চাঁদপুর, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বৃহৎ র‌্যালি আল-আমিন একাডেমি ও চেয়ারম্যান সেলিম খানের
  •   পদ্মা সেতুর থিম সং-এর গীতিকার কবির বকুলকে শিক্ষামন্ত্রীর অভিনন্দন
  •   হাইমচরে পানিতে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু
  •   শনিবার চাঁদপুরে পাঁচজনের করোনা শনাক্ত
  •   মতলব উত্তরে নৌকাডুবি ॥ নিখোঁজ ১

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২২, ০০:০০

শেষটা কি ভালো হলো?

শেষটা কি ভালো হলো?
অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হবার পর বিশেষ করে গেলো মার্চ মাসে ভোজ্য তেলের বাজার অস্থির হয়ে যায়। ওই সময়টা ছিলো পবিত্র রমজান মাসের প্রাক্কাল। সরকার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে সয়াবিন তেল, ডাল, চিনি ইত্যাদি ন্যায্যমূল্যে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এতে টিসিবির ট্রাক/পিকআপ ঘিরে মানুষের মাথা মানুষ খাবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। নারীসহ দুর্বল শ্রেণীর মানুষরা শারীরিক শক্তিতে সবল ও ধান্ধাবাজ মানুষদের ভিড় ঠেলে কিংবা লম্বা লাইনের শেষ দিকে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে যখন জানতো, তেলসহ টিসিবির অন্যান্য পণ্য ফুরিয়ে গেছে, তখন করতো হাহাকার। চলন্ত ট্রাক/পিকআপে ঝুলে নারীদের তেল প্রাপ্তির জন্যে করুণ আর্তির ছবি/ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়েছে ভাইরাল। সরকার এপ্রিল মাসের রমজানকে সামনে রেখে পৌরসভার মেয়র/কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/মেম্বারদের মাধ্যমে কার্ড তৈরি করে সেটি মানুষের মাঝে বিলি করে টিসিবির পণ্য বিতরণে শৃঙ্খলা আনয়ন করে এবং দ্রব্যমূল্যের অস্থির বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দেয়। এ ব্যাপারে সরকারের বিরুদ্ধে যারা মিছিল-মিটিং করেছে, তারা কামিয়াব হতে পারেনি।

শুরু হলো রমজান। তুলনামূলকভাবে অতীতের অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক আশঙ্কার মধ্যে কিংবা বিরূপ মন্তব্যকে এড়িয়ে এ মাসটি ভালোভাবেই কেটেছে। মানুষের ঈদযাত্রা ও কর্মস্থলে প্রত্যাবর্তন ভালোভাবেই হয়েছে বা হচ্ছে। আর করোনা পরিস্থিতির উন্নতিহেতু দু বছর পর মুসলমানরা উন্মুক্ত পরিবেশে অর্থাৎ ঈদগাহে নামাজ পড়ে পূর্বের ন্যায় মানসিক তৃপ্তি পেয়েছে। লাখ লাখ মানুষ ঈদের ছুটিতে দেশ-বিদেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে পূর্বের ন্যায় আনন্দে মাতোয়ারা হয়েছে।

রমজানের একেবারে শেষ দিকে ঈদণ্ডবাজার করতে গিয়ে মানুষ ভোজ্য তেল নিয়ে নানামুখী তেলেসমাতি কিংবা সিন্ডিকেটের কারসাজি দেখে বিরক্ত হয়েছে। ১৬০ টাকা লিটারের তেল ২০০ টাকা কিংবা তদূর্ধ্ব মূল্যে কিনতে বাধ্য হয়েছে, আবার কেউ কেউ তেল কিনতেও পারেনি। সরকার এ পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারেনি। সয়াবিন তেলের মূল্য এক লাফে লিটারে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যান্য তেলের মূল্যও বাড়িয়েছে। এ নিয়ে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেটা ক্রমশ বাড়ছে।

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, শেষ ভালো যার সব ভালো তার। প্রশ্ন হলো, মোটামুটি ভালোয় ভালোয় রমজান ও ঈদ কাটানোর পর তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি ঘোষণায় শেষটা ভালো হলো কি না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, আমদানিনির্ভর সয়াবিনের ওপর অত্যাধিক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প হিসেবে দেশে উৎপাদিত সূর্যমুখী কিংবা অন্য কোনো কৃষিপণ্যে প্রস্তুতযোগ্য তেলের দিকে ঝোঁকার বিষয়ে সরকারসহ জনগণকে ভাবতে হবে। যার পর্যাপ্ত সামর্থ্য আছে সে অত্যধিক মূল্যের সয়াবিন/সরিষার তেলসহ অন্য তেল কিনুক, আর যাদের সামর্থ্য নেই কিংবা কম সামর্থ্য তাদের বিষয়ে সরকারকেই ভাবতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়