বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৫ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   ফরিদগঞ্জে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশাসনের সংলাপ
  •   জনস্বার্থের বিষয়ে আওয়ামী লীগ বিএনপি জাতীয় পার্টি এক মঞ্চে
  •   কুমিল্লাকে ‘মেঘনা’, ফরিদপুরকে ‘পদ্মা’ বিভাগে মত প্রধানমন্ত্রীর
  •   আজ চাঁদপুর মুক্ত দিবস
  •   আজ মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২১, ১৩:২১

কি করবে এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা?

রাসেল হাসান
কি করবে এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা?
প্রতীকী ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে? নাকি অপেক্ষা করবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য? যদি কোন কারনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পায় তবেতো জাতীয় আর পাবলিক দুই কূলই হারাবে! এমন সিদ্ধান্তের দোটানায় এখন এইচএসসি উত্তীর্ণ দেশের ১৭ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্নগুলো।

আগে দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা যখন শেষ হতো তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শুরু হতো। যার ফলে শিক্ষার্থীরা প্রথমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে যদি পরীক্ষা সন্তোষজনক না হতো তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতো। এতে পাবলিকে না চান্স পেলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত কলেজগুলোতে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতো।

কিন্তু করোনার কারনে এবছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত কলেজগুলোতে ভর্তির আবেদনের তারিখ নির্ধারণ হয়ে গেছে। ২৮ জুলাই থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে শেষ হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তির আবেদন। অনলাইন ভিত্তিক ক্লাসও শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে অক্টোবরে।

তবে কি এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত কলেজগুলোতে ভর্তি হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু করবে? নাকি স্বপ্নের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? এমন সিদ্ধান্তহীনতায় শিক্ষার্থীরা।

চাঁদপুরের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মেলাতে হচ্ছে আরও একটি সমীকরণ। করোনায় বিপর্যস্ত পরিবারের সন্তানরা চাঁদপুরের কোন কলেজকেই কি বেছে নিবে নাকি শত প্রতিকূলতায়ও পা বাড়াবে জেলার বাইরে? কোনটিকে প্রাধান্য দিবে? পাবলিকে পড়ার স্বপ্ন নাকি পারিবারিক অর্থনীতি?

সাধারণত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা দেয়। চান্স না পাওয়া স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানরা প্রাইভেটের দিকে যায় আর অস্বচ্ছলরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোতে আবেদন করেন। গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে না, শুধু জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জিপিএ সাধারণত সাড়ে ৩ থেকে ৫-এর মধ্যে থাকে। এ বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় স্বভাবতই মেধাবীদের বড় একটি অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে রাখবে। এতে করে এবছর জিপিএ ৪.৫ থেকে ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের দিয়েই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোর কোটা পূর্ণ হয়ে যাবে। তবে কোথায় যাবে জিপিএ ৪, জিপিএ ৩ বা তারও নিচে জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা?

বিগত বছরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন স্তরের ওয়েটিং লিস্ট করা হতো। এতে কয়েকদিনের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে গড়ে ১ শতাংশের মত মেধাবী শিক্ষার্থীরা চলে যেতো ফলে ওয়েটিং লিস্ট থেকে দ্বিতীয় রিলিজ স্লিপের মাধ্যমে মেধাক্রম অনুযায়ী ভর্তি করানো হতো। যদি তাতেও কোটা পূর্ণ না হতো তবে তৃতীয় রিলিজ স্লিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডাক পরতো। কিন্তু এ বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসই শুরু হচ্ছে ১৫ সেপ্টেম্বর। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে অক্টোবর বা তারও পরে।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া ও ফলাফল দিতে দিতে নভেম্বর, ডিসেম্বর লেগে যেতে পারে। তার পর যারা জাতীয় থেকে পাবলিকে যাবে তাদের আসন পূর্ণ করার জন্য ওয়েটিং লিস্ট থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য ডাকা হবে। তবে কি যাদের জিপিএ ৪ বা তারও কম তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েটিং লিস্টে ঝুলে থাকতে হবে ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে? তিন মাস ঝুলে থাকার পরও যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক না পায় তখন কোথায় যাবে অপেক্ষাকৃত কম জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীরা?

আরেক দোটানায় দেশের মেধাবী প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী। গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ গত ২৫ জুন শেষ হয়েছে। মোট তিন লাখ ৬১ হাজার আবেদন পড়েছে। এখনো ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হয়নি। এসব কলেজের আবেদিতরাও আছে দোটানায়। তারা কি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করবে নাকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করবে?

এছাড়াও গুচ্ছভুক্ত সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার কথা আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। আর আগামী ১২ আগস্ট ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করলেও গুচ্ছভুক্ত তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আগাম ভর্তি ও ক্লাস শুরু করার বিষয়টি ভাবাচ্ছে তাদেরকেও।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের ২০২০ সালের ব্যাচের এইচএসসি উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল বুশরা চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, এইচএসসির পরের সময়টা খুবই বাজে গেলো করোনার জন্য। সবকিছুতে অনিশ্চয়তা। এখনো সেই অনিশ্চয়তায় ভুগছি। যেহেতু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আপাতত পরীক্ষা হচ্ছে না তাই বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েই ভাবতে হবে। যদিও বাস্তবতার সাথে তা মিলাতে পারছি না।

শিক্ষার্থীদের এমন অনিশ্চয়তা কাটাতে চাঁদপুর কণ্ঠ থেকে কথা বলা হয় চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অসিত বরণ দাশের সাথে। তিনি বলেন, সত্যিই এবারের সিচুয়েশনটা একটু ডিফিকাল্ট। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারনে যেহেতু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরীক্ষা নিতে পারছে না তাই তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায়। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত কলেজগুলোতে যেহেতু ভর্তি পরীক্ষা হয় না শুধু জিপিএ পয়েন্টের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয় তাই কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে ১৭ লক্ষ শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশকে অধ্যয়নমুখী করা যাবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রতিবছর বহু মেধাবী শিক্ষার্থীই দুর্ভাগ্যবশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়ে। তাই মেধাবীদের এ বছর ঝুঁকি নেওয়া উচিত হবে না। আমি মনে করি তারা সকলেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য আবেদন করুক। আসন ও বিষয় পেলে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে পাঠদান শুরু করুক। পাশাপাশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির প্রস্তুতি চালিয়ে যাক। যদি পরবর্তীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজটিতে ভর্তি বাতিল করে সে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগে ভর্তি বাতিলের জন্য সশরীরে কলেজে আসতে হতো, বিভিন্ন জটিলতায় পড়তে হতো। এখন ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমেই ভর্তি বাতিল করা যায়। কাজেই ঝুঁকি না নিয়ে শিক্ষার্থীদের আবেদনে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

অপেক্ষাকৃত কম জিপিএ পয়েন্ট প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ বলেন, যদি প্রথমবারের সিলেকশানে কেউ আসন না পায় তবে পর্যায়ক্রমে অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বার সুযোগ দেওয়া হবে। যদি তাতেও আসন না পায় তবে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তিন বছরের ডিগ্রি (পাস) কোর্সের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। অপেক্ষাকৃত কম জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অংশ নিতে পারবে। কাজেই দুশ্চিন্তায় না ভুগে শিক্ষার্থীদের উচিত বুঝে শুনে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়