রোববার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩  |   ২৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন, দামে অসন্তুষ্ট কৃষক : সবজি ক্ষেতে সবুজ হাসি থাকলেও কৃষকের মুখ ম্লান
  •   অশুভ শক্তি শক্তিশালী হলেও জয়ি হতে পারবে না : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৬

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ও বাংলাদেশ

এম আব্দুল আজিজ শিশির
বিশ্ব শিক্ষক দিবস ও বাংলাদেশ

আজ ৫ অক্টোবর। আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস।শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য সেই ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ইউসেস্কোর মতে শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পালন করা হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের প্রায় ১০০টির ও বেশি দেশে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল ও তার সদস্য সংগঠনগুলো প্রতিবছর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে এবং প্রতিবছর জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষকতা পেশার অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে থাকে।

২০১৮ সালে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতে চাই শিক্ষকের অধিকার’। ২০১৯ সালে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিক্ষকতায় তারুন্য ভবিষ্যত পেশার করণীয়’। বিশ্বব্যাপী শিক্ষকের উদ্যাম ও সংগঠিত উদ্যোগে কিভাবে অগ্রণী বা নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে এবং ভবিষ্যত ইতিবাচক সম্ভাবনার রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন তাকে উপজীব্য করে ২০২০ সালে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সংকটে নেতৃত্বদাতা, ভবিষ্যতের রূপদর্শী শিক্ষ ‘। আর এ বছর করোনার মত মহামারীর সময়ে সংকটময় অবস্থা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষকদের দৃঢ় ও পরিশ্রমী চেষ্টার অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিপাদ্য নির্ধারন করেছে ‘Teachers' at the heart of education recovery’ অর্থাৎ শিক্ষা পুনরুদ্ধারের কেন্দ্র বিন্দুতে শিক্ষক।

শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কিত সাফল্যকে সমুন্নত রাখতে ও তা আরো সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সাল এর ৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে থাকে।যে মর্যাদা আর অধিকার এর অধিকার এর কথা বলে এ দিনটি পালন করা হয়। আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা অত্যন্ত নাজুক । আমরা বাল্যকালে শিক্ষকদের মর্যাদা নিয়ে কবি কাজী কাদের নেওয়াজ এর সেই বিখ্যাত শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতা পড়েছিলাম এখন তা অমাবস্যার চাঁদ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় শিক্ষকদের উপর নানা রকম শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনেরর খবর। এমনকি বাংলা সিনেমাতেও শিক্ষকদেরকে গরিব ও অল্প বেতনের মাস্টর বলে হেয় করে উপস্খাপন করা হয়। বঞ্চনা আর অপ্রাপ্তির আরেক নাম যেন শিক্ষক। আর তাই এখন আর কেউ 'আমার জীবনের লক্ষ্য ' রচনা লিখতে গিয়ে লিখেনা যে সে শিক্ষক হতে চায়।আর কেউ শিক্ষক হয়ে গেলেও মনে করে জীবনের কোন অভিশাপ।

একজন শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, বাবা মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্কের মতো। আর শিক্ষকরা সমাজও রাষ্ট্রের আলোক বর্তিকার মতো কাজ করেন। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রকে কলুষিত করে এমন কোন কাজ শিক্ষকরা করবেন না বা করতে অনুপ্রাণিত করবেন না। বর্তমানে দেশে সবার আগে প্রয়োজন মান সম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছেন। নতুন ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করেছেন। আর তাই মানসম্মত, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্খা নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন পর্যাপ্ত যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক,প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা, ভৌত অবকাঠামো, যথাযথ শিক্ষণ পদ্ধতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা,শিক্ষকদের যথাযথ ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও তত্বাবধান ,গবেষণা ও সন্মানজনক বেতন।শিক্ষকদের সামাজিক স্বীকৃতি, চমৎকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শিক্ষাকে জাতীয়করণ ও রাষ্ট্রীয় সম্মান দান করে জাতি গড়ার এ মহান কারিগরদেরকে দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মান সম্ভব।

লেখক পরিচিতি : এম আব্দুল আজিজ শিশির, সিনিয়র শিক্ষক ( ইংরেজি), চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,চাঁদপুর।

ও সহ-সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি( বাসমাশিস) কেন্দ্রীয় কমিটি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়