চাঁদপুর, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বৃহৎ র‌্যালি আল-আমিন একাডেমি ও চেয়ারম্যান সেলিম খানের
  •   পদ্মা সেতুর থিম সং-এর গীতিকার কবির বকুলকে শিক্ষামন্ত্রীর অভিনন্দন
  •   হাইমচরে পানিতে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু
  •   শনিবার চাঁদপুরে পাঁচজনের করোনা শনাক্ত
  •   মতলব উত্তরে নৌকাডুবি ॥ নিখোঁজ ১

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২২, ০০:০০

স্মৃতিময় কিশোর জীবন
জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়

আমরা সবাই ছোট্ট সোনা/কি আর করবো ভাই/বই-খাতা হাতে নিয়ে/চলো স্কুলেতে যাই।/আমরা সবাই ছোট্ট সোনা/কি আর করবো ভাই/চল সবাই একি সাথে/স্কুলেতে যাই।/বাবা-মায়ের কথামতো/স্কুলেতে যাই/জীবন গড়ার পাঠশালাতে/চলছি সবাই তাই।/লেখাপড়া শিখে মোরা/বড় হতে চাই/গরিব-দুঃখীর সহায় হবো/হবো তাদের ভাই।/এসো সবাই ছোট্ট সোনা/কি আর করবে ভাই/চল সবাই একি সাথে/বই-খাতা হাতে নিয়ে স্কুলেতে যাই।

পাঠক, গানটি আমার ব্যক্তিগত জীবনে যেমন কাজে এসেছে, তেমনি আমি যখন শাহরাস্তি উপজেলাস্থ টামটা গ্রীনলাইফ কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করি, তখন অ্যাসেম্বলিতে সমবেত কণ্ঠে এ গানটি গাইতো শিক্ষার্থীরা। সে সময় আমার লেখা এ গানটি বেশ কিছু স্কুলের শিক্ষার্থীদের গাওয়ানো হতো। পরিতাপের বিষয়, সময় আর জীবনের তাগিদে সব কিছু ছেড়ে প্রবাসে এসেছি। আজ সত্যিই ফেলে আশা কিশোরজীবনের নানা স্মৃতি মনে পড়ে। কিশোর বেলায় স্কুল থেকে ফিরে প্যান্ট খুলে পুকুরে সাঁতার কাটা, খালে-বিলে দলবেঁধে মাছ ধরা, মটরশুঁটি আগুনে পুড়িয়ে খাওয়া।

বৈশাখ মাসে আম গাছে ঢিল ছুড়ে আম পেড়ে খেয়েছি। এ বাড়ি-ও বাড়ি চষে বেড়াতাম। ধানের জমিতে ধান কাটা, ধানের বীজতলা তৈরি করা, দলবেঁধে কানামাছি ভোঁ, ডাংগুলি, হাঁড়ি ভাঙ্গা ইত্যাদি খেলেছি। আকাশে থেকে বৃষ্টি নামলে সবাই মিলে কাঁদার ভেতরে ফুটবল খেলতাম, প্রচ- ঝড়ের দিনে ভয় না পেয়ে দৌড়ে ঘরের বাইরে ছুটে যেতামÑগাছ থেকে ঝরে পড়া আম, নারকেল, গাছের ডাল কুড়িয়ে নিয়ে আসতাম।

সকালে মায়ের সাথে চুলার পাশে বসে আলু ভাজি, ডিম কিংবা চা দিয়ে রুটি খেতাম। ছোট্ট একটা বিছানা বা মাদুর নিয়ে ঘরের সামনে শীতকালের রোদ পোহাতাম। ফেলা আসা কিশোরজীবন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। মনে পড়ে আপনাদের সেসব দিনের কথা?

বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে খোলা আকাশের নিচে খালি জমিতে ফুটবল খেলার কথা। মোবাইল কি জিনিস তা কেউ জানতাম না। সবাই ছুটেছি আপন মনে, হাটে-বাজারে জমেছে চায়ের চুমুকে কিশোর বন্ধুদের আড্ডা।

আজ কালের বিবর্তনে অত্যাধুনিক হতে গিয়ে কিশোরগ্যাং হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে মানবিকতা, একজন আরেকজনের পেটে ছুরি বসাতেও দ্বিধা করে না। একটুও ভাবি না কেনো করবো এমন জঘন্য অপরাধ?

এসবের কারণ কিশোরদের হাতে দামী মোবাইল ফোন। যা দিয়ে গেমস্ খেলে সময় কাটে অধিকাংশ কিশোর-কিশোরীর। পড়ালেখা গোল্লায় উঠেছে। বাবা-মা যতোই সচেতন হোক না কেনো তাদের সন্তান স্বল্প সময়ে নানা বাহানা দিয়ে অচেতন বানিয়ে দেন।

নীরবে মোবাইল চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যায় নানা অপরাধের সঙ্গে। সুন্দর জীবনে জড়িয়ে পড়ে নেশার সাথে। প্রতিটি বাবা-মাসহ সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব তাদের সন্তানের পাশাপাশি অন্যের সন্তানকে সুস্থ ও ভালো রাখার স্বার্থে সচেতন থাকা। আমাদের সন্তান তখনই ভালো থাকবে যখন আশপাশের সমাজের সন্তানগুলো ভালো থাকবে।

হঠাৎ করে কিশোরজীবন লেখার বিষয়ে আগ্রহ এসেছে আমার আদরের বড় মেয়ে তাসনিম আলম জারার ছবি দেখে। ওদের তালিমুল কুরআন নূরানি কেজি মাদ্রাসার হুজুর হাফেজ মাইন উদ্দিন ভাইয়ের পাঠানো ছবি দেখে।

আমার মেয়ে ও তার দুই বন্ধু অনিমা, জাকিয়া সুলতানা জুঁইসহ স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই ছবিটি দেখেই আমার ফেলে আসা স্মৃতি মনে পড়ে। যাই হোক, দেশ ও দশের উদ্দেশ্যে বলবো, আসুন, নিজের সন্তানকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলি অন্যের সন্তানকেও ভালো রাখার চেষ্টা করি। যদি থাকে সুস্থ দেহ, সুস্থ মন তাহলেই হবে পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়ন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়