চাঁদপুর, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ১ জিলহজ ১৪৪৩  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই
  •   বাংলাদেশে ঈদুল আজহা ১০ জুলাই
  •   ডাকাত সন্দেহে কোস্টগার্ডের হামলায় নিখোঁজ ১ : আহত ২
  •   হাজীগঞ্জে নবজাতকের লাশ উদ্ধার
  •   অধ্যাপক    কামরুজ্জামান সাহেবের স্মরণ সভা  ও মিলাদ

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২২, ২১:১৫

নতুন সুপারনোভার খবর পেলেন বিজ্ঞানীরা

অনলাইন ডেস্ক
নতুন সুপারনোভার খবর পেলেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবী থেকে ৫০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে কার্টহুইল গ্যালাক্সিতে (ছায়াপথ) ঘটে গেছে নাক্ষত্রিক এক বিস্ফোরণ, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় সুপারনোভা।

কার্টহুইল নামের এই গ্যালাক্সির ঠিকানা স্কালপ্টর নামে একটি নক্ষত্রপুঞ্জে। এই গ্যালাক্সিটি দেখতে একটু অন্যরকম। এতে দুটি রিং দৃশ্যমান। এই গ্যালাক্সিটির দেখতে অন্য রকম হওয়ার কারণ হলো বেশ কয়েক লাখ বছর আগে এই গ্যালাক্সিটি তার পাশের ছোট আরেকটি গ্যালাক্সির সাথে একীভূত হয়েছে।

সেই গ্যালাক্সিতেই ঘটে যাওয়া সুপারনোভার ছবিটি পেয়েছে ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি (ইএসও)। চিলিতে ইএসও’র নিউ টেকনোলজি টেলিস্কোপ (এনটিটি) ব্যবহার করে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে এই সুপারনোভার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। যখন বিশালাকার কোনো নক্ষত্র তার জীবনের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছায়, তখন সেই নক্ষত্রটি বিস্ফোরিত হয়। কয়েক মাস থেকে শুরু করে বছরব্যাপীও দৃশ্যমান হতে পারে এমন বিস্ফোরণ।

তবে এখন যে বিস্ফোরণের কথা বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেটি খুব বেশিদিন আগে হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। চিলিতেই ইএসও’র আরও একটি টেলিস্কোপ রয়েছে। ভেরি লার্জ টেলিস্কোপের (ভিএলটি) মাল্টি ইউনিট স্পেকট্রোস্কোপিক এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে ২০১৪ সালের আগস্টে এই গ্যালাক্সির যে ছবি পাওয়া গিয়েছিল আর এখন যে ছবি পাওয়া গেছে সেগুলোর তুলনা করছেন বিজ্ঞানীরা। ইএসও’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুরোনো ছবিগুলোতে সুপারনোভার কোনো চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে না।

নাক্ষত্রিক এই বিস্ফোরণটিকে এসএন২০২১এএফডিএক্স নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এটা টাইপ টু সুপারনোভা। অর্থাৎ এ বিস্ফোরণে হাইড্রোজেন রয়েছে আর এটি বিস্ফোরিত হয়েছে কারণ, নক্ষত্রটির বেঁচে থাকতে যে জ্বালানি প্রয়োজন হচ্ছিল তা শেষ হয়ে এসেছে এবং নিজেরই মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে নিজের ভেতরের অঞ্চল সংকুচিত হয়ে পড়তে থাকে। যখন কোনো সুপারনোভা ঘটে তখন এটা থেকে এত উজ্জ্বল আলো তৈরি হতে পারে যে এর আলো পুরো গ্যালাক্সিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গ্যালাক্সি জুড়ে আলোর সঙ্গে বিস্ফোরণের ফলে ওই নক্ষত্রের নানা উপাদানও ছড়িয়ে পড়ে।

ইএসও বিবৃতিতে বলছে, যে কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন যে, আমরা, আমাদের সব কিছু স্টারডাস্টের তৈরি। ওই বিস্ফোরণের ফলে বিস্ফোরিত নক্ষত্রটির নানা উপাদান পুরো গ্যালাক্সিতে ছড়িয়ে পড়ে, যা পড়ে অন্য নক্ষত্র তৈরির উপাদান হয়, তার আশপাশে থাকা অন্যান্য গ্রহের উপাদান হয়, আর সেই সব গ্রহে যদি কোনো প্রাণ থাকে সেই প্রাণেরও উপাদান হয়।

কার্টহুইলের এই বিস্ফোরণের সত্যতার জন্য আরও কিছু টেলিস্কোপের সাহায্য নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চিলিতে একই ধরনের আরও একটি প্রকল্পে ওই গ্যালাক্সি থেকে বিকিরণের কথা জানানো হয়েছে এবং সেটা টাইপ টু সুপারনোভা ছিল বলেও জানানো হয়েছে।

সূত্র : স্পেসডটকম।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়