চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯, ১০ রজব ১৪৪৪  |   ২০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   মতলবের আনন্দবাজারে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান পুড়ে ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি
  •   ভাষার মাসের প্রথমদিনে বাংলায় রায় দিলেন হাইকোর্ট
  •   ক্ষতিকর জেলি মেশানো ৬২০ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ
  •   রো রো ফেরির ধাক্কায় জেলে নৌকাডুবি
  •   জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০

জেলা প্রশাসক  কাপে ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাজিমাত
শামীম হাসান ॥

১৯ তম জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাপ মাঠের খেলায় উত্তাপ ছড়ালো ফরিদগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দল। ১৩ অক্টোবর টুর্নামেন্টের ফাইনালে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক চাঁদপুর সদর উপজেলা দলকে হারিয়ে শিরোপা হাতে তুললো ফরিদগঞ্জ উপজেলা। এই ফাইনালে জয় পাওয়াটা মোটেই সহজ ছিলো না ফরিদগঞ্জ উপজেলা দলের জন্যে। একে তো চাঁদপুর সদর উপজেলা, তাদের নিজেদের চিরচেনা মাঠ, তার ওপর চাঁদপুর সদর দলের ১০ নাম্বার জার্সি পরিহিত বিদেশি স্ট্রাইকারের ক্ষণে ক্ষণে আক্রমণ--এক কথায় বড় একটা ভয় ছিলো ফরিদগঞ্জের জন্যে ।

গ্রুপ পর্ব এবং সেমিতে জয় পাওয়ার পর ফাইনালের লড়াইটা ছিলো ফরিদগঞ্জের জন্যে বড্ড উৎকণ্ঠা আবার সম্ভাবনার। সেদিন রৌদ্রোজ্জ্বল মাঠে শুরু হয় ফরিদগঞ্জ উপজেলা এবং চাঁদপুর সদর উপজেলা দলের ফাইনাল ম্যাচ। মাঠে রেফারির বাঁশি বাজতেই শুরু হয় জমজমাট লড়াইয়ের। উভয় দলের মুহুর্মুহু আক্রমণের ম্যাচে গোলের উল্লাস করতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি দর্শকদের। খেলার প্রথমার্ধেই অসাধারণ ফিনিশিং টাচে প্রথম গোলের দেখা পায় ফরিদগঞ্জ দল। দর্শক গ্যালারিতে শুরু হয় গোলের উৎসব। এরপর প্রথমার্ধের খেলায় আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। এরই মাঝে হানা দেয় বৃষ্টি, প্রকৃতিতে চলে আসে শীতল আবহাওয়া।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা যখন শুরু হয়, তখন কিছুটা ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছিলো। এরই মাঝে চললো ফাইনালের লড়াইয়ে স্বাগতিক চাঁদপুর সদর উপজেলা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার বেশ ক'টি উল্লেখযোগ্য আক্রমণ। আক্রমণ হলেও বল আর জালে জড়ায়নি, শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। রেফারির দেয়া অতিরিক্ত ২ মিনিটের ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে একটি গোল করে চাঁদপুর সদর খেলায় ফিরে।

এরই মধ্যে পাল্টে যায় খেলার সমীকরণ, খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। চাপ বাড়ে উভয় দলের গোল রক্ষকের ওপর। উভয় দলের পাঁচটি করে কিক করার সুযোগ দেয়া হয়। চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রথম কিকেই গোল মিস করার পর ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রথম কিকেই গোল হওয়ায় এক গোলে এগিয়ে যায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা। দর্শক গ্যালারি থেকে 'ফরিদগঞ্জ ফরিদগঞ্জ' শব্দটি ধ্বনিত হয় বারংবার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিকে উভয় দল গোল করলেও চার নাম্বার কিকে ফরিদগঞ্জ গোল করে আর চাঁদপুর সদরের হয়ে আরো একটি মিস। এতে ৪-২ ব্যবধানে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা।

মাঠের খেলায় ফরিদগঞ্জ দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ছিলো বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রেজাউল করিম রেজা ও বর্তমান জাতীয় দলের ডিফেন্ডার রিয়াদুল হাসান রাফি। ৮ উপজেলার অংশগ্রহণে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মতলব দক্ষিণকে হারিয়ে এবং সেমি-ফাইনালে কচুয়াকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় ফরিদগঞ্জ।

ফাইনাল ম্যাচ সহ সবক'টি খেলায় যে বিষয়টির জন্যে আলোচনায় এসেছে ফরিদগঞ্জ দল, সেটি হলো দলের রক্ষণভাগের উক্ত দুই খেলোয়াড়। এ দুজন মাঠের দুই প্রান্ত থেকে যে দেয়াল তৈরি করেছিলেন, যেটা ছিলো দেখার মতো ও প্রশংসনীয়। নিজ জন্মস্থানের প্রতিনিধিত্ব করতে ওরা সবক'টি ম্যাচে সুদূর ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন পরম আন্তরিকতায়। ফরিদগঞ্জে দলের হয়ে মাঠের খেলায় অন্যান্য খেলোয়াড়ের সাথে ওরা ছিলো অনন্য। নিজের সেরাটুকু দিয়েই বারংবার প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছেন দলকে। সেই সাথে জাতীয় দলের অপর খেলোয়াড় ও বিদেশি খেলোয়াড়দের সাথে এ দুজনের খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় পুরো টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে সমন্বয়টা ছিলো বেশ, তেমনি ফলাফলটাও এসেছে। ওরা শিরোপা নিয়েই বাড়ি ফিরেছে।

দলের প্রাপ্তি লগ্নে ফরিদগঞ্জের দর্শক ও সমর্থকরা আনন্দের ভেলায় ভাসে। বৃষ্টি নামক বাধা সেদিন দর্শক-সমর্থকদের আটকে রাখতে পারেনি। খেলার প্রথমার্ধে কিছুটা সময় পার হতে যখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছিলো, ঠিক তখনও তারা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে প্রিয় জন্মস্থানের প্রতিনিধিত্ব করা দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগায়। আর প্রিয় দলের জয়ে উল্লাস করার জন্যে অপেক্ষার প্রহর গোণে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির পর মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলেও দর্শকরা ছিলেন গ্যালারিতেই। বারংবার 'ফরিদগঞ্জ ফরিদগঞ্জ' শব্দটি ধ্বনিত করে দলকে উৎসাহ দিয়েছে। খেলা শেষে চাঁদপুর স্টেডিয়াম রূপ নেয় এক উৎসবের ক্ষেত্রে।

মাঠের বাইরে কিংবা ভেতরে দর্শকদের জয়োল্লাস উদ্যাপন চাঁদপুরবাসীকে জানান দিচ্ছিলো ফরিদগঞ্জ দলের সামর্থ্যরে কথা। মেঘাচ্ছন্ন আকাশকে যেন দর্শক-সমর্থকরা বলেছিলো, আকাশ তুমি সরে দাঁড়াও, এই দিনটা আমাদের, একান্তই আমাদের। সেদিনকার বিকেলে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়াম থেকে ফরিদগঞ্জ পর্যন্ত পুরো সড়কেই ফরিদগঞ্জের গাড়ি বহরে দর্শকদের উদ্যাপন ছিলো অনন্য প্রাপ্তির বহিঃপ্রকাশ মাত্র। মাঠের খেলায় খেলোয়াড়রা তাদের কথা রেখেছে, চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা নিয়ে ওরা বাড়ি ফিরেছে। ওরা প্রমাণ করলো, চাইলে আমরা কী না করতে পারি। দলের এমন অর্জনের দিন তাদের অভিনন্দন জানাননি ফরিদগঞ্জে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। সেদিনকার সন্ধ্যায় পুরো ফেসবুকই ছিলো প্রিয় দলটাকে অভিনন্দনের জোয়ারে ভরপুর ।

রিয়াদুল হাসান রাফি খেলা শেষ করে আসার পর সেদিন সন্ধ্যায়ই নিজ এলাকায় পেয়েছেন ফুলেল শুভেচ্ছা, হয়েছেন সংবর্ধিত।

ডিসি কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফরিদগঞ্জ ফুটবল একাডেমি, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব, ফরিদগঞ্জ স্পোর্টস্ ক্লাব সহ আরো কত শত সংগঠন। ফুটবলের এই অর্জন ফরিদগঞ্জবাসী মনে রাখবে বহুকাল।

দলের এমন অর্জনে টিম ম্যানেজমেন্টও ভাসছিলো জয়ের উল্লাসে। ফরিদগঞ্জ দলের টিম ম্যানেজার ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নূরুন্নবী নোমান এই প্রতিবেদককে জানান, ডিসি কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের জন্যে বিশাল অর্জন। আমাদের উপজেলা অন্যান্য জেলার তুলনায় খেলাধুলায় অনেক এগিয়ে। আমাদের উপজেলা থেকেই বাংলাদেশ ফুটবল এবং ক্রিকেট দলের মূল একাদশে রয়েছেন যথাক্রমে ফরিদগঞ্জের রাফি ও মাহমুদুল হাসান জয়। আমাদের ধারাবাহিকতা যেনো সবসময় অব্যাহত থাকে এ জন্য সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়