চাঁদপুর, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯, ২৪ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   পদ্মা সেতু : কোন খাতে কত ব্যয়
  •   স্বপ্নের পদ্মা সেতু : অসাধ্যকে সাধন করার মহাকাব্য
  •   বাবুরহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামানের ইন্তেকাল
  •   পদ্মা সেতু উদ্বোধন উদ্‌যাপনে চাঁদপুরেও উৎসবের আমেজ
  •   আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ : স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০

রমজানকে মূল্যায়ন না করলে বান্দার বদ্নসিব

রমজানকে মূল্যায়ন না করলে বান্দার বদ্নসিব
এএইচএম আহসান উল্লাহ্ ॥

পবিত্র মাহে রমজানের রহমতের অংশ শেষ হচ্ছে আজ। কাল থেকে শুরু হচ্ছে মাগফিরাত তথা ক্ষমার অংশ। রহমতের ১০ দিন যদি আমরা আল্লাহ পাকের রহমত ও করুণা লাভে ধন্য হতে পারি, তাহলেই আমরা মাগফিরাত কামনা করতে পারি। আর যদি আমরা বদ্নসিব হই তাহলে আমাদের জীবন বরবাদ হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত একখানা হাদীস হচ্ছে : একদা নবী করিম (দঃ) মসজিদে নববীতে জুমার খুতবা দেয়ার জন্যে মিম্বরে আরোহন করার মুহূর্তে তিনি যখন মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলেন তখন তিনি বললেন, আমিন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখার সময়ও তিনি অনুরূপ করলেন। অতীতে কখনো নবীজীকে এমনটি করতে দেখা যায়নি বিধায় উপস্থিত সাহাবাদের মনে স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে। নামাজ শেষ করে সাহাবায়ে কেরাম নবীজীকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (দঃ)! আজ আপনাকে এমন একটি কাজ করতে দেখলাম, যা অতীতে কখনো দেখিনি। এর রহস্য কী? উত্তরে নবীজী বললেন, আমি যখন মিম্বরে উঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এবং প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার মুহূর্তে জিব্রাঈল (আঃ) এসে আমাকে এই সংবাদ দিলেন যে, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দঃ)! আপনার উম্মতের মধ্যে যে রমজান মাস পেলো কিন্তু তার পেছনের সকল গুনাহ মাফ করাতে পারলো না সে দুর্ভাগা, সে ধ্বংস হোক। তখন আমি বললাম, আমিন। দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখার মুহূর্তে বললেন, আপনার উম্মতের কারো সামনে যদি আপনার নাম উচ্চারণ হলো কিন্তু সে আপনার উপর দুরূদ পড়লো না, সেও ধ্বংস হোক। আমি বললাম, আমিন। এরপর তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখার মুহূর্তে বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতামাতাকে অথবা দু’জনের একজনকে পেয়েছে অথচ সে বেহেশতের উপযুক্ত হতে পারলো না অর্থাৎ পিতামাতার খেদমত করে তাদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারলো না সেও ধ্বংস হোক। আমি বললাম, আমিন।

প্রিয় পাঠক, অত্যন্ত তাৎপর্যবহ এই হাদিসখানা অবশ্যই আমাদের জীবনে খুবই গুরুত্ববহ। তাই আমাদের রোজা যেনো শুধু উপবাস হিসেবে পরিণত না হয়। সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস থাকার সাথে সাথে যেনো আমাদের আত্মা ও শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোরও রোজা পালন হয়। অর্থাৎ রোজার অন্তর্নিহিত দিকগুলো যেনো আমরা পালন করি। আর প্রিয় নবীজীর প্রতি আমাদের অকৃত্রিম প্রেম, মহব্বত ও শ্রদ্ধাভক্তি যেনো প্রগাঢ় হয়। মাতাপিতার বাধ্য সন্তান যেনো আমরা হই। আমাদের কোনো কাজ, কথা বা আচরণের দ্বারা তাঁরা যেন কষ্ট না পান। তাহলেই আমরা আল্লাহর মাকবুল বান্দা হিসেবে পরিণত হতে পারবো।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়