চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যায় তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড
  •   কল্যাণপুর ইউপির জেলে চাল আত্মসাৎ, দুই গুদাম সিলগালা
  •   মা আর স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হলো দুই ভাইয়ের লাশ
  •   বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিম ধ্বসে ৩ ছাত্রী গুরুতর আহত
  •   আশিকাটিতে খাটের নিচে গৃহবধূর লাশ ॥ স্বামী পলাতক

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:৪৫

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে দুটি ট্রলারে ডাকাতি : অর্ধ কোটি টাকা লুট

মাহবুব আলম লাভলু
চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে দুটি ট্রলারে ডাকাতি : অর্ধ কোটি টাকা লুট

মেঘনা নদীতে ব্যবসায়ীদের দু’টি ট্রলারে দিনে দুপুরে ডাকাতি করে অর্ধ কোটি টাকা লুটে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশী মাত্রায় আহত হন অন্তত ৩ জন। ব্যবসায়ীরা সকলে মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ ও গৌরাঙ্গ বাজারের ব্যবসায়ী। ডাকাতরা প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে যায় জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

২৩ জানুয়ারি রোববার বেলা ১১টার দিকে চাঁদপুর সদরের মেঘনা নদীর সফরমালী লঞ্চঘাট এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। ডাকাতিকালে ব্যবসায়ী আক্কাস শেখ (৩৫), উজ্জল মাঝি (২৫) ও হাকিম গাজী (৪৮) আহত হন। আহতদের মধ্যে আক্কাস শেখ (৩৫) ও উজ্জল মাঝি (২৫)কে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ট্রলারে থাকা আহত ব্যবসায়ী হাকিম আলী গাজী জানান, মেঘনা নদীর সফরমালী লঞ্চঘাটের কাছে আসলে স্পীডবোট নিয়ে ৮/৯জন মুখোশধারী কাটারাইফেল, শটগান, রামদা ও রড নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং আমাদের কাছে থাকা টাকা-পয়সা লুটে নেয়। সাথে আমাদের মোবাইলগুলোও নিয়ে যায়। পরে তারা মেঘনা নদীর উত্তর দিকে চলে যায়। ওদের গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিলো।

ট্রলারের মাঝি উজ্জ¦ল শেখ (২৫) জানান, আমার ট্রলারে ডাকাতরা স্পীডবোড দিয়ে উঠেই মারধর শুরু করে। কয়েকজন ব্যবসায়ী ট্রলারের সাথে আসেনি। তারা আমার কাছে চাঁদপুরের পার্টিদেরকে পৌঁছে দেয়ার জন্য টাকা দেন। সেই টাকার পরিমাণ ১৪ লাখ ২০হাজার টাকা। সব টাকাই ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

আহত পাইকারী মুদী ব্যবসায়ী আক্কাস শেখ জানান, আমার কাছে ৯লাখ টাকা ছিলো। টাকা দিতে দেরি করায় রড দিয়ে আমার হাত ভেঙ্গে ফেলে এবং টাকা ছিনিয়ে নেয়।

তেলের ডিলার বেপারী ট্রেডার্সের মালিক আতাউর রহমান সবুজ জানান, তার টাকা ছিলো ৩ লাখ ৫০ হাজার, তেলের ডিলার নাইমা ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ হোসেনের ৩ লাখ ১১ হাজার, মরিচের পাইকার খোকন মেম্বারের ৩ লাখ ১০ হাজার, গৌরাঙ্গ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী কামাল মল্লিকের ৩ লাখ ১৫ হাজার, রহমত আলীর গাজীর ১ লাখ ১০ হাজার টাকা যা ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

চাঁদপুর নৌ-পুলিশের এসপি কামরুজ্জামান জানান, আমি খবর পেয়ে সাথে সাথে চাঁদপুর সদর ও মোহনপুর নৌ-পুলিশের ওসিকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দিয়েছি। পরপর নৌ-পুলিশের এডিশনাল এসপিকেও পাঠিয়েছি। ব্যবসায়ীদের মিসিং মোবাইল নম্বর আমার কাছে চলে এসেছে, আমি সেগুলো নিয়ে ডাকাতদের ধরার বিষয়ে যা যা করণীয় সবই করছি। আশা করি ডাকাতদের ধরতে সক্ষম হবো।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা চাঁদপুর নৌ-পুলিশের এডিশনাল এসপি বেলায়েত হোসেন জানান, ডাকাতদের ধরার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজই আমরা শুরু করে দিয়েছি। তবে এই ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। তবে এতো টাকা নিয়ে নৌ-পথে মোকামে গেলে আমাদের সহযোগিতা নিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়