চাঁদপুর, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ২৫ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   সেতু নির্মাণ হলে ঢাকা -চাঁদপুর সদরের দূরত্ব কমবে ৫২ কিলোমিটার
  •   মেঘনায় ট্রলারের ধাক্কায় জেলে নিখোঁজ
  •   নৌ-ধর্মঘট প্রত্যাহার, সকাল থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু
  •   মতলব উত্তরে আবারও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
  •   কবরবাসী ইব্রাহিম এসএসসি‘তে পেয়েছে “এ“

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট
অনলাইন ডেস্ক

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালটি চালুর পর থেকে আজও পর্যন্ত রোগীদের জন্য স্থায়ীভাবে কোনোপ্রকার বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়নি। জেলার সরকারি এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা থাকলেও তার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট।

খাবার পানি সংকটের কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। সরকারি এ হাসপাতালের নিজস্ব ডিপের পানি থাকলেও অতিরিক্ত আয়রণে তা রোগীরা ব্যবহার করতে পারছে না। হাসপাতালটিতে বিশুদ্ধ কোনো খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজনরা পানির বোতল নিয়ে ছুটছেন বিভিন্ন স্থানে।

জানা যায়, গত কয়েক বছর পূর্বে হাসপাতালের আঙ্গিনায় রোগীদের জন্য একটি টিউবওয়েল বসানো হয়েছিলো। আর সেখান থেকেই পানি সংগ্রহ করে প্রয়োজন মেটাচ্ছিলেন রোগীরা। কিন্তু গত ৩ থেকে ৪ বছর ধরে সেটিও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মহাদুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতাল সংলগ্ন দোকানি কামরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশুদ্ধ কোনো খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই তাদের দোকানে গিয়ে পানি সংগ্রহ করেন। কেউ কেউ হাসপাতালের সামনে থাকা কালেক্টরেট জামে মসজিদের অজুখানা থেকে পানি সংগ্রহ করেন। আবার অনেকে কোনো উপায় না পেয়ে পার্শ্ববর্তী ডাকাতিয়া নদী কিংবা পৌর পাঠাগার থেকে খাবার পানি এনে প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী নাছিমা আক্তার, জলিল মিয়া ও রফিকুল ইসলাসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালটিতে কোনোপ্রকার বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় আমাদেরকে প্রতিদিনই অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। আমরা প্রতিদিন বোতল নিয়ে হাসপাতালে সামনে থাকা মসজিদ, হোটেল এবং পৌর পাঠাগার থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে আনি। আবার অনেক সময় আমরা দোকান থেকেও খাবার পানি ক্রয় করি।

তারা আরও জানান, দেখা গেছে আমরা যখন রোগী নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকি, তখন আমাদের রোগীর পাশে দেখাশোনা করার জন্য অন্য কেউ থাকে না। তখন হয়তো রোগীকে একা রেখেই আমাদেরকে বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করে আনতে হয়। হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমরা ঠিকমতো গোসল করতে পারিনি।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী রহিমা আক্তার ও হাসিনা বেগম বলেন, হাসপাতালে যে পানি সরবরাহ করা হয় তা খাওয়া তো দূরের কথা ব্যবহারের জন্যও উপযোগী নয়। পানিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ থাকায় এ পানি দিয়ে ধোয়ামোছা করলে কাপড় ও অন্যান্য জিনিস বিবর্ণ হয়ে যায়। গোসল করলে শরীর ও চুল আঠা আঠা হয়ে যায় এবং পুরো শরীরে চুলকানি শুরু হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, হাসপাতালে যে পানির সরবরাহের ব্যবস্থা, সেটি অবশ্য পৌরসভার মাধ্যমে হয়ে থাকে। এছাড়া হাসপাতালে যে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে, আসলে রোগীর পরিমাণ হিসেবে এটা দিয়ে সব রোগীর চাহিদা মেটানো যায় না। তাই আমরা অচিরেই চেষ্টা করবো একটি আর্সেনিকমুক্ত গভীর নলকূপ বসিয়ে রোগীদের বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করার জন্য। সূত্র : চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়