চাঁদপুর, শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯, ১২ রজব ১৪৪৪  |   ২৪ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সাথে এমপির মতবিনিময়
  •   খলিশাডুলীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
  •   জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জনের মৃত্যু
  •   আজ রোটারিয়ান মরহুম দেওয়ান আবুল খায়েরের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী
  •   ফরিদগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ আটক তিন

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০

মানুষ কি ভিনগ্রহের জীব?

ড. এম মেসবাহউদ্দিন সরকার

মানুষ কি ভিনগ্রহের জীব?
অনলাইন ডেস্ক

সৌরজগতের শনিগ্রহের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটানে দীর্ঘদিন থেকে প্রাণের সন্ধান চলছে। নাসার বিজ্ঞানীরা ক্যাসিনির তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণ পেয়েছেন, একমাত্র টাইটানেই প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ আছে, সেখানে জীবনের উৎপত্তি হয়েছে এবং তারা শ্বাস নিতে পারছে, এমনকি ভূপৃষ্ঠের জ্বালানি খেয়েই বেঁচে আছে। ইকারাস সাময়িকী থেকে জানা যায়, টাইটানের হাইড্রোজেন গ্যাস গ্রহটির আবহমণ্ডলে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি হারিয়ে যাচ্ছে। এ থেকেও প্রমাণিত হয়, এ প্রাণীরা শ্বাস নিতে সক্ষম হচ্ছে এবং তারা অক্সিজেন নয় বরং হাইড্রোজেন গ্রহণ করে বেঁচে আছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সূর্যের আলোর সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে থাকা রাসায়নিক পদার্থগুলো বিক্রিয়া করে অ্যাসিটিলিন তৈরি করছে।

নাসার গবেষকরা কেপলার টেলিস্কোপের সাহায্যে এমন ২০টি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যাদের মধ্যে সম্ভবত প্রাণ আছে। নাসা বিজ্ঞানী অ্যালেন স্টেফান, বিজ্ঞানী সিলভানো পি কলম্বানো, বিজ্ঞানী টমাস জুরবিউকেন বিভিন্ন সময় বলেছেন, এলিয়েনদের থেকে নাসা আর বেশি দূরে নেই। কয়েক বছরের মধ্যেই নাসা এলিয়েনদের কাছে পৌঁছে যাবে। কিন্তু সম্প্রতি নাসার এ বক্তব্যে জল ঢেলে দিয়েছেন আমেরিকার প্রখ্যাত ইকোলজিস্ট ড. এলিস সিলভার। তার চাঞ্চল্যকর মতবাদ নিয়ে ঝড় উঠেছে বিজ্ঞানপ্রেমীদের মধ্যে। তিনি দাবি করেছেন, মানুষ এলিয়েন বা ভিনগ্রহের জীব।

এলিয়েন বলতে সেই জীবদের বোঝানো হয়, যাদের উদ্ভব এ পৃথিবীতে হয়নি, বরং পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও হয়েছে। ড. এলিস তার ‘হিউম্যান আর নট ফ্রম আর্থ : এ সায়েন্টিফিক ইভালুয়েশন অব দ্য এভিডেন্স’ বইয়ে রীতিমতো যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছেন, ‘মানুষ পৃথিবীর জীব নয়’; অর্থাৎ অন্য জীবদের মতো মানুষের সৃষ্টি পৃথিবীতে হয়নি। কয়েক লাখ বছর আগে অন্য গ্রহ থেকে মানুষকে পৃথিবীতে ছেড়ে যাওয়া হয়েছিল। তার মতে, মানুষের শরীরে থাকা অনেক ত্রুটি বুঝিয়ে দেয়, পৃথিবী মানুষের গ্রহ নয়। পৃথিবীর অনান্য উন্নত প্রাণীর সঙ্গে মানুষের শরীরের এত পার্থক্য কেন? পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া সব প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী পরিবেশ থেকেই সরাসরি তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে নেয়। উদ্ভিদ তার গায়ে এসে পড়া সূর্যালোক, বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড আর মাটি থেকে জল নিয়ে নিজের খাবার তৈরি করে। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীরা সরাসরি উদ্ভিদ খেয়ে বা অনান্য প্রাণীকে খেয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকে। কিন্তু মানুষ প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া বা গজিয়ে ওঠা খাবার সরাসরি খেতে অপছন্দ করে কেন? সরাসরি পরিবেশ থেকে নেওয়া খাবার হজম করতে পারে না একমাত্র মানুষই। তাই সে অন্যভাবে তার খাদ্যের প্রয়োজন মেটায়। মানুষ যদি পৃথিবীরই জীব হতো, তাহলে সে বাকি প্রাণীদের মতোই পরিবেশ থেকে পাওয়া খাবার সরাসরি খেয়ে হজম করতে পারত।

মানুষই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে খাপছাড়া জীব এবং পৃথিবীর জলবায়ুতে টিকে থাকার পক্ষে সবচেয়ে অনুপযুক্ত। কারণ, পৃথিবীর বাকি সব জীব সারা জীবন খোলা আকাশের নিচে, প্রখর রৌদ্র, তুমুল ঝড়-বৃষ্টি, প্রচণ্ড ঠান্ডা সহ্য করে বেঁচে থাকতে পারে। মানুষ কেন পৃথিবীর বাকি সব প্রাণীর মতো বৃষ্টিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিজতে পারে না? কয়েক ঘণ্টার বেশি সূর্যের প্রখর রৌদ্রে থাকলে একমাত্র মানুষেরই কেন ‘সান স্ট্রোক’ হয়? সূর্যের আলোয় বেশিক্ষণ থাকলে আমাদের ত্বকের চামড়া কালো হয়ে যায় কেন? কেন সূর্যের আলোয় মানুষেরই শুধু চোখ ধাঁধিয়ে যায়, অন্য প্রাণীর তা হয় না? মানুষের মধ্যেই প্রচুর দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা ক্রনিক ডিজিজ দেখা দেয়। পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ ব্যাক পেইন রোগে ভোগে। কারণ, মানুষ পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীর মতো চার পায়ে হাঁটে না। ফলে হাঁটাচলা ও বিভিন্ন কাজে মাধ্যাকর্ষণের সাহায্য পায় না। পৃথিবীর বাকি প্রাণীদের কি ঘাড়ে, পিঠে, কোমরে ব্যথা হয়? পৃথিবীতে থাকা কিছু দীর্ঘজীবী প্রাণী, যেমন আফ্রিকার হাতি, অ্যালডাবরা ও গ্যালাপাগোস কচ্ছপ, বো-হেড তিমি, গ্রেটার ফ্লেমিঙ্গো, গ্রিন-উইং ম্যাকাওদের চোখেও কি চল্লিশের পর চালসে (হাইপার মেট্রোপিয়া) পড়ে? বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাদের শ্রবণক্ষমতা কমে যায় কেন? পৃথিবীর কোনো মানুষই শতকরা ১০০ ভাগ সুস্থ নয় কেন? প্রত্যেকেই এক বা একাধিক রোগে ভোগে কেন? মানব শিশুর মাথা বড় হওয়ার জন্য নারীদের স্বাভাবিক উপায়ে প্রসব করতে প্রবল যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। প্রসব করতে গিয়ে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে অসংখ্য মা ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মানুষ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো প্রজাতির ক্ষেত্রে কি এমনটি ঘটেছে? মানবশিশু জন্মের পরই পৃথিবীর উন্নত প্রাণীগুলোর শাবকদের মতো হাঁটতে শেখে না কেন? মানুষের দেহে কেন ২২৩টি অতিরিক্ত জিন আছে? পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীর দেহে অতিরিক্ত জিন নেই কেন?

মহাবিশ্বে রয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি। আমাদের ছায়াপথেই রয়েছে প্রায় ২০ থেকে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র, যার মধ্যে আমাদের সূর্যও একটি। এ বিশাল মহাবিশ্বে সূর্যের মতো রয়েছে অসংখ্য নক্ষত্র। তাদের কোনোটিতে আমাদের সৌরব্যবস্থার মতো ব্যবস্থা থাকতেই পারে, যেখানে থাকতে পারে প্রাণী। মহাবিশ্ব অনেক বড় হওয়ার কারণেই স্টিফেন হকিং এবং কার্ল সেগানের মতে, পৃথিবীর বাইরে প্রাণ থাকার সম্ভাবনাটাও বেশি। অনেকে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দেখা যাওয়া ইউএফও বা অশনাক্ত উড়ন্ত বস্তুর কথা বলেন। তবে বেশির ভাগ ইউএফও’কেই মানবসৃষ্ট আকাশযান অথবা কোনো মহাজাগতিক বস্তু বা দেখার ভুল হিসাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু যেহেতু অনেকেই দাবি করেন, ভিনগ্রহের প্রাণীরা পৃথিবীতে প্রায় নিয়মিত যাওয়া-আসা করে এবং তাদের দেখাও গেছে, তাই এটি অসম্ভব নয় যে, পৃথিবীর আদি বাসিন্দারাও ভিনগ্রহের প্রাণী দেখেছেন। এলিয়েন বা সৃষ্টিজগতে অন্য কোথাও মানুষের মতো প্রাণী থাকার বিষয়ে পবিত্র কুরআনে (সুরা আশ-শুরা, আয়াত নম্বর-২৯) স্পষ্ট উল্লেখ আছে-‘তাঁর অন্যতম নিদর্শন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এ দুয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলো; তিনি যখন ইচ্ছা তখনই ওদের সমবেত করতে সক্ষম।’

বর্তমান বিজ্ঞানীদের গবেষণায়ও প্রমাণিত হয়েছে, মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহে জীবের অস্তিত্ব আছে। এ প্রমাণ জোগাড়ে গবেষকরা এখন আরও মহাব্যস্ত। ঐতিহাসিক উৎসে ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তি হলেন এরিক ফন দানিকেন। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন পা-ুলিপি আর দেওয়ালচিত্র কিংবা দেওয়াললিখনে খুঁজে দেখেছেন এলিয়েনদের পৃথিবীতে আসার নানা প্রামাণ্য দলিল। ড. সিলভারের উপরিউক্ত যুক্তিও প্রমাণ করে যে, পৃথিবী মানুষের উপযুক্ত স্থান নয় বরং মানুষের দেহ অন্য কোনো গ্রহে বসবাসের উপযুক্ত হয়ে সৃষ্টি হয়েছিল, যে গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর তুলনায় অনেক কমজোরি এবং সেখানকার পরিবেশও হয়তো অন্যরকম।

ড. এম মেসবাহউদ্দিন সরকার : অধ্যাপক, আইআইটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়