চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ২২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বিজয়ের মাস ডিসেম্বর শুরু
  •   হাজীগঞ্জের কিউসি টাওয়ারে আগুন :  আহত ১০ 
  •   ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, শূন্যপদ ২৩০৯
  •   করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সুপারিশ
  •   চাঁদপুর শহরে বিদ্যুৎষ্পৃষ্টে এক যুবকের শরীর জ্বলসে গেছে

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২২, ০০:০০

‘নদী পাঠ’ : জীবনের পাঠাগার
অনলাইন ডেস্ক

অক্টোপাসের বেড়াজালে আটকে থাকা মানুষের জীবনের আশা, প্রত্যাশা, আদর্শ ও মূল্যবোধের মধ্যে প্রতিনিয়ত দ্বন্দ্ব-কবি ইকবাল পারভেজের প্রথম প্রয়াস ‘নদী পাঠ’ কবিতা গ্রন্থের মূল উপজীব্য বিষয়। ভূমিকা লেখক এ কবিতা গ্রন্থটির ভাষা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘সহজ কথায় লিখতে আমায় কহ যে/ সহজ কথা যায় না বলা সহজে।’ এমন কঠিন কাজটিই করে যাচ্ছেন ইকবাল পারভেজ। বইটি পাঠের পর নিঃসন্দেহে ভূমিকা লেখকের মূল্যায়নের যথার্থতা পাঠকগণ উপলব্ধি করতে পারবেন।

সমকালীন বাংলা কবিতায় প্রাণ নেই, সময়ের কথা নেই, অতীতের কবিতার তুলনায় বর্তমান কবিতা অনেক দুর্বোধ্য, কবিতা নিয়ে পাঠক ও কবি রয়েছেন ভিন্ন অবস্থানে-এরকম একটা কথা প্রচলিত রয়েছে। ‘নদী পাঠ’ ইকবাল পারভেজের প্রথম কবিতা গ্রš’ হলেও এটি তার পরিণত বয়সের লেখা। দীর্ঘ নিরীক্ষা শেষে তিনি তার কবিতা লেখা শুরু করেন। তাই আমি মনে করি, প্রচলিত অপবাদ থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টা রয়েছে এই কবিতা গ্রন্থটিতে। ‘নদী পাঠ’ কবিতা গ্রন্থটি ‘জেলা প্রশাসক চাঁদপুর পান্ডুলিপি প্রতিযোগিতা-২০১৮’ তে সৃজনশীল বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে।

বাস্তববাদী লেখকরা মনে করেন শিল্প- সাহিত্য জীবন ঘনিষ্ঠ না হলে তার কোন মূল্য নেই। ইকবাল পারভেজ সে প্রভাব বলয়ভুক্ত হয়ে কবিতা লিখেন। তাই তিনি ‘যে পথে হেঁটেছি এতটা পথ’ কবিতায় লিখেছেন, ‘যে পথে হেঁটেছি এতটা পথ/ সে ছিল ভূল, সে ছিল পাপ/ সে পথ ছিল এক সাপ।’ তিনি আশে-পাশের আপাত ঠুনকো বিষয়ব¯’ ও মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিভেদ বোধগম্য ভাষায় প্রকাশ করেন। প্রবাহমান গতিপথ যখন রুদ্ধ হয়ে যায় তখন তিনি হয়ে উঠেন প্রতিবাদী। ‘আগষ্টেই শুরু’ কবিতাটিতে বিরুদ্ধবোধের আঘাত কবির মধ্যে যে অভিঘাত সৃষ্টি করেছিল তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তাই তিনি লিখেছেন, ‘সেদিন থেকে বাংলাদেশ হয়ে গেল একটি দ্বৈত দেশ/ সেদিন থেকে মানুষ হয়ে গেল দুই ভাগ।’ ‘নদী পাঠ’ কবিতায় দস্যুবিত্তের ফলে নদীর মৃত্যু দেখে তিনি স্মৃতি কাতুরে হয়ে হয়ে নদীকে চিরঞ্জীব করে রাখতে শিল্লী হাশেম খানের তুলি ও ক্যানভাসে স্থান দিয়ে বলেছেন, ‘এসো নদী পাট করি/ শীর্ণ খরা প্লাবিত নদী/ একদা পরাণ মাঝির ছলাৎছলাৎ বেঠা/ নদীর শিরদাঁড়া বেয়ে ঢেউ উঠতো/ এখন ক্যানভাসে গুন টানে হাশেম খান।’ ভালবাসার অপমৃত্যু দেখে তিনি তাঁর ‘কাঠ ঠোকরা’ কবিতায় বলেছেন, ‘আমি অসংখ্য ভালবাসার গর্ত দেহে দাঁড়িয়ে থাকি/ অতপর শূন্য গর্তে সাপেরা এসে বাসা বাঁধে।’ এ কবিতা গ্রন্থের কিছু কবিতায় রোমান্টিকতা থাকলেও সেখানে রয়েছে বাস্তবভিত্তিক শৈল্পিক পরিমিতিবোধ। এ ছাড়াও নষ্টালজিক কবিতাগুলোকে মনে হয়েছে আদর্শ বাণীর মতো, যা আমাদেরকে কিছু সময়ের ভেতর আটকে দেয়।

পুনরাবৃত্তি, অতিকথন, ছন্দোচ্ছেদ, সাবলীল প্রকাশ ভ্রম ও দ্বিধান্বিত দর্শন ইত্যাদি যে বিষয়গুলো কবিতার মূল বিষয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে সে হিসেবে ‘নদী পাঠ’ কবিতা গ্রন্থটিকে ব্যতিক্রমধর্মী মনে হয়েছে। আমাদের সত্তা গ্রাসকারী মূল্যবোধ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ভোগান্তির সাথে সঙ্গতি রেখে স্বকালের অস্তিরতাকে কবিতায় ধারণ করে তিনি ‘সংকুলান’ কবিতায় বলেছেন, ‘স্থান সংকুলান না হওয়ায় আপনার কবিতা ছাপা গেল না/ বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আমরা কবিতা ফেরত দিই না/ এমন পত্রে অবাক হইনি কখনো/ স্থান সংকটে জীবন চলছে সংকটময়/ লাইনে দাঁড়িয়ে রেশন পাইনি দুর্ভিক্ষে/ টিকেট কেটে ট্রেনে উঠতে পারিনি ভিড়ে/ সাবান মেখে নেংটো দাঁড়িয়ে থাকি বৃষ্টির অভাবে।’ তিনি আমাদের জাতিসত্তার অস্তিত্বের লড়াইয়ের রূঢ় বাস্তবতা অনুধাবন করে ‘এক মিনিট নিরবতা’ কবিতায় সগর্বে জাতিকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘এক মিনিট নিরবতা পালন করুন/ ত্রিশ লাখ শহীদের জন্য/ এবং আমার কিশোরী বোনটির জন্য/ যে প্রথম ইজ্জত দিয়েছিল, পরে জীবন।’ এটি ইকবাল পারভেজের প্রথম কবিতা গ্রন্থ হলেও, উত্তরণের প্রচেষ্টা হিসেবে ‘নদী পাঠ’ কবিতা গ্রন্থটিকে বাঁক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। উৎকর্ষের মানদণ্ডে গ্রন্থভুক্ত সকল কবিতা সমভাবে নিরূপিত হবে এমন কথা বলা না গেলেও সফল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কবিতাগুলো প্রসংশার দাবী রাখে।

‘নদী পাঠ’ গ্রন্থে’ কবিতার সংখ্যা ৪৬টি। প্রাশ করেছে সময় প্রকাশন। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। বাঁধাই, ছাপা ও কাগজ বেশ সুন্দর। বিশেষ করে প্রচ্ছদ নির্বাচনে শিল্প দক্ষতার পরিচয়দানের জন্য ‘সময় প্রকাশন’ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য দাবীদার। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে ১২০ টাকা। যোগাযোগ : ০১৭১৭৯৫৯৯৭৩

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়