চাঁদপুর, রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯, ১৩ রজব ১৪৪৪  |   ১৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সাথে এমপির মতবিনিময়
  •   খলিশাডুলীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
  •   জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জনের মৃত্যু
  •   আজ রোটারিয়ান মরহুম দেওয়ান আবুল খায়েরের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী
  •   ফরিদগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ আটক তিন

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২১, ০১:৩০

চোখের জলে বার্সাকে বিদায় দিলেন মেসি

রাসেল হাসান

মেসি কাঁদছেন, কাঁদছেন তার কোটি সমর্থক। স্তব্ধ তাঁর হেটার্সরাও। একটি ক্লাবকে কতটা বেশি ভালোবাসলে এমন আবেগঘন মূহুর্ত সৃষ্টি হতে পারে! এমন মেসিকে কখনোই দেখেনি ভক্তরা। যিনি কথা বলতে গিয়ে বারবার খুঁজেছেন টিস্যু বক্স। ভারি হয়ে এসেছে তাঁর কণ্ঠস্বর। ইউরোপের কাতালান ক্লাবের মেসির বিদায় কান্না বৃষ্টি হয়ে ঝরছিলো বাঙ্গালী সমর্থকদের মনে। যাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন এই ফুটবল যাদুকরের জন্য তাদের হৃদয় ভেঙ্গে হয়েছে চৌচির।

২১ বছরের সম্পর্ক শেষ করার আগেও মেসি চাইছিলো বার্সায় থাকতে। কিন্তু ক্লাবের দেনার কারণেই থাকা হচ্ছে না তার। তবে এমন বিদায় চাননি মেসি। তাইতো কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, ‘এভাবে বিদায় নিতে হবে কখনো ভাবিনি। মনে হয় না কেউই ভেবেছে। চেয়েছিলাম মাঠভর্তি দর্শকের অভ্যর্থনার মধ্যে বিদায় নিতে।’

প্যানাল্টি মিস করলে মেসিকে নিয়ে ট্রল করতে স্যোসাল মিডিয়ায় ব্যস্ত ছিলেন যারা তাদের টাইমলাইনও আজ শুধুই হাহাকার। মেসির কান্নার ছবি পোস্ট করে কেবলই সমবেদনার বানী। মেসির জন্যই যারা বার্সা করেছে, ভালোবেসেছে ক্লাবটিকে তাদের বুকে যে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে তা বলে বুঝানো হয়তো অসম্ভব।

রবিবার ন্যু-ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে দর্শকের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন তিনি। মেসিকে দেখতে স্টেডিয়ামটির সামনে ভিড় করেছেন অসংখ্য বার্সেলোনা সমর্থকরা। মেসিও চাইছিলেন না সমর্থকদের ছাড়া এমন একটি বিদায়। তাইতো জানালেন, 'দেড় বছর ধরে মাঠে আমাদের সমর্থকদের পাইনি। তাদের না দেখে বিদায় নিতে হচ্ছে, এই ব্যাপারটাই বেশি কষ্ট দিচ্ছে। তবে আমি এখানে আবার ফিরব, এটা আমার ঘর। আমার সন্তানদেরও আমি কথা দিয়েছি, আমি আবার ফিরে আসব।’

মেসি আর থাকছেন না বার্সায় তা আগেই বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে কাতালান ক্লাব। ৯৯ শব্দের ওই বিবৃতির মাধ্যমেই ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটেছে বার্সা-মেসির। হৃদয় ভেঙ্গেছে কোটি সমর্থকদের। ১৩ বছর বয়সে বার্সোলোনায় পা রেখেছিলো মেসি। আর ২১ বছর পর ক্লাবটা ছেড়ে যাচ্ছে। তবে পুরো ক্যারিয়ারে তার সবথেকে কঠিন মুহুর্ত হিসেবে দেখছেন নিজের অভিষেকটাকে তা জানাতে ভোলেননি। বলেছেন, 'সেখান থেকেই সবকিছুর শুরু, আমার প্রথম স্বপ্ন পূরণ।’

ভক্তদের জন্য বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করা হলে খেলবেন কি না?-এমন প্রশ্নে মেসি বলেন, ‘সমর্থকদের জন্য যে কোনো কিছুই করতে প্রস্তুত আমি।’ লিওনেল মেসি চান সবাইকে সম্মান দেখিয়েই যেভাবে এই ক্লাবে বেড়ে উঠেছে তিনি, তেমনি মানুষও যেন তাকে সেভাবেই মনে রাখুক। পাশাপাশি তার চাওয়া মাঠের মেসিকেও যেন তার সমর্থকসহ সবাই মনে রাখেন।'

ফুটবল ভক্তদের মনে একজন লিওনেল মেসি ছিলেন, আছেন, থাকবেনও। কালের স্রোতে হয়তো বহু সুপারস্টার জন্ম নিবে কিন্তু সে স্রোতেও ভালোবাসার ট্যাটো ঘেরা টিকে থাকবে একটি নাম, 'লিওনেল মেসি'।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়