সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের পৃথক দুটি তদন্ত চলছে : পরিস্থিতি স্বাভাবিক : ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২১, ১১:৪৪

চাঁদপুরে করোনা নিয়ন্ত্রনে করণীয়-০২

করোনা পজিটিভ রোগীর নাম-ঠিকানা এলাকায় প্রচার করলে সংক্রমণ কমবেই : পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম

রাসেল হাসান
করোনা পজিটিভ রোগীর নাম-ঠিকানা এলাকায় প্রচার করলে সংক্রমণ কমবেই : পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম

‘যেখানেই করোনা পজিটিভ রোগী সেখানেই আতঙ্ক। একটি গ্রামে করোনা ছড়িয়ে দিতে একজন রোগীই যথেষ্ট। যদি সে রোগী ন্যূনতম ১৪ দিনের আইসোলেশনের নিয়ম না মানেন। চাঁদপুরের সিভিল সার্জনের মিডিয়ায় দেওয়া তথ্য মতে করোনা পজিটিভ রোগী ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেই নাকি চাঁদপুরে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। আমার প্রশ্ন পজিটিভ রোগী এভাবে ঘুরে বেড়াবে কেন? পজিটিভ রোগীর নাম-ঠিকানা কেন এলাকায় প্রচার করা হচ্ছে না? কেন গ্রামবাসীকে জানানো হচ্ছে না আক্রান্ত ব্যক্তি এই বাড়ির, এই ঘরের এই ভদ্রলোক প্রাণঘাতী ভাইরাস বহন করছেন। আপনারা আগামী ১৪ দিন নিরাপদ দূরত্বে থাকুন, আক্রান্ত ব্যক্তিকেও ১৪ দিনের আইসোলেশনে থাকতে বাধ্য করুন। এই প্রচারণার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি ১৪ দিনের মধ্যে বাইরে বের হলে স্থানীয় গ্রামবাসীই প্রতিবাদ জানাবে। তাকে ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য করবে। তাই পজিটিভ রোগীর নাম, ঠিকানা, পরিচয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি তার নিজ এলাকায় প্রচার করলে সংক্রমণ কমবে।’ কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ফরিদগঞ্জের কৃতী সন্তান মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম।

মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করা একজন দক্ষ কর্মকর্তা। তথ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনসহ সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োজিত ছিলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞ এই সচিব করোনা নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে বগুড়া জেলার দায়িত্বে রয়েছেন।

পরিকল্পনা কমিশনের মত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে থেকে যিনি সমগ্র বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার ছক আঁকেন। তিনি নিজ জন্মস্থান জেলার করোনা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে কী ভাবছেন তা নিয়ে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ থেকে কথা বলা হয় তাঁর সাথে। দীর্ঘ সময়ের আলাপচারিতায় চাঁদপুরের করোনা নিয়ন্ত্রণের নানা কৌশল, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কথা জানান তিনি।

করোনা সংক্রমণ কমাতে পজিটিভ রোগীর নাম, ঠিকানা প্রচার করাকেই কেন তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন জানতে চাইলে নাসিমা বেগম প্রাসঙ্গিক উদাহরণ টেনে বলেন, দেশের কোনো একটি অঞ্চলে সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া হলে আগে যেমনি ঘোষণা দিয়ে দেওয়া হয় সর্ব সাধারণকে নির্দিষ্ট অঞ্চল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এড়িয়ে চলার জন্য, ঠিক তেমনি করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হলে সিভিল সার্জন প্রশাসনকে তালিকা পাঠাবে। প্রশাসন পজিটিভ ব্যক্তির বাড়ি চিহ্নিত করে পুরো গ্রামে এনাউন্স করে দিবে যে, আক্রান্ত ব্যক্তি যেন ১৪ দিনের আগে বাইরে বের হতে না পারেন। আবার গ্রামবাসীও যেন ১৪ দিন ওই বাড়ির কাছে না যান। যদি আক্রান্ত ব্যক্তির বাজার, ঔষধ কিছু প্রয়োজন হয় তবে তা সরবরাহে প্রশাসন উদ্যোগী হবে।

‘এ প্রক্রিয়ায় করোনা পজিটিভ ব্যক্তি সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হবেন কি-না বা পজিটিভ ব্যক্তির কথা সকলে জানলে তার আত্মসম্মানে আঘাত আসবে কি-না’ জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব বলেন, একটা সময় আমরা এমনটা ভাবতাম। এখন দেখছি আগের ভাবনাটি ভুল ছিলো। একটি গ্রামের দু-চারজন পজিটিভ রোগীর আত্মসম্মানের কথা ভাবতে গিয়েতো আমরা পুরো গ্রামের মানুষকে বিপদে ফেলতে পারি না! আজকে চীন কিভাবে কোভিড নিয়ন্ত্রণে এনেছে? সবশেষ তারা অক্রান্তদের বন্দি করে গুলি করে মেরে ফেলেছে। দু-চার জন পজিটিভকে মেরে তারা লক্ষ লক্ষ নেগেটিভকে রক্ষা করেছে। কতটা হার্ড লাইনে ছিলো তারা। আমরাতো তেমন কোনো হার্ড লাইনে যাওয়ার কথা বলছি না। শুধু বলছি, যিনি পজিটিভ তার নাম-ঠিকানা জনসম্মুখে প্রচার করা হোক। এতে করে পজিটিভ রোগী ৭-৮ দিন পর বাহ্যিক সুস্থ হলেও সংকোচবোধের কারণে ১৪ দিনের আগে বাড়ি থেকে বের হবেন না। যদিও বের হন, চায়ের দোকান থেকে ধর্মীয় উপাসনালয় পর্যন্ত কেউই তার উপস্থিতি মেনে নিবে না। এই মুহূর্তে চাঁদপুরের জন্য এটিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

‘চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রতি ইউনিয়নে করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছেন। যে কমিটি পজিটিভ রোগীর আইসোলেশন নিশ্চিত করবে। এ উদ্যোগ নিয়ে আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কী’ এমন প্রশ্নের জবাবে মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে শুধু পজিটিভ রোগীর আইসোলেশন নিয়ন্ত্রণ করলেই চলবে না, আইসোলেশন রোগীর সংস্পর্শে যেন অন্যরা না আসেন তা নিশ্চিত করতে হবে। ঘুরে ফিরে আগের কথাটিই বলতে হচ্ছে। কমিটির সভাপতি গোপনে রোগীর আইসোলেশন নিশ্চিত না করে ইউনিয়নে পজিটিভ রোগীর নাম-ঠিকানা প্রচার করলে তখন আর রোগীকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে ঘরে আটকে রাখতে হবে না। সামাজিক চক্ষু লজ্জায় তিনি নিজেই ১৪ দিন বাইরে বের হবেন না, ঘরে থাকবেন।

‘পজিটিভ রোগী ছাড়াও যারা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে কোন পরামর্শ আছে কি?’ এমন প্রশ্নে পরিকল্পনা সচিব বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ একটি কমিউনিটি ডিজিজ। কমিউনিটি ডিজিজ কমিউনিটি মেডিসিন দিয়েই দমন করতে হবে। করোনায় কেউ আক্রান্ত হলে তার প্রতিকার চিকিৎসকের কাছে কিন্তু প্রতিরোধ জনগণের কাছেই। এ কথাতো সবাই-ই জানেন প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই সর্বদা মাস্ক পরে থাকতে হবে। মাস্ক খোলা যাবে না। বাসা থেকে মাস্ক পরে বের হবেন আবার বাসায় গিয়ে মাস্ক খুলবেন।

‘আপনি একটি জেলার করোনা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছেন। সেখানকার প্রশাসনকে নানামুখী দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের প্রতি কোনো পরামর্শ রাখতে চান কি’ জিজ্ঞাসা করতেই মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, 'চাঁদপুর আমার জেলা। নিজ জেলা ভালো থাকলে আমার কাছেও ভালো লাগবে। আমি চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, ডিসি অফিসে যেন সরাসরি কোনো সভা-সেমিনার না করেন। সকল মিটিং ভার্চুয়ালি করা হোক। যদি নিতান্তই বিশেষ প্রয়োজনে কোনো মিটিং সরাসরি করতে হয় তবে আপ্যায়ন সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ রাখবেন। জরুরি মিটিংয়েও সকল কর্মকর্তা মাস্ক পরে কথা বলুন। অনেক অফিসারই মিডিয়ার সামনে কথা বলার সময় মাস্ক খুলে কথা বলেন। আমি মনে করি নো নীড। থ্রি লেয়ারের মাস্ক সার্বক্ষণিক মুখে রাখতে হবে। প্রশাসন সুরক্ষিত থাকলেইতো তারা জেলাকে সুরক্ষিত রাখার পদক্ষেপ নিতে পারবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়