রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৪৩তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্ধোধন
  •   কচুয়ায় কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
  •   স্বাক্ষর জাল করে আওয়ামীলীগের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা পরিবর্তনের অভিযোগ
  •   বিএনপির মানিক-শাহীন দুই গ্রুপের সাথে যুগ্ম মহাসচিবের সভা
  •   কচুয়ায় বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২০:৫৪

শাহরাস্তির নয়নপুরে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
শাহরাস্তির নয়নপুরে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

শাহরাস্তি উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে স্বামী জামাল হোসেনকে ঘুমের ঔষধ ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৩৪)কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল ২৪ রোববার অক্টোবর বিকেলে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম ফারহানা ইয়াসমিন এই রায় দেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ১৪ এপ্রিল ফাতেমা আক্তারের সাথে তার স্বামী মৃত জামাল হোসেনের পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদ হয়। সন্তানদের সামনে স্বামী ফাতেমাকে মারধর করায় অসম্মানবোধ করে। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামীকে জীবনে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। এরপরদিন ১৫ এপ্রিল পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১১টায় বাজার থেকে স্বামী ঘরে আসলে জন্ডিসের তরল ঔষধের সাথে ৮টি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে রাখে। ওই ঔষধ পান করে রাতে স্ত্রী ফাতেমাসহ ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জামাল হোসেন অচেতন হয়ে পড়লে নাকে-মুখে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যুনিশ্চিত করে। ঘটনাটি গোপন করার জন্য ফাতেমা পাশর্^বর্তী ঘর থেকে তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম ফাহিম (১৫)কে ঘুম থেকে উঠিয়ে তার পিতা মৃত্যুবরণ করেছে বলে জানায়। ছেলেকে ফাতেমা বলে তার পিতার সাথে ঝগড়া বিবাদ হয়েছে দিনে, যার ফলে তার মৃত্যুর ঘটনায় তাদেরকে সন্দেহ করবে। এই জন্য মা ও ছেলে একসঙ্গে বাড়ির পাশে পুরনো গর্ত আকারে বড় করে জামালকে মাটি চাপা দেয়। সকাল বেলায় ফাতেমা প্রচার করে তার স্বামী ঢাকায় চাকুরীর জন্যে গিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি জামাল হোসেন পরিবারের সন্দেহ হলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে সন্ধান পায়নি। পরবর্তীতে ফাতেমাকে দিয়ে ২৮ এপ্রিল শাহরাস্তি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করে।

এরপর ৩০ এপ্রিল দুপুরে ফাতেমা আক্তার তার স্বামীর নিকটাত্মীয় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোঃ আমির হোসেনের নিকট পুরো ঘটনার বিবরণ বলেন। আমির হোসেন ঘটনাটি শাহরাস্তি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে তাদেরকে থানা নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবদের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে জামাল হোসেনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ওইদিনই আমির হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় ফাতেমা আক্তার ও তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম ফাহিমকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শাহরাস্তি থানা পুলিশ ওইদিনই ফাতেমা আক্তার ও তার ছেলেকে আদাতে পাঠান। গত ৬ বছর ফাতেমা চাঁদপুর জেলা কারাগারে এবং ছেলে জাহিদুল ইসলাম শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে থেকে এখন জামিনে আছেন। জাহিদুলের মামলাটি শিশু আদালতে চলমান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সমির মজুমদার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি বদিউজ্জামান কিরণ বলেন, মামলাটি আদালতে ৬ বছর চলমান থাকা অবস্থায় ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামীর উপস্থিতিতে বিচারক আজ এই রায় দেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, কাজী জুম্মান ও ইয়াসিন আরাফাত ইকরাম।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়