চাঁদপুর, রবিবার, ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ২৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা
  •   ইভিএম’র ভুল ধরতে পারলে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার
  •   মতলব দক্ষিণে মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে মারধর
  •   ভুয়া বিচারপতি বিপ্লব এখন কারাগারে
  •   মতলব দক্ষিণে কীটনাশক খেয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২১, ১২:০৭

দুমতি : প্রকৃতির বুকে ভূমি শয্যা

ডাঃ গৌতম মিস্ত্রি
দুমতি : প্রকৃতির  বুকে ভূমি শয্যা

শ্যামলদা আর শশাঙ্কদার কাছে ব্যাপারটা নতুন। তাঁবুর স্বল্প পরিসরে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ার মত যথেষ্ট জায়গা থাকলেও হাত-পা ছোড়াছুড়ি করার বা বিভিন্ন জ্যামিতিক স্টাইলে শয়নভঙ্গি প্রদর্শনের পরিসর থাকে না। মাটির ‘পরে তাঁবুর পলিথিন, তার ‘পরে ফোমের একটি মাদুর (ম্যাট) পেতে স্লিপিং ব্যাগটি পাততে হবে। গায়ের জ্যাকেট, সোয়েটার যদি খোলার মত আরামদায়ক আবহাওয়া থাকে তবে সেগুলো স্লিপিং ব্যাগের খোলসের মধ্যে ভরে নিলেই মাথার বালিশ হয়ে যাবে। এমনিতেই তাঁবুর দুই পড়তের আবরণের চেইন টেনে দিলে ভেতরটা বেশ আরামদায়ক গরম হয়েই যায়, তা সে বাইরে বৃষ্টি বা তুষারপাত যাইই হোক না কেন। বেশি ঠাণ্ডা লাগলে স্লিপিং ব্যাগ মধ্যে গায়ে দেবার জন্য অতিরিক্ত আর একটি আবরণ বা “ইনার” -এর বন্দোবস্ত করেছিল রামলাল।

সেটা মাথার বালিশ হিসাবেই কাজে লেগেছে। তৃতীয় শিবিরে প্রচণ্ড তুষারপাত ও ঝড়ো হাওয়ায়ও সেটা গায়ে চাপাতে হয়নি। রোজ রাতে ঘুমোতে যাবার আগে মাথার কাছে হেড-লাইট ও জলের বোতল রেখে মুখে ক্রিম মেখে স্লিপিং ব্যাগের চেইন গলা পর্যন্ত টেনে আরামের ক্লান্তিহারা ঘুমের দেশে যাত্রা। উচ্চতার কারণে ব্যক্ তিবিশেষে বিভিন্ন রকমের শারীরিক অসুবিধা হয়। এর মধ্যে মাথা ধরা, খিদে আর ঘুম না পাওয়া বেশি হয়। আমার অভিজ্ঞতায় শোবার আগে হাল্কা ঘুমের বড়ি খাওয়া বেশ কার্যকারি। তবে খেয়াল রাখতে হয় যেন মারাত্মক “মাইন্টেন সিকনেস” হিসাবে পালমোনারি ইডিমা (ফুসফুসে জল জমা) বা সেরিব্রাল ইডিমার (মস্তিষ্কে জল জমে মাখার খুলির মধ্যের চাপ বেড়ে যাওয়া) লক্ষণ না থাকে। তাঁবুতে থাকার পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার আর অনিন্দ্যের ছিল বলে আমরা দু’জনে দুই তাঁবুতে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। যাই হোক আমাদের দলের নতুন সদস্যরা বেশ চটপট ক্যাম্পিংএর আদবকায়দা রপ্ত করে নিলেন।

কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ দেরী করে আকাশে পাড়ি দিতে শুরু করে। বিশাল গহীন হিমালয়ের সেই প্রান্তরে আমাদের নগণ্য শিবিরে ঝুপ করে অন্ধকার নেমে আসে। সন্ধ্যার আলো নিভে যাবার আগেই রাতের খাওয়ার পাঠ চুকিয়ে তাঁবুতে স্লিপিং ব্যাগের মধ্যে আমরা বন্দি। মাঝরাতের পরে ঘুমিয়ে থাকা দুষ্কর। ক্লান্তি দূর হয়ে গেলে কেটে যায় ঘুমের ঘোর। টর্চ জ্বেলে হাতঘড়ি দেখি। তাঁবু ছেড়ে বেড়িয়ে আরেকটা দিন শুরু করার মত সময় হয়নি। নিস্তব্ধ উপত্যকার প্রান্তরে শোঁ শোঁ করে হাওয়া বয়ে যাওয়ার শব্দ ছাড়া অন্য কোন আওয়াজ নেই। প্রয়োজন ছিল না, তবুও অভ্যেসের বসে মাথায় হেডলাইটটা লাগিয়ে জ্যাকেট চাপিয়ে তাঁবু ছেড়ে বাইরে বেড়িয়ে পড়ি। আকাশে মেঘেদের আনাগোনা। কৃষ্ণপক্ষের ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ বিদায় নেবার আগে পশ্চিম আকাশে মেঘের আড়ালে কাজে ফাঁকি দিচ্ছে। আকাশ আর গাছগাছালি বিহীন এই প্রকাণ্ড প্রান্তর তারার মায়াবী আলোয় এক রূপকথার রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

লেখক : ডাঃ গৌতম মিস্ত্রি, কলকতা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়