চাঁদপুর, রবিবার, ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ২৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা
  •   ইভিএম’র ভুল ধরতে পারলে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার
  •   মতলব দক্ষিণে মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে মারধর
  •   ভুয়া বিচারপতি বিপ্লব এখন কারাগারে
  •   মতলব দক্ষিণে কীটনাশক খেয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:৪৩

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় স্মৃতিচারণ

বঙ্গবন্ধুর ডাকেই সেদিন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিলাম : অধ্যাপক ডাঃ এসএম মুনসুর আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক
বঙ্গবন্ধুর ডাকেই সেদিন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিলাম : অধ্যাপক ডাঃ এসএম মুনসুর আহমেদ

চাঁদপুরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় স্মৃতিচারণ করেন মুক্তিযুদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ এস এম মুনসুর আহমেদ। ২০ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় বিজয় মেলা মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে অধ্যাপক ডাঃ মুনসুর আহমেদ বলেন,

আমরা মমিন খান মাখনের বাসায় বোমা তৈরি শুরু করি। একদিন বোমা বিস্ফোর হয়ে ৪ জন যুবক ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। এরা হলো কালাম খালেক সুশিল শংকর শহীদ হয়। এপ্রিলের ১০ তারিখ চাদপুরে পাকিস্তান বিমান হামলা করে। আমরা থ্রি নট রাইফেল দিয়ে বিমানকে কিছু করতে পারবো না ভেবে, ভারতে ট্রেনিং এ চলে যাই। রফিক এসে আমাকে বলে বড় ভাই আগরতলা থেকে এসেছে।

আপনি না আগরতলা যাবেন। বলার পর আমি গিয়ে দেখি তার বেশভুষা চাষার মতো। তাকে বলাম ভাই আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন। তিনি বলেন, ভাই তুমি মুক্তিযুদ্ধে তুমি ভালো পোষাকে যেতে পারবে না এভাবে যেতে হবে। তখন আমি ও চাষার বেশে বাজারের ব্যাগে কাধে নিয়ে যাবার জন্য প্রস্তুতি নেই। মাকে গিয়ে বললাম মা যুদ্ধে যাব। তখন মা কেঁদে জড়িয়ে ধরেন। লাকসামে দিয়ে বর্ডার পার হবো। শহিদ ভাই বলে আমরা এক বাড়িতে রাত কাটাবো। হাটতে লাগলাম। পেছনে শান্তি কমিটির লোক ফলো করছিল। রাতে আমরা বলি চাচা রাতে আপনার বাড়িতে থাকবো। রাতে তিনি একজন মেম্বারের বাড়িতে রেখে আসে। কেয়ারটেকারকে বলে দেয়া হয় মেম্বার সাহেব বাড়িতে এসে বলে তোমরা কোথা থেকে এসেছ। তারপর লজিং মাস্টার চলে গেলে আমাদের কাচারি ঘরে থাকতে দেয়। রাতে তার ঘরে আমরা খাইনি। ফজরের আযানের পর আমরা মেম্বারের বাড়ি থেকে রওনা দেই। লাকসামের বর্ডার দিয়ে আমরা যেতে পারলাম না। এক বৃদ্ধ আমাদের বলে এ বর্ডার বন্ধ। চৌদ্দগ্রাম বর্ডার দিয়ে যেতে বলে। তখন শান্তিবাহিনীর সদস্যরা আমাদের ফলো করতে থাকে। আমরা নৌকা রিজার্ভ নিয়ে নদী পার হই। চৌদ্দগ্রামের চিওরা দিয়ে বডার পার হতে গেলে কিছু ছাত্র আমাদের বলে এখন বডার পার হতে পারবেন না।

পাকিস্তানিরা গার্ড দিচ্ছিল। বিকাল ৪ টায় বর্ডার পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করি। ভারতীয়রা আমাদের বেশ সাহায্য করেছে। রাতে আমাদেরকে একটা গোডাউনে থাকতে দেয়া হলো। আমাদের সাথে যে পুটলি ছিল তাই মাথার নিচে দিয়ে ঘুমিয়ে পরি। বালতিতে ভাত, ডাল, ডিম এনে দিল তা যেন অমৃত খেলাম। ট্রেনিং এ গিয়ে দেখা হয় মনির আহমেদের। শহিদ ভাইয়ের কাছ থেকে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডাক্তার হিসাবে। তারপর কসবায় যুদ্ধ করি।

আমরা অনেক স্থানে যুদ্ধ করেছি। নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আমি মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে ভাতা নেইনি এত দিন। এখন আমার সন্তানেরা বলে তুমি ভাতা না নিলে আমরা কিভাবে বলবো মুক্তিযুদ্ধার সন্তান আমরা। চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ যোগে আমাদেরকে নারায়নগঞ্জের আনা হয়। পথিমধ্যে চাঁদপুর ঘাটে জাহাজ থামানো হলে আমি লিডারকে বলি মায়ের সাথে দেখা করবো। তখন দেখা করার সুযোগ দিলে বাড়িতে গিয়ে মা কে দেখি আমার চিন্তায় রুগ্নসার হয়ে গেছে। আমাকে দেখে আবারো কান্নায় ভেঙ্গে পরে। আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকেই সে দিন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিলাম। আজকে বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমানে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধা ইয়াকুব আলী মাস্টার। সঞ্চালনা করে মুক্তিযুদ্ধা মহসিন পাঠান।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়