চাঁদপুর, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বৃহৎ র‌্যালি আল-আমিন একাডেমি ও চেয়ারম্যান সেলিম খানের
  •   পদ্মা সেতুর থিম সং-এর গীতিকার কবির বকুলকে শিক্ষামন্ত্রীর অভিনন্দন
  •   হাইমচরে পানিতে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু
  •   শনিবার চাঁদপুরে পাঁচজনের করোনা শনাক্ত
  •   মতলব উত্তরে নৌকাডুবি ॥ নিখোঁজ ১

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০

ন্যাচারাল থেরাপি

কিশোরের স্বাস্থ্য সমস্যায় আকুপ্রেশার চিকিৎসা

অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ্ উদ্দিন

কিশোরের স্বাস্থ্য সমস্যায় আকুপ্রেশার চিকিৎসা
অনলাইন ডেস্ক

মানব শিশুর অধিকাংশ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও গ্রন্থি জন্মের পর হতেই সক্রিয় হলেও যৌন গ্রন্থিগুলো সক্রিয় হয় বয়ঃসন্ধিকাল থেকে। শীতের রুক্ষ প্রকৃতি যেমন বসন্তে ফুলে ফলে ভরে উঠে এবং অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়। ঠিক তেমনিভাবে শিশুকালের জড়তাণ্ডভীরুতা পার করে মানব শিশু যখন বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছে, তখন তার দেহ, মন ও মস্তিষ্কে নববসন্তের উচ্ছ্বাস দোল খেতে শুরু করে। তখন সে স্বপ্নের জগতে ভাসতে থাকে। সব শিশুর বয়ঃসন্ধিকাল একই সাথে শুরু হয় না। সাধারণত ছেলেদের তের থেকে পনের বছরের মধ্যে এবং মেয়েদের নয় থেকে বার বছরের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হয়।

বয়ঃসন্ধিকালে রসায়নিক নিঃসরণের মাধ্যমে সম্মুখ পিটুইটারি গ্রন্থিকে সক্রিয় করে তোলে। তখন এই গ্রন্থি গোনাডোট্রাফিক নামক যৌন উত্তেজক হরমোন রক্তে ছেড়ে দেয়। এই হরমোন রক্ত বাহিত হয়ে যৌন গ্রন্থিতে পৌঁছে যায় এবং মানব শিশুর ঘুমন্ত যৌন গ্রন্থিকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে বালকের শুক্রাশয়কে টেস্টোস্টেরন নামক হরমোন ক্ষরণে উদ্বুদ্ধ করে। এর প্রভাবে শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। গোনাডোট্রাফিক হরমোন বালিকার ডিম্বাশয়কে ইস্টোজন ও প্রোজেস্টেরন নামক হরমোন ক্ষরণে উদ্বুদ্ধ করে। এর প্রভাবে ডিম্বাণুু উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ক্ষরণ বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তনকে সুস্পষ্ট করে তোলে। এ সময় শারীরিক, মানসিক ও চারিত্রিক পরিবর্তনের সাথে সাথে হাতের আঙুলের গোড়ায় অর্ধ-চন্দ্র আকার ধারণ করে। এ চিহ্ন প্রথমে বৃদ্ধা আঙুলে শুরু হয়, আস্তে আস্তে অন্যান্য আঙুলে দেখা দেয়। এই চিহ্ন এতোটাই স্পষ্ট যে, একজন সুস্থ-সবল ১২/১৪ বছরের কিশোরের ক্ষেত্রে এটি দুধের মতো সাদা দেখায় এবং এটি নখের প্রায় ৪০ ভাগ জুড়ে অবস্থান করে। এমনকি তাদের পায়েও এ চিহ্ন দেখা যায় তবে পায়ের এই চিহ্ন ঘোলা পানির মতো দেখায়।

পুরুষের শুক্রাণু ও মেয়েদের ডিম্বাণুকে কাঁচা ইটের (পর্যাপ্ত তাপ না পেলে অপরিপক্ক থেকে যায়) সাথে তুলনা করা যায়। বয়ঃসন্ধিকালে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হওয়া শুরু হয় এবং ২১ থেকে ২৪ বছর বয়সে তা পরিপক্কতা লাভ করে। যাদের যৌন গ্রন্থি দুর্বল এবং ছেলেদের শুক্রক্ষয় অথবা মেয়েদের সাদাস্রাবক্ষয় হলে নখের সাদা অর্ধ-চন্দ্র নতুন চাঁদের ন্যায় চিকন এবং হালকা থাকে।

এই সময়ের মধ্যে যদি ছেলেদের (অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ এবং হস্তমৈথুন, যৌন-বিষয়ক বই পড়ে, যৌন-বিষয়ক ভিডিও দেখে অথবা দেহের বাড়তি তাপের কারণে শুক্ররস পাতলা হলে) শুক্রাণু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মেয়েদের (যৌন-বিষয়ক বই পড়ে, যৌন-বিষয়ক ভিডিও দেখে অথবা দেহের বাড়তি তাপজনিত অতিরিক্ত সাদাস্রাব নিঃ¯ৃত হলে) ডিম্বরস পাতলা হয়। তখন এ অর্ধ-চন্দ্র থেকে সাদা ফুলের মতো স্ফুলিঙ্গ মাঝে মধ্যেই বের হয়ে যায়। ফলে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু অপরিপক্ক থেকে যায়। এরা দাম্পত্যজীবনে যৌন সমস্যা ও শারীরিক সমস্যায় ভোগে। এদের থেকে আগত শিশু পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা ও বিভিন্ন প্রকার শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

এদের ক্ষুধা মন্দা, ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা (কিন্তু হজমশক্তি দুর্বল), স্মৃতিশক্তি দুর্বলতা, বিষণœতা, মুখে ব্রণ উঠা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। এরা শারীরিকভাবে নিস্তেজ থাকে এবং অল্প বয়সেই উদ্দামহীন হয়ে পড়ে।

চিকিৎসা : ক) হজমশক্তি বাড়ানোর চিকিৎসা করতে হবে।

খ) প্রতিদিন ২/৩ কাপ সবুজ রস এক গ্লাস তাজা ফলের রস পান করতে হবে।

গ) প্রতিদিন লোহা/তামা/রূপা/সোনা দ্বারা চার্জিত পানি পান করতে হবে।

ঘ) ৪, ৮, ১১, ১২ ও ১৩/১৪নং বিন্দুতে নিয়মিত চিকিৎসা করলে দ্রুত আরোগ্য লাভ হবে।

যদি ছেলেরা একুশ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের শুক্রাণু এবং মেয়েরা আঠার বছর বয়স পর্যন্ত তাদের ডিম্বাণু সুরক্ষা করতে পারে তাহলে তাদের দাম্পত্যজীবন হবে সুখের এবং তারা সুস্থ-সবল সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হবে। (চলবে)

অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ্ উদ্দিন : বিভাগীয় প্রধান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজ। ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

[পরের পর্ব আগামী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে]

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়