চাঁদপুর, শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় আলোর মশালের সপ্তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে করোনাযোদ্ধা ও রক্তদাতাদের সংবর্ধনা
  •   সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশন’র সহযোগিতায় ঘরের স্বপ্ন পূরণ হলো প্রতিবন্ধী রিপনের
  •   চাঁদপুরে বিশ্ব এইডস দিবস পালিত
  •   হাজীগঞ্জে মডেল হসপিটালের উদ্বোধন
  •   চাঁদপুর রেলওয়ের সাবেক টিএক্সারের ইন্তেকাল

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন

চাঁদপুর বড়স্টেশন মোলহেডে ‘বঙ্গবন্ধু পার্ক’ নামেই হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র

চাঁদপুর বঙ্গবন্ধু পার্ক হবে দেশের সকল পার্কের জন্যে রোল মডেল : পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী

চাঁদপুর বড়স্টেশন মোলহেডে ‘বঙ্গবন্ধু পার্ক’ নামেই হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র
রাসেল হাসান ॥

চাঁদপুরে তিন নদীর মিলনস্থলে পর্যটন কেন্দ্র হবে কি-না তা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতানৈক্য থাকলেও অবশেষে বড়স্টেশন মোলহেডে ‘বঙ্গবন্ধু পার্ক’ নামেই হচ্ছে আধুূনিক মানের পর্যটন কেন্দ্র।

গতকাল ২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন সংক্রান্ত পত্রটি পৌঁছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনে। চাঁদপুরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকমানের একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা যখন সময়ের দাবি ছিলে ঠিক সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুর সফরে এসে চাঁদপুর নদী তীরবর্তী একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। এ পত্রটি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সেই পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে স্বপ দেখা শুরু করেছে চাঁদপুরের ভ্রমণ পিপাসুরা।

যদিও চাঁদপুরবাসীর সেই স্বপ্নে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। বড়স্টেশন মোলহেডে প্রস্তাবিত পর্যটন কেন্দ্রটি রেলওয়ের জায়গা হওয়ায় পর্যটন মন্ত্রণালয়কে ভূমি হস্তান্তরে আপত্তি জানায় রেল মন্ত্রণালয়।

চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকারে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছিলেন, রেলের জায়গা অন্য কোনো মন্ত্রণালয়কে ভূমি দেয়ার সুযোগ নেই। পর্যটন কেন্দ্র যদি করতেই হয় তবে সেখানে রেলওয়েই করবে। রেলমন্ত্রীর সাথে একই সুরে কথা বলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা। সরাসরি জানিয়ে দেন বড়স্টেশনে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়কে পর্যটন কেন্দ্র করতে দেয়া হবে না।

যদিও রেল মন্ত্রণালয়ের এমন বক্তব্যের জবাবে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী চাঁদপুর কণ্ঠকে জানিয়েছিলেন, পর্যটন কেন্দ্র করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি যেখানে আছে, সেখানে পর্যটন কেন্দ্র হবেই। অবশেষ সেই মোলহেডেই হতে যাচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু পার্ক’ নামে চাঁদপুরের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র।

যেভাবে নামকরণ হয় বঙ্গবন্ধু পার্ক :

২০১৪ সাল থেকে চাঁদপুর বড়স্টেশন মোলহেডে ‘জেলা ব্র্যান্ডিং পর্যটন কেন্দ্র’ নামে একটি আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্র করতে চেয়েছিলেন জেলা ব্র্যান্ডিং কমিটি। বড়স্টেশন মোলহেডের প্রবেশ পথের বর্তমান দৃষ্টিনন্দন ইলিশ ভাস্কর্যটি এই পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রমেরই একটি অংশ। যার সেলফি স্ট্যান্ড নামকরণ করেছিলেন চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল। ‘জেলা ব্র্যান্ডিং পর্যটন কেন্দ্র’ নির্মাণের জন্য পর্যটন কর্পোরেশনকে চিঠি লিখলে তিন নদীর মিলনস্থল পরিদর্শনে আসে পর্যটন কর্পোরেশন প্রতিনিধি দল।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রস্তাবিত পর্যটন কেন্দ্রের নতুন নামকরণ করা হয় ‘রিভারভিউ ফুড পোর্ট’। রক্তধারা স্মৃতিস্তম্ভের পর থেকে ১.০৬ একর জমির উপর ‘রিভারভিউ ফুড পোর্ট’ নামে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার আগ্রহ দেখিয়েছিলো পর্যটন কর্পোরেশন। কর্পোরেশন থেকে একাধিকবার একাধিক প্রতিনিধি দল স্থান পরিদর্শন করে পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাব্য নকশা চূড়ান্ত করলেও রেলওয়ের অনুমতি না পাওয়ায় রেলওয়ের জায়গায় পর্যটন কেন্দ্র করার কার্যক্রম ৭ বছর ধরে ফাইলবন্দী।

রিভারভিউ ফুড পোর্টের কার্যক্রম যখন ফাইলবন্দী তখন চলতি বছর ১৭ জুন মুজিববর্ষ উপলক্ষে চাঁদপুর পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে একই স্থানের নতুন নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু পর্যটন কেন্দ্র’ নামে। ঐদিন রাতে জেলা প্রশাসকের পক্ষে সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বঙ্গবন্ধু পর্যটন কেন্দ্রের মূল ফটকের কাজ উদ্বোধন করেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কোনো স্থাপনা গড়ে তুলতে হলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। জেলা প্রশাসন থেকে নামটির অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রেরণ করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টে। অবশেষে মহান মুক্তিযুদ্ধর বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীর মাসে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় চাঁদপুরের প্রধান এই পর্যটন কেন্দ্রটির।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মূলত তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই চাঁদপুরবাসী গতকালকে এই সুখবরটি পেলো। জেলা প্রশাসক এ অনুমোদনকে একটি ‘বিজয়’ আখ্যায়িত করে চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, আমরা সত্যিই আনন্দিত যে শেষ পর্যন্ত মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর নামেই অনুমোদন পেলো চাঁদপুরের তিন নদীর মিলনস্থলের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রটি।

আমি মনে করি, এ সংবাদে চাঁদপুরের প্রতিটি মানুষেরই আনন্দিত হওয়ার কথা। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে তিন নদীর মিলনস্থলে শেষ পর্যন্ত একটি পর্যটন কেন্দ্র হতে যাচ্ছে। যেহেতু বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট পর্যটন কেন্দ্রটির অনুমোদন দিয়েছে, তাই আমি প্রত্যাশা করবো, রেলওয়ে আর আপত্তি জানাবে না। একটি জাতীয় মানের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র গড়ে ওঠা এখন সময়ের ব্যাপার।

‘বঙ্গবন্ধু পার্ক’ নামক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী’ এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়, পর্যটন কর্পোরেশন, রেলওয়ে, চাঁদপুর পৌরসভা, জেলা প্রশাসন ও চাঁদপুরের সকল শ্রেণির সচেতন নাগরিকদের নিয়ে একটি যৌথসভা হতে পারে। যেখানে সকলের সুপরামর্শে নির্ধারণ হবে বঙ্গবন্ধু পার্কের ভবিষ্যৎ। আশা করি সকলের সহযোগিতায় আমরা গড়ে তুলতে পারবো চাঁদপুরবাসীর স্বপ্নের কাক্সিক্ষত পর্যটন কেন্দ্রটি।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে, মুজিব শতবর্ষে, বিজয়ের মাসে চাঁদপুরে বঙ্গবন্ধু পার্কের অনুমোদনটি নিঃসন্দেহে একটি আনন্দের সংবাদ। আমি খুবই আনন্দিত এই সংবাদে। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কোনো একটি স্থাপনার নাম বঙ্গবন্ধুর নামে করার ক্ষেত্রে অনেক বিবেচনাও পর্যালোচনা করে থাকে। যেহেতু চাঁদপুরে বঙ্গবন্ধুর নামে পার্ক করার অনুমোদন পেয়েছে, সেহেতু এখানে বেশ ভালোমানের একটি পার্কই গড়ে তোলা হবে। আমি মনে করি, এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে চাঁদপুর পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো।

এ বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, এবার আর ঠেকায় কে? চাঁদপুরে ডেফিনেটলি পর্যটন কেন্দ্র হবে। শুধু পর্যটন কেন্দ্র নয়, খুব ভালোমানের একটি পর্যটন কেন্দ্র হবে। চাঁদপুর বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। নদীঘেরা চাঁদপুরে যদি পর্যটন কেন্দ্র না থাকে, তবে কোথায় থাকবে?

আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি, যে যা-ই বলুক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি যেখানে আছে সেখানে পর্যটন কেন্দ্র হবেই, তা আজ নয়তো কাল। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট বুঝে শুনেই এর অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য না থাকলে সদ্য অনুমোদিত চাঁদপুর বঙ্গবন্ধু পার্ক হবে দেশের সকল পার্কের জন্য রোল মডেল।

বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া :

বড়স্টেশন মোলহেডে ‘বঙ্গবন্ধু পার্ক’-এর অনুমোদন নিয়ে চাঁদপুর কণ্ঠকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চাঁদপুরের বিশিষ্টজন। চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিং কমিটির সদস্য, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমান মজুমদার জনান, এ অনুমোদনটি চাঁদপুরের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে একটি আনন্দের খবর।

চাঁদপুর মোলহেডের দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম দৃশ্যপট মানুষকে মুগ্ধ করলেও এখানে পর্যটন ও বিনোদনের অভাব বোধ করছিলো চাঁদপুরবাসী। বঙ্গবন্ধু পার্ক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সে অভাবটি দূর হবে। আমি মনে করি, সকল শ্রেণির সচেতন নাগরিককে জেলা প্রশাসকের সাথে একাত্মতা পোষণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এ পার্ক গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতা করবে।

জেলা ব্র্যান্ডিং কমিটির অন্যতম সদস্য, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত জানান, জেলা ব্র্যান্ডিং আমাদের একটি আন্দোলনে রূপ নিয়েছিলো। আমরা চেয়েছিলাম চাঁদপুরে একটি জাতীয় মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠুক। আমরা চেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি যেখানে রয়েছে তা বাস্তবায়ন হোক। বঙ্গবন্ধু পার্ক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে আমাদের আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেছে এবং প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বিজয়ের আমেজে।

আনন্দ অনুভূতি ব্যক্ত করে জেলা ব্র্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমির অধ্যক্ষ ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া বলেন, এর মধ্য দিয়ে চাঁদপুরের জয় হলো তথা চাঁদপুরের দৃষ্টিনন্দন পর্যটন অঞ্চলকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হলো। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবর্ষে 'বঙ্গবন্ধু পার্ক' নামের এই স্বীকৃতিটি একটি ইতিহাসের অংশ হয়ে রইলো। আমরা নিঃসন্দেহে আনন্দিত।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়