চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   অবৈধ দখলদারের কারণে বন্ধ রয়েছে বাবুরহাট জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণ
  •   ভালোমানের সরঞ্জাম ভালো খেলাকে উৎসাহিত করে : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি
  •   পদ্মা সেতু ভ্রমণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালো কচুয়ার রিয়াদ
  •   শাহরাস্তিতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক
  •   চাঁদপুরে ১ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৪:৪০

সদ্য বিদায়ী একজন ইউপি চেয়ারম্যানের ফেসবুক পোস্ট !

কামরুজ্জামান টুটুল
সদ্য বিদায়ী একজন ইউপি চেয়ারম্যানের ফেসবুক পোস্ট !

হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান ইউসুফ পাটোয়ারী। নিজ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত গত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি। চেয়ারম্যান পদ বুঝিয়ে দেবার একদিন আগে তিনি তার নিজ ফেসবুকে একটি লম্বা স্ট্যাটাস দেন। সততা না থাকলে কোন জনপ্রতিনিধি এমন উন্মুক্ত স্ট্যাটাস দেবার সাহস রাখেননি বলে স্থানীয়রা বলাবলি করছে।

স্ট্যাটার্সটি নিচে হুবহু তুলে দেয়া হলো :

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় ইউনিয়ন বাসী

আসসালামু আলাইকুম

আমি মাহফুজুর রহমান ইউসুফ পাটওয়ারি। আগামী বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২) বিকাল ৩ ঘটিকা পর্যন্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করব। ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ ঘটিকায় দায়িত্ব বুঝিয়ে দিব বলে আশা করি। আমি আরও আশা করি, নতুন চেয়ারম্যান তার সর্বোচ্চ দিয়ে ইউনিয়নের মানুষের সেবা করবেন।

২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে ও ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ এবং সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হই। নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি। শুরু হয় আমার নতুন পথচলা। নিজের পরিবারের চেয়েও আমার কাছে আপন হয়ে উঠে ২নং বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়নের মানুষগুলো হয়ে উঠে আমার অতি প্রিয়জন। আমার স্পষ্ট মনে আছে, যেদিন আমি ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই শপথ নিই, সেদিনই বিকালে বেলা এলাকার এক দরবারে অংশগ্রহণ করেছি। সেই থেকে শুরু। চলছে আজও। চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তারপর। অনেকের মনেই প্রশ্ন-তারপর আমি কি করব?

তারপরও আমি থেমে থাকব না। এই ইউনিয়নের মানুষের যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, এই ইউনিয়নের মানুষ আমার কাছে যতটা আপন মনে হয়, এই ইউনিয়নের মানুষগুলোর কাছে থাকলে আমি যতটা শান্তি পাই, এই শান্তি আমি আর কোথাও পাব না। অতএব, আমার কথা একদম ক্লিয়ার- আমি সবসময় ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকব। আপনাদের সেবা করব। আপনারা যে কোনো প্রয়োজনে আমার কাছে আসবেন। আপনাদের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা থাকবে। আপনারা যেকোনো বিপদে-আপদে আমাকে কাছে ডাকবেন, আপনাদের যেকোনো সামাজিক-পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমাকে ডাকবেন। আমি অবশ্যই আপনাদের ডাকে সাড়া দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

আমার দায়িত্বকালে কাজসমূহ

আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ইউনিয়নে যে পরিমান কাজ হয়েছে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, বিগত দিনে কোন চেয়ারম্যান এই পরিমাণ কাজ করতে পারেননি। আমার দায়িত্বকালে উক্ত ইউনিয়নে রেকর্ড পরিমাণ ৮টি ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ব্রিজের বাজেট প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা করে। ইটের সলিংয়ের কাজ হয়েছে অসংখ্য। আর আমার মনে হয় ইউনিয়নের এমন কোন মসজিদ নেই যেই মসজিদে আমি সরকারি অনুদান দেইনি। আমার দায়িত্বকালে উত্তর শ্রীপুর হতে টেকেরে বাজার রাস্তা ও ফুলছোয়া থেকে বোরখাল রাস্তার পাকাকরণ কাজ চলমান। এছাড়া সন্না গ্রামের কানিরবাড়ি হতে মজুমদার হাট, রাধাসার প্রাইমারি স্কুল হতে বোরখাল রাস্তাসহ আরও প্রায় ৭টা রাস্তার টেন্ডার তৈরি হয়ে গেছে। সেগুলো যে কোনো সময় কাজ শুরু হবে। আপনারা অনেকেই জানেন, বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা-মোকাদ্দমা চলছে। আমার দায়িত্বকালে ইউনিয়ন পরিষদের এই মামলা নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। আল্লাহর মেহেরবানিতে ডিসেম্বর মাসের ২৪ তারিখ উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। ইতোমধ্যে, ভবন নির্মাণের সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এখন নতুন ভবন নির্মাণের অপেক্ষা। ইউনিয়েনের অসংখ্য বাড়ির রাস্তা পাকা করা হয়েছে। যার সাক্ষী ইউনিয়নবাসী। ইউনিয়নে পাকা ঘাটলা, গাইডওয়াল অসংখ্য পরিমাণ নির্মাণকাজ করা হয়েছে। ইউনিয়নের শতভাগ বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা নিশ্চিত করা হয়েছে। রাস্তায় এলইডি লাইট স্থাপন করা হয়েছে। ভিজিডি, দুস্থ্য, প্রতীবন্ধী ভাতাসহ যত ভাতা রয়েছে সবগুলোই রেকর্ড পরিমাণ ইউনিয়নের জনগণ পেয়েছেন।

আপনারা জানেন, গত দুই বছর করোনার করালগ্রাসে সারাদেশের মতো বাকিলা ইউনিয়নও ভুগছিল। সরকার যখন সারাদেশে বিধিনিষেধ দিয়েছিল, আমার নেতৃত্বে ইউনিয়নের সকল সদস্যসহ আমরা এই বিধিনিষেধ নিশ্চিতে মাঠে ছিলাম। করোনাকালীন যোদ্ধা হিসেবে প্রত্যেকের সেবা করার চেষ্টা করেছি। নিজের অর্থায়নে অসংখ্য চাকরি হারাদের সহযোগিতা দিয়েছি। যারা সমাজের মধ্যবিত্ত, মুখে চাইতে পারত না। ফোনে, ফেসবুকে বলত, খুব কষ্টে আছে-তাদেরকে রাতের আঁধারে ত্রাণের প্যাকেট পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। উক্ত কাজ করতে গিয়ে আমি নিজেও দুইবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। তারপরও জনগণের সেবা করতে পিছপা হইনি। অনেক বাঁধা-বিপত্তি পদে পদে ছিল, সেসব বাধাকে পায়ে ঠেলে এগিয়ে গিয়েছি সামনে। আমার আশা ছিল, ২নং বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদকে একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত করব।

গত ২৬ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। আমি যেহেতু বর্তমান চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়নে আমার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা রয়েছে সেহেতু আমি অনেক বেশিই আশাবাদী ছিলাম যে, আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাব। কিন্তু আমি মনোনয়ন পেলাম না। আমার মনোনয়ন না পাওয়াতে আমার ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেমন হতাশ হয়েছেন তেমনি সাধারণ জনগণও হতাশ হয়েছেন। ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ আমাকে চাপ দিতে লাগলেন, আমি যেন স্বতন্ত্র নির্বাচন করি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করতে লাগলেন, আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে রেকর্ড পরিমান ভোট পেয়ে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হব।

কিন্তু, আমি রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারলাম না। আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারলাম না। আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারলাম না। কারণ, আওয়ামী লীগ আমার রক্তে মিশে আছে। ভালো-মন্দ বুঝার বয়স যখন হয়েছে, তখন থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ছায়াতলে রয়েছি। এই আওয়ামী লীগ আমার রক্তে। এই আওয়ামী লীগের সঙ্গে বেঈমানি করা আমার পক্ষে সম্ভব না কখনও সম্ভব হবেও না। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধাবনত মাথায় মেনে নিয়ে, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জন্য কাজ করেছি। আমি যেহেতু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, তাই আমার সকল কমিটিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জন্য কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ যদি হায়াত দেন, তাহলে আমি আগামীতেও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করব। আমি বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন, দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে আমাকে আগামীবার নৌকার কান্ডারি করবে। আমার সোজা সাপটা কথা, আমি কখনো আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যাব না।

কথা আর বেশি লিখব না। ইউনিয়নবাসীর প্রতি আমার আবারও অনুরোধ, আপনারা যেকোনো সময় যেকোনো সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসবেন। আপনাদের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা। আপনারা ভালো থাকবেন, দেখা হবে আগামীতে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়