রোববার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩  |   ২৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন, দামে অসন্তুষ্ট কৃষক : সবজি ক্ষেতে সবুজ হাসি থাকলেও কৃষকের মুখ ম্লান
  •   অশুভ শক্তি শক্তিশালী হলেও জয়ি হতে পারবে না : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৩১

বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত

অনলাইন ডেস্ক
বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। যৌথভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, মাননীয় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এবং ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবুল মনসুর এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় ভারতীয় হাই কমিশন আয়োজিত এই প্রদর্শনী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত ঢাকায় থাকবে।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী আমাদের দুই দেশের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও উত্তরাধিকারের মতন অনন্য একটি বিষয়কে উদ্যাপন করছে। দুই দেশের সরকার মুজিববর্ষ স্মরণে এবং মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রদর্শনীটি বিশেষভাবে তৈরি করেছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬ডিসেম্বর ২০২০ ভারত-বাংলাদেশ ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেছিলেন। ২০২১ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে দুই প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। মহাত্মা গান্ধী ডিজিটাল জাদুঘরের কিউরেটর শ্রী বিরাদ ইয়াগনিক দ্বারা বিশেষভাবে পরিচালিত এই অনন্য ডিজিটাল প্রদর্শনী ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত নয়াদিল্লীর বিজ্ঞান ভবনে প্রদর্শিত হয়েছিল যেখানে এটি বেশ প্রশংসিত হয়। ১১ অক্টোবর ২০২১-এর পর চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা এবং কলকাতায়ও বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীটি প্রদর্শিত হবে।

ভারতীয় হাই কমিশন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সবাইকে আন্তরিকভাবে এই প্রদর্শনী দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। এই প্রদর্শনীতে অভিজ্ঞতাকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করার জন্য অনন্য এবং বিশেষায়িত প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীটি ২২টি তথ্যদেয়াল এবং শতাধিক ডিজিটাল মুহূর্তের সমন্বয়ে তৈরি। প্রদর্শনী শুরু হয় পরিচিতি প্রাচীর দিয়ে যা প্রদর্শনীর বিষয়বস্তুকে তুলে ধরে এবং প্রশংসাপত্রের মাধ্যমে বিশ্বের চোখে এই দুই মহান নেতার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে।

পরবর্তী দুইটি দেয়াল দুই নেতার জীবনের একটি বিস্তৃত পটভূমি প্রদর্শন করে। ১৯৪৭ সালের আগস্টে দুই নেতার সাক্ষাতের দিনটির উপর ভিত্তি করে নির্মিত মিটিং ওয়ালে প্রদর্শিত ছবিটি সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র ছবি যেখানে বঙ্গবন্ধু এবং বাপু উভয়ই এক ফ্রেমে রয়েছেন।

একটি হলোগ্রাফিক টাইম মেশিন যা ঐতিহাসিক ছবিগুলিকে একটি সময়রেখার সাথে সাজানো হয়েছে যা দর্শনার্থীদের সময় এবং জীবনকাল বোঝার জন্য একটি অনন্য ইন্টারফেস প্রদান করে। পরবর্তী অংশটি তাদের তারুণ্যের ঘটনাগুলি বর্ণনা করে যে সময়ে তাদের নৈতিক চরিত্র গঠন হয়েছিল।

পরবর্তী দেয়ালটি তাদের জীবনের তিনটি বিখ্যাত আন্দোলনকে প্রদর্শন করেছে। একটি হল লবণ সত্যাগ্রহ, যেটিকে টাইম ম্যাগাজিন আধুনিক ইতিহাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে বিবেচনা করে এবং অন্যটি ৭ই মার্চের ভাষণ, যেটি ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের একটি তালিকা।

মানুষের দুর্দশা, যন্ত্রণা এবং অবিচারের দৃশ্য জালিয়ানওয়ালাবাগ এবং গণহত্যা সুড়ঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য ১৯৭১ সালের প্রাচীরে সেই বছরের ঘটনাগুলি পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়েছে। শক্তি ব্যবহারের ন্যায্যতা এবং মুক্তিবাহিনী কর্তৃক প্রাপ্ত সাহায্য মানবতার নৈতিকভিত্তির দু’টি শেষ প্রান্ত।

ব্যস্ততার ত্রিভুজটি দুর্দশা এবং যন্ত্রণা থেকে চোখকে অতি প্রয়োজনীয় স্বস্তি প্রদান করে, যেখানে ৩৬০ ডিগ্রী অবস্থানগুলি অনুভব করা যায়। একটি রোবোটিক স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে এবং দুই নেতার প্রিয় সঙ্গীতও রাখা হয়েছে। বা এবং বঙ্গমাতাকে উদযাপনকারী প্রাচীরটি এমন দু’জন নারীকে দেখায় যাঁরা তাদের সঙ্গীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সঠিক সময়ে তাদের কার্যকর পরামর্শ দিয়েছিলেন। উভয়েই শ্রদ্ধেয় ছিলেন এবং সর্বদা তাঁদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।

দুই মহান নেতা তাদের দেশ ও জনগণের জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা পরবর্তী অংশে প্রদর্শিত হয়েছে। প্রদর্শনীটির শেষ অংশে চলমান মহামারী বিষয়ে একটি সামাজিক বার্তা প্রদান করে, দর্শনার্থীদের একটি ইন্টারেক্টিভ দেয়ালে তারা যে তথ্য শিখেছে তা সংযুক্ত করতে দেয়। বিদায়ী অংশে দর্শনার্থী দুই নেতার সাথে একটি ছবি তুলতে পারেন এবং একটি ভিডিও প্রশংসাপত্র রেখে প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়