চাঁদপুর, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯, ২৪ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   পদ্মা সেতু : কোন খাতে কত ব্যয়
  •   স্বপ্নের পদ্মা সেতু : অসাধ্যকে সাধন করার মহাকাব্য
  •   বাবুরহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামানের ইন্তেকাল
  •   পদ্মা সেতু উদ্বোধন উদ্‌যাপনে চাঁদপুরেও উৎসবের আমেজ
  •   আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ : স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন

প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২২, ১৬:৩৫

হাজীগঞ্জে লাখ টাকায় ১৩ মাসের  সন্তান দত্তক (দেখুন বাবার সাক্ষাতকার)

কামরুজ্জামান টুটুল

লাখ টাকায় নিজ সন্তানকে দত্তক দিলেন বাবা-মা। ২ কন্যা সন্তানের মধ্যে ১৩ মাসের ছোট সন্তানকে দত্তক দিয়ে এখন হাসফাঁস করছেন এই বাবা- মা। দত্তক দেয়া পরিবার থেকে যে টাকা পেয়েছেন সেই টাকা দিয়ে নিজের চিকিৎসা আর দেনা পরিশোধ করবেন বলে চাঁদপুর কন্ঠকে জানান এই দম্পত্তি।

ঘটনাটি হাজীগঞ্জের পৌর ৩নং ওয়ার্ডের ধেররা-বিলওয়াই গ্রামের ইউনুস মজুমদার বাড়ির। যুবায়ের আক্তার নামের শিশুটি এই বাড়ির বশির-আসমা দম্পত্তির সন্তান। গত সোমবার দুপুরে এফিডেভিটের মাধ্যেমে রাজধাণীর একটি পরিবারের কাছে সন্তান দত্তক দিয়েছেন। দত্তক নেয়া পরিবারটি তাদেরকে খুশি হয়ে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে জানান শিশুটির বাবা মো: বশির।

মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিনে শিশুটি বাড়িতে গেলে বাবা মো. বশির জানান, ২০১৬ সালে সিএনজি চালিত স্কুটারের চাপায় গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর চিকিৎসাজনিত কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। টাকার অভাবে চিকিৎসা এবং ঋণ পরিশোধ করতে পারছেনা। এছাড়াও তিনি অসুস্থতার কারনে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। মো: বশির আরো জানান, আমার সাড়ে তিন বছর ও তের মাস বয়সি দুইটি কন্যা শিশু রয়েছে। টাকার অভাবে আমার চিকিৎসা, ঋণ পরিশোধ ও বাচ্চাদের খাবার কিনতে (ক্রয়) পারছিনা।

এদিকে অসুস্থতার কারনে কাজও করতে পারছিনা। বাড়িতে বাবার পৈত্রিক সম্পত্তিও নানান জটিলটায় বিক্রি করতে পারছিনা। তাই ছোট মেয়েকে দত্তক দিয়ে দিয়েছি। মেয়েকে আদালতের মাধ্যমে দত্তক দিয়েছি তবে যারা দত্তক নিয়েছে তারা আমাকে ১ লাখ টাকা দিয়েছে।

শিশুটির মা আছমা আক্তার জানান, নাড়ি ছেড়া ধন মেয়ের জন্য বুকটা ফেটে যায় । কি করবো, স্বামীর চিকিৎসা দরকার, দেনা পরিশোধ দরকার আবার স্বামী সুস্থ হলে কাজ কর্মে যেতে পারবে, এমন বিষয়গুলো ভেবে মেয়েকে দিয়েছি।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার (ওসি) ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, খোঁজ-খবর নিচ্ছি। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তার জানান, পৌরসভার প্যানেল মেয়রকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। এছাড়াও ওসি সাহবের সাথে কথা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়