সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩  |   ২৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন, দামে অসন্তুষ্ট কৃষক : সবজি ক্ষেতে সবুজ হাসি থাকলেও কৃষকের মুখ ম্লান
  •   অশুভ শক্তি শক্তিশালী হলেও জয়ি হতে পারবে না : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০

দূরের শঙ্খচিল
অনলাইন ডেস্ক

সেদিন আমরা দুজনে দোতলার বাারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। দৃষ্টিজুড়ে দূরের নীল আকাশ। দক্ষিণা বাতাসে মেঘেরা সারি বেঁধে উত্তরের আকাশে বেড়াতে যাচ্ছে। উত্তরের আকাশ অনেকদিন পরে আপনজনদের পেয়ে হয়তো কেঁদেই ফেলবে। ঝিরঝিরিয়ে বৃষ্টি নামধারী মেঘেদের সেই আনন্দাশ্রু পৃথিবীর রুক্ষ মাটিকে একটু আদ্রতা দান করবে। কয়েকটা চিল উড়ছে দূরের ওই আকাশে। বাড়ির ছাদ দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে কয়েকজন কিশোর-কিশোরী।

আমরা দুজনই তাকিয়ে আছি প্রকৃতির দৃষ্টিসীমার মধ্যে চোখ এঁটে। দুজনার মধ্যেই কতো না রঙিন স্বপ্ন।

-বিয়েশাদি করবে না?

বললাম তাকে।

-আর বিয়ে!

একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো সে।

ভালোবাসার মতো ভালো মানুষ না পেলে এ রুক্ষ জীবন মরুভূমি হয়ে উঠবে।

-কেনো, কোনো ভালো মানুষ কিংবা ভালোবাসার সন্ধান পাওনি?

-হ্যাঁ পেয়েছিলাম তো। কিন্তু...

-কিন্তু কী?

-তুমি কি ওই দূরের আকাশে দেখতে পাচ্ছ?

মাথা নাড়ালাম আমি।

-তুমি কি ওই দূরের সবুজ ঘন গাছাগাছালি দেখতে পাচ্ছ?

আবারও মাথা নাড়ালাম আমি।

-হয়তো আকাশে এখন কিছু পাখ-পাখালি উড়াউড়ি করছে। তুমি তাও দেখছ। কিন্তু আমি?

এতোক্ষণে যেনো হুঁশ হলো আমার। ও তো আমার মাথা নাড়ানো দেখতে পায়নি। দেখছে না দূরের ওই শঙ্খ চিলদেরও... ঘুড়িগুলোকে দেখার তো প্রশ্নই আসে না।

-আমি অন্ধ বলে কেউ যে আমাকে ভালোবাসেনি তা কিন্তু নয়। বরং খুবই সুন্দর একটি ভালোবাসার গল্প আছে আমার জীবনে।

একটু যেনো উৎসাহী হয়ে উঠলাম। ছেলেটির সাথে খুব বেশি মিলামেশা হয়ে ওঠেনি আমার। ভেবেছি-অন্ধ মানুষ, দৃষ্টিসীমার মতোই সীমাবদ্ধ ওদের চিন্তার জগৎ...

-এক বড়লোকের মেয়ে প্রেমে পড়েছিল আমার।

ছেলেটি বলতে শুরু করলো।

অসম্ভব রকমের ভালোবাসতো মেয়েটি আমায়। কিন্তু তার বাবা এটাকে মেনে নিতে পারেনি। আমরা গরিব। আমার বাবা একজন দিনমজুর। শুকনোর মৌশুমে হালচাষ করে, বর্ষায় রিকশা চালায়। দিন এনে দিন খাই আমরা। তারওপরে আমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ওর বাবা ওর ওপরে অনেক নির্যাতন করে। কিন্তু পাগল মেয়েটিকে টলানো একটু কঠিনই হলো তার জন্য। শেষে, ওর বাবা একদিন ডেকে পাঠালো আমাকে। ইচ্ছেমতো অপমান করল আমায়।

-তারপর?

-তারপর? একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। তারপর আর কিচ্ছু নেই। আমাদের স্ন্দুর সেই ভালোবাসার গল্পের সেখানেই ইতি ঘটে।

-কেনো, মেয়েটি? সে কী বলেছিল?

-কী আর বলবে! তার কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে হয়ে গেলো ওর।

-কিছুই বলেনি?

বিস্মিত আমি।

-এটাকে কি মুভির কাহিনি পেয়েছো? আমি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলাম আর ওর বাবা মেনে নিলো? কিংবা, আমি ওর শ্বশুর বাড়ির দেয়াল টপকে ওর সাথে গিয়ে দেখা করলাম... ওকে ভাগিয়ে নিয়ে গিয়ে দূরে কোথাও চলে গেলাম...

-কিন্তু...

যেনো বিষয়টাকে কোনোভাবেই মানতে পারছিলাম না আমি।

-আমি হয়তো দৃষ্টিশক্তিহীন, তবে আমি আত্মমর্যাদাহীন তো নই। তাই আর সামনে পা বাড়াইনি। মেয়েটির থেকে কিছু একটা শোনার অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু তা আর হলো না।

ছেলেটির এই ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় গল্প লিখেছিলাম। গল্পটি পাঠকও বেশ পছন্দ করেছিলো। কিন্তু, পরে একদিন জানতে পারলাম-ছেলেটি আমাকে তার স্বপ্নের কথা শুনিয়েছিলো সেদিন...।

* পাঠক ফোরাম বিভাগে লেখা পাঠানোর ঠিকানা

pathok.ck@gmail.com

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়