সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের পৃথক দুটি তদন্ত চলছে : পরিস্থিতি স্বাভাবিক : ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০

চাঁদপুর মাছঘাট ইলিশে সয়লাব

বাংলাদেশ-ভারত টানা-হিঁচড়ায় দাম বেশি

চাঁদপুর মাছঘাট ইলিশে সয়লাব
মিজানুর রহমান ॥

চাঁদপুর বড় স্টেশন মৎস্য আড়তে ইলিশের আমদানি ব্যাপক বাড়লেও ভারতে রপ্তানিতে দাম কমেনি। বড় সাইজের ইলিশের কেজি এখনো হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। মা ইলিশ প্রজননের ২২ দিনের অভিযানকে সামনে রেখে আগামী ৮/৯ দিন ইলিশ আরো বেশি পরিমাণ ধরা পড়বে।

ইলিশ বন্দর হিসেবে খ্যাত চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশে সয়লাব মৎস্য আড়তগুলো। অধিকাংশই পরিপক্ক ইলিশ, পেটে ভরপুর ডিম। এদিন দক্ষিণ অঞ্চলে ভোলা থেকে সাগর উপকূলীয় অঞ্চল হাতিয়া ও ভোলা থেকে নদীপথে এবং সড়কযোগে প্রচুর ইলিশের আমদানি হয়েছে। যার পরিমাণ হবে আনুমানিক তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মণ।

এক কেজির উপরে প্রতি মণ ইলিশ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৩২ হাজার থেকে ৩৮/৪০ হাজার টাকা দরে। মাঝারি আকারের ইলিশের দর গেছে ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা মণ দরে।

ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হওয়ায় চাঁদপুরের বাজারে ইলিশের দাম বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা বলছেন সামনের মাসে ইলিশ ধরা বন্ধ হবে। ফলে দাম বাড়ায় দ্বিগুণ প্রভাব পড়ছে। ইলিশ চলে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অথচ এই সময় সাধারণ মানুষ ৪/৫শ’ টাকা কেজিতে ইলিশ খেতে পারতো। সামর্থ্যবানরা ছাড়া স্বল্পআয়ের মানুষের ভাগ্যে ভরা মৌসুমে ইলিশ কিনে খাওয়ার সৌভাগ্য হচ্ছে না, কেননা দাম বেশি।

হঠাৎ করে ইলিশের দাম বেশি পাওয়ায় জেলে, ট্রলার মালিক, আড়তদারসহ মৎস্যজীবীরা খুশি থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

ইতিমধ্যে ইলিশের প্রথম চালান বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে বলে জানা যায়। চাঁদপুর থেকেও বাছাইকৃত ইলিশের চালান গেছে সেখানে।

আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই ইলিশ রপ্তানি চলবে। পূজা উপলক্ষে মোট ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হবে।

এদিকে চাঁদপুরের জেলেরা জানান, এবার ইলিশ মৌসুম তাদের জন্যে পুরোটাই ফাঁকা যাচ্ছে। গুল্টি জেলেরা কিছু মাছ পেলেও লাভবান হবার মতো নয়। বাইশ দিনের অভিযানে সমুদ্র থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পদ্মা-মেঘনায় যখন ছুটে আসবে তখন স্থানীয় নদ-নদীতে দেখা মিলবে ভরপুর ইলিশের।

পূর্ণিমার কারণে দক্ষিণ উপকূলে গত দুই সপ্তাহ যাবৎ ইলিশের প্রাচুর্য বাড়লেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামে প্রভাব পড়েনি। উপরন্তু কোনো কোনো মোকামের পাইকারী বাজারে মণপ্রতি দাম ১০/১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে জেলে-ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও সাধারণ ক্রেতারা হতাশ।

চাঁদপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, ‘আমাদের এখানে গতকাল দুই থেকে আড়াই হাজার মণ ইলিশের আমদানি হয়েছে। পাইকারি বাজারে ইলিশ বেড়েছে, তবে দাম আগের মতোই আছে।’

তিনি আরো বলেন, অল্প সময়ে অনেক মাছ যাবে ভারতে। বড় মাছটার দাম বেশি। এজন্যে এর প্রভাব পড়েছে। ঘাটের ব্যবসায়ীরা মোটামুটি লাভবান হচ্ছে।

ইলিশ চালানী আঃ খালেক বেপারী জানান, ইলিশ নিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে এবং ভারতের টানা-হিঁচড়ায় দাম বেশি। ঘাটে প্রচুর ইলিশ, তবে ভারতে যদি ইলিশ না যেত তাহলে মাছের দাম কম পাওয়া যেত।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য জানান, পূর্ণিমার পর থেকে সাগর ও নদ-নদীতে ইলিশ ধরা পড়েছে বেশি।

২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের আগে আগামী দশ দিন আরও বেশি পরিমাণ মাছ ধরা পড়বে।

তিনি বলেন, বাজার এখন ইলিশে সয়লাব। এ বছর মা ইলিশ রক্ষা অভিযান চলাকালে নিরাপদে প্রজনন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়