চাঁদপুর, রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩  |   ২১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন বছরের এ একটি দিন সাংবাদিকরা উপভোগ করেন, এদিন তাঁদের মিলনমেলা ঘটে

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:২০

নারীকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনায় সেই দুই সহোদর আটক

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
নারীকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনায় সেই দুই সহোদর আটক

ফরিদগঞ্জে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগ তুলে বেধড়ক পিটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর চাঁদপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে মোফাচ্ছের ও ইয়াছিন নামে দুই সহোদর আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদেরকে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রামের আমিন উদ্দিন বেপারি বাড়ি থেকে আটকের পর সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর আদালতে পাঠায় পুলিশ। এ ব্যাপারে রোববার ( ২৬ সেপ্টেম্বর ) বিকালে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন হামলার শিকার তাসলিমা বেগম নামে ঐ নারী। ঘটনাটি গত শুক্রবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর ) উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রুস্তুমপুর গ্রামের আমিন উদ্দিন বেপারি বাড়িতে ঘটে। জানা যায়, প্রায় ৪ মাস পূর্বে রুস্তুমপুর গ্রামের আমিন উদ্দিন বেপারি বাড়ির কাউসার আলমের নব-বিবাহিতা স্ত্রী মুক্তা বেগমের গলার স্বর্ণের চেইন হারিয়ে যায়। সপ্তাহ খানেকপর হারিয়ে যাওয়া চেইনটি কাউছারের বসত ঘরের পাশ থেকে খুঁজে পাওয়া যায়। এই চেইনটি হারিয়ে যাওয়াকে চুরি হিসেবে চিহ্নিত করে একই বাড়ির স্বামী পরিত্যক্তা অসহায় তাসলিমা বেগমকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল অভিযুক্ত কাউছার ও তার পরিবারের সদস্যরা। ওই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কাউসার আলমের ছোট দুই ভাই মোফাচ্ছের, ইয়াসিন ও তাদের মা শামছুন্নাহারের সহায়তায় তাসলিমাকে তার বসতঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। ঘটনার শিকার তাসলিমা বেগম জানান, বিনা কারণেই ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে বাড়ির উঠোনে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি চুরির কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাসলিমা বেগমের বড় বোন আমেনা বেগম জানান, চেইন চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে কাউসার আলমের ছোট দুই ভাই ইয়াসিন ও মোফাচ্ছের এবং তাদের মা শামছুন্নাহার এমন পৈচাশিক নির্যাতন চালান তাসলিমার ওপর। এদিকে ঘটনার ব্যাপারে কাউসার আলম জানান, তার মায়ের উপর হামলার ঘটনায় তার ছোট দুই ভাই তাসলিমাকে মারধর করেছে। কাউসার আলমের স্ত্রী মুক্তা বেগম জানায়, তার গলার স্বর্ণের চেইনটি হারিয়ে যায়, পরে চেইনটি খুঁজে পেয়েছেন। রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ। এ জন্য ফরিদগঞ্জ থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) মো: বাহার মিয়া জানান, এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় রোববার একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত মোফাচ্ছের ও ইয়ছিন নামে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। বাকীদের আটকের বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়