচ-দশ-পনের-বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম আছে। আচ্ছা ঠিক আছে আমাকে কতো দিতে হবে? পাখিওয়ালা বললো, তিন হাজার টাকা। আমি বললাম, না ভাই, আমার কাছে দুই হাজার টাকা আছে। যদি পারেন তাহলে দিন নয়তো আমি চললাম। অগত্যা পাখিওয়ালা তার পাখি দুটি ও খাঁচাসহ বিক্রি করলেন। পাখি দুটো দেখতে বেশ সুন্দর এবং চঞ্চল। সেই থেকে আমি বাজরিগার পাখির প্রেমে পড়ে গেলাম। সর্বপ্রথম একজোড়া পাখি আনলাম। একটি পাখি টিয়া কালারের এবং পাখিগুলো দেখতেও ছোট টিয়া পাখির মতো। আর অন্য একটির রং ঘুঘু পাখির মতো। বাড়িতে আসার পর আমার গিনি্ন প্রথমে অবাক। তারপর গিনি্ন ও পরিবারের সবাই পাখির প্রেমে পড়ে গেল। পরবর্তীতে আরো দু'জোড়া পাখি কিনলাম। মোট তিন জোড়া হয়ে গেলো। প্রতিদিন খাবার দিচ্ছি পানি দিচ্ছি, এবং পরিচর্যা করতে লাগলাম। প্রথম পাখি দুটি ক্রয় করার সময় পাখিওয়ালা বলেছিলো ছয়মাস পূর্ণ হলে ওরা ডিম পাড়া শুরু করবে। পাখির সেবা-যত্ন করছি আর প্রতীক্ষায় বসে আছি কখন ডিম পাড়বে এবং স্বপ্নের জাল বুনতে থাকলাম। আমার জীবনে এই প্রথম লাভবার্ড বা বাজরিগার পাখি পোষতে শুরু করলাম। এমনিতে ছোট বেলায় ঘুঘু, শালিক, দোয়েল, ডাহুকসহ বিভিন্ন পাখি পুষে ছিলাম। মনে পড়ে, ছোটবেলায় শালিক পাখির নীল ডিম দেখে মনে খুব আনন্দ ও স্বপ্ন জেগেছিল। যাই হোক, পাখিগুলো নানা রঙ্গে বর্ণিল এবং রঙ্গের ক্ষেত্রে কোনোটার সাথে কোনোটার মিল নেই। আমি একে একে পাখিগুলোর নাম ঠিক করলাম। যেমন মিঠু মুনিয়া তানিয়া জিনিয়া তিথি লোপা ইত্যাদি। এমনি করে দু-তিনমাস পর তিথি নামের ছোট পাখিটি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ল। পাখিটির গায়ে পেখম ছিল কম। অবশেষে একদিন তিথি মারা গেলো। মনে অনেক কষ্ট পেলাম। লোপা নামের পাখিটি ছিলো কালো ঘুঘু পাখির মতো। এর মধ্যে বাসা বদলি করতে হলো নতুন বাসায় উঠার পর পরই কে যেন পাখিটি চুরি করে নিয়ে গেলো, নাকি পালিয়ে গেল জানি না। অবশেষে লোপা পাখিটিকে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম। কিন্তু কোথাও খুঁজে আর পেলাম না। মায়া, ফাহিম আমরা সবাই পাখিটি হারিয়ে শোকাহত হয়ে পড়লাম। কারণ লোপা পাখিটি ছিল হৃষ্টপুষ্ট এবং ডিম পাড়ার সময় ঘনিয়ে এসেছিলো। অন্য একদিন একটি পাখি ধরতে গিয়ে খাঁচার মধ্যে হাতে কুট করে কামড়ে দিলো আর ফুরুৎ করে উড়ে চলে গেল। এভাবে শেষ অবধি মিঠু আর মুনিয়া টিকে রইল।



বাজরিগার খুব চালাক পাখি এদের ধরতে গেলে শক্ত চোয়াল বা ঠোঁট দিয়ে কামড়ে দেয় এবং মিষ্টি মধুর ও কর্কশ সব সুরেই ডাকতে পারে। বলতে গেলে সব পাখির বৈশিষ্ট্য এদের মধ্যে রয়েছে। অবশেষে মিঠু আমাদের পোষা পাখি হয়ে উঠলো। মিঠু মাথা ঢুলিয়ে খুব নাচ করতো এবং আমাদের সব কথাবার্তা বুঝতে পারতো। হাতে আসতো, হাতে বসে আধার খেতো এবং হাত বেয়ে কাঁধে বসতো, তারপর গিয়ে মাথায় বসতো। আমার কাঁধে বসে দাঁড়িতে কুট কুট করে বেণী কাটতো। এভাবে মিঠুকে নিয়ে অবসরে অনেক খেলা করতাম। অর্থাৎ মিঠু আমাদের খুব প্রিয় পোষা পাখি হয়ে উঠলো। মিঠু তার সঙ্গী মুনিয়াকে খুব ভালোবাসতো এবং আদর করতো। একটি পাখি আর একটি পাখির ঠোঁটে ঠোঁটে আধার খেতো। ঠোঁট দিয়ে মাথায় চুলকিয়ে দিতো। আরো কতো কী যে করতো অবসরে আমরা বসে বসে দেখতাম। মুনিয়া একদিন মাটির হাড়িতে চারটি ডিম দিল এবং তা দিতে লাগল। আমরা খুব খুশি এবং আনন্দিত হলাম। ভাবলাম হয়তো এতো দিনে আমাদের স্বপ্ন পূর্ণর্ হচ্ছে। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখলাম মুনিয়া মাটির হাঁড়ির বাহিরে সময় কাটাচ্ছে এবং একটি ডিমও নাই। আমি অবাক হয়ে পড়লাম ডিম কোথায় গেলো। আশেপাশের লোকদের কাছে জানলাম বাজরিগার পাখি নাকি কোনো সমস্যা দেখলে তাদের ডিম খেয়ে ফেলে। আবার কেউ বললো, ইঁদুরেও খেতে পারে ইত্যাদি। অবশ্য খাঁচার পাশে ছোট্ট একটি ইঁদুর দেখেছিলাম। তবে ডিম কি পাখিতে খেলো নাকি ইঁদুর খেলো নিশ্চিত হতে পারলাম না। এভাবে এক সময় পোষা পাখির উপর মন খারাপ হতে লাগলো। ভাবলাম বিক্রি করে দিবো। মুনিয়া কিছুদিন পর আবার সেই মাটির হাঁড়িতে দেখি তিনটি ডিম পেড়েছে। কিছুদিন পর দেখি মাত্র একটি ডিম রয়েছে। এর মধ্যে মিঠু মুনিয়াকে হাড়ি থেকে বের হতে দেয় না এবং হাঁড়িতে গিয়ে মুনিয়াকে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে আধার খাওয়াতো। আর ক'দিন পরে দেখি একটি ডিমও নাই। এবার নিশ্চিত হলাম যে পাখিজোড়া আসলে কোনো সমস্যার কারণে নিজের ডিম নিজে খেয়ে ফেলেছে, হয়তো আর কোনো বাচ্চা ফুটাবে না। এমতাবস্থায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসল দেশে হঠাৎ লকডাউন চলতে থাকলো অর্থাৎ একটি বছর পূর্ণ হয়ে গেলো। ইতিমধ্যে বৈশাখ ও রমজান মাস একসাথে শুরু হলো। আমার পিতার অসুস্থতার কারণে দেশের বাড়ি গেলাম। সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থান করলাম। একসপ্তাহ পর বাসায় এসে দেখি আমার সবচেয়ে প্রিয় পোষা পাখি মিঠু আর নেই। আমার গিনি্ন মায়া একদিন বাসায় পাশের ভাড়াটিয়া লোকদের দেখাতে গিয়ে হাতে নিয়ে খেলতে ছিলো। দরজা খোলা পেয়ে মিঠু উড়ে গেলো মিঠুকে হারানোর। বেদনায় আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। আশপাশের বাড়িতে খুজে দেখলাম কোথাও পেলাম না। হঠাৎ একদিন দেখি, দুই বা তিনটি বাড়ির পর বাসার আঙ্গিনায় অন্যের খাঁচায় আমার মিঠু বন্দী। কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই। কারণ মিঠু এখন নতুন মালিকের তত্ত্বাবধানে আছে। আর এদিকে মুনিয়া আমার খাঁচায় একা জীবন যাপন করছে।



 



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

 


২-সূরা বাকারা


২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৬। তাহারাই বিনীত যাহারা বিশ্বাস করে যে, তাহাদের প্রতিপালকের সহিত নিশ্চিতভাবে তাহাদের সাক্ষাৎকার ঘটিবে এবং তাঁহারই দিকে তাহারা ফিরিয়া যাইবে।


 


 


 


একজন জ্ঞানী প্রশাসক সময়োপযোগী শাসন করেন। _সিডনি লেনিয়ার।


 


 


 


অত্যাচার কেয়ামতের দিনসমূহ অন্ধকারের কারণ হবে।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৭,৫১,৬৫৯ ১৬,৮০,১৩,৪১৫
সুস্থ ৭,৩২,৮১০ ১৪,৯৩,৫৬,৭৪৮
মৃত্যু ১২,৪৪১ ৩৪,৮৮,২৩৭
দেশ ২০০ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯০৩৭০৬
পুরোন সংখ্যা