চাঁদপুর, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বৃহৎ র‌্যালি আল-আমিন একাডেমি ও চেয়ারম্যান সেলিম খানের
  •   পদ্মা সেতুর থিম সং-এর গীতিকার কবির বকুলকে শিক্ষামন্ত্রীর অভিনন্দন
  •   হাইমচরে পানিতে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু
  •   শনিবার চাঁদপুরে পাঁচজনের করোনা শনাক্ত
  •   মতলব উত্তরে নৌকাডুবি ॥ নিখোঁজ ১

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০

আজ ভাগ্য নির্ধারণী রজনী

আজ ভাগ্য নির্ধারণী রজনী
অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সরওয়ার-ই কায়িনাত হাবিবে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার উম্মতকে শ্রেষ্ঠ উম্মত, সর্বোত্তম উম্মত বানিয়েছেন। আবার তিনি এই শ্রেষ্ঠ উম্মতদের জন্য এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্ব দিয়েছেন, যা পূর্ববর্তী কোনো নবীর উম্মতকে দেননি। এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদর। এই ক্বদরের রাতটা হচ্ছে আজকের রাত। যা সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু হয়ে সুবহি সাদিকের আগ পর্যন্ত। ক্বদরের রাতকে তাকদীর বা ভাগ্য নির্ধারণী রাতও বলা হয়ে থাকে। শবে বরাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দার জন্য আগামী এক বছরের যা বাজেট নির্ধারণ করেন, তা ক্বদরের রাতে নির্ধারিত ফিরিশতাদের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন। যা এই রমজান থেকে আগামী রমজান পর্যন্ত ফিরিশতারা বান্দার জন্য বণ্টন করবেন।

লাইলাতুল ক্বদরকে মর্তবা, মর্যাদার রাতও বলা হয়ে থাকে। এর নানা কারণের অন্যতম কারণ হচ্ছে, এ রাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও উঁচু মর্তবাসম্পন্ন আসমানী কিতাব আল-কোরআন লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়েছে। কিতাব যেমন সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ, এই কিতাব ও ওহী নিয়ে আগমনকারী ফিরিশতা হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামও ফিরিশতাদের মধ্যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আবার সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ কিতাব আল-কোরআন যাঁর উপরে অবতীর্ণ হয়েছে, সে মাহবুবে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং সর্বাধিক সম্মান ও মর্যাদাবান। তাই আজকের রাতটি অনেক মর্যাদাপূর্ণ রাত। এ রাতের গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে অতিসংক্ষেপে আলোকপাত করার প্রয়াস রাখছি।

আজ দিন শেষে সূর্যাস্তের পর পরই যে ক্ষণটি শুরু। যে রাতটির মর্যাদার কথা আল্লাহ নিজেই বলেছেন ‘হাজার মাসের চেয়ে উত্তম ক্বদরের রাত’। কেনো এতো মর্যাদা এ রাতের? এর জবাবও রাব্বুল আলামিন দিয়ে দিয়েছেন। তা হচ্ছে, এ রাতে আল্লাহর সংবিধান মহাগ্রন্থ আল-কোরআন প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে।

পবিত্র কোরআন মাজিদসহ সকল আসমানি কিতাব রমজান মাসে নাজিল হয়েছে। এর মধ্যে পবিত্র কোরআন মাজিদ নবী করিম (দঃ)-এর উপর প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে রমজান মাসের ক্বদরের রাতে। তবে পুরো কোরআন মাজিদ এক সাথে অবতীর্ণ হয়নি। হুজুর (দঃ)-এর ২৩ বছরের জিন্দেগীতে ক্রমান্বয়ে এই কোরআন মাজিদ অবতীর্ণ হয়।

নবী পাক (দঃ)-এর উপর পবিত্র কোরআনের যে ক'টি আয়াত প্রথম অবতীর্ণ হয় সে সময়টি ছিলো ক্বদরের রাত বা শবে ক্বদর। পবিত্র কোরআনে যাকে বলা হয়েছে লাইলাতুল ক্বদর। এ সম্পর্কে কোরআন মাজিদে ‘সূরাতুল ক্বদর’ নামে স্বতন্ত্র একটি সূরা রয়েছে। সে সূরাতেই বলা হয়েছে ক্বদরের রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এখন ক্বদরের রাত কোন্টি এ সম্পর্কে সাহেবে কোরআন হুজুর (দঃ)-এর ঘোষণা হচ্ছে : তোমরা রমজান মাসের শেষ ১০ রাতের যে কোনো বিজোড় রাতে ক্বদর তালাশ করো। এই রাতের মর্যাদা ও গুরুত্ব উম্মতের কাছে অধিকহারে তুলে ধরার জন্যে নবীজী শবে ক্বদরকে গোপন রেখেছেন। যাতে উম্মত রমজানের শেষ ১০ রাত ইবাদতের মধ্য দিয়ে কাটিয়ে দেয়। তবে হানাফী মাজহাবের ইমাম হযরত আবু হানিফা (রাঃ) গবেষণা করে শবে ক্বদর ২৬ রমজান দিবাগত রাতকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, পবিত্র কোরআনে লাইলাতুল ক্বদর বাক্যটি তিনবার এসেছে। আর আরবিতে লাইলাতুল ক্বদর লিখতে নয়টি অক্ষরের প্রয়োজন। ৯ কে ৩ দিয়ে গুণ করলে ২৭ হয়। অর্থাৎ ২৭ রমজানের রাত হচ্ছে পবিত্র শবে ক্বদর। তাঁর এই গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তটি ইজমা ও কিয়াস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। যা ইসলামের তৃতীয় ও চতুর্থ দলিল। শবে ক্বদরে কোরআন নাজিল হওয়ায় এই রাতের এতো মর্যাদা ও গুরুত্ব। কোরআনের ভাষায় ‘খাইরুম মিন্ আলফে শাহরিন’ অর্থাৎ হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম হচ্ছে এ রাতের ইবাদত।

কোরআন নাযিলের রাত এবং ভাগ্য নির্ধারণের রাত, এ দুটি গুরুত্বকে অনুধাবন করে আমরা মুসলিম উম্মাহ যেনো এ রাতটিকে হেলায়-খেলায় কাটিয়ে না দেই। সারারাত ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যে কাটিয়ে দিয়ে আল্লাহর কাছে খালেছ তওবা করে যেনো গুনাহ মাফ চাই। আর আল্লাহর কাছে সকল যাচনার জন্য প্রার্থনা করে থাকি।

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়