চাঁদপুর, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বৃহৎ র‌্যালি আল-আমিন একাডেমি ও চেয়ারম্যান সেলিম খানের
  •   পদ্মা সেতুর থিম সং-এর গীতিকার কবির বকুলকে শিক্ষামন্ত্রীর অভিনন্দন
  •   হাইমচরে পানিতে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু
  •   শনিবার চাঁদপুরে পাঁচজনের করোনা শনাক্ত
  •   মতলব উত্তরে নৌকাডুবি ॥ নিখোঁজ ১

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২২, ০০:০০

এমন ঘোষণা বাস্তবায়ন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ
অনলাইন ডেস্ক

চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন মৈশাদী ইউনিয়নের মৈশাদী গ্রামের কৃতী সন্তান, মুক্তিযুদ্ধকালীন আত্মঘাতী নৌকমান্ডো, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক ক’বছর আগে তাঁর ইউনিয়নকে ভিক্ষুকমুক্ত করার প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি সফলতা খুঁজে পাননি। কারণ, যেসব ভিক্ষুককে তিনি ভিক্ষা ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজে যুক্ত করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন, সে প্রয়াসকে ভিক্ষুকরা মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন নি। বরং তারা বিনা পুঁজির ব্যবসা বলে কথিত ভিক্ষাকেই মনেপ্রাণে গ্রহণ করে সে পেশাতে নিযুক্ত থাকার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল চাঁদপুর জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট থেকে একদিনের বেতন নিয়ে একটা তহবিল গড়ে তুলেছিলেন। ভিক্ষুক সংখ্যা নির্ধারণে তিনি জরিপ ও যাচাই-বাছাই চালিয়েছিলেন। কিন্তু বদলিজনিত কারণে তিনি তাঁর উদ্যোগ সম্পন্ন করে যেতে পারেন নি। পরবর্তী জেলা প্রশাসক সে উদ্যোগ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেননি এবং এর মধ্য দিয়ে উদ্যোগটি মুখ থুবড়ে পড়ে। আর সংগৃহীত তহবিলের হিসাব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছেন বলে জানা যায় নি।

মৈশাদী ইউনিয়ন এবং সমগ্র চাঁদপুর জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার প্রাগুক্ত দুটি উদ্যোগে ব্যর্থতা সত্ত্বেও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান, দেশের খ্যাতনামা আইটি ব্যক্তিত্ব, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান আলহাজ¦ সবুর খান তাঁর জন্মস্থান চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন গত বুধবার ৪ মে ২০২২। তিনি ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত জীবিকা চাঁদপুর-২ প্রকল্পের সকল সফল সুবিধাভোগীকে নিয়ে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন। তিনি জীবিকা চাঁদপুর-২ প্রকল্পের উপকারভোগীদের মুখ থেকে সফলতার গল্প শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এর সাথে তিনি বাবুরহাট অঞ্চলকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে আরেকটি প্রকল্প শুরু করার ঘোষণা দেন। এটি সফল করার জন্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আমরা বাবুরহাট অঞ্চলকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে আলহাজ¦ সবুর খানের প্রকল্প শুরুর ঘোষণাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাতে চাই। তবে বাবুরহাটের পাশর্^বর্তী মৈশাদী ইউনিয়নকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে মমিনউল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীকৈর গৃহীত উদ্যোগ এবং চাঁদপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক সমগ্র জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ কেনো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো সেটি জানার পদক্ষেপ নিতে তাঁর ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের লোকজনের প্রতি অনুরোধ জানাতে চাই। কেননা ভিক্ষুকমুক্ত করার পদক্ষেপ সত্যিই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অন্য উদ্যোক্তাদের ভুল বা অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোটা হবে বাঞ্ছনীয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়