চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০১৬। ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩। ৮ রমজান ১৪৩৭
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৪-সূরা নূর

৬৪ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মাদানি’

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৬। এবং যাহারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাহাদের কোনো সাক্ষী নাই, তাহাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হইবে যে, সে আল্লাহর নামে চারিবার শপথ করিয়া বলিবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


নামে মানুষকে বড় করে না, মানুষই নামকে জাকাইয়া তোলে।  

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


যে কোনো ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্যে দোয়া করলে তা অতি সত্বর কবুল হয়।

-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
কচুয়ায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির
সাচারের রথ যাত্রা হিন্দু সমপ্রদায়ের ঐতিহাসিক তীর্থস্থান
মোহাম্মদ মহিউদ্দিন
১৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কচুয়া উপজেলার সাচার বাজারে অবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির অর্থাৎ হিন্দু সমপ্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাচার রথ এশিয়ার বিখ্যাত কারুকার্য খচিত দৃষ্টিনন্দন রথটি সাচারকে দিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে বিশেষ পরিচিতি। ঐতিহ্যবাহী সাচারের এ রথটি তৎকালীন জমিদার স্বর্গীয় গঙ্গা গোবিন্দ সেন ১২৭৫ বাংলা সনে তৈরি করেন।



শ্রী শ্রী দারু বক্ষো গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ভারতের পুরাধামে জগন্নাথ দর্শন না দেয়ায় গঙ্গা গোবিন্দ সেন আমরণ অনশন আরম্ভ করেন। তথায় শ্রী ভগবানের স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হয়ে দেশে ফিরে এসে নিজ গ্রাম সাচারে এই মূর্তি নির্মাণ পূর্বক জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা এ রথগুলো প্রতিষ্ঠা করেন।



জানা যায়, গঙ্গা গোবিন্দ সেন প্রতি বছর ভারতের শ্রী জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রায় অংশগ্রহণ করতেন। জগন্নাথের দর্শন পাবার জন্যে তিনি ব্যাকুল ছিলেন। পায়ে হেঁটে কয়েক সপ্তাহ পূর্বে বাড়ি থেকে রওয়ানা দিতো সেন। যেখানে গিয়ে রাত হত সেখানেই গোবিন্দ সেন নিদ্রা যেতেন। সাথে করে গোবিন্দ সেন খাওয়ার জিনিসপত্র নিয়ে যেতেন। এভাবে প্রতি বছর এ শরণার্থী পায়ে হেঁটে হেঁটে জগন্নাথ দেবের দর্শন পাবার জন্যে যেত। গোবিন্দ সেন তার জন্যে এমনি পাগল ছিলেন যে, গোবিন্দ সেন একদিন এক গায়েবি শব্দ শুনতে পারলেন_বাবা তুমি চলে যাও, কষ্ট করে বহুদূর পাড়ি দিতে হবে না। তোমার বাড়িতেই এ জগন্নাথ একদিন যাবে। পরের রাতে গোবিন্দ সেন আবার স্বপ্নাদেশে দেখতে পেলেন জগন্নাথ তাকে বলে কিরে বাড়িতে যাসনি? সেন বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছে না। স্বপ্নাদেশে জনৈক বলেন, তোর বাড়ির উত্তর পাশের বড় খালে দেখবি একটা নিম গাছ ভেসে আসবে সে নিম গাছটি তুলে নিবি। তারপর বাড়ির পশ্চিম ভিটিতে একটি মন্দির স্থাপন করবি। সে স্বপ্নাদেশ মোতাবেক বাড়িতে ফিরে এসে সেন মন্দির স্থাপন করেন। আবার প্রতিবেশীদের জানিয়ে দেন জনৈক সেনের মুখে।



প্রতিবেশীরা শুনে সবাই সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করেন। ক'দিন পর নিমগাছ ভেসে আসে। এদিকে মন্দির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। পুনরায় জনৈক সেনকে এক কাঠমিস্ত্রি এসে দেখা করে বলে আমি জগন্নাথ দেবের ঘর ও মূর্তি নির্মাণ করে দেবো। ওই কাঠমিস্ত্রি তার সহযোগীদের নিয়ে পরে মন্দিরের কাজ শুরু করে। সকল জানালা-দরজা বন্ধ করে দিয়ে তারা কাজ আরম্ভ করে। প্রাথমিক দিকে কাজ করার সময় হাতুরির আওয়াজ শোনা যেতো। পঞ্চম দিন কোনো আওয়াজ হচ্ছে না। তাই প্রতিবেশীরা মনে করছে কাজ শেষ হয়ে গেছে। মূলতঃ কাজ শেষ হয়নি। শুধু বাকি ফিনিশিং করা। ভুলবশতঃ মন্দিরের দরজা খুলে ফেলে প্রতিবেশীরা। এতে করে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা এ তিন মূর্তির হাতের আঙ্গুল ও কোমড়ের নিচের অংশ তৈরি করা সম্ভব হয়নি এবং ভিতরে থাকা মিস্ত্রিদের কেহ দেখতে পাইনি। যা এখনো কালের সাক্ষীরূপে রয়েছে।



১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক-বাহিনী ঐতিহাসিক রথটি পুড়িয়ে ধ্বংস করে ফেলা রথটি পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করা হলেও পূর্বের সেই কারু কার্য আর দৃষ্টি হচ্ছে না। সাচারের মাটি খুঁড়তে গিয়ে এখনও তৎকালীন হিন্দু সমপ্রদায়ের ব্যবহৃত নানান ধরনের মূর্তি পাওয়া যায়। প্রতি বছরের আষাঢ় মাসে প্রথম রথ এক সপ্তাহ পরে ফেরৎ রথ যাত্রা উপলক্ষে এখনও প্রায় তিন হাজার স্টল ও মাসব্যাপী মেলা বসে এবং মিলন হয় বহু ভক্তের।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৬৩০৮২
পুরোন সংখ্যা