চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যায় তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড
  •   কল্যাণপুর ইউপির জেলে চাল আত্মসাৎ, দুই গুদাম সিলগালা
  •   মা আর স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হলো দুই ভাইয়ের লাশ
  •   বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিম ধ্বসে ৩ ছাত্রী গুরুতর আহত
  •   আশিকাটিতে খাটের নিচে গৃহবধূর লাশ ॥ স্বামী পলাতক

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে
অনলাইন ডেস্ক

গতকাল বেলা ১২টায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের পক্ষে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন’ শীর্ষক ব্যানারে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ মোঃ ইউসুফ গাজী একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। যেটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো :

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ত্যাগ, ও সংগ্রামের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে একজন সৎ ও সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশে বিদেশে পরিচিত ডাঃ দীপু মনিকে কী উদ্দেশ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে তার মত একজন রাজনীতিবিদের সুনাম ও সম্মান নষ্ট করার জন্য অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে তা উদ্ঘাটিত হওয়া প্রয়োজন।

বিগত ১৩ বছরে ডাঃ দীপু মনি এমপির নির্বাচনী এলাকায় বহু সরকারি স্থাপনা নির্মিত হয়েছে এবং এ সকল স্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। চাঁদপুরে কোনো অধিগ্রহণকৃত জমিতে কোথাও কখনো ডাঃ দীপু মনি বা তার পরিবারের কোনো জমি কখনো ছিলো না। তার উদ্যোগে চাঁদপুর-হাইমচরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সেখানে জমির মূল্য শতাংশ প্রতি ৫ হাজার টাকা থেকে কয়েক লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়। সরকারের নিকট হতে ক্ষতিপূরণ লাভের আশায় বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সেখানেও ডাঃ দীপু মনি বা তার পরিবারের সদস্য কখনো কোনো জমি ক্রয় করেননি।

গত ১৩ বছরে কোনো নিয়োগে, কোনো টিআর, কাবিখা বিতরণে, কোনো প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বা অন্য কোনো কার্যক্রমে ডাঃ দীপু মনি বা তার পরিবারের কোন ধরনের আর্থিক অস্বচ্ছতা বা অনিয়ম কোন দিন ছিল না; এ বিষয়ে জেলার সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তাসহ জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ সবাই অবগত আছেন। কী উদ্দেশ্যে হঠাৎ করেই আজ ডাঃ দীপু মনিকে অসৎ প্রতিপন্ন করবার, হেয় করবার অপচেষ্টা করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

যে বা যারা কোন্ কোন্ গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডাঃ দীপু মনি বা তাঁর পরিবারকে জড়িয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করছে তাদের আসল উদ্দেশ্যে উদ্ঘাটিত হওয়া অতীব জরুরি।

এটি শুধু ডাঃ দীপু মনির সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন ও রাজনীতিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার কিংবা শেখ হাসিনা সরকাকে অপদস্থ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা বলেও অনেকেই আশংকা করছেন।

এক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো লক্ষ্যণীয় :

১। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জমির মূল্য নির্ধারণ জমির মালিকদের পক্ষে করার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসনই উভয় প্রাক্কলন তৈরি করেছে।

২। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ এর ৯ (১) ধারা অনুযায়ী প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়।

৩। উক্ত আইন অনুযায়ী ৪ ধারার নোটিস জারির পূর্ববর্তী ১২ মাসে সম্পাদিত সকল দলিল বিবেচনায় নিয়ে গড় মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

৪। আইনের বিধান অনুযায়ী প্রথম প্রাক্কলন দাঁড়ায় ৫৫৩ কোটি টাকা।

৫। জেলা প্রশাসন কর্তৃক দুটি প্রাক্কলনই প্রস্তুত করা হয়। জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রথম প্রাক্কলনকৃত মূল্য ৫৫৩ কোটি টাকা, যাতে জমির মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার কারণে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। একইসাথে বলা হচ্ছে পূর্ববর্তী প্রাক্কলনে বাজার মূল্যের ২০ গুণ বেশি দাম ধরা হয়েছিল। ১৯৩ কোটি টাকার ২০ গুণ গণিতের কোন নিয়মে ৫৫৩ কোটি টাকা হয় তাও বোধগম্য নয়; এবং ঠিক কী কারণে একই কর্তৃপক্ষ একই জমির জন্য কিছুদিনের ব্যবধানে কেন দুটি প্রাক্কলন প্রণয়ন করলো এবং যার মধ্যে মূল্যে এত পার্থক্য হলো তাও জানা প্রয়োজন।

৬। ডাঃ দীপু মনির চাঁদপুর জেলার কোথাও ক্রয়সূত্রে কোনো জমির মালিকানা নেই। অর্থাৎ তিনি কখনোই চাঁদপুরে কোনো জমি ক্রয় করেননি। ডাঃ দীপু মনি এমপি-এর পরিবারের কোনো সদস্যের কোনো জমি উক্ত অধিগ্রহণ এলাকায় নেই। কাজেই জমির মূল্য থেকে তাদের লাভবান হবার বা অনৈতিক কোনো সুবিধা গ্রহণেরও কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না।

৭। ডাঃ দীপু মনি এমপি-এর বড় ভাই বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ শল্য চিকিৎসক ডাঃ জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে নদীর পাড়ে হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর বহু পূর্ব হতেই অল্প অল্প করে জমি ক্রয় করছিলেন। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে চিন্তা করা ২টি স্থানের মধ্যে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের স্থানটি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে ডাঃ জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ রেজিস্টার্ড দলিলমূলে ক্রয়কৃত সকল জমি হস্তান্তর করে দেন। কারণ তার ছোটবোন শিক্ষামন্ত্রী এবং তাঁর ক্রয়কৃত জমি অধিগ্রহণ করা হলে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন যা ঈড়হভষরপঃ ড়ভ রহঃবৎবংঃ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

৮। বাংলাদেশে যে কোনো জায়গায় কোনো উল্লেখ্যযোগ্য স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণের পূর্বেই বহু মানুষ উক্ত স্থানে বা তার আশেপাশে জমি কিনে থাকেন বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করেন। তা কখনো আর্থিকভাবে লাভবান হবার জন্য, কখনো বড় বা ভালো কোন স্থাপনার কাছে থাকবার জন্য। চাঁদপুরের কেউ একইভাবে লক্ষ্মীপুরে জমি কিনে থাকতে পারেন। বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য অধিগ্রহণের নিমিত্ত নির্ধারিত জায়গায় কে বা কারা জমি ক্রয় করেছেন বা করছেন তা ডাঃ দীপু মনির জানবার কথা না। তিনি জানেনও না।

৯। শুধুমাত্র তাঁর বড় ভাইয়ের হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের জন্য ক্রয়কৃত এবং অধিগ্রহণের পূর্বেই হস্তান্তরকৃত (দলিল নং- ৮০৪০, ৬/১২/২০২১) জমির বিষয়ে তিনি অবহিত ছিলেন।

১০। এছাড়াও অভিযোগ করা হচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নিমিত্তে অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত স্থানটি অনুপযুক্ত এবং ভাঙ্গনের ঝুঁকি রয়েছে। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা নির্ধারণের জন্য যে, বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেয়া হয় তা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বেশি দূরে না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাথে আশেপাশের জেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন ভালো থাকে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় যেন কোনো হাইওয়ে সড়কের পাশে না হয়, তার অন্যতম কারণ প্রায়শ দেখা যায়, কোনো ছাত্র অসন্তোষ দেখা দিলে ছাত্ররা হাইওয়ে অবরোধ করে দেয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটায়। এ সকল দিক বিবেচনা করে লক্ষ্মীপুরের জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়। কারণ লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে এবং লক্ষ¥ীপুর ইউনিয়নের সাথে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। নির্ধারিত স্থানটি স্থায়ী বাঁধ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধের ভিতরে অবস্থিত। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পর গত দশ বছরের অধিককালে সেখানে কোনো ধরনের ভাঙ্গনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদনেও এখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যায় মর্মে মত দেয়া হয়েছে।

১১। ডাঃ দীপু মনি ও তাঁর বড় ভাইয়ের কেউ কখনো কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির সাথে কোনোদিন জড়িত ছিলেন না বা নেই। তার নির্বাচনী এলাকায় গত ১৩ বছরে এমপি হিসেবে তার সততা ও স্বচ্ছতা সর্বজন বিদিত।

১২। অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমির মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে বৃদ্ধি করার জন্য বেশি মূল্যে জমি হস্তান্তরের ঘটনা যদি ঘটে থাকে তবে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে ডাঃ দীপু মনি মনে করেন।

১৩। জমির যথাযথ মূল্য না পাওয়ার আশংকায় জমির মালিকদের মধ্য থেকে ৩ জন হাইকোর্টে ২টি রীট মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে।

১৪। উল্লেখ্য যে, আলোচ্য বিষয়টি পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতির অভিযোগের মতো একটি অভিযোগ, যেখানে অর্থ বরাদ্দ বা লেনদেন হয়নি, ক্রয়-বিক্রয় হয়নি সেখানে দুর্নীতি হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

আরো উল্লেখ্য যে, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত কানাডাভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণবশত বক্তব্য। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। বিদেশ থেকে যারা দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো কানাডা ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে তার এই বক্তব্য দেশ ও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের সামিল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সরকারের মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক নগ্ন অপপ্রচারকে উসকে দিয়ে তিনি প্রকৃতপক্ষে সরকার ও দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে আমরা মনে করি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল লক্ষ্মীপুর মৌজায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই করে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন। সকল ধরনের প্রতিবেদনের আলোকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর মৌজায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণ অনুমোদন করেছেন, অথচ তিনি ঐ স্থানে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা।

অনলাইন নিউজ পোর্টালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল চিঠিপত্র সম্পর্কে জেলা প্রশাসক সাহেব উনাকে বলেছেন এবং দেখিয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন হলো, প্রশাসনের গোপনীয় চিঠিপত্র কিভাবে জেলা প্রশাসক সাহেব উনাকে বললেন এবং দেখালেন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চাঁদপুর-হাইমচর নদী ভাঙ্গন কবলিত এই জনপদের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী ডাঃ দীপু মনিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন। ডাঃ দীপু মনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এই জনপদের মানুষের শুধু আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলনই ঘটান নি, অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত করেছেন। এই জনপদের দীর্ঘদিনের দুঃখ নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে চাঁদপুরবাসীকে রক্ষা করেছেন।

চাঁদপুর-হাইমচরে মেঘনা নদীর ভাঙ্গন বন্ধে প্রায় ২১ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ৩৫৮ মেগাওয়াট সম্পন্ন ৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, লাকসাম-চাঁদপুর রেললাইন সংস্কার, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ৩৫০টির অধিক প্রাথমিক ভবন নির্মাণ, ১০০টির অধিক উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও সুউচ্চ কলেজ ভবন নির্মাণ, ৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, ফিশারীজ ইন্সটিটিউট নির্মাণ, মেরিন একাডেমী নির্মাণ, কোস্টগার্ড স্টেশন নির্মাণ, পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ, আধুনিক ২টি পানি শোধনাগার নির্মাণ, নার্সিং ইন্সটিটিউট নির্মাণ, ৪০টির অধিক আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ৪০০০টি ঘর নির্মাণ, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ৪টি আইসিউ বেড স্থাপন, কোভিড-১৯ মহমারিতে নিজস্ব অর্থায়নে ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ আর.টি.পি.সি.আর. ল্যাব স্থাপন, করোনা রোগীদের জরুরি সেবায় হাইফ্লো অক্সিজেন সুবিধা এবং তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন, রাস্তা পাকাকরণ, সেতু/কালভার্ট নির্মাণসহ আরো ব্যাপক উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে।

কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয়, কিছু কুচক্রী মহল দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের নীল নকশার অংশ হিসাবে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেই যাচ্ছেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই ধরনের মিথ্যাচার আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা মনে করি।

বিগত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা নির্বাচন করেছিল তারাই নতুন করে আগামী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

জয় বাংলা

জয় বঙ্গবন্ধু

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়