চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   অবৈধ দখলদারের কারণে বন্ধ রয়েছে বাবুরহাট জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণ
  •   ভালোমানের সরঞ্জাম ভালো খেলাকে উৎসাহিত করে : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি
  •   পদ্মা সেতু ভ্রমণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালো কচুয়ার রিয়াদ
  •   শাহরাস্তিতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক
  •   চাঁদপুরে ১ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২২, ১৯:৫৫

'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরীর চির বিদায়

'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরীর চির বিদায়
রাসেল হাসান

একুশের প্রভাতফেরীর সারা জাগানো কালজয়ী গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী/আমি কী ভুলিতে পারি... -গানের রচয়িতা, প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক আবদুল গাফফার চৌধুরী বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকালে মৃত্যুবরণ করেছেন৷ মৃত্যু ককালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর৷

১৯ মে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷

সাঈদা মুনা তাসনিম বলেন, ‘‘গত কিছুদিন ধরে গাফফার চৌধুরী হাসপাতালে ছিলেন৷ আজ (১৯ মে) সকাল ৭টার দিকে উনার মৃত্যু হয়েছে বলে উনার মেয়ে আমাকে জানিয়েছেন৷ আমরা গভীরভাবে শোকাহত৷''

বাঙালির কাছে আবদুল গাফফার চৌধুরী এক সুপরিচিত নাম৷ রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে তার লেখা মন্তব্য প্রতিবেদন নিয়মিতই বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হতো৷ ১৯৫২ সালে তিনি কালজয়ী একুশের গানটি লেখা ছাড়াও লিখে গেছেন অনবদ্য কিছু লেখনী।

গাফফার চৌধুরী শহিদ রফিকের মরদেহ দেখেছিলেন৷ পুলিশের গুলিতে রফিকের মাথার খুলি উড়ে গিয়েছিল৷ ৫২'র ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ তিনি৷ কী দেখেছিলেন সেদিন? সেসময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী গাফফার চৌধুরী বললেছিলেন, ‘‘আমি আরো দু'জন বন্ধু নিয়ে গিয়েছিলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের আউটডোর কক্ষে৷ সেখানে বারান্দায় শহিদ রফিকের লাশ ছিল৷ মাথার খুলিটা উড়ে গেছে৷ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তখন ছাত্র৷ তিনি তার ক্যামেরায় রফিকের ছবি তোলেন৷''

রফিকের মরদেহ দেখে গাফফার চৌধুরীর মনে হয়েছিল, যেন তার নিজের ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে৷ তখনই তার মনে গুনগুনিয়ে ওঠে একটি কবিতা, ‘‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি''৷ সেই কবিতা পরবর্তীতে গানে রূপ নেয়৷ অনবদ্য এই কবিতায় প্রথমে আব্দুল লতিফ সুর দেন৷ তারপরে আলতাফ মাহমুদ সুর দেন৷ আলতাফ মাহমুদের সুরেই গানটি প্রভাত ফেরির গান রূপে গৃহীত হয়৷''

২১শে ফেব্রুয়ারির সেই ঘটনায় বাঙালি বুঝতে পেরেছিল, তারা আসল স্বাধীনতা পায়নি৷ তাই ভাষা স্বাধীনতা, তথা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি তখন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র৷ গাফফার চৌধুরীর কথায়, ‘‘ফেব্রুয়ারিতে রক্তপাতের পরে এটা শিক্ষিত-অশিক্ষিত সাধারণ মানুষের আন্দোলন হয়ে দাঁড়ায়৷ যার প্রতিধ্বনি শোনা যায় আব্দুল লতিফের গানে, ‘‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়্যা নিতে চায়৷''

তিনি বলেছিলেন, ‘‘এই চেতনা বা বোধটুকু সাধারণ মানুষের মধ্যেও এসেছিল যে, আমার বাপ-দাদা'র জবান ওরা কাইড়্যা নিতে চায়৷ সুতরাং আন্দোলনটা তখন আর কোন এক শ্রেণির মধ্যে সীমিত ছিলনা৷ বাঙালি মাত্রই এই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটা সেক্যুলার জাতীয়তার চেতনায় উন্নীত হয়৷'

প্রয়াত স্বনামধন্য এ সাংবাদিক স্বাধীনতাযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক জয় বাংলার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বরিশাল জেলার এক জলবেষ্টিত গ্রাম উলানিয়ার চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর বাবা হাজি ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা মোসাম্মৎ জহুরা খাতুন। তিন ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে বড় ভাই হোসেন রেজা চৌধুরী ও ছোট ভাই আলী রেজা চৌধুরী। বোনেরা হলেন মানিক বিবি, লাইলী খাতুন, সালেহা খাতুন, ফজিলা বেগম ও মাসুমা বেগম।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ছোটদের উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘সম্রাটের ছবি’, ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’, ‘বাঙালি না বাংলাদেশি’সহ তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় ৩০। এছাড়া তিনি কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ নাটক লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘একজন তাহমিনা’ ‘রক্তাক্ত আগস্ট’ ও ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ’, ।

নিজের লেখা রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ অবলম্বনে ২০০৭ সালে একটি টেলিভিশন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন গাফফার চৌধুরী। বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন ‘দুর্গম পথের যাত্রী’।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী অবলম্বনে ‘দ্য পোয়েট অব পলেটিক্স’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন গাফফার চৌধুরী। কিন্তু পরে তা আর এগোয়নি।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মানিক মিয়া পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গাফফার চৌধুরী। বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়