শুক্রবার, ০১ জুলাই, ২০২২  |   ২৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই
  •   বাংলাদেশে ঈদুল আজহা ১০ জুলাই
  •   ডাকাত সন্দেহে কোস্টগার্ডের হামলায় নিখোঁজ ১ : আহত ২
  •   হাজীগঞ্জে নবজাতকের লাশ উদ্ধার
  •   অধ্যাপক    কামরুজ্জামান সাহেবের স্মরণ সভা  ও মিলাদ

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২২, ০০:০০

পুরুষের স্বাস্থ্য সমস্যায় আকুপ্রেশার চিকিৎসা
অনলাইন ডেস্ক

যৌনগ্রন্থির ভারসাম্যহীন বৃদ্ধি এবং এর ফলে শারীরিক ও মানসিক যে সকল সমস্যা হয়, সেগুলোই হলো পুরুষের সমস্যা। সাধারণত ১০ বছর বয়স হতে ছেলেদের যৌনগ্রন্থিগুলো বিকশিত হতে শুরু করে এবং ২১ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময় যে সমস্ত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয়, তার জ্ঞান অর্জন করলে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

বয়োঃসন্ধিকালের শুরুতে অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ এবং হস্তমৈথুন, যৌন-বিষয়ক বই পড়ে, যৌন-বিষয়ক ভিডিও দেখে অথবা দেহের বাড়তি তাপের কারণে শুক্ররস পাতলা হয়।। ফলে বিবাহ পরবর্তী কম উত্তেজনা, যৌনাঙ্গের শিথিলতা, পরিতৃপ্তির অভাব ও দ্রুত বীর্যপাত ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। উঠতি বয়সের যুবকরা গোপনে যৌনসমস্যা ভোগে। খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করতে লজ্জা বোধ করে। এদের হজমশক্তি একেবারে দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেহের উত্তাপ কমে যায়।

ছেলেরা যদি ছয়-সাত বছর বয়স থেকেই প্রতিদিন নিয়মিত প্রতিটি অন্তক্ষরা গ্রন্থি ও ১১, ১২ ও ১৪নং বিন্দুতে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে তাহলে যৌবনারম্ভের সমস্ত সমস্যা যেমন হস্তমৈথুন, কর্তব্যে অবহেলা এবং শারীরিক মানসিক সমস্যা প্রভৃতি এড়ানো সম্ভব এবং সেই সাথে তাদের চারিত্রিক, মানসিক ও শারীরিক অবস্থা দিন দিন উন্নত হতে থাকবে ইনশআল্লাহ।

পুরুষের ক্ষেত্রে সাধারণত নি¤েœর সমস্যাগুলো দেখা দেয় :

* স্বপ্ন দোষ : ১৭/১৮ বছর বয়সে স্বপ্নে কখনো কখনো বীর্যপাত হলে কোনো দোষ নাই। কিন্তু এর পূর্বে অথবা নিয়মিত স্বপ্নদোষ হলে এর চিকিৎসার প্রয়োজন।

স্বপ্ন দোষের কারণ

* দেহে তাপের আধিক্য।

* প্রোস্টেট গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।

* বয়োঃসন্ধিকালের শুরুতে যৌন বিষয়ক বই পড়া ও যৌন-বিষয়ক ভিডিও দেখা।

পেটে অতিরিক্ত গ্যাসের জন্য

* কম উত্তেজনা : পরিতৃপ্তির অভাব/দ্রুত বীর্যপাত, বীর্যরস পাতলা ইত্যাদি। এই সব সমস্যার মূল কারণ হতে পারে বিবাহ-পূর্ব হস্তমৈথুন, প্রোস্টেটগ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অথবা দেহে তাপের আধিক্য। এদের চিকিৎসা বন্ধ্যা দম্পতির চিকিৎসার অনুরূপ।

* ক্লিম্যাকটারি : যৌবনে যারা বিভিন্ন যৌনসমস্যায় ভোগেন তাদের অনেকের ৪০-৫০ বছর বয়সের পর শুক্র উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং যৌন ইচ্ছা একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এটি পুরুষের জন্যে নারীদের ঋতুস্রাব বন্ধের সমান অবস্থা।

এই সকল সমস্যা সমাধানের জন্যে (ক) ১১, ১২ ও ১৪নং বিন্দুতে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

(খ) দেহের বাড়তি উত্তাপ বের করে দিতে হবে।

বন্ধ্যা দম্পতির চিকিৎসা

বিবাহের ৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সন্তানধারণ না করলে শতকরা ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ সম্ভাবনা থাকে সমস্যাটি পুরুষের। অর্থাৎ স্বামীর বীর্যে যথেষ্ট পরিমাণ শুক্রাণুর অভাব।

চিকিৎসা

ক) স্বামী-স্ত্রী মিলন থেকে বিরত থাকুন (তিন থেকে ছয় মাস)। যৌন চাহিদা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ই ২ ইঞ্চি ব্যাসের একটি রাবার বল যোনি ও মলদারের মাঝে রেখে একটি কাঠের চেয়ারে প্রতিদিন ১০ মিনিট বসে থাকুন।

খ) শরীরের বাড়তি তাপ বের করে দিন।

গ) প্রতিদিন লোহা/তামা/রূপা/সোনা দ্বারা চার্জিত পানি পান করুন।

ঘ) এক গ্লাস দুধে একটি এলাচ ও এক চামচ মিছরি মিশিয়ে গরম করে পান করুন।

ঙ) একটি খেজুর ও একটি শুকনা ডুমুর ছোট ছোট টুকরা করে কেটে সন্ধ্যায় এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, সকালে ওইগুলো চিবিয়ে খান এবং পানি পান করুন।

যে সকল মেয়েদের শরীরের উত্তাপ বেশি এবং যৌনগ্রন্থি বিশৃঙ্খল থাকে তাদের শরীরে হরমোন ভারসাম্যহীন থাকে। এদের সন্তানধারণের সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ, গর্ভধারণ হলেও গর্ভস্রাব হওয়ার সম্ভবনা থাকে। এদের ক্ষেত্রেও উপরের চিকিৎসা বিশেষ ফলদায়ক। (চলবে)

অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ্ উদ্দিন : বিভাগীয় প্রধান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজ। ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

[পরের পর্ব আগামী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে]

* চিকিৎসাঙ্গন বিভাগে লেখা পাঠানোর ই-মেইল

into.alamin@gmail.com

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়