চাঁদপুর, শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   নদীর বাতাসও যেন ঘুরে চলে যায় অন্য কোথাও
  •   শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন মসজিদে দোয়া
  •   একদিনের সফরে আজ চাঁদপুর আসছেন শিক্ষামন্ত্রী
  •   চাঁদপুরের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারই এখন আইজিপি
  •   হাজীগঞ্জে মৃত বোনের চাঞ্চল্যকর ডিভোর্স জালিয়াতি

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০

বড্ড হৃদয়বিদারক : ঘটনাস্থল দু হাসপাতাল

একই সময়ে এক ভাই দুনিয়া ছাড়লো আরেক জন দুনিয়ায় আসলো

একই সময়ে এক ভাই দুনিয়া ছাড়লো আরেক জন দুনিয়ায় আসলো
কামরুজ্জামান টুটুল ॥

ঘড়ির কাঁটায় ভোররাত পৌনে ৫টা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে ৭ বছরের শিশু আল নোমান। কাকতালীয়ভাবে একই সময় তারই গর্ভধারিণী মা মর্জিনা বেগম প্রসব বেদনায় ছটফট করছেন হাজীগঞ্জ বাজারের একটি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে। ঘড়ির কাঁটায় ভোর রাত ৫টা ছুঁইছঁই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে দুনিয়া ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমায় নোমান। একই সময় মা মর্জিনা বেগম হাজীগঞ্জের সেই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ছেলে সন্তান প্রসব করেন। দুর্ভাগ্য এক মা আর এক সন্তানের। আল নোমান যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, স্বাভাবিকভাবে তার মা তার পাশে হাসপাতালে থাকার কথা, কিংবা সিজারের জন্যে যখন নোমানের মা হাসপাতালে ভর্তি হন তখন মায়ের পাশে নোমানের থাকার কথা। অথচ মা ছেলের সম্পর্ককে চিরতরে দূরে ঠেলে দিয়েছে একটি সড়ক দুর্ঘটনা।

আল নোমান মাদ্রাসা ছাত্র। গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে নোমান নানার বাড়ি থেকে খালা হীরার সাথে আরেক খালা পান্নার বাড়ি যাচ্ছিলো। নানা বাড়ি থেকে দুই মিনিটের দূরত্বে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের বাকিলা বাজার। খালার সাথে সড়কের পাশে এসে দাঁড়াতেই চাঁদপুর থেকে চাল বহনকারী এক ঘাতক ট্রাক নোমানকে চাপা দেয়। ট্রাকটি নোমানের কোমর থেকে রান পর্যন্ত পিষে ফেলে সড়কের উপর। সাথে সাথে স্থানীয়রা নোমানকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ঢামেকে নোমানের প্রথম অপারেশন, বুধবার দ্বিতীয় অপারেশন ও বৃহস্পতিবার রাতে তৃতীয় অপারেশন করা হয়। কিন্তু সকল চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আঙ্গুল দেখিয়ে মা-বাবাসহ দুনিয়ার মায়া ছেড়ে রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে ইহকাল ছাড়ে নোমান।

এদিকে বাবা প্রবাসী হওয়ার কারণে নোমান মৃত্যুকালে বাবা-মা কাউকে দেখতে পারেননি। সিজারিয়ান অপারেশনে ২য় সন্তানের মা হলেও বড় সন্তান মারা যাওয়ার বিষয়টি মা মর্জিনা বেগমকে জানানো হয়নি পরিবার থেকে। এদিকে সন্তানের মৃত্যুর খরব পেয়ে শুক্রবার সকালে কুয়েত থেকে ঢাকা পৌঁছেন বাবা শহীদুল ইসলাম। ঢাকা এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সন্তানের লাশ বুঝে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকা ছাড়েন শহীদুল। এক দিকে বড় সন্তানের লাশ কাঁধে আরেক দিকে স্ত্রী অপারেশনের ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে। এ এক অগ্নি পরীক্ষা শহীদুলের জন্যে। লাশ নিয়ে প্রথম শ্বশুর বাড়ি বাকিলায় আসেন। নোমানের লাশ নানার বাড়িতে পৌঁছার আগেই শত শত নারী-পুরুষ নোমানের লাশ দেখতে ভিড় জমায়। শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টায় নোমানকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নানার বাড়ির সামনে পৌঁছলে ঘটে হৃদয় বিদারক ঘটনা। এ সময় আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত নারী পুরুষকে কাঁদতে দেখা গেছে নোমানের জন্যে। সব কিছুর জন্যে সেই সড়ক দুর্ঘটনাটি দায়ী বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আল নোমান হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের বেলঘর গাজী বাড়ির প্রবাসী শহীদুল ইসলাম ও একই উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের বাকিলা পাটোয়ারী বাড়ি ওরফে লোধ বাড়ির মর্জিনা বেগমের সন্তান। শুক্রবার বাদ মাগরিব জানাজা শেষে বেলঘর পৈত্রিক বাড়িতে পারিবারিক গোরস্তানে নোমানকে দাফন করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়