চাঁদপুর, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বৃহৎ র‌্যালি আল-আমিন একাডেমি ও চেয়ারম্যান সেলিম খানের
  •   পদ্মা সেতুর থিম সং-এর গীতিকার কবির বকুলকে শিক্ষামন্ত্রীর অভিনন্দন
  •   হাইমচরে পানিতে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু
  •   শনিবার চাঁদপুরে পাঁচজনের করোনা শনাক্ত
  •   মতলব উত্তরে নৌকাডুবি ॥ নিখোঁজ ১

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০

শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেশি ॥ রয়েছে জনবল সঙ্কট
আলআমিন হোসাইন ॥

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে। নির্ধারিত শয্যার দ্বি-গুণেরও বেশি রোগীকে নিয়মিত সেবা দিতে চিকিৎসকসহ নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া শিশু ওয়ার্ডে সিনিয়র কনসালটেন্ট পদ খালিসহ রয়েছে জনবল সঙ্কট। সংকট নিসরনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চলতি এপ্রিল মাসের ৮ দিন অর্থাৎ ১ এপ্রিল শুক্রবার থেকে ৮ এপ্রিল শুক্রবার পর্যন্ত ২শ’ ৪৯ শিশু ভর্তি হয়। এদের অধিকাংশই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। এজন্যে খোলা হয়েছে ৮ শয্যার ‘ডায়রিয়া কর্নার’। যেখানে দৈনিক গড়ে ২৫-৩০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এজন্যে ফ্লোরে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করে তাদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট (ঝঈঅঘট) ও ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) ইউনিটে নিয়মিত শিশু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, জ¦র, সর্দি, শ্বাসকষ্ট, কাশি, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এছাড়াও খিঁচুনি ও পানিতে পড়া রোগী রয়েছে। শুধু চাঁদপুর জেলা নয়, পাশর্^বর্তী শরীয়তপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে রোগীরা এখানে সেবা নিতে আসেন।

হাসপাতালের শিশু বহির্বিভাগে হাইমচর উপজেলার আলগীবাজার এলাকার জনৈক ব্যক্তি তার দু মাস বয়সী শিশু সন্তানকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, গত ক’দিন যাবৎ ধরে তার সন্তান জ¦রে আক্রান্ত। তাই তিনি হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

পারভীন বেগম নামে চাঁদপুর পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের এক নারী জানান, তার কন্যাসন্তান গত ক’দিন যাবত পেটে গ্যাসের সমস্যায় আক্রান্ত। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন। নিয়মিত প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদানসহ চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা প্রদানের মানসিকতায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহানারা বলেন, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক রোগীকে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। এতো সংখ্যক রোগীর জন্যে যে পরিমাণ নার্স প্রয়োজন সেখানে আমরা প্রতি শিফ্টে মাত্র ৪ জন করে সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। তাতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়।

শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ আসমা বেগম বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। এ সমস্যার প্রধান কারণ হলো আবহাওয়ার পরিবর্তন। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্যে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে শিশুদের রাখা যাবে না। সম্ভব হলে শিশুকে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। এছাড়া শিশুকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে হবে। বাসি এবং বাইরের খাবার শিশুকে খেতে দেয়া যাবে না। সবসময় পানি ফুটিয়ে খাওয়াতে হবে। বেশি বেশি ফলমূল খাওয়াতে হবে। ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে।

ডাঃ আসমা বেগম বলেন, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন শিশু রোগীকে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। আর বহির্বিভাগে দৈনিক ১শ’ ৭০ থেকে ২শ’ শিশু রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। কোনো কোনো দিন আরো বেশি শিশুকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল সঙ্কটের কারণে শয্যার অধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যা হয়। শিশু ওয়ার্ডে সিনিয়র কনসালটেন্ট পদটি খালি রয়েছে। সংকট নিসরনে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

ডাঃ আসমা বেগম বলেন, আমিসহ দুজন সহকারী রেজিস্ট্রার যথাক্রমে ডাঃ বিপ্লব দাস ও ডাঃ মাহবুব আলী খান শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছি। আমরা মিলেমিশে সামর্থ্যরে মধ্যে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবাটুকু দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। রোগীদের আমরা নিয়মিত ফোনেও চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা পরামর্শ প্রদান করে থাকি। রোগীদের সেবা প্রদান করতে আমরা সবসময় প্রস্তুত।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ একেএম মাহাবুবুর রহমান বলেন, শিশু ওয়ার্ডের শয্যাসংখা মাত্র ৩৯টি। আমাদের হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সবসময় বেশি থাকে। নির্ধারিত শয্যার দ্বিগুণ সংখ্যক রোগীকে আমরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, চিকিৎসকসহ আমাদের জনবল সঙ্কট রয়েছে। এ সঙ্কটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি, খুব শীঘ্রই এর সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে ১শ’ ১৩ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স আছেন। নতুন নতুন সেবা খাত সৃষ্টি হওয়ায় তাদেরকে সবদিকেই নিয়মিত সেবা প্রদান করতে হয়। যেমন-আইসিইউ, স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট (ঝঈঅঘট), ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি), করোনা টিকা কার্যক্রম পরিচালনা ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড পরিচালনায় নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবুও আমরা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে সংযুক্তিতে সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রদানের জন্যে অনুরোধ করেছি। এছাড়াও আয়া, ওয়ার্ড-বয় ও ক্লিনার ঘাটতি রয়েছে। সেজন্যেও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়