চাঁদপুর, শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯, ১১ রজব ১৪৪৪  |   ১৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় রিয়া হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
  •   কোস্টগার্ডের অভিযানে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনে ১৩শ’ কেজি জাটকা জব্দ
  •   ডাঃ সাজেদা পলিন নড়াইলের সিভিল সার্জন
  •   মতলবের আনন্দবাজারে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান পুড়ে ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি
  •   ভাষার মাসের প্রথমদিনে বাংলায় রায় দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০

প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদি আঃ
অনলাইন ডেস্ক

ইমাম মাহদির আত্মপ্রকাশ কেয়ামতের সর্বপ্রথম বড় আলামত। তিনি আগমন করে এ উম্মতের নেতৃত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। ইসলাম ধর্মকে সংস্কার করবেন এবং ইসলামি শরিয়তের মাধ্যমে বিচার-ফয়সালা করবেন। তিনি পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূর করে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। মুসলিম উম্মাহ তাঁর আমলে বিরাট কল্যাণের ভিতর থাকবে। আজ আমরা আলোচনা করব সেই প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদি আঃ সম্পর্কে। আমরা জানব ইমাম মাহদির পরিচয়, তাঁকে চেনার নিদর্শন, তিনি কখন আবির্ভূত হবেন, তিনি কী কী কাজ সম্পাদন করবেন- এসবসহ আরও নানা বিষয়ে। শুরুতেই জানা যাক ইমাম মাহদি আঃ-এর পরিচয়।

মাহদি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ- ন্যায়নিষ্ঠ, প্রতিশ্রুত, সুপথপ্রাপ্ত। ইসলামি পরলোকত্ত্ব অনুসারে হজরত মাহদি আঃ ত্রাণকর্তা, মুক্তিদাতা, মহীসিয় ব্যক্তিত্ব। যিনি শেষ যুগে আবির্ভূত হবেন এবং পৃথিবী থেকে অন্যায় ও অশুভ শক্তি দূরীভূত করবেন এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন।

ইমাম মাহদির আগমন সম্পর্কে বিখ্যাত দার্শনিক ইবনে কাসীর র. বলেন, পৃথিবীতে যখন ইমাম মাহদি আগমন করবেন তখন ফল-ফলাদিতে প্রচুর বরকত হবে, মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, ইসলাম বিজয়ী হবে, ইসলামের শত্রুরা পরাজিত হবে এবং সকল প্রকার কল্যাণ বিরাজ করবে। (আল ফিতানুল মালাহিম, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১)

ইমাম মাহদির পরিচয় : মাহদি অর্থ সুপথপ্রাপ্ত। এটি কোনো নাম নয়; বরং উপাধি। কেননা আল্লাহ তায়ালা তাঁকে পথপ্রদর্শন করবেন। তাঁর আরেকটি উপাধি হবে ‘জাবের।’ জাবের অর্থ ব্যান্ডেজকারী। কারণ তিনি উম্মতে মুহাম্মদির আহত অন্তরে মলম লাগানো তথা প্রশান্তির পরশ বুলানোর কাজ করবেন। কিংবা তিনি জালেমদের ওপর বিজয়ী হয়ে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তিকে খতম করবেন। (আল ইশায়া, পৃষ্ঠা ১৯৩)

ইমাম মাহদির মূল নাম হবে আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামের মতোই। অর্থাৎ ‘মুহাম্মদ।’ তাঁর পিতার নাম হবে আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতার নামের মতোই ‘আবদুল্লাহ।’ তিনি হবেন হাসান বিন আলী রা.-এর বংশ থেকে। এ প্রসঙ্গে ইবনে কাসীর র. বলেন- “তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল ফাতেমী আল হাসানী।” (বিদায়া ওয়ান নিহায়া, অধ্যায় : আল ফিতান ওয়াল মালাহিম)

মাহদি আঃ-এর সময়কার পরিস্থিতি : কেয়ামতের আগে মাহদি আলাইহিস সালাম আগমন করবেন। কেয়ামতের একটি বড় নিদর্শন এটি। কিন্তু অনেকে ইমাম মাহদি আলাইহিস সালামের আগমনের ব্যাপারে কিছু নিদর্শনের কথা কথা বলে বেড়ান। কেউ কেউ বলেন, তার আগমনের আগে আরব দেশে তুষারপাত হবে। কেউ কেউ বলেন, নদ-নদী এবং গাছপালায় পূর্ণ হয়ে যাবে আরব উপদ্বীপ। মূলত এর কোনোটিই ইমাম মাহদি আলাইহিস সালামের আগমনের আলামত নয়; বরং হাদিসের একাধিক বর্ণনায় কেয়ামতের আলামত হিসেবে এসেছে যে, ‘আরব উপদ্বীপ নদ-নদী এবং গাছপালায় পূর্ণ হয়ে যাবে। তবে সেখানে তুষারপাতের বিষয়টি আলোচিত হয়নি। হাদিসের বর্ণনায় থেকে প্রমাণিত যে, ইমাম মাহদির আগমনের সময়কার পরিস্থিতি হবে খুবই ভয়ংকর। সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু হোরায়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ওই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই মানুষের ওপর এমন একটি সময় আসবে যখন হত্যাকারী বুঝতে পারবে না কী কারণে সে হত্যা করেছে এবং নিহত ব্যক্তিও বুঝতে পারবে না কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৯০৮)

তখন ধন-সম্পদ নিয়ে মানুষের মাঝে মারামারি-কাটাকাটি দেখা দিবে। সে সময় জমিন তার ভেতরের খনিজ সম্পদ ভূপৃষ্ঠে নিক্ষেপ করে দিবে। আবু হোরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জমিন তার ভূগর্ভস্থ স্বর্ণের টুকরো (খনিজ সম্পদ) স্তম্ভের মতো নিক্ষেপ করে দিবে।’ (তিরমিজি, হাদিস নং ২২০৮)

এ প্রসঙ্গে হাদিসের অমর ভাষ্যকার মোল্লা আলী কারী র. বলেন, এটি মাহদি, ঈসা আঃ কিংবা উভয়ের সময়কালে হবে। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাখ্যাটিই স্পষ্ট। কেননা এ বিষয়টি দাজ্জালের বের হওয়ার সময় ঘটবে। আর দাজ্জালের আবির্ভাব এ উভয়ের সময়কালেই হবে। (মিরকাতুল মাফাতিহ : ১০/১৬৯)

জন্ম ও জন্মভূমি : ইমাম মাহদির জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অবশ্য কানজুল উম্মাল কিতাবের (হা/৩৯৬৭১) একটি রেওয়ায়েত দ্বারা বোঝায় যে, তাঁর জন্মস্থান হবে মদিনা। তবে হজরত ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন “হে কুফাবাসী! তোমরা ইমাম মাহদির আগমনে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান।” এতে বোঝা যায় যে, কুফা শহর তাঁর জন্মস্থল হতে পারে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ, হাদিস নং ৩৩১২১, ৩৮৭৯৮)

কিন্তু সহিহ হাদিসের আলোকে জানা যায়, ইমাম মাহদি পূর্বদিকের কোনো এক অঞ্চল থেকে প্রকাশিত হবেন। তবে পূর্ব দিক বলতে মদিনা মুনাওয়ারা হতে পূর্বের দিক বোঝানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমাদের গুপ্তধনের নিকট তিনজন লোক ঝগড়া করবে। প্রত্যেকেই হবে খলিফার পুত্র। কেউ তা দখল করতে পারবে না। অতঃপর পূর্বের দিক থেকে কালো পতাকাধারী একদল সৈনিক আসবে। তারা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালাবে। তোমরা যখন তাদেরকে দেখতে পাবে তখন তাদের নেতার হাতে বায়আত করবে। যদিও বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে উপস্থিত হতে হয়। কেননা তিনি হলেন আল্লাহর খলিফা মাহদি।” (সুনানু ইবনে মাজাহ, অধ্যায় : কিতাবুল ফিতান)

মোটকথা, ইমাম মাহদি বায়তুল্লাহ শরিফেই আত্মপ্রকাশ করবেন। দাজ্জাল আর হজরত ঈসা এবং প্রতিশ্রুত মাহদি সবার সময়কাল একই হবে। ইমাম মাহদির জীবদ্দশায়ই বিশ্বে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে। তিনি প্রায় নয় বছর খেলাফত পরিচালনা করবেন।

ইমাম মাহদির গঠন প্রকৃতি : হজরত মাহদি আঃ-এর গঠনপ্রকৃতি কেমন হবে, তাকে চেনার আলামত কী, এ সম্পর্কে হাদিসে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। হাদিসের আলোকে জানা যায়-

ইমাম মাহদির গঠন-প্রকৃতি হবে মধ্যম প্রকৃতির। গঠন হবে খুবই সুন্দর। ললাট দীপ্তিময়। ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট। তাঁর কপাল হবে প্রশস্ত। নাক হবে সরু ও লম্বা খাঁড়া। চেহারা হবে উজ্জ্বল তারকার ন্যায়। তাঁর ডান গালে একটা তিল থাকবে। (কানযুল উম্মাল, ৩৮৬৬৬; আবু দাউদ ৪২৮৫)

এ প্রসঙ্গে একটি ব্যতিক্রমী কথা পাওয়া যায় হজরত মুহাম্মাদ (স)-এর পঞ্চম সরাসরি বংশধর মুহাম্মাদ আল বাকির র.-এর কাছ থেকে। তিনি বলেন, ইমাম মাহদি (ইসরাইলের) আন্তিয়খ (Antioch) শহরের এক গুহা থেকে তাওরাতের আসল লিপি উদ্ধার করবেন। আর সাথে সাথে অন্যান্য আসমানি কিতাব উদ্ধার করবেন। তিনি ইহুদিদের বিচার করবেন তাওরাত মতে, খ্রিষ্টানদের করবেন ইনজিল মতে, আর মুসলিমদের করবেন কোরআন মতে। হজরত জাফর সাদিক র. বলেন, মাহদির সেনাবাহিনীতে থাকবে ১৩ জন নারী। তারা অসুস্থদের আর আহতদের সেবা করবে। (সাদিনাতুল বিহার, ২/৪৪৬)

ইমাম মাহদির মর্যাদা : ইমাম মাহদি হবেন এ উম্মতের একজন শ্রেষ্ঠ খোদাভীরু ব্যক্তি। হজরত আবু উমামা বাহেলি রা. হতে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নেককার লোক বলে অভিহিত করেছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪০৭৭)

তিনি একজন একনিষ্ঠ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তিনি মুসলমানদের খলিফা হবেন। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত ভবিষ্যদ্বাণীর আলোকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা-বিশ্বাস হলো, শেষ জমানায় প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদির আবির্ভাব সত্য। সাহাবি-তাবেয়ী থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত সব স্তরের সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকিহ ও হাদিসবিশারদগণ ইমাম মাহদির আগমনকে সত্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

ইমাম মাহদির আগমনের বড় চার আলামত : ইমাম মাহদি আঃ-এর আগমনের প্রায় সর্বশেষ বড় চারটি আলামত যেদিন প্রকাশ পাবে সেদিন কারও বুঝতে বাকি থাকবে না যে, ইমাম মাহদি আঃ-এর আগমনের সময় হয়ে গেছে। সে আলামত চারটি হলো-

১. রমজানে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বছর রমজান মাসের প্রথম দিকে সূর্যগ্রহণ এবং রমজান মাসের শেষের দিকে চন্দ্রগ্রহণের ঘটনা ঘটবে, সেই বছরই ইমাম মাহদির আবির্ভাব হবে। (আল বুরহান ফি আলামাতিল মাহদি, পৃষ্ঠা ৩৮)

২. গুপ্তধন নিয়ে ঝগড়া : এ প্রসঙ্গে নবি করিম (সাঃ) বলেন, তোমাদের গুপ্তধনের নিকট তিনজন লোক ঝগড়া করবে। প্রত্যেকেই হবে খলিফার পুত্র। কেউ তা দখল করতে পারবে না। অতঃপর পূর্বের দিক থেকে কালো পতাকাধারী একদল সৈনিক আসবে। তারা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালাবে। তোমরা যখন তাদেরকে দেখতে পাবে তখন তাদের নেতার হাতে বায়আত করবে। যদিও বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে উপস্থিত হতে হয়। কেননা তিনি হলেন আল্লাহর খলিফা মাহদি। (ইবনে মাজাহ, অধ্যায় কিতাবুল ফিতান)

৩. রমজান মাসে বিকট আওয়াজ : ফিরোজ দায়লামি বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন, কোনো এক রমজানে প্রচণ্ড জোরে আওয়াজ আসবে। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের শুরুতে, নাকি মাঝামাঝি সময়ে, নাকি শেষ দিকে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না! বরং রমজানের মাঝামাঝি সময়ে। ঠিক মধ্য রমজানের রাতে। শুক্রবার রাতে আকাশ থেকে একটি শব্দ আসবে। সেই শব্দের প্রচণ্ডতায় সত্তর হাজার মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে আর সত্তর হাজার বধির হয়ে যাবে। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১০)

৪. জুলফি বিশিষ্ট তারকা : ইমাম মাহদির আগমনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো জুলফিবিশিষ্ট তারকা তথা অগ্নিশিখা উদিত হওয়া। হজরত কাব র. বলেন, হজরত মাহদি আঃ-এর আগমনের পূর্বে পূর্বাকাশে জুলফি বিশিষ্ট একটি তারকা উদিত হবে। (আল ফিতান, নুয়াইম বিন হাম্মাদ পৃষ্ঠা ৬৪২)

আবু জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী র. বলেন, যখন পূর্বাকাশে ৩ দিন থেকে ৭ দিন পর্যন্ত আগুনের শিখা দেখতে পাবে, তখন আহলে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর (ইমাম মাহদির) জন্য অপেক্ষা কর। একপর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা হজরত জিবরাঈলের মাধ্যমে মাহদি আঃ-এর নাম ঘোষণা করবেন। যা পৃথিবীর সকল মানুষ শুনতে পাবে।

ইমাম মাহদির আগমনের সত্যতার দলিল : বহু সহিহ হাদিসে ইমাম মাহদির আগমনের কথা রয়েছে। কোনো কোনো হাদিসে প্রকাশ্যভাবে তাঁর নাম উল্লেখ আছে। আবার কোনো কোনো হাদিসে তাঁর গুণাগুণ উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর আগমন সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো।

১. হজরত আবু সাঈদ খুদরী রা. নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, “আখেরি জমানায় আমার উম্মতের ভিতরে মাহদির আগমন ঘটবে। তাঁর শাসনকালে আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, জমিন প্রচুর ফসল উৎপন্ন করবে, তিনি মানুষের মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ করবেন, গৃহপালিত পশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং উম্মতে মুহাম্মদীর সম্মান বৃদ্ধি পাবে। তিনি সাত বছর কিংবা আট বছর জীবিত থাকবেন।”(সিলসিলায়ে সাহিহা, হাদিস নং ৭১১; ইমাম আলবানী র. হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)

২. হজরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমি তোমাদেরকে মাহদির আগমন সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছি। মানুষজন যখন মতবিরোধে লিপ্ত হবে তখন তিনি প্রেরিত হবেন। তিনি পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূর করে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। আসমান-জমিনের সকল অধিবাসী তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। তিনি মানুষের মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ করবেন।’(মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৭ম খণ্ড পৃষ্ঠা ৩১৩-৩১৪)

৩. নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন- “মাহদি আসবেন আমার বংশধর হতে। তাঁর কপাল হবে উজ্জ্বল এবং নাক হবে উঁচু। তিনি পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূর করে দিয়ে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। সাত বছর পর্যন্ত তিনি রাজত্ব করবেন।”(সুনানু আবি দাউদ, অধ্যায় : কিতাবুল মাহদি, সহিহুল জামে আস সাগীর, হাদিস নং ৬৬১২)

৪. হজরত জাবের রা. হতে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ঈসা আঃ যখন অবতরণ করবেন তখন মুসলমানদের আমির তাঁকে বলবেন, আসুন! আমাদের নামাজের ইমামতি করুন। ঈসা আঃ বলবেন, বরং তোমাদের আমির তোমাদের মধ্য হতেই। এ উম্মতের সম্মানের কারণেই তিনি এ মন্তব্য করবেন।”(আল মানারুল মুনীফ, পৃষ্ঠা নং ১৪৭-১৪৮)

ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম আল মানারুল মুনীফ গ্রন্থে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। যেই আমিরের ইমামতিতে মুসলমানগণ নামাজ পড়বেন, তিনি তাঁর নামও উল্লেখ করেছেন। আর তিনি হলেন মাহদি।

৫. হজরত আবু সাঈদ খুদরী রা. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, “ঈসা ইবনে মারইয়াম যেই ইমামের পিছনে নামাজ পড়বেন তিনি হবেন আমাদের মধ্য হতে।” (সহিহুল জামে আস সাগীর, হাদিস নং ৫৭৯৬)

৬. হজরত উম্মে সালামা রা. হতে বর্ণিত। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কাবাঘরের পাশে একজন লোক আশ্রয় নিবে। তাঁর বিরুদ্ধে একদল সৈনিক প্রেরণ করা হবে। সৈন্যরা যখন ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে তখন জমিন তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে। উম্মে সালামা বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, অপছন্দ সত্ত্বেও যারা তাদের সাথে যাবে তাদের অবস্থা কী হবে? উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে-সহ জমিন ধসে যাবে। তবে কেয়ামতের দিন সে আপন নিয়তের উপরে পুনরুত্থিত হবে।”

৭. হজরত হাফসা রা. হতে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অচিরেই এ ঘরের অর্থাৎ কাবাঘরের পাশে একদল লোক আশ্রয় গ্রহণ করবে। শত্রুর সাথে মোকাবিলা করার মতো তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য সৈনিক কিংবা অস্ত্রশস্ত্র বা প্রস্তুতি থাকবে না। তাদেরকে হত্যা করার জন্য একদল সৈনিক প্রেরণ করা হবে। সৈন্যরা যখন ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে তখন জমিন তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে।” (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান)

সহিহ আল বুখারিতে ইমাম মাহদির আগমন সম্পর্কে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “সেদিন তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যেদিন তোমাদের মধ্যে ঈসা ইবনে মারইয়াম নেমে আসবেন এবং তোমাদের মধ্যে হতেই একজন ইমাম হবেন! (বুখারি, অধ্যায় : আহাদিসুল আম্বিয়া)

ইমাম মাহদির আগমন প্রসঙ্গে কতিপয় বিজ্ঞ আলেমের উক্তি : ইমাম মাহদি আঃ-এর আগমন সম্পর্কে বিখ্যাত কতিপয় আলেম বিশেষ উক্তি করেছেন। নিচে কয়েকজনের মূল্যবান উক্তি তুলে ধরা হলো।

১. হাফেজ আবুল হাসান আল আবেরী : বিখ্যাত ঐতিহাসিক হাফেজ আবুল হাসান আল আবেরী র. বলেন, “মাহদি সম্পর্কিত হাদিসগুলো নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি আহলে বায়ত তথা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরের অন্তর্ভুক্ত হবেন। সাত বছর রাজত্ব করবেন। তাঁর রাজত্বকালে পৃথিবী ন্যায়-ইনসাফে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। তাঁর রাজত্বকালে ঈসা ইবনে মারইয়াম আঃ আগমন করে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। ঈসা আঃ তাঁর পিছনে নামাজ পড়বেন।” (তাহযীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল, ৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা ১১৯৪)

২. ইমাম শাওকানী : ইমাম শাওকানী র. বলেন, যতদূর জানা যায়, “মাহদির ব্যাপারে পঞ্চাশটি মুতাওয়াতির হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সহিহ, হাসান ও সামান্য ত্রুটি বিশিষ্ট হাদিস, যা অন্য সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে ত্রুটিমুক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং বিনা সন্দেহে হাদিসগুলো মুতাওয়াতির।” (আল মুতাওয়াতিরুল হাদিস, পৃষ্ঠা ১৪৫-১৪৬)

৩. শায়খ আবদুল আজিজ বিন বায : শায়খ আবদুল আজিজ বিন বায র. বলেন, মাহদির বিষয়টি অতি সুস্পষ্ট। এ ব্যাপারে হাদিসগুলো মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত। তাঁর আগমন সত্য। তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল হাসানী আল ফাতেমী। আখেরি জমানায় তিনি আগমন করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন। অন্যায়-অবিচার প্রতিহত করবেন। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ সত্য ও কল্যাণের ঝান্ডা বুলন্দ করবেন। যে ব্যক্তি আখেরি জমানায় ইমাম মাহদির আগমনকে অস্বীকার করবে তার কথায় কর্ণপাত করা যাবে না। (আশরাতুস সাআ, ড. আব্দুল্লাহ সুলায়মান আল গুফায়লী, পৃষ্ঠা ৮৭)

৪. শায়খ আবদুল মুহসিন আল আব্বাদ : শায়খ আবদুল মুহসিন আল আব্বাদ বলেন, ছাব্বিশজন সাহাবি থেকে ইমাম মাহদির আগমন সম্পর্কিত হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে। ৩৬টি হাদিসগ্রন্থে এ সমস্ত হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম মাহদির আগমন একটি অকাট্য বিষয় : ইমাম মাহদি আঃ-এর আগমন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ পোষণ করার সুযোগ নেই। তাঁর আগমন অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত। প্রায় অর্ধশতাধিক রাবীর বর্ণিত হাদিস এর সত্যতা প্রমাণ করে। ইসলামি শরিয়ত বিশেষজ্ঞগণের অভিমত হলো, কেউ যদি ইমাম মাহদির আগমনকে অস্বীকার করে, তার ঈমান থাকবে না। এজন্য শিয়া-সুন্নি নির্বিশেষে সকল মুসলিম উম্মাহ ঐকমত্য পোষণ করেন যে, ইমাম মাহদির আগমন অকাট্য সত্য।

ইমাম মাহদি কি নবি হবেন : বিখ্যাত গবেষক ও দার্শনিক ইউসুফ লুধিয়ানুবী র. বলেন, ইমাম মাহদি আঃ নবি হবেন না। এজন্য তাঁর স্তর পয়গম্বরদের সমান কখনই হবে না। আর ঈসা আঃ যিনি ইমাম মাহদির সময়কালে অবতরণ করবেন তিনি তো আগ থেকেই নবি। (আপ কে মাসায়েল আওর উনকা হল, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭৬)

ইমাম মাহদির ইমামতির কারণে ঈসা আঃ-এর নবুয়তের মর্যাদায় কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। যেমনটি মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর সিদ্দিক ও আবদুর রহমান ইবনে আউফের ইকতেদা করে নামাজ আদায় করেছেন। এতে মহানবির নবুয়তে কোনো ত্রুটি হয়নি। মোটকথা, ইমাম মাহদি নিজে নবি হবেন না; বরং শেষনবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত হিসেবেই আগমন করবেন।

ইমাম মাহদির কর্মতৎপরতা : ইমাম মাহদির আগমনে বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব। কারণ তাঁর আগমনের ব্যাপারে অনেক সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আত্মপ্রকাশের পর তিনি সর্বপ্রথম কী তৎপরতা প্রদর্শন করবেন, সে সম্পর্কে হাদিসে স্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। ঈসা ইবনে মারইয়াম আঃ যখন আকাশ থেকে অবতরণ করবেন তখন ইমাম মাহদির নেতৃত্বে মুসলমানগণ সসম্মান ও সুখণ্ডশান্তিতে বসবাস করতে থাকবেন। ইমাম মাহদি মুসলমানদেরকে নিয়ে নামাজের ইমামতি করার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকবেন। এমন সময় ঈসা ইবনে মারইয়াম আঃ আকাশ থেকে আগমন করবেন। ইমাম মাহদি ঈসা আঃ-কে দেখে বলবেন, সামনে অগ্রসর হোন এবং আমাদের ইমামতি করুন।

হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী আরও জানা যায় যে, ইমাম মাহদির সময় মুসলমানদের ঈমান ও শক্তি ধ্বংস করার জন্য দাজ্জালের আগমন ঘটবে। দাজ্জালের মোকাবিলা করার জন্য আল্লাহ তায়ালা ঈসা আঃ-কে পাঠাবেন। ইমাম মাহদিও তাঁর সাথে মিলিত হয়ে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তাকে এবং তার বাহিনীকে খতম করে মুসলমানদেরকে দাজ্জালের ফেতনা হতে মুক্ত করবেন।

সুনানু আবি দাউদের ভাষ্যকার আল্লামা শামসুল হক আযীমাবাদী র. বলেন, “সর্বযুগের সকল মুসলমানের মাঝে একথা অতি প্রসিদ্ধ যে, আখেরি জমানায় নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধর হতে একজন সৎলোকের আগমন ঘটবে। তিনি এ দ্বীনকে শক্তিশালী করবেন। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। মুসলমানগণ তাঁর অনুসরণ করবে। সকল ইসলামি রাজ্যের ওপর তাঁর আধিপত্য বিস্তার লাভ করবে। তাঁর নাম হবে মাহদি। তাঁর আগমনের পরেই সহিহ হাদিসে বর্ণিত কেয়ামতের অন্যান্য বড় আলামতগুলো প্রকাশিত হবে। তাঁর জমানায়ই ঈসা আঃ আগমন করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এ ব্যাপারে মাহদিও তাঁকে সহযোগিতা করবেন।

ঈসা আঃ-এর সাক্ষাৎ ও দাজ্জাল নির্মূল : হাদিসের আলোকে জানা গেল যে, আখেরি জমানায় এ উম্মতের মধ্যে একজন সৎলোক আগমন করবেন। তিনিই ইমাম মাহদি আঃ। মাকামে ইবরাহিম এবং রুকনে ইয়েমেনির মধ্যবর্তী স্থানে মুসলমানগণ তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করবে। তাঁকে হত্যা করার জন্য সিরিয়া থেকে একদল সৈন্য প্রেরণ করা হবে। সৈন্যদলটি যখন মক্কার পথে ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে তখন ভূমিধসে সকল সৈন্য হালাক হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা ইমাম মাহদিকে এভাবে তাঁর শত্রুদের হাত থেকে হেফাজত করবেন। তিনি মুসলমানদের খলিফা হয়ে ইসলামের মাধ্যমে বিচার-ফয়সালা করবেন। তাঁর শাসনামলে মুসলমানদের মাঝে চরম সুখ শান্তি ও নেয়ামত বিরাজ করবে। অতঃপর তিনি দামেশকের মসজিদে ফজরের নামাজের সময় ঈসা আঃ-এর সাথে সাক্ষাৎলাভ করবেন। প্রথমে তিনি ঈসা আঃ-কে নামাজের ইমামতি করার অনুরোধ জানাবেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে স্বয়ং ইমাম মাহদি ইমামতি করবেন। ঈসা ইবনে মারইয়াম আঃ ইমাম মাহদির পিছনে মুক্তাদি হয়ে নামাজ আদায় করবেন। অতঃপর তিনি ঈসা আঃ-এর সাথে যোগ দিয়ে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বের হবেন এবং দাজ্জাল হত্যার কাজে ঈসা আঃ-কে সহায়তা করবেন। তারপর তিনি সাত বছর মতান্তরে নয় বছর পৃথিবীতে বসবাস করে মৃত্যুবরণ করবেন। মুসলমানগণ তাঁর জানাজা নামাজ পড়বে।

মাহদি কি জন্মগ্রহণ করেছেন : কেউ কেউ নানা যুক্তি দিয়ে বলে থাকেন যে, ইমাম মাহদির জন্ম হয়ে গেছে। এমন কথা অনেকেই ছড়িয়ে থাকেন। এটা জানার কোনো উপায় আমাদের নেই। তিনি যখন নিজেকে আত্মপ্রকাশ করবেন তখনই কেবল আমরা জানতে পারব। এর আগে নয়। একটি বিষয় না বললেই নয়। অনেকে মনে করে, মাহদি বুঝি একটি নাম, আসলে তা নয়। মাহদি একটি উপাধি। মাহদি বলতে বোঝায়, যিনি সঠিক পথে আছেন আর যিনি মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ সে কাজটি করবেন আর এজন্য তাঁকে মাহদি বলা হবে।

ইমাম মাহদির সঙ্গী-সাথি : নেককার লোকেরা ইমাম মাহদির সঙ্গী-সাথি হিসেবে পাশে থাকবে, তাঁকে সহযোগিতা করবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হারেস রা. থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘পূর্ব থেকে কিছু লোকের আবির্ভাব হবে যারা ইমাম মাহদিও খেলাফতকে সহজ করে দিবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪০৮৮)

তিনি মানুষের মাঝে সুবিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। হজরত আলী রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যদি জমানার একদিন সময় থাকে তবুও আল্লাহ তায়ালা আমার পরিবারে একজন মানুষ পাঠাবেন যিনি পৃথিবীকে এমনভাবে ন্যায়নিষ্ঠতা ও ইনসাফ দিয়ে ভরে দেবেন যেভাবে এর পূর্বে জুলুম-অত্যাচারে ভরে গিয়েছিল।’ (সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নং ৪২৮৩)

ইন্তেকাল : বাইয়াত গ্রহণের সময় ইমাম মাহদির বয়স হবে ৪০ বছর। তাঁর খেলাফতের ৭ম বছরে দাজ্জাল বের হবে। তাকে হত্যা করার জন্য ঈসা আঃ আসমান থেকে অবতরণ করবেন। ইমাম মাহদি তাঁর সঙ্গে দু’বছর কাটাবেন এবং ৪৯ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করবেন। (আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল, ১ খণ্ড পৃষ্ঠা ২৬৮)

লেখক : গবেষক, মুহাদ্দিস ও প্রাবন্ধিক; বিভাগীয় প্রধান (হাদিস), আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স

০১৭১১ ৩৩৩৯৯৬।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়