চাঁদপুর, রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মহররম ১৪৪৪  |   ২৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   পাঁচ দফা জানাজা শেষে হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতির দাফন সম্পন্ন
  •   চোর-ডাকাত আতঙ্কে কচুয়াবাসী
  •   ২ লাখ টাকার বালু পরিবহনে কোটি টাকার কার্গো ডাকাতিয়ায় ডোবার উপক্রম!
  •   গরুর গুঁতোয় ২ মোটরসাইকেল আরোহী জখম
  •   চাঁদপুর মাছঘাটে কমে গেছে ইলিশের সরবরাহ

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২২, ০০:০০

শেষ বার্তা
অনলাইন ডেস্ক

প্রিয় কেশিনী

আশা করছি ভালো আছিস। তোকে আজ কিছু অন্তিম বার্তা জাননোর জন্যে প্রযুক্তির এ অনন্য যুগে চিঠি লেখার প্রয়াস। তোর অনুপস্থিতিতে সেদিন বন্ধুদের সাথে অনেক কথাই হয়েছে, অনেক কথাই বলেছি। আর সে সকল কথার উদ্দেশ্যহীন গুণাগুণ বিচার না করেই তুই আমার কাছে এসে মান আর অপমানের প্রশ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লি। এমন পরিস্থিতিতে তোকে জবাব দেয়ার মতো ভাষা আমার ছিলো না। অথচ আমি ছিলাম নির্বাক, তবে নির্দোষ।

মনে আছে, একদিন বলেছিলাম, ভাগ্যের কাছে হেরে গিয়ে তোর যদি কখনো বিয়ে হয়ে যায়, তারপর থেকে আমরা আর কেউ কারো থাকবো না। কেউ কাউকে চিনবো না। সম্পূর্ণ নতুন আর ভিন্নধর্মী দুটো মানুষ হয়ে যাবো। যে যার মতো নিজ নিজ অবস্থানকে আলিঙ্গন করে জড়িয়ে থাকবো। হাসিমুখে মেনে নিবো ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। জীবন্য মঞ্চানুষ্ঠিত নাটকের অচেনা এ পর্বে এমন ভাব করবো যেনো আমরা কখনোই পরিচিত ছিলাম না। কথাগুলো মনে আছে তো নাকি! না নেই?

তোর অবশ্য এতো কিছু মনে থাকার কথা না। এর আগেও অনেক কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম। অনেক স্মৃতি জড়িত গল্প। কি অদ্ভুত সুন্দর সে দৃশ্যগুলো ছিলো। যেগুলোর বর্ণনা ছেয়েছিলাম তোর কাছে অথচ তুই হতভম্ব করে আমায় জানান দিলি, ‘আমার কিছু মনে থাকে না’।

জানিস, মানুষ প্রথম যে প্রেমে পড়ে তা খুব অদ্ভুত, হয় ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে নয়তো ভুল সময়ে। সবার ক্ষেত্রে যে কোনো একটা হলেও আমার ক্ষেত্রে আশ্চর্যভাবে দুটাই পড়ে বসলো! বড়ই অদ্ভুত তাই না...?

প্রায় মাস দুয়েক আগে তোর খালাতো ভাই আবির একদিন সন্ধ্যায় কল দিয়ে বললো, তোকে দেখার জন্যে নাকি পাত্রপক্ষ এসেছিলো। কথাটা শোনার পর আমি হতভম্ব হয়ে যাই। তোর নাম্বারে সে রাতে প্রায় পঞ্চাশটারও বেশি কল দিয়েছিলাম। তুই ধরতে পারিসনি, ধরিসনি। সেদিন কিন্তু তুই নিজ মুখেও আমায় এ কথা বলিসনি যে, ‘তোকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসছে’। তারপরও আমি পাঁচ শব্দের এ-বাক্যটুকুতে হতাশ হয়ে যাই। আর তুই তো সেই কলগুলো দেখেছিলিও, তাই না! জিজ্ঞেসও তো করেছিলি কেনো এতো কল দিয়েছিলাম। উত্তর দিতে পারিনি। সেদিন সুস্থ মগজের সহায়তায় কল যে দিয়েছিলাম তা সত্য, কিন্তু কেনো দিয়েছিলাম সেটা আজও বুঝতে পারি না। বোধহয় ভয়ে...

আর এখন দেখ, তুই গত শুক্রবারে বিয়ের কার্ডসহ সমানে এসে দাঁড়ালি, নিজ মুখে বিয়ের কথা বললি। অথচ তোর মুখ থেকে এ-কথা শোনার পরও কোনো অনুভূতি, অনুভব, আবেগ কিচ্ছুর বহিঃপ্রকাশ নেই। বলেছিলি তোর মা খুব ভালো রান্না করে। একদিন তোর মায়ের হাতের রান্না এনে খাওয়াবি। বিশ্বাস কর! সেদিন যদি তুই বলতে যে, তোর হাতের রান্না খুবই বাজে হয়, ওই বাজে রান্না খেতে আমি ইচ্ছুক কি-না! আমি একবাক্যে রাজি হয়ে যেতাম। খাবারের বিষয় ওখানেই সীমাবদ্ধ ছিলো। আর এগোয়নি...

খুব ইচ্ছে ছিলো এই বছরের প্রত্যেকটা দিন দুজনে এক সাথে কলেজ থেকে ফিরবো। আমার সাইকেল আছে তো কি হয়েছে! তবুও তোর সাথেই হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরবো। প্রতিদিন তোর আমন্ত্রণ শোনার অপেক্ষায় থাকতাম যে, কখন বলবি, ‘প্রিতম আজ আমার সঙ্গে হেঁটে যা, আমার সাথে যাওয়ার মতো আজ কেউ নেই। অপেক্ষার প্রহর গোনার ইচ্ছেগুলো মরে ভূত হয়ে গেছে। বিবাহহীন প্রেমণ্ডভালোবাসা বাস্তব অস্থায়ী, তাই কখনো চাইনি তুই আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়া। আমি কেবল এটাই ভাবতাম যে, এই পরিস্থিতি সাপেক্ষে প্রেমে জড়ালে বিচ্ছেদ অনিবার্য। তুইও কষ্ট পাবি আমিও পাবো, ওই বিচ্ছেদ আমি সহ্য করতে পারবো কিন্তু তুই পারবি কি না সেই ভয় নিয়ে সবসময়ই ভীত থাকতাম। কিছু মনে করিস না। শেষ বার্তা তো! তাই চিঠিটা একটু বড় বড় লাগছে। সব জমানো মান-অভিমান-স্মৃতি সবকিছু এক করে খিচুড়ি পাকালে যা হয় আরকি!

ক্লাস থ্রিতে তোকে প্রথম দেখেছিলাম, ফোর থেকে অনুভব করি তোকে ভালোবেসে ফেলেছি। ফাইভ ছিলো বিচ্ছিন্ন অংশ ক শাখা, খ শাখা কে কোন্ শাখায় ছিলাম মনে নেই। সিক্স থেকে এইট পর্যন্ত তোকে স্কুলের গেট দিয়ে প্রবেশ আর বের হয়ে যেতে দেখতাম। ছেলে-মেয়ে আলাদা বলে ক্লাসে দেখার সুযোগ ছিলো না। তারপর নাইনে উঠে জানলাম ফেসবুক চালাস। দ্রুত আইডি খুঁজে রিকুয়েস্ট দিলাম। অ্যাড করার সাথে সাথেই মেসেজ দিতাম। মনে আছে! বিরক্ত হয়ে বলতি জুতার বারি দিমু, থাপ্পড় দিমু, বেশি বকবক করলে ব্লক খাবি ইত্যাদি ইত্যাদি কত কিছু! আর আজ দেখ সামাজিক যোগাযোগের কোনো মাধ্যমেই আমরা আর যুক্ত নেই। আমি তোকে সবখান থেকেই ব্লক করে দিয়েছি। তোকে ব্লক করে দিয়েছি, তার মানে এই নয় যে, তোর প্রতি আমার ঘৃণা জন্মেছে। আমি কিন্তু এখনও তোকে ক্লাস ফোরের মতোই ভালোবাসি। কেবল নিজের কাছে খারাপ লাগা কিংবা আবেগ নিঃসৃত হওয়ার ভয়ে ব্লক করে দিয়ে নব্বই দশকের এ অনন্য মাধ্যম ‘চিঠি’র মধ্যে শেষ বার্তা লিখে দিলাম। কিছু মনে করিস না।

আর তুই কীভাবে ভাবলি যে, তোর চলে যাওয়া স্বচক্ষে দেখার জন্যে আমি তোর বিয়েতে উপস্থিত হবো। দুঃখ আর ক্ষোভে বন্ধুদের সামনে বলেছিলাম ‘এসব বিয়েতে আমি যাই না’। আর তুইও যে এই কথা শুনে ফেলবি তার ধারণা ছিলো না।

বিশ্বাস কর, বন্ধুদের সামনে বলা সে কথার কোনো ছিটেফোঁটাও আমার মনে ছিলো না। তুই তোর বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছিস্, আমি খুশি হয়েছি। কিন্তু তোর বিয়েতে আশা আমার পক্ষে সম্ভব না। যদি মনে কষ্ট দিয়ে থাকি নিজগুণে ক্ষমা করে দিস।

আর চিঠিটা পড়া শেষ হলে নিজ উদ্যোগে পুড়িয়ে ফেলিস। যাতে কেউ দেখে না ফেলে। পরে নয়তো এটা নিয়ে তোর নিজেরই সমস্যা হতে পারে। তোর পছন্দের নীল চুড়ি আর কালো কানের দুল-জোড়া চিঠির সাথে আসা বক্সে পেয়ে যাবি। ওগুলো তো তোর খুব পছন্দের ছিলো। সামান্য ওই উপহার সাথে, নিজের অশ্রুশিক্ত মনের মাধুর্য দিয়ে লেখা এই চিঠি ছাড়া বিবাহের উপহার হিসেবে তোকে দেয়ার মতো আর কিছুই আমার কাছে নেই। বিয়েতে আসিনি বলে রাগ করিস না। তোর জন্যে মন থেকে দোয়া আর ভালোবাসা রইলো। আমার জন্যে দোয়া করিস। তুইও ভালো থাকিস। বিবাহিত জীবন নিয়ে সুখে থাক এই প্রত্যাশা। আল্লাহ হাফেজ।

ইতি

প্রিতম।

পুনশ্চ, মানুষ কেবল তার প্রিয় মানুষটার জন্যেই মনের সর্বোচ্চ মাধুর্য মিশিয়ে চিঠি লেখে। প্রত্যাশা রাখে চিঠির উত্তরের। অথচ কোনো কোনো চিঠির জবাব সব প্রেমিক পায় না।

* পাঠক ফোরাম বিভাগে লেখা পাঠানোর ঠিকানা : pathok.ck@gmail.com

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়