চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যায় তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড
  •   কল্যাণপুর ইউপির জেলে চাল আত্মসাৎ, দুই গুদাম সিলগালা
  •   মা আর স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হলো দুই ভাইয়ের লাশ
  •   বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিম ধ্বসে ৩ ছাত্রী গুরুতর আহত
  •   আশিকাটিতে খাটের নিচে গৃহবধূর লাশ ॥ স্বামী পলাতক

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

ন্যাচারাল থেরাপি

আকুপ্রেশার : বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যা ও চিকিৎসা

আকুপ্রেশার : বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যা ও চিকিৎসা
অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ্ উদ্দিন

(৮ম পর্ব ॥ পূর্ব প্রকাশিতের পর)

স্মৃতিশক্তি দুর্বলতা ও ¯স্নায়ুবিক দুর্বলতা

আমাদের দেহে যে জৈববিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, মস্তিষ্ক তার উৎস। মস্তিষ্কে উৎপন্ন ঐ+ আয়ন এ বিদ্যুৎপ্রবাহ সৃষ্টি করে। যদি কোনো কারণে অতিরিক্ত ঐ+ উৎপন্ন হয় তবে এটি শ^াস-প্রশ^াসের গৃহীত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে পানিতে পরিণত হয়। কিন্তু যদি ঐ+ আয়ন উৎপন্নের মাত্রা অনেক বেশি হয় তবে অতিরিক্ত ঐ+ আয়ন মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে থাকে। এই অতিরিক্ত ঐ+ সঞ্চালন ¯œায়ুকোষ ও সুষম্মাকা-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং স্পাইনাল কড দুর্বল হয়ে যায় ফলে ¯œায়ুবিক দুর্বলতা দেখা দেয়।

পার্কিনসন’স : ¯œায়ুতন্ত্র দুর্বল হলে দেহের কোনো কোনো অংশবিশেষ করে হাত, পা ও ঘাড় ইত্যাদি অঙ্গ কাঁপতে থাকে একে পাকিনসন’স বলে।

অচেতন অবস্থা : মস্তিষ্কের মোটর নিউরন ক্ষতিগ্রস্ত হলে রোগী অচেতন হয়ে যায়। মৃত্যুর আগে কখনো কখনো রোগী ছয় মাস পর্যন্ত এই অবস্থায় থাকে।

স্মৃতিশক্তি দুর্বলতা ও ¯œায়ুবিক দুর্বলতার চিকিৎসা

১) ১, ২, ৫, নিউরন বিন্দু ও সাইটিকা বিন্দুতে দিনে দুবার চাপ দিতে হবে।

২) সোজা হয়ে বসার অভ্যাস করুন। খাবারের আগে বা দুই ঘণ্টা পর চেয়ারে পিঠ রেখে সোজা হয়ে বসুন। প্রথমে লম্বা করে নিঃশ্বাস ছেড়ে দিন তারপর লম্বা করে নিঃশ্বাস নিন। প্রতিদিন ৮-১০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে।

৩) দেহ থেকে টক্সিন বের করে দিন।

৪) ৬০ গ্রাম মরিচামুক্ত লোহা, ৬০ গ্রাম বিশুদ্ধ তামা, ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম রুপা, ১০ থেকে ৩০ গ্রাম সোনা আট গ্লাস পানিতে রেখে ফুটিয়ে চার গ্লাস করে প্রতিদিন পান করতে দিন।

ভ্রƒণের মস্তিষ্কের সমস্যা

গর্ভধারণের তিন মাস পর থেকে মানব শিশুর মস্তিষ্ক ও ¯œায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন অংশের উন্নতি শুরু হয় এবং জন্মের পর নয় মাস পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অব্যহত থাকে। এজন্যে এ সময় গর্ভবতী মায়ের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভ্রƒণ অবস্থায় মস্তিষ্কের সামান্য ক্ষতি পরিণত বয়সে গুরুতর অঙ্গহানির কারণ হয়ে থাকে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে জন্মের পর পরই একপাশর্^ প্যারালাইসিস হয়ে থাকে।

ভ্রƒণের মস্তিষ্কের সমস্যার মূল কারণ

পুরুষের শুক্রাণু ও মেয়েদের ডিম্বাণুকে কাঁচা ইটের (পর্যাপ্ত তাপ না পেলে অপরিপক্ক থেকে যায়) সাথে তুলনা করা যায়। বয়োঃসন্ধিকালে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হওয়া শুরু হয়। ২১ থেকে ২৪ বছর বয়সে তা পরিপক্কতা লাভ করে। এ সময়ের মধ্যে যদি ছেলেদের (অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ বা হস্তমৈথুন, যৌনবিষয়ক বই পড়ে, যৌনবিষয়ক ভিডিও দেখে অথবা দেহের বাড়তি তাপের কারণে শুক্ররস পাতলা হলে) শুক্রাণু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মেয়েদের (যৌনবিষয়ক বই পড়ে, যৌনবিষয়ক ভিডিও দেখে অথবা দেহের বাড়তি তাপজনিত কারণে অতিরিক্ত সাদা¯্রাব নিঃসৃত হলে) ডিম্বরস পাতলা হয়, তবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু অপরিপক্ক থেকে যায়। এসব অপরিপক্ক শুক্রাণু বা ডিম্বাণু থেকে যে ভ্রƒণ জন্ম হয় তাদের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত থাকে।

যদি কোনো মা সন্তান গর্ভে ধারণ করা অবস্থায় অধিক যৌনমিলন করে, অতিরিক্ত টেনশন করে অথবা পেটে কোনো আঘাত পায় তবে গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যদি কোনো মা সন্তান গর্ভে ধারণ করা অবস্থায় ঠা-া, জ¦র, মাম্পস, গ্যাস্ট্রিক অথবা অধিক তাপজনিত সমস্যায় ভোগেন তবে গর্ভস্থ সন্তানের মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মস্তিষ্কের সমস্যা শুরু হওয়ার সাথে সাথে মাস্তিষ্কে অবস্থিত পিটুইটারী ও পিনিয়াল গ্রন্থি আক্রান্ত হয়। এই আক্রান্ত গ্রন্থিগুলো যৌনগ্রন্থিকে বিশৃঙ্খল করে দেয় এবং থাইরয়েড/প্যারাথাইরয়েড ও এড্রিনাল গ্রন্থি শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে।

ভ্রƒণের সমস্যাগুলো : ভ্রƒণের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণত পোলিও, পেশীর ক্ষয়িষ্ণুতা, ¯œায়ুবিক পীড়া ইত্যাদি।

চিকিৎসা : গর্ভধারণ করা অবস্থায় মস্তিষ্কের ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্যে সর্বপ্রথম এর মূল কারণগুলো জেনে এগুলো প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১) বিবাহের পর মেয়েদের মাসিক অনিয়মিত থাকলে তার চিকিৎসা করে নিন। গর্ভধারণের পূর্বে কমপক্ষে চারমাস মাসিক নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।

২) গর্ভধারণের পর থেকে সন্তান প্রসব পর্যন্ত নিয়মিত আকুপ্রেশার চিকিৎসা করতে হবে।

৩) শিশুর কোনো ধরনের মস্তিষ্কের সমস্যা দেখা দিলে ১ থেকে ৫, ৭ থেকে ৯, ২৫, ২৮ ও ২৬নং বিন্দুতে দিনে দুবার আকুপ্রেশার চিকিৎসা করতে হবে।

৪) ৬০ গ্রাম মরিচামুক্ত লোহা, ৬০ গ্রাম বিশুদ্ধ তামা, ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম রূপা, ১০ থেকে ৩০ গ্রাম সোনা চার গ্লাস পানিতে রেখে ফুটিয়ে এক গ্লাস করে নিন। তারপর ছেঁকে নিয়ে সম্ভব হলে ফ্লাক্সে রেখে দিন। সারাদিন এই পানি কুসুম গরম অবস্থায় বার বার এক/দু চামচ করে পান করান। (চলবে)

অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ্ উদ্দিন : বিভাগীয় প্রধান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজ। ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

[পরের পর্ব আগামী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে]

* চিকিৎসাঙ্গন বিভাগে লেখাসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক যে কোনো প্রশ্ন পাঠান।

ই-মেইল : into.alamin@gmail.com

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়